ইমন ওর শাস্তি পেয়ে গেছে
মাত্র কয়েকদিন আগেই অভিযোগের চূড়ান্ত ছিল শওকত আলী ইমন-এর বিরুদ্ধে। এরপর সেই মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার কারণে ইমন গ্রেফতার হলো। ধর্ষণ মামলায় এই গ্রেফতারের বিষয়টিই ছিল গত দুইদিনের শোবিজ জগতের টক অব দ্য টাউন। আর গতকাল এর জের ধরে সেই মেয়ে জিনাত কবীর-এর সাথে বিয়ে হলো সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের। এই সব নানান জটিলতা বা সম্পর্কের এই বিষয়গুলোকেই পাঠকের কাছে স্পষ্ট করতে বিনোদন প্রতিদিন-এর মুখোমুখি হয়েছেন শওকত আলী ইমনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী নৃত্যশিল্পী জিনাত কবীর।
কেমন আছেন?
এখন খুব ভালো আছি। এই মাত্র কোর্ট থেকে এলাম। আশা করছি ওর জামিন হয়ে যাবে খুব শিগগিরই।
আপনাদের প্রেমের শুরুটা একটু বলবেন।
এটা তো সবাই এখন জানে। আপনারা তো সবই প্রকাশ করেছে। তবু বলি। ফেসবুকেই ওর সাথে আমার পরিচয়। আমি তখন কলকাতা একটি কলেজে জার্নালিজমে পড়াশোনা করতাম। ইমন তখন নিজের একাকিত্বের কথা বলত। তার আগের স্ত্রী সম্পর্কে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করে বলত, সেই স্ত্রী তার জীবনে কতটা কষ্ট দিয়েছে। সেই কথা শুনেই আমি আসলে ইমনের মায়ায় পড়ে যাই। এরপর সে-ই আমাকে বলে, কলকাতা একা থেকে কী করবে, ঢাকায় চলে এস। আমি ঢাকায় বাবা-মাকে না বলেই ওর সাথে দেখা করি। এরপর স্টুডিওতে দেখা, পরে ওর বাসায়। এইতো। এরপর থেকেই নিজেদের সংসার বা বিয়ের জন্য বারবার বলতে শুরু করি। কিন্তু শোনেনি। এর পরের ঘটনা তো জানেনই। ওর বিরুদ্ধে এখন বাকি অভিযোগগুলো আর বলতে চাই না। আর আমার আর ইমনের সম্পর্কের কারণে বাবা-মাও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
তাহলে ক'দিন আগেই যার বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগের অন্ত ছিল না। তাকেই এখন নিজের করা মামলা থেকে রেহায় দেওয়ার জন্য বিয়ে করলেন?
তো আর কী করব বলুন? মানুষ তো আর বারবার বিয়ে করে না। আর ইমন যেহেতু এখন অনুতপ্ত। তাই ওকে মাফ করাই যায়। আর ওর পাপ অনুযায়ী বরং বেশিই শাস্তি পেয়ে গেছে। ওর মানসম্মান তো গেছেই। ক্যারিয়ারও প্রায় শেষ। তাই মাফ করে দিয়েছি।
তাহলে এখন আপনি ইমনকে শতভাগ বিশ্বাস করেন?
এটা বলা যাচ্ছে না। দেখা যাক কী হয়?
কিন্তু এই 'দেখা যাক কী হয়'-এর ভেতরেই বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন? কোনো দ্বিধা কাজ করল না? এই বিয়ের প্রস্তাব কে আগে দিয়েছিল? সিদ্ধান্তটা কীভাবে এল?
ইমনের পরিবার থেকেই বলা হচ্ছিল। এ ছাড়া তো ওর জামিনের কোনো উপায় নেই। ও আমার মানসম্মান খুইয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তো সে নিজেই মানসম্মান ধুলোয় লুটিয়েছে।
থানায় দেখা হলে কী কথা বললেন?
প্রথমে অনেকক্ষণ গালাগালি করলাম। চিত্কার করলাম। কী বলেছি, অত মনে নেই।
আর আপনার বাবা-মা পরিবারের অবস্থা?
আমার বাবা তো দেশের বাইরে থাকেন। ইমনের সাথে এই সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে বাবা-মা কেউই আমার সাথে কথা বলে না। বাবা মাসের খরচটা পাঠায় আমার ক্রেডিট কার্ডে। তাই তাকে জানানো হয়নি। ভয় পাচ্ছি। আর আমার বোন এই সময় প্রেগনেন্ট। ওকে জানিয়েছি, সেও খুব টেনশন করছে। মা দেশের বাইরে গেছে। মনে হয় আমার বোন মারফত খবরটা পেয়ে গেছে। মাও আমার সাথে অনেকদিন কথা বলে না।
তাহলে আপনি এখনও পরিবারের বিরুদ্ধে থেকেও ইমনকে ভালোবাসেন?
ভালোবাসি, তবে এখন আর আগের মতো ভালোবাসি না। আসলে নিয়তি আমার সাথে অনেক খেলা করেছে। তাই দেখতে চাই, এর শেষ কোথায়?
বিয়ের ব্যাপারে আপনাকে কে বুঝিয়েছে?
আমি নিজের সম্মতিতেই বিয়ে করেছি। ওকে অনুতপ্ত দেখে খারাপ লেগেছে।
বিয়ের সময় কে কে ছিল?
কবির বকুল ভাই, ইমনের বড় বোনসহ আরও আত্মীয়-স্বজন ছিল। এ ছাড়া আমার আঙ্কেল-আন্টি ছিল।
এখন আপনার আগামী দিনগুলোর পরিকল্পনা কী?
পরিকল্পনা আপাতত কিছু নেই। দেখি ও আগে বের হয়ে আসুক। এরপর নতুনভাবে সংসারের প্রস্তুতি নেব। মানুষ ভুল করলে, সুযোগ দেওয়া উচিত, তাই দিলাম।
No comments:
Post a Comment