Pages

Monday, December 31, 2012

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

আজকাল অনেক পরিবারের কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা নানা কারণে চরম হতাশায় ভুগছে। আর এসব হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও জটিলতা। কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তি, ভায়োলেন্স-এর মত ভয়ংকর সমস্যায়। বেশীরভাগ পরিবার কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারছে না। মারধর, বকাবকির ঘটনাও ঘটছে। এতে আরও বিপরীত অবস্থা তৈরী হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসত্ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। ঘটছে আত্মহত্যার মত অপ্রত্যাশিত ঘটনাও। অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতাগণ তাদের কারণে-অকারণের ব্যস্ততার কারণে এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রতি সঠিকভাবে যত্ন নেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে নানা বঞ্চনা, অবহেলার মধ্যেও তারা বেড়ে উঠে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকরা এধরনের ছেলে-মেয়েদের অমনোযোগী হিসাবে চিহ্নিত করে বাবা-মার কাছে রিপোর্ট দেন। তবে সব চেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে উঠতি বয়সের এসব ছেলে-মেয়ের সমস্যা না বুঝে, না শুনে অথবা মমত্ব দিয়ে তাদের সমস্যা শোধরানোর চেষ্টা না করে নিয়ে যাওয়া হয় কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। যা ঘটার তাই ঘটে। প্রাকটিস বাণিজ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার সাহেবরা (২/১ জন ছাড়া) কিশোর-কিশোরীদের সমস্যার গভীরে না যেয়ে ধরিয়ে দেন একগাদা এন্টিডিপ্রেসিভ বা হতাশা কমানোর ওষুধ। কিন্তু পিতা-মাতা বা আমরা ডাক্তাররা কি কখনও ভেবে দেখেছি বিশ্বব্যাপী কিশোর-কিশোরীদের এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধ সেবনে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। কারণ বিশেষজ্ঞগণ নানা গবেষণায় দেখেছেন এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে টিনএজারদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে কার্যকারিতা ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে শুধু বয়স্কদের ওপর। তাই কোনভাবেই কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার উচিত নয় এমন অভিমত: হারভার্ড পাবলিক হেলথ গবেষণা তথ্যের । এক্ষেত্রে টিনএজারদের মানসিক সমস্যা, উদ্বেগ, হতাশা, অমনোযোগ, ক্রোধসহ নানা সমস্যায় পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেয়া হয় এবং এসব করতে হবে মমত্ববোধ দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে।

No comments:

Post a Comment