ব্যর্থদের ফর্মুলায় গণতন্ত্রের সুরক্ষা হবে না
আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের দেয়া ফর্মুলা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ড. আকবর আলি নির্বাচনের জন্য চারটি ফর্মুলা তুলে ধরেন। তার এ ফর্মুলার প্রতি ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, কারও দেয়া ফর্মুলায় নয়, আওয়ামী লীগ নিজেস্ব গতিধারায় চলবে। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কেউ কেউ আজকাল ফর্মুলা দেন। ব্যর্থ লোকদের ফর্মুলা দিয়ে তো আর গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে না। কারণ, একজন ব্যর্থ মানুষ বার বারই ব্যর্থ হন। আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিলে সপ্তমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে সকালে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অনেক মোটা-তাজা মানুষই তো দল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যারা দল করতে পারেনি, আমরা তাদের ফর্মুলা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়ে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। যে ফর্মুলাই এখন দেয়া হোক না কেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ওই সময় তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক নেতা যারা দেশের প্রাচীনতম সংগঠনটি ভেঙে ভিন্ন দল গড়তে চেয়েছিলেন তারা এখন আমাদের দলের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। যারা দল ভেঙে গিয়ে একটি নতুন দল গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন এমন কারও কাছ থেকে আমাদের দলের ব্যাপারে কোন কিছু শুনতে চাই না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিজস্ব পথনিদের্শনা রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে দল এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তার গণতান্ত্রিক পন্থা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে এবং এ পন্থা ও ঐতিহ্য ধারণ করে দলটি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নির্মূল করতে অতীতে আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের আমলে অপতৎপরতা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং, এ দলটিই জাতির জন্য স্বাধীনতা এনেছে। শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি তাদের নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি আগামী দু’মাসের মধ্যে দলের সকল স্তরে কাউন্সিল সম্পন্ন করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্যও তাদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সকল জেলায় স্থায়ী দলীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন এবং এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শেখ হাসিনা বলেন, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায় তখনই দেশের জনগণ কিছু পায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। ফলে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের পথে এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, তাছাড়া জনগণের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ফিরে আসে এবং তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে। অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের নেতৃত্বে মহানগরের নেতারা ফুল দিয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এরপর সিলেট জেলা, শ্রমিক লীগ, বগুড়া জেলা, নোয়াখালী জেলা, সৈয়দপুর জেলা, ফেনী জেলাসহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দ একে একে ফুল দিয়ে সভাপতিকে অভিনন্দন জানান।

No comments:
Post a Comment