Pages

Tuesday, December 4, 2012

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত



পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে পারেনি জামায়াত। গতকাল দেশব্যাপী তাদের পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গুলিতে নিহত হয়েছে শিবির কর্মী মুজাহিদ (১৮)। এ ঘটনার পর চিরিরবন্দর থানায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সেখানে বিজিবি নামানো হয়েছে। অপরদিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ হরতালের ডাক দেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এই প্রথম এককভাবে হরতালের ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত। খেলাফত আন্দোলন এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এদিকে সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টন, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। তবে দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০টি স্পটে মিছিল করার দাবি করা হয়। এ সময় ৪৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। যাত্রাবাড়ীতে মিছিলকারীরা মশাল নিয়ে বের হয়। তারা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। জামায়াতের এই সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ ও র‌্যাব। এছাড়া সিলেট, ফেনী, নোয়াখালী, বগুড়া, মাগুরাসহ কয়েকটি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে জামায়াতের হরতাল ঘোষণার পর গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। জনমনেও খানিকটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার  আগেই কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা শুরু করে মানুষ। এজন্য শেষ বিকালে রাজধানীতে বেশ যানজটও দেখা যায়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয় জামায়াত। কিন্তু পূর্বানুমতি না থাকায় এই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে রোববার সাফ জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী কোন  অনুমতি নেয়নি। তাই তাদের এ সমাবেশ হবে বেআইনি। বেআইনি সমাবেশ হতে দেবো না। তবে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই সমাবেশের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কথা বলে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এদিকে হরতালের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। জামায়াতের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা বাস্তবায়নের দিকে নজর না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় লিপ্ত। সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যাতে বিরোধী দল কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য দমননীতি চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক দল। আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকারের চার বছরের মেয়াদকালে জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। সরকারের এসব জুলুম-অত্যাচার মোকাবিলায় ধৈর্যসহকারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। গত ২৯শে নভেম্বর জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি তো দেয়াই হয়নি, উপরন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত কড়া ও রূঢ় ভাষায় বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের কোথাও জামায়াতকে সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয়া হবে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি বলেছেন, জামায়াত সভা ও মিছিলের অনুমতি নেয়নি এবং আবেদনও করেনি। অথচ গত ২৯শে নভেম্বরই ঢাকা মহানগর জামায়াতসহ সব শাখার পক্ষ থেকে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ সব ঘটনাপ্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।
দিনাজপুর: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই শিবির কর্মীর নাম মুজাহিদ (১৮)। নিহতের পিতা আতাউর রহমান খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পাগলা পীর নামক স্থানে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে থানার ওসি এবং পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত পুলিশ শতাধিক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা রানীরবন্দর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে। সংঘর্ষের সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।  এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রানীর বাজারে পুলিশের পাশাপাশি দুই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট জামায়াতের ঘোষণা: হরতাল সফলে সিলেটে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা এ ঘোষণা  দেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গতকাল সিলেটে প্রস্তুত ছিল জামায়াত। এর আগে দলের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ কারণে দিনভর জামায়াতে ইসলামীর মিছিল বের করার গুজব থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিছিল বের করেনি। তবে, সিলেট নগরীতে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। নগরীর বন্দরবাজার ও কোর্টপয়েন্ট এলাকায় বিরাজ করছিল  উত্তেজনা। এদিকে, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সিলেটের সব ক’টি উপজেলায় জামায়াতের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের আয়োজন করায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ছাড়াও বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধরপাকড় করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াত নেতা হাফিজ আবদুল হাই হারুন, জেলা নেতা আনোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান, ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সিলেটে গত এক মাসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮ হাজার নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে ২ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, প্রায় ৫০ জন নিরীহ মানুষকে জামায়াত মনে করে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ তোলেন তারা। একই সঙ্গে সিলেটের এমসি ও মদনমোহন কলেজে দুই ছাত্রকে ছাত্রলীগ পেটানোর পর পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
গাজীপুর: গাজীপুরের চান্দনায় জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের পর ৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তায় তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের বাধায় জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে নির্ধারিত সমাবেশ করতে না পেরে তারা স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করে। এতে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম খান বক্তব্য রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের সমাবেশে বাধা দেয়। এতে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতাকর্মীরা চলে যান।
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): আখাউড়ায় জামায়াত অফিস ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশত নেতাকর্মী পৌরশহরের শহীদ স্মৃতি কলেজ সংলগ্ন জামায়াতে ইসলামীর অফিস ‘আল মদিনা কমপ্লেক্সে’ হামলা চালায়। তারা অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং  বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ স্মৃতি কলেজ ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবির বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে শহরের সড়ক বাজারে চলে আসে। অফিস ভাঙচুর চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতাকর্মী সেখানে ছিল না। তবে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলা জামায়াতে আমীর বিল্লাল আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্যায়ভাবে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।
রাজশাহী: রাজশাহীতেও জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশ ঠেকাতে সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে মহানগর পুলিশ। মহানগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, শালবাগান, নওদাপাড়া, ভদ্রা স্মৃতি অম্লান চত্বর, তালাইমারী, বিনোদপুর, কাটাখালি, মালোপাড়া, লক্ষ্মীপুর, কুমারপাড়া, কোর্ট চত্বর, সিএনবির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সক্রিয় ছিল র‌্যাব।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ইমরুল কায়েস (২০) নামে এক শিবিরকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। সকালে শহরের জামে মসজিদ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ-জামায়াত কর্মী সংঘর্ষের ঘটনায়  পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল কাশেম, শিবিরকর্মী ফারুক হোসেন, নাইমুদ্দিন ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে শহরের সরকারপাড়া শিবির ছাত্রাবাস ও পীরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, গত ৫ই নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেনী: ফেনীর মিজান ময়দানে গতকাল বিকাল ৩টায় ডাকা সমাবেশ করতে পারেনি জেলা জামায়াত। এ নিয়ে গত ৩ দিন ধরে জেলা ও উপজেলায় প্রচারণা চালালেও গতকাল মাঠে নামেনি তাদের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সমাবেশ করার বিষয়ে শহরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন সবাই। জেলার ছাগলনাইয়া বাজারে স্থানীয় জামায়াত গতকাল সমাবেশ আহবান করলেও একই সময়ে উপজেলা যুবলীগ ও সমাবেশ ডাকে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন রোববার রাত ৯টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করায় কেউ সমাবেশ করতে পারেনি।
ফরিদপুর: ভাঙ্গা উপজেলার হাসপাতাল সংলগ্ন হেলিপোর্ট মাঠে জামায়েত ইসলামী ও আওয়ামী লীগ একই স্থানে সভা ডাকায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির জানান, লিখিত ভাবে প্রথমে জামায়াত ও পরে আওয়ামী লীগ একই স্থানে সমাবেশের জন্য আবেদন করে। তাই কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল বিকাল ৩টা একই সময়ে একই স্থানে জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর ঘটনায় এড়াতে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যায় ৮টা পর্যন্ত সকল ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ। একই দিন রায়পুর উপজেলা শহরের আলীয়া মাদরাসা মাঠে বিকাল ৩টায় জামায়াত ও যুবলীগ একই সময়ে সমাবেশ ডাকায়। ওই দিন বিকাল ৩টা- সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  দুলাল চন্দ্র সূত্রধর।
রাজশাহী: হরতালের সমর্থনে গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৫জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ১০রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এদিকে, পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের ১১নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
বরিশাল: নগরীতে হরতালের সমর্থনে এক সংগে ৮টি স্পটে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আকস্মিক এ মিছিল বের হয়। মিছিলের পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থারে ৭ জামায়াত শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে মুলাদীতে ৪জন, মেহেন্দিগঞ্জে ২জন এবং বাবুগঞ্জে ১জন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলার দালাল বাজার ও মান্দারী বাজারে জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের শহর আমীর ফারুক হোসাইন নুর নবী ও সেক্রেটারি সামছুল ইসলাম, শিবিরের জেলা সভাপতি আলী হোসেন মুরাদ ও শহর সভাপতি আবদুল আউয়াল রাসেল প্রমুখ।
ফরিদপুর: হরতালের সমর্থনে সোমবার ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের ৩টি পয়েন্ট থেকে হরতালের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের মুজিব সড়ক, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও টেপাখোলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল ও সমাবেশ থেকে পুলিশ পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ২ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে দুঁপচাচিয়া থেকে ২ জামাত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শেরপুরের জামাত সমর্থক ধানঘরা ফাজিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক আলতাফ হোসেন (৫০) ও  সুঘাট জামে মসজিদের ইমাম ফরিদুল ইসলাম (২৮)। শেরপুর থানা পুলিশ জানায়, জামায়াত শিবির মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে। থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের উপর চড়াও হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনায় জড়িত থাকায় আলতাফ হোসেন ও ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হরতালে নৈতিক সমর্থন বিএনপি’র
জামায়াত আহূত আজকের হরতালে নৈতিক সর্মথন দিয়েছে বিএনপি। গত রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে এ নৈতিক সর্মথন ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে তাদের শান্তিপূর্ণ জনসভা অনুষ্ঠানে সরকার অন্যায়ভাবে বাধা দিয়েছে। সরকারের এই বেআইনি ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে তাদের ডাকা আজকের হরতাল কর্মসূচি যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক। জামায়াতের কর্মসূচি বানচালের জন্য পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীদের মাঠে নামানোর ন্যক্কারজনক আহ্বানের মাধ্যমে দেশকে রাজনৈতিক সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জনগণ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আহূত হরতাল কর্মসূচির প্রতি বিএনপি নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করছে। উল্লেখ্য, আজকের হরতালের প্রতি আরও সমর্থন জানিয়েছে শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন।

No comments:

Post a Comment