Pages

Monday, December 24, 2012

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

 বখাটে যুবক রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান সহ্য করতে না পেরে অপহরণ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পিংকি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা এলাকার মান্ডায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাসা থেকে পিংকির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

পিংকি'র বাবা বাবুল মিয়া জানান, তার বাসা মাণ্ডা ছাতা মসজিদের পাশে। পিংকি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। পিংকি চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কয়েকমাস যাবত্ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্থানীয় বখাটে যুবক রনি। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় গত ২৮ নভেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে পিংকিকে অপহরণ করে রনি। পরে এ বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের সহায়তায় তার মেয়েকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করে রনিকে। এ ঘটনার পর থেকে রনির পরিবার তাকে ও তার মেয়েকে প্রায়ই হুমকি দিতো। একইসঙ্গে মামলা তুলে না নিলে বাবা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিতো। অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে আদালতে রনির জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

পিংকির পারিবারিকসূত্র জানায়, রনিকে কারাগারে পাঠানোর খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় রনির বোনসহ কয়েকজন স্বজন পিংকির বাসায় গিয়ে পিংকি এবং তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রনির পরিবারের সদস্যদের এ অপমান সইতে না পেরে পিংকি নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস দেয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে পিংকির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে পিংকিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

মুগদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিংকির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি।

No comments:

Post a Comment