Pages

Showing posts with label BNP. Show all posts
Showing posts with label BNP. Show all posts

Wednesday, March 6, 2013

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল


কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হরতাল পৃষ্ঠা
পালন ও বর্জনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরে এ ঘটনা ঘটে। হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির একাংশ ও আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে মহানগরীতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ অন্তত ১৫টি দোকানপাট ভাঙচুর ও ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে গতকাল বেলা ১২টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সমর্থিত আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন সমর্থিত বিএনপির একটি গ্রুপ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। বিকালে জেলা দক্ষিণ বিএনপি’র সভানেত্রী বেগম রাবেয়া চৌধুরী নগরীর বাদুরতলাস্থ তার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিনসহ তার সমর্থিত কর্মীদের দায়ী করেন এবং এ ‘অতর্কিত হামলা’র প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুল হক ফজলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমীর, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে, গুলিবিদ্ধ নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা হচ্ছেন যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম মাছুদ, আবদুর রশীদ, আকরাম হোসেন এরশাদ, মহসিন, আউয়াল, সুমন, ছাত্রদল নেতা তুহিন, জনি পাটোয়ারী, মহসিন খন্দকার কাকনসহ ২০ জন এবং অপরপক্ষের যুবলীগ নেতা রাসেল, সানি, তুহিন, সবুজ, ছাত্রলীগ নেতা শরীফ, রাজীবসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপি দাবি করেছে।
এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’গ্রুপে বিরোধ চলে আসছে। দুপুরে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী আতঙ্কে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এসময় খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কারণে তিনি আমাকে অভিযুক্ত করেছেন।
এছাড়া, জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বিষ্ণুপুরে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থক মোস্তফা খান, ঝন্টু মিয়া, আওয়ামী লীগ কর্মী আবু কাউছার, মাহমুদ সরকার, আলাউদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

Friday, February 1, 2013

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ কয়েক জনকে  কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।

Thursday, January 31, 2013

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০১৩ সাল কি একটি সন্ধিক্ষণ হবে? আমার দেশ ১৫ কোটি মানুষের। ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশটি স্বাধীন। আমাদের নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক আনুগত্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তিগুলোর দিকে ধাবিত তখন যুক্তরাষ্ট্র অলস অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এ সময়ে দু’দেশের সম্পর্কে চলে টানাপড়েন।
এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তার কিছুই করেনি তা নয়। এখন থেকে ৬ মাস আগে, বিশ্বব্যাংক চার মাইল দীর্ঘ একটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কোন একক অবকাঠামোর প্রকল্প। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপ নিয়ে তদন্ত দাবি করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের সদস্যরা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানান। গ্রামীণ ব্যাংকও ওই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংক লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে অপসারণের কারণ? এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে: ‘যদি বাংলাদেশে কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন, তাহলে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কারের কোন দাবি করেছেন এ বিষয়ে বেশির ভাগ বাংলাদেশী একমত হবেন না। বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী, শেখ হাসিনার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের এ সংখ্যা নিবন্ধিত। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। অথবা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নেতা খুন হওয়া আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথাই বিবেচনা করুন। তাকে হত্যা করার পর এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব রাজনৈতিক নেতা ও তার সমর্থকদের স্থানীয় যুদ্ধ অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এ বিচার করার জন্য যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরে দি ইকোনমিস্ট ফাঁস করে দেয় ই-মেইল ও ফোন রেকর্ডিং। তাতে প্রকাশ হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন কিভাবে এ বিচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং কিভাবে তারা হাসিনার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য বিচারকদের করছে।
সহজ কথা হলো- গত ৫ বছর ধরে, এশিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দেশ থেকে কিভাবে দ্রুতগতিতে সরতে সরতে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে এক পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রে। এখন নির্বাচনের আগে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন মুছে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবে, তিনি নিজেই এই শাসন ব্যবস্থা প্রচলনে সহায়তা করেছিলেন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য গঠন করা হয় নির্দলীয় সরকার- যাতে ক্ষমতাসীন সরকার কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা এক রকম নিশ্চয়তা। যদি ভোটাররা নতুন একটি সরকারের জন্য ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলেই ক্ষমতা হাতবদল হয়। এ বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে প্রতিবাদে সমবেত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দৃশ্যত, শেখ হাসিনা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, জনপ্রিয় বিরোধী দল তার শাসনের বিরোধিতা করলেও এতে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মিয়ানমার সফর করেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই মিয়ানমার ছিল একঘরে। সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এক পরিবারের শাসনে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে এ অঞ্চলের জন্য তা হবে এক বড় পশ্চাৎ যাত্রা। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আশায় ভরা একটি অঞ্চল। কারণ, আমেরিকা স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের, যেমন গ্রেট বৃটেন, আছে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর জন্য প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা। এটাকে নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিরা যারা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে কংগ্রেস ও বৃটিশ পার্লামেন্টের। অন্যদিকে শেখ হাসিনা কেবলমাত্র স্বীকৃতির লোভ করে যান।
শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে যে, যারা শ্রমিক অধিকারকে সমর্থন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা করেন তাদেরকে যদি মত প্রকাশ করতে দেয়া না হয় তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা প্রত্যাহার করা হবে। এই শাসক গোষ্ঠীর যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে খাটো করে দেখে- পশ্চিমা শক্তিগুলোর তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবরোধ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের জনগণের সামনে এসব কথা তাদের প্রকাশ্যে বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের নাগরিকরা তা দেখতে ও শুনতে পান। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক মিশন প্রতিষ্ঠায় রত আছে তা নিশ্চিত করতে পারে।
কথায় আছে, আইনের আদালতের চেয়েও বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। পূর্ণ বিবেকবোধ দিয়ে এটা বলা অসম্ভব যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য দূরীকরণ নিরাপদ নয়। এসবই রয়েছে ভয়ানক বিপদের মুখে। এখন আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার।

Wednesday, January 30, 2013

দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্‌ড’

দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্‌ড’


ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সংস্কারপন্থিদের স্বীকৃতি দেয়ার বৈঠকে অংশ নিতে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছিল খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী ২০০৭ সালের ২৮শে অক্টোবর তাকে ডেকেছিলেন ধানমণ্ডির একটি বাসায়। পরদিন সাইফুর রহমানের বাসায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। তাদের প্রস্তাব ও হুমকিতে ভাবলেশহীন খোন্দকার দেলোয়ারকে একপর্যায়ে মারতে গিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন। বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন- ‘ইউ উইল বি কিলড, ইউর ফ্যামিলি উইল বি ডেস্ট্রয়েড’। এমনভাবেই সে দুঃসহ দিনের বর্ণনা করেছেন তার মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। সেদিন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত দেলোয়ার চিকিৎসার জন্য বারডেমে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৌশলে করেছিলেন আত্মগোপন। তার এ অনমনীয় ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে অনিবার্য বিপর্যয় থেকে বেঁচে গিয়েছিল বিএনপি। তার এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে তাকে নিয়ে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিচারণে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেলোয়ার হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন, বিপরীত ধারার রাজনীতি করেও তারা ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে পরস্পরের বাড়িতে ছুটে গেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর হোসনে আরা হোসেন লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় খোন্দকার দেলোয়ার কিভাবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছিলেন বড় ভাইয়ের কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। খোন্দকার দেলোয়ারের মজলিসি চরিত্রের বর্ণনা করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। তার অনাড়ম্বর জীবন, চলাফেরা ও খাদ্যাভাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন সাংবাদিক আতাউস সামাদ, নূরুল কবীর, সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুল করিম। ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিবারের ওপর চাপ ও ২৯শে অক্টোবরের আত্মগোপন নিয়ে লিখেছেন তার অনুজ রাজনৈতিক সহকর্মী মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ছেলে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। জরুরি সরকারের আমলে রাজনৈতিক দুঃসময়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের একনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বাণী দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন- ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোতে আমার ধানমণ্ডির বাসায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অনেক গোপন বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সব সময় খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব উপস্থিত থাকতেন। আন্দোলনকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে কর্মসূচি নির্ধারণে তার বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতা ছিলো লক্ষণীয়। ...জাতীয় সংসদে প্রকাশ্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে ’৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিল পাস হলেও এর পেছনে অনেকের অবদান ছিল। এদের একজন ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহেব। যা অবশ্যই আজ আমাকে বলতে হবে। ... ’৯২ সালে গোলাম আযমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যাপারে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করি। পরে লাগাতার বর্জন শুরু করি। দীর্ঘ বর্জনের এক পর্যায়ে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব আমার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংসদের একটি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি তাকে আমার ধানমণ্ডির বাসায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অচলাবস্থা নিরসনে আমার বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদানীন্তন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কক্ষে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকারি দলের তদানীন্তন উপনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গোলাম আযমের বিচারসহ চারটি বিষয়ে সংসদের উন্মুক্ত অধিবেশনে ঘোষণা দান করেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের অবসান ঘটে।’ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এত প্রশংসা যারা করলেন, তারা তার জীবিতকালে অমন সীমাহীন জঘন্য সমালোচনা না করলেই কি পারতেন না? আজ যারা গলা ফাটিয়ে কথা বলেন তারা কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় ইঁদুরের গর্তে লুকিয়েছিলেন। সেদিন এই খোন্দকার দেলোয়ারই একজন নির্ভীক রাজনীতিবিদের মতো সিংহের তেজে মাঠে-ময়দানে ছিলেন। তার নিজের দল বিএনপিতেও তিনি কম অপমানিত-লাঞ্ছিত হননি।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন লিখেছেন- ‘রাজনীতির বাইরেও তার সাথে আমার একটা আলাদা সম্পর্ক ছিল উভয়ের নামের শুরুতে ‘খোন্দকার’ থাকার কারণে। আমি তাকে সব সময় ‘সিনিয়র খোন্দকার সাহেব’ বলে সম্বোধন করতাম। তিনি সব সময় মিষ্টি হেসে তা উপভোগ করতেন। ... প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর স্বৈরাচারী এরশাদ যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শামসুল হুদা ও ডা. মতিনের মাধ্যমে ঢাকা মিরপুরের বিউটি সিনেমা হলে বিএনপি নামে একটি সম্মেলন করে বিভক্ত করতে অপচেষ্টা করেছিল, তখন যে কয়জন নেতা বিএনপি’র মূলধারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিকে সমুন্নত রেখেছিলেন তাদের মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ারের নাম উল্লেখযোগ্য। ... বিভিন্ন সংস্থা ও মহল তাকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্য হেন চেষ্টা নেই যা করেনি। এমন চাপের মুখে তিনি সেদিন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, তার মৃত্যু হতে পারে তবুও তাকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সরানো যাবে না। সেদিন আমরা কারাগারে থেকে উৎসাহিত হয়েছিলাম এবং আশ্বস্ত হয়েছিলাম।’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস লিখেছেন- ‘সারাজীবন খোন্দকার দেলোয়ার যেসব বন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন, চিন্তা-ভাবনা ও মতবিনিময় করেছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন রাজনৈতিক আলাপচারিতায়- ১/১১ পর সেই বন্ধুরা চক্রান্তকারীদের এজেন্ট হয়ে দলের চেয়ারপারসনের গলায় ছুরি বসাতে তৎপর হয়ে ওঠে সংস্কারপন্থির খোলস পরে। দেলোয়ার ভাই তখন সেই বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়, আদর্শিক চেতনায়, কৃতজ্ঞতাবোধের ঈমানি দায়িত্বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন- ‘এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাদের স্বরূপটা সুস্পষ্ট হয় অসময়ে, সঙ্কটকালে, অনিশ্চিত মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ক্ষণে। তিনি যে আপাদমস্তক রাজনীতিক ছিলেন, তার নিজের দলের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে দলীয় আদর্শকে প্রাণপণে ভালবাসতেন তার প্রকাশ অন্য সময়ে যেমন ছিলো, তার হাজার গুণ বেশি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চরম সঙ্কটকালে।... ওই সময়ে তার সাহস, তার আত্মবিশ্বাস, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিলো তুলনাহীন। তিনি ওই সঙ্কটকালে শক্তভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে জাতীয়তাবাদী দলের বিপর্যয় ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিলো না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন- ‘জাতীয়তাবাদী ঘরানার মধ্যপন্থি, উদার, বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে মৌলিক শিক্ষা, শহীদ জিয়ার যে আদর্শিক অনুপ্রেরণা, বেগম খালেদা জিয়ার যে দিক নির্দেশনা-তা ছিল খোন্দকার দেলোয়ারের মূল শক্তি ও প্রেরণা। এই প্রেরণার পথে তিনি চলেছেন সারাজীবন, আমৃত্যু। ... যখন ১/১১ পর একটি বিতর্কিত ও ক্ষতিকর সরকার রাষ্ট্র দখল করে এবং বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের সর্বাত্মক আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র চালায়- তখনও খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন আপসহীন, অটল। দল ও নেতৃত্বের প্রতি এমন শর্তহীন বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বর্তমান সময়ে এক বিরল ও অনুকরণীয় উদাহরণ।’ আতাউস সামাদ লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন রাজনীতিতে নমনীয়তা এবং সহাবস্থানের পক্ষে ছিলেন। চিফ হুইপ হিসেবেও তিনি সমঝোতার পক্ষে কাজ করতেন বলে শুনেছি। অতি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নমনীয় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনই অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দুঃসাহসের সঙ্গে ১/১১’র জরুরি আইনের সরকারের পেছনের সেনাশাসকরা বিএনপি ভাঙার জন্য যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, যাতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল, তা প্রতিহত করেছিলেন। আর তা করেছিলেন বৃদ্ধ বয়সে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে।’ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া লিখেছেন- ‘বিচিত্র এই জীবনের চলার পথে চলতে চলতে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, আবার হঠাৎ কেউ হারিয়ে যায়। কিন্তু আবার কেউ কেউ হারিয়ে গেলেও তাদের কথা ভোলা যায় না। তেমনি দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার স্বামী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামীর কাছ থেকে দেলোয়ার ভাইয়ের এত কথা, এত গল্প শুনেছি, তাই উনার সঙ্গে আমার স্বামী যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তখন মনে হয়েছে উনি আমার বহু পরিচিত। প্রথম দেখাতেই পরিচয় পেয়েছি তার উদার ও অমায়িক ব্যবহারের। মুখে তার হাসি লেগেই থাকতো এবং শুনেছি ওরা দু’জন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। তারা দু’জন ছাত্রজীবনে একই সঙ্গে গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। আমার স্বামী প্রায়ই বলতেন আমাকে- ‘দেলোয়ারের মনটা খুব পরিষ্কার। দেলোয়ার ভাই খুব ভাল গল্প বলতে পারতেন। আর বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য তার খুব প্রিয় ছিল। ... ২৭শে জানুয়ারি সেই কালরাত্রিতে আমার স্বামীকে যখন গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যুবরণ করতে হলো সেদিন দেলোয়ার ভাই ও তার পরিবার ছুটে এসেছিলেন আমাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য।’ সাংবাদিক শফিক রেহমান ‘জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি ছিলেন একজন ক্লাসিক্যাল পলিটিশিয়ান।’ ...বেগম খালেদা জিয়া খুব স্বল্পভাষী ও মৃদুভাষী। তবুও আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খোন্দকার দেলোয়ার যে সাহসী এটা আপনি বুঝলেন কি করে? তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে বললেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি জেনেছিলেন যে খোন্দকার দেলোয়ার একজন সাহসী লোক। আমি বায়তুল মোকাররমে তাকে দেখেছি পুলিশ যখন লাঠিপেটা করছিল তখন তিনি পালিয়ে না গিয়ে পুলিশের সামনে গিয়েছিলেন এবং লাঠির বাড়িও খেয়েছিলেন।’ নূরুল কবীর লিখেছেন- ‘এমন মানুষকে, রাজনৈতিক-দার্শনিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও, পছন্দ না করেও পারা যায় না। আমিও দেলোয়ার ভাইকে পছন্দ করতাম। তার সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতাম।’ কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ লিখেছেন- ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আজ দলের যে অবস্থান এই বিশাল ব্যাপ্তির জন্য সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় মরহুম দেলোয়ার ভাইয়ের।’ যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল লিখেছেন- ‘কি এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব! তার সাথে রাগ করা যায় কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবেই না। ঘৃণার তো প্রশ্নই আসে না। নীতি এবং বিশ্বাসবোধ এর ভিত্তি কতটা দুঃসাহসী এবং অনমনীয় করতে পারে একজন মানুষকে, তার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি। যথার্থই এক সংশপ্তক। ... তিনি যেন একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানাগার। কেউ ছাত্র হতে চাইলে সে পরম মমতাময় একজন শিক্ষক পেতেন, রাজনীতি শিখতে চাইলে সে অকৃপণ হাতের ভাণ্ডার নিতে পারতেন, হতাশায় নুয়ে পড়া কেউ কাছে গিয়ে নিষ্কলুষ স্বীকারোক্তি দিলে আশার সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে ফিরতে পারতেন।’
খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুর সম্পাদনায় স্মারকগ্রন্থে স্মৃতিচারণ লিখেছেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ড. মাহফুজ পারভেজ, বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নুরে আরা সাফা, কবীর মুরাদ, মীর সরফত আলী সপু, আরিফুর রহমান নাদিম, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, শাকিল ওয়াহেদ, আবুল কালাম আজাদ, ড. খাজা নাজিমউদ্দীন, খোন্দকার দেলোয়ারের ছেলে এএইচ খোন্দকার জগলু, ডা. আকতারা খাতুন লুনা, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না, ডা. লুনা খন্দকার প্রমুখ। এছাড়াও স্মারকগ্রন্থে দেশে-বিদেশে খোন্দকার দেলোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তোলা ও পারিবারিক ছবি, তার মৃত্যুতে বিদেশী দূতাবাসের শোকবার্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং রয়েছে।

Tuesday, January 15, 2013

‘সমরাস্ত্র ক্রয়ের বিষয় জনগণকে জানানো উচিত’

‘সমরাস্ত্র ক্রয়ের বিষয় জনগণকে জানানো উচিত’


সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনীতিক ফারুক চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরে যে ৮ হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তি হচ্ছে তা সার্বিক প্রতিরক্ষানীতির অংশ কিনা তা জনগণের জানা প্রয়োজন। বিষয়টি জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর সম্পর্কে মানবজমিনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৪০ বছর পর সরকারপ্রধান পর্যায়ের কেউ রাশিয়া সফর করছেন। এর আগে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফর করেছিলেন। তাই এ সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সফর। ৪০ বছরে পৃথিবী অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ২৪ বছর আগে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন হয়েছে রাশিয়া। পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেশি। তাই আমি আশা করি এ সফর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড়তর করবে। সংবাদ মাধ্যমে আমরা যা জানতে পেরেছি তা হলো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ সফরের কার্যসূচিতে স্থান পাবে। ৮ হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র ক্রয় আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি। প্রথম বিষয়টিতে আমার বক্তব্য হলো এ ব্যাপারে আমরা এখনও বিস্তারিত কিছুই জানি না। যে টাকা ধার করা হবে তার সুদের হার কত তাও জানিনা এবং এটা সার্বিক প্রতিরক্ষানীতির অংশ হিসেবে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেনা হচ্ছে কিনা তা-ও জানি না। এসব বিষয় আমরা সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই। জনগণকেও জানানো উচিত। কারণ, এটা একটা বিরাট বিষয়। এটা দু’দেশের একটা বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়। তবে এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নয়ন ঘটবে বলে আমি আশা করছি।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোন বিচ্যুতির আশঙ্কা থাকে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। আমরা একটা সার্বভৌম জাতি। কখন কার সঙ্গে কি রকমের সম্পর্ক করবো, এতে কারও কিছু যায় আসে না। এমনটি হওয়ারও কথা না। এগুলো দ্বিপক্ষীয় বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর তার অর্জন নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। এ সফর নিয়ে তেমন কোন সংশয় আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফর তো শেষ হয়নি। তাই এখনই এ ধরনের কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, সব বিষয়ে আমাদের ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

Sunday, January 6, 2013

কোন্দল থাকলেই পরাজয়

কোন্দল থাকলেই পরাজয়


ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। এ আসনে ধোবাউড়ার ৭টি ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯০-এর পর শুধু ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বাকি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন নির্বাচিত হন। গতবার নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এলাকায় তিনি একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও গত ৪ বছরে এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি। তার ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের লোকজন চরম ক্ষুব্ধ তার প্রতি। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানান। এ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেই কোন্দলের কারণে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। যারা দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন সেই দলের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে উভয় দলের নেতকর্মীদের অভিমত।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়ার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সি এন সরকার চন্দন, ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির নেতা আলী আজগর ও ধোবাউড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
আওয়ামী লীগ: এখানে তিন ভাগে বিভক্ত পড়েছে। প্রমোদ মানকিন গ্রুপ, ফারুক আহমেদ খান গ্রুপ ও তৃতীয় গ্রুপটি দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রমোদ মানকিন দলের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে বিগত নির্বাচনের আগে হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রমোদ মানকিনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ফারুক খান। প্রমোদ মানকিনকে মনোনয়ন দিলে চরম বিরোধিতা করে ফারুক খানের সমর্থকরা। পরে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ফারুক খান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিরোধিতা করেন প্রমোদ মানকিন গ্রুপ। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফারুক খান পরাজিত হন। বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হালুয়াঘাট আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৭ বছর ধরে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুলসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তারা বলেন, বর্তমান এমপি প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন এবং এলাকার উন্নয়ন করেননি। ফলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।
বিএনপি: হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র হালুয়াঘাট থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান। আরেক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা (উত্তর) বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর। তৃতীয় পক্ষ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক হিসেবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রিন্স দু’টি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর থেকে গ্রুপের সৃষ্টি হয়। হালুয়াঘাটের ব্যক্তি হিসেবে আলী আজগরের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৪ বছরে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট এলাকার কোন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, হালুয়াঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক প্রশস্ত করে সমপ্রসারণ কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সন্ত্রাস, খুন, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, চুরি, ছিনতাই টেন্ডারবাজি বেড়েছে। এলাকায় গেলে উন্নয়ন কারও চোখে পড়বে না। বিএনপির আমলে শুরু হওয়া কাজগুলো শেষ হয়েছে। নতুন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিন এলাকার উন্নয়ন করতে না পারলেও তিনি হালুয়াঘাটের নিজ গ্রামের বাড়িটিকে সুরম্য অট্টালিকায় উন্নীত করেছেন।

Friday, January 4, 2013

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল


আবারও দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। একই সঙ্গে এ দু’টি মামলায় তাকে ১৭ দিনের রিমান্ড দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাকে গ্রেপ্তারে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মতিঝিল থানার একটি মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সূত্রাপুর থানায় মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত জামিন ও রিমান্ড শুনানির দিন ৮ই জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। সেদিন ফখরুলের উপস্থিতে এ শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মির্জা ফখরুল। জেল থেকে বের হওয়ার আগেই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ


সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত ২০১২ সাল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বছর। ইলিয়াস ফিরবেন নাকি ফিরবেন না- এ অনিশ্চয়তায় কেটে গেছে বছর। তিনি জীবিত না মৃত- তা-ও জানে না কেউ। ২০১২ সালে সিলেটের আলোচিত ঘটনা কোনটি-সিলেটে এসে কাউকে প্রশ্ন করা হলে এক বাক্যে বলবে ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনা। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেট বিএনপি’র একচ্ছত্র অধিপতি। তার নেতৃত্বেই চলতো সিলেট বিএনপি’র কার্যক্রম। নিখোঁজের আগে ইলিয়াস আলী সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করেন। তার আহ্বানে সিলেটে হরতালও পালিত হয়েছে। এরপর রোড মার্চের মাধ্যমে সিলেটে বিশাল জনসভা হয়েছে। ইলিয়াসের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি সাফল্য পেয়েছিল। এই অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৭ই এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন গাড়িচালক আনসার আলীও। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ। ছাত্রদলকর্মী খুনের ঘটনায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্তই দিনার ও জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইফতেখার আহমদ দিনার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলী সিলেটের ফর্চুন গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সরকারের একটি বাহিনী দিনারকে গুম করেছে। তিনি দিনার ও জুনায়েদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ইলিয়াস আলীর দাবির পর সরকারের ভেতরে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ৩রা এপ্রিল দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ই এপ্রিল গাড়িচালকসহ এম. ইলিয়াস আলী গুম হন। এ ঘটনার পর সিলেটের মাঠে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮ই এপ্রিল গোটা বিভাগকে অচল করে দেয় বিএনপি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এখনও ইলিয়াসের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের অবস্থানরত মা সূর্যবান বিবি। অবুঝ শিশু নাওয়াল পথ চেয়ে আছে প্রিয় পিতার। অপেক্ষায় স্বজনরা। বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী ইলিয়াসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এভাবে কেটে গেছে ২০১২। বছরের প্রথম দিকে যে ঝড় এসে ইলিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই ঝড় থেমে গেলেও ইলিয়াস ফেরার কোন লক্ষণই নেই। ৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও আশাবাদী তার পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে পথ চেয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক। তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা তিনি বোঝেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভরসা করেই ইলিয়াসের পথপানে আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াস আলীর মায়ের দাবি, তার ছেলেকে তিনি যে কোন মূল্যে চান। সুস্থভাবে ছেলেকে ফিরে চান। তিনি আর কিছু চান না। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্যবান বিবি কাতর হয়ে পড়েছেন। কাঁদছে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে তার চোখের পানি। গলার স্বর কমে এসেছে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অশীতিপর সূর্যবান ছেলে ইলিয়াসকে একবার দেখতে চান। ইলিয়াসের ভাই আছকির আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে পথ চেয়ে আছেন তারা। তারা ইলিয়াসকে ফিরে পেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছে। গুম নামক সেলে ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনছার আলীকে আটকে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান তারা। সরকার ইলিয়াসসহ নিখোঁজ দিনার, জুনায়েদ ও আছকির আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে জানান তিনি।

Monday, December 24, 2012

আমরা হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছি :তরিকুল

আমরা হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছি :তরিকুল


গতকাল রাজধানীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের এক গণবিক্ষোভে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশবাসী এক স্বেচ্ছাচারী 'হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছে। তবে ২৬ ডিসেম্বর গণসংযোগের পর থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলন কঠিনতর হবে। আর এতেই এই হীরক রাজার পতন হবে। হীরক রাজার রশিতে দাও টান, রাজা হবে খান খান।' গতকাল রবিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা পুন:প্রবর্তন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর ১৮ দলের আয়োজনে এ গণবিক্ষোভ হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এ গণবিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মজিবর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

Thursday, December 20, 2012

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ


কান টানলে মাথা আসে বলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আপনারা সরকারের কাছে একবার জানতে চান কেন পদ্মা সেতু হলো না? কেন আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আসলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি কারণ কান টানলে মাথা আসে। তাদের টান দিলেই মাথা চলে আসবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকারের লোকজন বিদেশে ঘুষ আদান-প্রদান করেছে। তাই দীর্ঘদিন টালবাহানার পর সরকার বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিয়েছে টাকা দিলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকারের এ শর্তেই প্রমাণ হয় দুর্নীতি হয়েছে এবং সরকারই তা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যস্ত কমিশন নিয়ে ও চোরদের বাঁচাতে। সরকারের ডানে চোর, বাঁয়ে চোর। মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আত্মীয়-স্বজনসহ সরকার নিজেই চোর। হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক লুটপাট করেছে সরকারের লোকজন। আওয়ামী লীগ শেয়ারবাজার লুটের মাধ্যমে দেড় কোটি মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করেছে সরকার। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। একদল গ্রেপ্তার হলে আন্দোলনে আরেক দল যোগ হবে। এখন যোগ হওয়ার সময়।
বিরোধী নেতা বলেন, মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীদের হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। মাথা নিচু করে, হাত জোড় করে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে যেভাবে পদানত করে রেখেছে ঠিক তেমনি তারা বিদেশে মাথা নত করে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরা। ’৭১-’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজনই পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাংক লুট করেছে। তারা তাদের নেতার কথাও শোনেননি। তাই শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি। চোর কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই চোরের দল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি জবাব দেবে? যুদ্ধের পর তো প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেগুলো বিদেশে পাচার করে পকেট ভারি করেছিল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, খুন, লুটপাট ও চুরির শাসন। তিনি সরকারের কৃষিনীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার কৃষকদের কাছে ধান কিনছে না। তারা কমিশনের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনের নিরুৎসাহী করে তুলছে। একই ভাবে কলকারখানায় উৎপাদন নেই। সেখানে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। বিদেশী বিনিয়োগ তো নেই-ই। কিন্তু বিদ্যুতের কথা বলে সরকার কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, বিশ্বজিতের মতো তরুণকে কেন রাজপথে প্রাণ দিতে হলো? তারপরও প্রধানমন্ত্রী কেন মিথ্যা বলছেন? কারণ ছাত্রলীগকে ধরলে তারা বলবে, আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওইখান থেকে নির্দেশ পেয়ে কেবল নির্দেশ পালন করেছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ দেশের কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র আনেনি, তারা বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা জালিম সরকারের পতন ও দেশ রক্ষার এ সংগ্রামে শরিক হোন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এ হলে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। তবে এদেশকে কারও পৈতৃক সম্পত্তি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আপনাদের মতোই নিজের জায়গায় ফিরে গেছেন। আপনারাই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে দেশকে স্বাধীন করেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম কাটার হুমকি দিয়েছে সরকার। ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি নাম কাটা হয় ভবিষ্যতে সে নাম যোগ হবে, ভাতাও দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আমিই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলাম। ভবিষ্যতে সে মন্ত্রণালয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের সম্পদ নয়
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জাতিসংঘ নাকি শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করেছে। তারা যদি জানতেন তিনি দেশে কি রকম অশান্তির ও দুর্নীতির মডেল বাস্তবায়ন করছেন তাহলে দুর্নীতির একটি পুরস্কার দিতো। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন গুমের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, খুনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে, সরকার লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সে চলমান প্রক্রিয়াকে ফের যুদ্ধে পরিণত করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ২৫শে মার্চ রাতেই জিয়াউর রহমান তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। সেদিন এত উন্নত গণমাধ্যম ছিল না বলেই তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবে সেটাই সত্য। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের উদ্দেশে বলেন, ’৯৬ সালে আপনার উল্টাপাল্টা কাজের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা করবেন না, জবাব দিতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এর ৩রা মার্চ ঢাকায় সংসদ বসলে শেখ মুজিব হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন, আপস করেছেন। আমরা ভাসানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশবাসী জিয়ার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনীতি করেছি আমরা, যুদ্ধও করেছি। কিন্তু এখন তা সম্পদ হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। অতীতে অনেক কোয়ার্টার-সেমিফাইনাল খেলেছি, এবার ফাইনাল খেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদিন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কাটার এখতিয়ার হেলাল মোর্শেদ খানদের কে দিয়েছে? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদের পদত্যাগ দাবি করছি। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মে. জেনারেল (অব.) আইনউদ্দিন বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহবারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব.) শাহজাহান মিয়া, ইশতিয়াক আহমেদ উলফাত, প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব.) ড. রেজা প্রমুখ। বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হেলাল মোর্শেদ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা দেশের সম্পদ। ৭১ দেশের স্বাধীনতার জন্য একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এবার দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মহানগর নাট্যমঞ্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার জন্য বিরোধী দল বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার অয়োজন করে।

Wednesday, December 19, 2012

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার


তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের টানাপড়েন স্পষ্ট। একই সময়ে দিল্লির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বৈঠক এবং দেশে ফিরে খালেদা জিয়ার ভারত নিয়ে নয়া কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা সকল মহলেই। ঢাকা সফরে আসা আনন্দবাজারের দিল্লি প্রতিনিধি অগ্নি রায় আরও লিখেছেন:
জনশ্রুতি আছে, বেগম খালেদা জিয়া যে কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলে সাধারণত তার মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যয় করেন ভারত-বিরোধিতায়!
সেই খালেদা জিয়া গত ১৮ই নভেম্বর ভারত সফর সেরে ফিরে আসার পর এক মাস কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত চারটি জনসভা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার, উখিয়া, ঢাকা ও বরিশালে। এ দেশের রাজনীতির কারবারিরা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করছেন, ভারত শব্দটাই তার অভিধান থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে! বাংলাদেশে ভোটের আগে বিএনপির এই পরিবর্তিত অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি এমন নয় যে, খালেদার দল বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে মনমোহন সিংহ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বরং দলীয় সূত্রের খবর, ভারত সম্পর্কে খালেদা জিয়ার এ নরম অবস্থান তার নিজের দলের ভিতরেই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত সম্পর্কে খালেদার এই নয়া নীতি নিয়ে তার দলের অনেক নেতাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন যুগের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভারত নীতিতে কোন পরিবর্তন না আনার কথাও বলা হচ্ছে। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী। খালেদা পরিবারের ব্যক্তিগত বন্ধু এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মাহমুদুর রহমান এ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, এ পরস্পরবিরোধিতা কি ভোটের আগে দলের হাসিনা-বিরোধিতাকে সর্বাঙ্গীণভাবে লঘু করে দেবে না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ভারত সম্পর্কে খালেদার এ তুলনামূলক নরম অবস্থান নিছকই কৌশলগত কারণে। সামনাসামনি উগ্র ভারত বিরোধিতা না করে জামায়াতের মতো জোটসঙ্গীদের দিয়ে সেই কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন খালেদা। এটা ঘটনা যে, ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি এখনও রূপায়ণ না করতে পারার প্রশ্নে যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন উঠছে, তার ভারত-বন্ধুত্বের ফল নিয়ে। আওয়ামী লীগের একটি অংশও মনে করছে, এ দু’টি চুক্তির বিষয় নিয়ে প্রচার এতটা উচ্চগ্রামে নিয়ে যাওয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, ‘তিস্তা চুক্তি হলে সরাসরি রাজশাহী এলাকা উপকৃত হবে এবং পদ্মায় পলি পড়ার হার কমে তা সচল হবে। একথা ঠিকই। কিন্তু গোটা দেশজুড়ে তিস্তা নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা প্রায় জাতীয় ইস্যুর সমান!’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই দুই চুক্তি না হওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে যে ভারত-বিরোধী আবেগ তৈরি হয়েছে, তাকে সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত।
বাংলাদেশের বক্তব্য, মুখে ভারত-বিরোধী কোন বিবৃতি না দিলেও খালেদা জিয়া পেছন থেকে গোটা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমানের কথায়, ‘পাকিস্তানের হাতে তামাক খেয়ে ভারতকে যতটা সম্ভব চাপে রাখতে জামায়াত প্রবলভাবে সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতকে সবসময় অস্বস্তিতে রাখতে পারলে বেশ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি হয়। এ কাজে পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশ টাকাও ঢালছে।’ হাসিনা শিবিরের বক্তব্য, বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখে (মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ইত্যাদি) বেগম জিয়া কৌশলগতভাবে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা বন্ধ রেখেছেন ঠিকই- কিন্তু ক্ষমতায় এলেই তিনি ফের পুরনো অবস্থানে ফিরবেন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, জামায়াতকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির কাজটিও এগোবে।
তবে ঘটনা হলো- শুধুমাত্র ভারত-বিরোধিতা দিয়ে যে ভোটের কিস্তিমাত করা যাবে না, তা বিলক্ষণ জানে বিরোধী জোট। তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তি রূপায়ণে ব্যর্থতা (যদিও দীপু মনি এখনও বলছেন, তারা আশাবাদী, এই দু’টি চুক্তি সই করেই ভোটে যেতে পারবে হাসিনা সরকার) নির্বাচনী প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, পদ্মায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামসহ অনেক বিষয়ই গুরুত্ব পাবে বিরোধীদের প্রচারে।
তবে বিরোধীদের ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে ভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গড়তে না-চাওয়া নিয়ে সরকারের যুক্তি- যা উড়িয়ে দিচ্ছে সরকার-পক্ষ। দীপু মনির কথায়, ‘বিএনপির কাছে প্রচারের অন্য কোন হাতিয়ার নেই। তাই তারা এই ধুয়ো তুলেছে। আমরা যেভাবে নির্বাচনী সংস্কার করেছি, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ। কমিশনও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।’ তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার জন্য খালেদা জিয়া যদি কোন প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তাহলে অবশ্যই আলোচনায় রাজি সরকার।

Monday, December 17, 2012

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে


স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে কৌশলে ৪০ মিনিট আটকে রাখা হলো বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। শনিবার মধ্যরাত থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা। ভোরে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সকালে সাভার স্মৃতিসৌধ যাওয়ার আগ মুহূর্তে ৬টার দিকে তার প্রটোকল গাড়িটি গুলশান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ৪৫ মিনিট আটকে রেখে পরে গাড়িটি আবার খালেদার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসা হয়। এতে স্মৃতিসৌধে যেতে এক ঘণ্টা দেরি হয় খালেদা জিয়ার। এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে খালেদা জিয়া যাতে সময়মতো স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে না পারেন, সেজন্য তার গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখে পুলিশ। বিরোধী দলীয় নেতাকে গুলশানের বাসা থেকে ভোরে যথাসময়ে বের হতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতার প্রোটোকল গাড়ি আটকে রাখা হয়।
জিয়ার কবরে খালেদা: স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে যান খালেদা জিয়া। সকাল ৯টায় সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি সমর্থিত অনেক সংগঠন আলাদাভাবে জিয়ার মাজারে ফুল দেন। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়ার কবরে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন নেতা-কর্মীরা।

Wednesday, December 12, 2012

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

রবিবারের অবরোধে পুরান ঢাকায় বিশ্বজিত দাস নামের এক যুবককে হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনার পর গণমাধ্যমে দোষী হিসাবে যাদের নাম এসেছে তারাসহ দায়ী কেউ যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

সাপ্তাহিক সপ্তবর্ণা নামে এক পত্রিকার সম্পাদক নাজিম আহমেদেরে পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ ফৌজদারি কার্যবিধিতে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি দাখিল করেন।

একটি দৈনিকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আবেদনে বিশ্বজিত হত্যায় জড়িত হিসাবে রফিকুল ইসলাম, মীর মো. নূরে আলম, মাহফুজুর রহমান, ওবায়দুল কাদের, এমদাদুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়। এদের সঙ্গে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আর্জিও জানানো হয় আবেদনে।

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করতে পারে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মনে করে, আইনের ব্যত্যয় ঘটছে; লঙ্ঘন হচ্ছে, তাহলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গত কয়েকদিনে জামায়াত-বিএনপির চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও সংঘর্ষের দায় বিরোধী দলীয় নেত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন। সেখানে অবস্থানের সময় বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে হানিফ একথা বলেন।

বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বরাবরের মত আজও রাজপথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অনুসারীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে। সকালে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, কাকরাইল ও মতিঝিলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে। তবে রবিবারের অবরোধ কর্মসূচিতে তারা যেমন মারমুখী ছিল, আজ মঙ্গলবার তেমন ছিল না। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ ছিল বিশ্বজিতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষ হরতাল অবরোধ ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বিরোধী দল দেশকে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলের মহাসচিবও যদি অপরাধ করেন, খুন করেন তাহলে তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে না? সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হানিফ বলেন, বিজয়ের মাসে এ ধরনের কর্মসূচি অনাকাঙ্খিত। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হরতাল প্রত্যাখান করেছে। রাস্তায় যান চলাচল ও অফিস আদালত স্বাভাবিকভাবে চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সে জন্য আমরা বারবার বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সংসদে আসেনি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম; মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ; ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সহ-সভাপতি জহিরউদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন; ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রায়হান প্রমুখ।

মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে যুবলীগ, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর উত্তর ও দণি যুবলীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠন গতকাল রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে।

Tuesday, December 11, 2012

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক। কি অভিযোগে তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ও জানতে চেয়েছেন তিনি। গত রাতে বিরোধী দলের নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্লেকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। রবার্ট ব্লেক আগামীতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার তাগিদ দেন। খালেদা জিয়া মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। বৈঠকে রবার্ট ব্লেক ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে খালেদা জিয়া ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপরসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও রিয়াজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ক্ষুদ্রক্ষণের অবদান যুগান্তকারী- ও’ব্লেক: আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, দেশের ৮৩ লাখ অতিদরিদ্র নারীর জীবনে গ্রামীণ ব্যাংক আশা জাগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ দেশের নারীদের জীবন-মান উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। হোটেল রূপসী বাংলায় গতকাল সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়ান উইমেন এন্টারপ্রিনারশিপ সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের সিম্পোজিয়ামে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক রবার্ট ও’ব্লেক বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এখানকার নারীরা তাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অংশ নেয়া নারী উদ্যোক্তাদের ‘সফল’ আখ্যা দিয়ে ব্লেক বলেন, এখানে সমবেত নারীরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছেন। এ জীবনে আপনারা যা অর্জন করেছেন তার সুফল আপনাদের অব্যবহিত পরের নারীরা তো পাবেই, আমার বিশ্বাস অনাগত নারী শিশুরাও এর সুফল পাবে।
শাবিতে উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে এগিয়ে আসার আহ্বান: এদিকে আমাদের শাবি প্রতিনিধি জাবেদ ইকবাল জানান, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে বন্ধু ও সহপাঠীদের এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও দরিদ্রতা দূর করতে হবে। এসব সামাজিক অসঙ্গতি সহিংতা ও উগ্র মনোভাবের দিকে চালিত করে। গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের মধ্যে হিংসাত্মক চরমপন্থা প্রতিহত বিষয়ক সংলাপ’ শীর্ষক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়োজন। বেলা তিনটায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপে প্রশ্নোত্তর পর্বে মডারেটর ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জায়েদা শারমিন সাথী।
ওদিকে গোলাপগঞ্জ থেকে চেরাগ আলী জানান, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী আজিরিয়া সিনিয়র আলীয়া মাদরাসা পরিদর্শনকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষা লাভে আগ্রহী হওয়ায় নিজেরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব সময় সহযোগিতা করতে চায়। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সকাল ১১টায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান রবার্ট ও’ব্লেক। তার সফরসঙ্গী ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। মাদরাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সাহাব উদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার গোপাল চক্রবর্তী, ফুলবাড়ি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আতিকুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সদস্য এনাম আহমদ চৌধুরী, মাদরাসা শিক্ষক ফজর আলী, মাওলানা জিয়াউর রহমান, ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শাহান, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল আহাদ, সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, ইংরেজি প্রশিক্ষক বদরুন নেছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, November 11, 2012

সরকার বিএনপিকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে, অভিযোগ খালেদার



সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে পুলিশ দিয়ে হামলা করছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করছে।”

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের রামুতে যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে আবারো স্পষ্ট ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় নেতা।

এ সময় তিনি সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বেলা সাড়ে তিনটায় খালেদা জিয়া রামু পৌঁছে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

পরে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত ‘সম্প্রীতি সমাবেশে’ ভাষণ দেবেন। রোববার খালেদা জিয়ার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

Monday, October 29, 2012

দিল্লিতে খালেদা-মনমোহন বৈঠক::পানির হিস্যা দাবি

দিল্লিতে খালেদা-মনমোহন বৈঠক::পানির হিস্যা দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নয়াদিল্লির ৭ রেসকোর্স রোডে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠককালে ভারতের কাছে অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা
দাবি করেন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহউদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সঙ্গে ছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পুলক চ্যাটার্জি ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই।

বৈঠকের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া।

আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। এটি হবে কোনো বিদেশী নেতার সঙ্গে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।

গতকাল রোববার ভারত সরকারের আমন্ত্রণে এক সপ্তাহের সফরে নয়াদিল্লি গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গতকাল বিকেলেই তিনি ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি।

সব শেষে আজমির শরিফ জিয়ারত করে ৩ নভেম্বর দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া।