Pages

Tuesday, January 1, 2013

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ


সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত ২০১২ সাল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বছর। ইলিয়াস ফিরবেন নাকি ফিরবেন না- এ অনিশ্চয়তায় কেটে গেছে বছর। তিনি জীবিত না মৃত- তা-ও জানে না কেউ। ২০১২ সালে সিলেটের আলোচিত ঘটনা কোনটি-সিলেটে এসে কাউকে প্রশ্ন করা হলে এক বাক্যে বলবে ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনা। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেট বিএনপি’র একচ্ছত্র অধিপতি। তার নেতৃত্বেই চলতো সিলেট বিএনপি’র কার্যক্রম। নিখোঁজের আগে ইলিয়াস আলী সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করেন। তার আহ্বানে সিলেটে হরতালও পালিত হয়েছে। এরপর রোড মার্চের মাধ্যমে সিলেটে বিশাল জনসভা হয়েছে। ইলিয়াসের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি সাফল্য পেয়েছিল। এই অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৭ই এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন গাড়িচালক আনসার আলীও। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ। ছাত্রদলকর্মী খুনের ঘটনায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্তই দিনার ও জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইফতেখার আহমদ দিনার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলী সিলেটের ফর্চুন গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সরকারের একটি বাহিনী দিনারকে গুম করেছে। তিনি দিনার ও জুনায়েদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ইলিয়াস আলীর দাবির পর সরকারের ভেতরে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ৩রা এপ্রিল দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ই এপ্রিল গাড়িচালকসহ এম. ইলিয়াস আলী গুম হন। এ ঘটনার পর সিলেটের মাঠে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮ই এপ্রিল গোটা বিভাগকে অচল করে দেয় বিএনপি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এখনও ইলিয়াসের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের অবস্থানরত মা সূর্যবান বিবি। অবুঝ শিশু নাওয়াল পথ চেয়ে আছে প্রিয় পিতার। অপেক্ষায় স্বজনরা। বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী ইলিয়াসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এভাবে কেটে গেছে ২০১২। বছরের প্রথম দিকে যে ঝড় এসে ইলিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই ঝড় থেমে গেলেও ইলিয়াস ফেরার কোন লক্ষণই নেই। ৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও আশাবাদী তার পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে পথ চেয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক। তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা তিনি বোঝেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভরসা করেই ইলিয়াসের পথপানে আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াস আলীর মায়ের দাবি, তার ছেলেকে তিনি যে কোন মূল্যে চান। সুস্থভাবে ছেলেকে ফিরে চান। তিনি আর কিছু চান না। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্যবান বিবি কাতর হয়ে পড়েছেন। কাঁদছে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে তার চোখের পানি। গলার স্বর কমে এসেছে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অশীতিপর সূর্যবান ছেলে ইলিয়াসকে একবার দেখতে চান। ইলিয়াসের ভাই আছকির আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে পথ চেয়ে আছেন তারা। তারা ইলিয়াসকে ফিরে পেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছে। গুম নামক সেলে ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনছার আলীকে আটকে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান তারা। সরকার ইলিয়াসসহ নিখোঁজ দিনার, জুনায়েদ ও আছকির আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে জানান তিনি।

No comments:

Post a Comment