Pages

Tuesday, December 11, 2012

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার


ইন্টারনেট এখন সারাবিশ্বের দৈনন্দিন জীবনের এক আবশ্যক অনুষঙ্গ। আর ইন্টারনেটের গতিও দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবারে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম তৈরি করতে যাচ্ছে এমন এক ধরনের চিপ, যা ইন্টারনেটের গতিকে বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ। আর এর জন্য এই চিপ প্রচলিত ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে ব্যবহার করবে আলো। আইবিএম জানিয়েছে, নতুন এই চিপের ব্যবহারের ফলে বর্তমানে সার্ভারগুলোতে কম্পিউটারের প্রসেসরগুলোতে যে পরিমাণ তথ্য প্রবাহ হয়ে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে তথ্য প্রবাহিত হবে। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের জন্য এটি উচ্চ কম্পিউটিং গতি প্রদানে সক্ষম হবে। আইবিএম-এর এই উদ্ভাবন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্বে সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, আইবিএম-এর নতুন এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আইবিএম-এর এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, কম্পিউটার চিপগুলোতে ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলোর ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে সার্ভার সেন্টারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করা যাবে অনেক বেশি দূরত্বে এবং তাতে করে তথ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকবে অনেক কম। আর তথ্য স্থানান্তরের গতি হবে আলোর গতির প্রায় সমান, কারণ তথ্য স্থানান্তরে এতে আলোই হবে মূল মাধ্যম। এর মধ্যেই অবশ্য ডাটা সেন্টারগুলো তামার কেবলের পরিবর্তে অপটিক্যাল কেবলের ব্যবহার শুরু করেছে। তবে আইবিএম-এর চিপ এতে যুক্ত করবে নতুন মাত্রা। অপটিক্যাল কেবল ব্যবহারের পাশাপাশি এখন আলোক এনকোডিং সিস্টেম ব্যবহার করা প্রয়োজন। সেই কাজটিই করতে সক্ষম হবে আইবিএম-এর এই নতুন চিপ। নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আইবিএম-এর ন্যানোফোটোনিকস বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. সলোমন আসেফা জানিয়েছেন, 'আপনি যখন ইন্টারনেটে কোনোকিছু সার্চ করে থাকেন, আপনার তথ্যগুলো কোনো একটি ডাটা সেন্টারে চলে যায়। আর আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো একটি চিপের মধ্যেই নাও থাকতে পারে। এমনকি সেগুলো একাধিক র্যাকেও থাকতে পারে। তথ্যগুলো কোনো ডাটা সেন্টারে বিশাল আয়তনের অনেক স্থান দখল করে থাকতে পারে। কাজেই এসব স্থানগুলোতে তথ্য স্থানান্তরের গতি যত বেশি হবে, আপনার ইন্টারনেট সার্চ হবে তত দ্রুত। বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তার তুলনায় প্রচলিত প্রযুক্তি অনেকটাই ধীরগতির।' আইবিএম জানিয়েছে, তাদের নতুন তৈরি চিপের প্রতিটিতে থাকবে একাধিক চ্যানেল যার মাধ্যমে ২৫ গিগাবিট পার সেকেন্ড গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব হবে। এসব চিপের ব্যবহারের মাধ্যমে এখনকার চাইতে শতগুণ বেশি গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব। প্রায় এক দশক ধরে এই চিপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে আইবিএম। আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন ড. সলোমন। এটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তিতে পরিণত হবে বলেই আশাবাদী তিনি।

No comments:

Post a Comment