১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলার পাচার
ঘুষ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি, ভুল চালানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল
পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি পাচার হয়েছে। এর পরিমাণ ১৪
দশমিক ০৫৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের চালানে বেশি-কম
দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯৭ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর
অর্থনৈতিক প্রবাহবিষয়ক এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল
ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রিটি। সমপ্রতি ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা
হয়েছে, সর্বোচ্চ অর্থপাচারকারী দেশগুলোর তালিকায় ১৪৩টি উন্নয়নশীল দেশের
মধ্যে ৪৪তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এক্ষেত্রে ভারতের
অবস্থান এক নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়- অপরাধ,
দুর্নীতি, কর ফাঁকি সহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো
২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলার
হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে যথাক্রমে চীন, মেক্সিকো,
মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে। এছাড়া, মোট পাচারকৃত অর্থের ৬১ শতাংশই
পাচার হয়েছে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। এমনকি তালিকার প্রথম দশটি
দেশের পাঁচটিই এশিয়ার। সেগুলো হলো- চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও
ইন্দোনেশিয়া। জিএফআই জানায়, এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে পাচারকৃত
অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। সর্বোচ্চ পাচার হয়েছে ২০০৬-০৭
অর্থবছরে। এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে ২০১০ সালে এ পাচারের হার
উল্লেখযোগ্য হারে নেমে আসে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০১০ সাল
পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বার্ষিক উন্নতির পরিমাণ প্রায় আট
হাজার ৮০০ কোটি ডলার। মোট বার্ষিক অর্থপাচার এর অন্তত ১০ গুণ। উন্নত
দেশগুলোতে এই বিপুল অর্থ পাচারের হার কমানোর জন্য অর্থ ব্যবস্থাপনায়
স্বচ্ছতা আনার পরামর্শ দিয়েছে জিএফআই।
No comments:
Post a Comment