Pages

Showing posts with label Murder. Show all posts
Showing posts with label Murder. Show all posts

Sunday, March 3, 2013

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি


পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশের ১৬ জেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ছাড়াও আছে পুলিশসহ দেশের সাধারণ নাগরিক। ওইসব মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়ে জেলাগুলোর পুলিশ সুপাররা একটি করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়ার পর থেকে সারা দেশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও জীবনহানি অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা স্বাক্ষরিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। গৎবাঁধা ওইসব প্রতিবেদনের আকার, ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। সূত্রমতে, প্রেরিত ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র একতাবদ্ধ হয়ে জনসারণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বাধা প্রদান করলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনসাধারণের জানমাল রক্ষা পুলিশের আত্মরক্ষা ও পুলিশের অস্ত্র রক্ষার জন্য পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেটের নির্দেশে গুলিবর্ষণ করে। উল্লিখিত প্রতিবেদনটি গাইবান্ধা থেকে প্রেরিত তবে দেখা গেছে যে সকল জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেসব জেলা থেকে প্রেরিত পুলিশি প্রতিবেদনের ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। কক্সবাজার জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সেখানকার পুলিশ গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেছে পুলিশ কোন গুলি ছুড়েনি। পুলিশের গুলিবর্ষণ ও জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহতদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির কর্মী পুলিশ, আওয়ামী লীগের কর্মী, নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, ছাত্র, প্রকৌশলী, পথচারী। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় জেলা প্রশাসকের অধীনে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিধান থাকলেও ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহতদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোন জেলাতেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। রংপুরের ডিসি জানিয়েছেন, এখনও কোন তদন্ত কমিটি হয়নি, তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি, তিনি জানিয়েছেন আজ অফিস খোলার পর হয়তো তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে।

Monday, February 4, 2013

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার


আগেই তথ্য ছিল দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করে ট্রাকে করে পালাচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা তাদের ধরতে মাইক্রোবাসে করে পিছু নেন। বার বার নির্দেশ সংকেত দিয়েও কোনভাবেই ট্রাকটি থামাতে পারছিলেন না তারা। একপর্যায়ে জীবন বাজি রেখে ট্রাকে ওঠার চেষ্টা করেন ডিবি কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি চালককে ট্রাক থামাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রাকে থাকা অপর এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে তাকে আঘাত করে। দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিঁটকে পড়েন শরিফুল। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য পিছু নেয়া ডিবি সদস্যরা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন ওই ট্রাকের চালক শিপন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে মুন্সিগঞ্জ গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, তারা আগেই জানতে পারেন দুর্বৃত্তরা ডেমরার সারুলিয়া এলাকা থেকে ভোররাতে বিদ্যুতের একটি চোরাই ট্রান্সফরমার ট্রাকে করে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় ডিবি পুলিশ দুটি মাইক্রোবাসে করে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ট্রাকটি দেখা মাত্রই ডিবি পুলিশ সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ট্রাক না থামিয়ে উপর থেকে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। এ পর্যায়ে ট্রাকটি সামনে থাকা অপর একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। তখন সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল দৌড়ে ট্রাকের বাম পাশের দরজার হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়েন এবং চালককে ট্রাক থামাতে বলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে ট্রাকের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে আঘাত করলে ছিঁটকে রাস্তায় পড়ে যান শরিফুল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর ডিবি পুলিশের গুলিতে ট্রাক চালক শিপন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পলাতক অপর দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান জানান, কিছু কাঠের গুঁড়ির বস্তা ও একটি ট্রান্সফরমারসহ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শরিফুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। সেখানে যোহরের নামাজের পর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি হাছান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা । জানাজা শেষে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, শরিফুল একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাতি গ্রামে। তার পিতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ খান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ গোরানে বসবাস করতেন শরিফুল। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ১৯৯৯ সালের ৫ আগস্ট কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নেন শরিফুল। ২০১০ সালে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। শরিফুল মারা যাওয়ার খবর পৌঁছালে তার গ্রামের বাড়িতে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুত্র শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার পিতা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা। শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত শরিফুলের লাশ চন্দনগাতি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

Friday, February 1, 2013

নারী বসের লালসার শিকার...পুরুষ ‍নির্যাতন

নারী বসের লালসার শিকার...“পুরুষ ‍নির্যাতন”


নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার অধঃস্তন পুরুষ কর্মকর্তা ম্যাথিউ শিন্ডলার (৩৯)। এ বিষয়ে গতকাল মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ম্যাথিউ শিন্ডলারের বিধবা স্ত্রী গিনা শিন্ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি ম্যাথিউ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে’তে আত্মহত্যা করেন ম্যাথিউ। তার স্ত্রী মামলায় দাবি করেছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তা সার্জেন্ট ক্রিস্টিন হার্টজেল তার স্বামীকে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন। এই চাপ থেকে ম্যাথিউ কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছিলেন না। ম্যাথিউ তিন সন্তানের জনক। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে করা মামলা অনুযায়ী, যদি ক্রিস্টিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ন করে, তার চাহিদা ম্যাথিউ পূরণ না করেন তাহলে তার চাকরির এসাইমেন্ট, কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি কোনটিই শুভ হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এতে এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ম্যাথিউ আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় গিনা সুনির্দিষ্ট কোন অংকের ক্ষতিপূরণ চান নি।

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ কয়েক জনকে  কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

 


সন্তানের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেল অতিথিবেশী চার ঘাতক। নিহতের নাম তাসলিমা আক্তার জেসমিন (৩৮)। গতকাল ভোরে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন টালি অফিস গলির ২৯১/বি, তেতলা ভবনের দোতলা থেকে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাসার দুই গৃহকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চার খুনির মধ্যে একজনের নাম আশা। সে নিহত তাসলিমাকে আপা বলে ডাকতো। তার মাধ্যমেই বাকি তিন খুনি ওই বাসায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। পরে শেষ রাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাসলিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার আট বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স দেখে ফেলে। পরে তার গলায় চাপাতি ধরে চুপ থাকতে বলে ঘাতকরা। হত্যা শেষে বাসার গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা। নিহত জেসমিনের স্বামী এনামুল হক পারভেজ গত ছয় মাস ধরে ব্রাজিলে আছেন। হাজারীবাগ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ‘অতিথি’ বেশে দুই তরুণী ও দুই যুবক জেসমিনের বাসায় রাত কাটায়। পরে কোন এক সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে খুনিরা একটি লাল, হলুদ-সবুজ রঙের লেডিস চাদর ও দুই জোড়া পুরুষের রেক্সিনের স্যান্ডেল রেখে গেছে। ওই আলামতের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। ঘটনার রাতে বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি বেগম (২৩) ও কাজল বেগম (২২)কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নিহতের মেয়ে রুমানা আফরোজ শান্তা বাদী হয়ে কথিত ‘অতিথি’ আশা নামের এক তরুণী ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী জানান, জেসমিনের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে শান্তা বিয়ের পর লালবাগে তার স্বামীর বাসায় থাকেন। জেসমিন তার ৮ বছরের ছেলে প্রিন্স ও দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি ও কাজলকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় নিহতের পূর্বপরিচিত আশা তার বন্ধু পরিচয়ে আরেক তরুণী ও দুই যুবককে নিয়ে জেসমিনের বাসায় আসেন। আশা ও অপর তরুণী দু’জনে তাদের সঙ্গে আসা দু’যুবকের সঙ্গে জেসমিনের বাসায় গভীর রাতে বিয়ে করবেন বলে জানানো হয়। জেসমিন তার তিন কক্ষের বাসার একটিতে ওই চারজনকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। দুই গৃহকর্মী এক কক্ষে ও ছেলে প্রিন্সকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে জেসমিন তার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রিন্সের চিৎকারে ভোরে গৃহকর্মীরা ঘুম থেকে জেগে দেখে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ পড়ে আছে। গৃহকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি মুঠোফোনে লালবাগে স্বামীর বাড়িতে থাকা তার মেয়ে শান্তাকে জানায়।
শান্তা সাংবাদিকদের জানান, ভোরে ওই চার জন তার মা জেসমিনের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করতে থাকে। এ সময় জেসমিন ও তার শিশুছেলে প্রিন্স জেগে যায়। তাৎক্ষণিক তারা প্রিন্সের গলায় চাপাতি ধরে বলে ‘চিৎকার করলে গলায় কোপ দিয়ে মেরে ফেলবো।’ ভয়ে প্রিন্স চুপচাপ থাকলেও জেসমিন তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা জেসমিনের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়। হাজারীবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, টাকা ও স্বর্ণ লুটের উদ্দেশেই পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ঘাতকরা। তার ধারণা, টাকা ও স্বর্ণ লুটের সময় জেসমিন বাধা দেয়ায় দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। ওসি ইকবাল আরও বলেন, খুনি হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বপরিচিত আশা ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। প্রিন্সের খালা শামীমা বলেন, ভোর রাতে ওই চার ‘অতিথি’ তাদের কক্ষে ঢোকে এবং তার গলায় চাপাতি ধরে চিৎকার করতে নিষেধ করে। এরপর তার সামনে তার মায়ের পা বেঁধে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। শিশুটি ভয়ে তখন লেপের নিচে মুখ ঢেকে ছিল। তিনি বলেন, ওই চার জন চলে গেলে তার ভাগ্নে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা বৃষ্টি ও শিল্পীকে জাগিয়ে ঘটনাটি বলে। তখন রনি ও শিল্পী ঘটনা দেখে জেসমিনের মেয়ে রোমানা আফরোজ শান্তার স্বামী সুমনকে টেলিফোন করে সব জানায়। ওই ভবনের নিচতলার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে দুই নারীকে দোতলার বাসা থেকে বের হতে দেখেছেন। এসআই জহির বলেন, দোতলার সিঁড়ি ঘরের গ্রিল ভাঙা রয়েছে। ধারণা করছি, দুই ব্যক্তি রাতে ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই নারী বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, আশা নামের তরুণী আগেও ওই বাসায় এসেছিল। ময়না তদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Wednesday, January 23, 2013

অপহরণের পর হোটেল কক্ষে ব্যবসায়ীর লাশ

অপহরণের পর হোটেল কক্ষে ব্যবসায়ীর লাশ


প্রথমে অপহরণ। তারপর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাণভিক্ষা প্রার্থনা। শেষে তিন দিন পর রাজধানীর এক আবাসিক হোটেল থেকে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা চান মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীর। তিনি হোটেল ও জমির ব্যবসা করতেন। গতকাল বিকাল চারটায় বড় মগবাজার হোটেল আল-আকসার ৩৮৬ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রমনা থানা পুলিশ এর মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে তিন জনকে।
নিহত চান মিয়ার বাড়ি রাজধানীর পাশে আশুলিয়া এলাকায়। সেখানে তার দু’টি হোটেল আছে। পাশাপাশি জমির ব্যবসা করেন। গত ১৯শে জানুয়ারি জমির দলিল করার জন্য আশুলিয়া থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের স্ত্রী ডলি বেগম ২০শে জানুয়ারি রমনা থানায় একটি জিডি করেন। নিহতের ভাগ্নিজামাই মিন্টু বলেন, চান মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আশঙ্কা জমিজমা ও হোটেল ব্যবসার বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে হত্যা করেছে তাকে। হোটেল সূত্র জানায়, ১৯শে জানুয়ারি চান মিয়া হোটেল রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি একাই ছিলেন ওই রুমে। তবে তার রুমে আরও কোন লোকজন আসা-যাওয়া করেছে কিনা তা জানতে পারেনি তারা। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল দুপুরের পর থেকেই রুম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে হোটেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। তারা পুলিশকে খবর দিলে রুমের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিআইডি ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা জানান, চান মিয়াকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। তাদের দাবি মেটাতে গিয়ে দু’দফায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। ২০শে জানুয়ারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ৩০ হাজার ও ২১শে জানুয়ারি বিকাশ-এর মাধ্যমে এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা চান মিয়াকে বাঁচতে দেয়নি। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখে গেঞ্জি গোঁজা ছিল। চোখ ও মুখে আঘাতের জখম ফোলা ছিল। রমনা থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। বলেছে, তাদের বসের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড। তবে কি কারণে হত্যা করেছে সে বিষয়ে মুখ খোলেনি।

Tuesday, January 15, 2013

Boyfriend sued over medical student’s death

Boyfriend sued over medical student’s death


A murder case has been filed against the boyfriend of Jerina Aradin Jerin, a student of a private medical college, over her death.
Jerin’s uncle Harun-ur-Rashid filed the case with the Kamalapur Railway Police Station on Sunday night, Sub-Inspector Alamgir Hossain told.
Apart from Jerin’s friend Kazi Mohiuddin Saran, his parents Kazi Jasimuddin and Shahana Begum have been made accused in the case.
Doctors at the Dhaka Medical College Hospital pronounced Jerin, 23, a first-year student of MBBS programme at the Uttara Women’s Medical College, dead around 8pm on Saturday after she was hit by a train.

Saran told reporters at the hospital that Jerin was hit by a Kamalapur-bound train while they were walking alongside the track-way in Cantonment Rail-crossing area in the evening.

He claimed that he managed to save himself by jumping on the road.

Saran first took Jerin to Kurmitola General Hospital and then to DMCH.

Police at DMCH Police Outpost detained Saran over his suspicious statement.

They said Saran completed his higher education abroad and currently is working for a private organisation.

SI Alamgir Hossain, also the investigation officer of the case, produced Saran before the court of Chief Judicial Magistrate Kazi Shahidul Islam on Monday with a plea to interrogate him in their custody for five days.

The judge approved three days’ remand rejecting Saran’s bail petition.

Hossain told reporters on Sunday that they had gone to the scene of the accident with Saran. “Though the youth claimed that the incident had taken place in Cantonment area, it actually happened in Khilgaon area,” he said.

“During the on-the-spot investigation, it was learnt that Jerin and Saran had an altercation around 5:45pm on Saturday. Eyewitnesses said Saran pushed Jerin at one stage of the argument.”

He said there was injury marks in Jerin’s head, right eye and right leg.

Jerin hailed from Nagarpur, Tangail. She was the eldest of two daughters and a son of their parents, Mir Kaykobad and Afroja Mir Merry, who reached Dhaka from Canada on Monday morning.

Monday, January 14, 2013

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়' ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়'

ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি


ফেনী থেকে মাইক্রোবাসটি কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয় তখন সন্ধ্যা সাতটা। এক ঘন্টা পর মাইক্রোবাসটি পৌঁছায় সোয়াগাজির একটি নির্জন স্থানে। প্রস াব করার অজুহাতে থামানো হয় মাইক্রোবাস। আর থামাবার সঙ্গে সঙ্গে চালককে টেনে পেছনের সিটে নিয়ে রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলা হয়। হত্যা করা হয় শ্বাসরোধ করে। এরপর জীবিত মানুষের মত করে বসানো হয় সিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরে কুমিল্লার (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) জগন্নাথপুরের একটি নির্জন জায়গায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয় চালকের লাশটি। ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাস চালক আবুল কালামকে (৫০) এভাবেই হত্যা করে ঘাতকরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারকৃত তিন তরুণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত ঘটনা বর্ননা করে। তারা বলেছে, মাইক্রেবাস ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে চালকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ওমর ফারুক (১৯), কবির হোসেন (১৯) ও মেহেদী হাসান (২০)। আর ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাসটি বিক্রিকালে ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

ডিবির এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা মাইক্রোবাসটি ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশে গায়ের হলুদের অনুষ্ঠানের কথা বলে গত ৯ তারিখ বিকালে মাইক্রেবাসটি ভাড়া করে। ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা। এ জন্য অগ্রিম প্রদান করে ৫শ' টাকা। পরে পথিমধ্যে চালককে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেয়। তাদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম নামে আরো একজন ছিল। জহিরুল পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চকবাজার, পেশায় সে ট্রাকের হেলপার। মেহেদী হাসান, জুতা ব্যবসায়ী, কবির হোসেন একজন ইলেক্টিশিয়ান ও পলাতক তাজুল ইসলাম গাড়ি চালক। তাদের তিনজনেরই বাড়ি কুমিল্লার বারপাড়া।

মেহেদী হাসান জানায়, তার বাবা কুমিল্লা সড়ক জনপথ বিভাগের একজন গাড়ি চালক। ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই তারা চার বন্ধু পরিকল্পনা করে নতুন দেখে মাইক্রোবাস ছিনতাই করার। আর বিক্রি করে পাওয়া যাবে মোটা অংকের টাকা। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে তারা কুমিল্লা থেকে ফেনীতে পৌঁছে। তবে যাওয়ার আগে মেহেদী হাসান মহল্লার দোকান থেকে দুই টাকায় ( চার টুকরা) পাটের রশি কেনে। এরপর ফেনী এএসকে রোডের স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাসটি সাড়ে তিন হাজার টাকায় ভাড়া করে। এসময় বলা হয় তারা কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। রেন্টকার ম্যানেজারকে কবির হোসেন অগ্রিম ৫শ' টাকা প্রদান করে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা চারজন মাইক্রোবাসে কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসের তেলের টাকাও পরিশোধ করে কবির। মাইক্রোবাসের সামনে সিটে চালকের পাশে বসে ওমর ফারুক। আর চালকের পেছনের সিটে বসে তাজুল ইসলাম, মাঝে কবির হোসেন তার পাশে বসে মেহেদী হাসান। সে আরো জানায়, পথিমধ্যে প্রস াবের কথা বলে মাইক্রোবাস থামানো হয়। এ সময় তাজুল তার সঙ্গে থাকা গায়ের চাঁদর চালকের গলায় পেছিয়ে পেছনের সিটে নিয়ে যায়। মেহেদী রশি দিয়ে চালকের হাত বেঁধে ফেলে। বাঁচার জন্য চালক আবুল কালাম বলে ওঠে, 'তোমরা আমার ছেলের বয়সি, আমাকে মেরো না'। তার কাঁকুতি-মিনতির মধ্যেই তাজুল তার চেপে ধরে। বাবা-মা বলে চিত্কার দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় মেহেদী সামনের সিটে গিয়ে বসে। আর মৃত চালককে জীবিত মানুষের মত বসানো হয় পেছনের সিটে। মাইক্রোবাস চালায় ওমর ফারুক। পরে জগন্নাথপুরে নির্জন স্থানে চালকের লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়।

কবির হোসেন জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তারা কুমিল্লার একটি হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরের দিন শুক্রবার রাতে মাইক্রোবাসটি বিক্রির চেষ্টাকালে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাজুল পালিয়ে যেতে সমক্ষ হয়।

কেন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান জানায়, সে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। তারা যে এলাকায় বসবাস করে (কুমিল্লার বারপাড়া) সে এলাকাটি অপরাধ প্রবণ এলাকা। রয়েছে জমজমাট মাদক ব্যবসা। ফলে পরিবেশের কারণেই ধারা ধীরে ধীরে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

এডিসি মশিউর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত আবুল কালামের ছেলে জালাল উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত তিনি জানতেন যে মাইক্রোবাস চালকে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে তথ্য ছিল একটি চোরাই মাইক্রোবাস বিক্রির চেষ্টা চলছে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর গতকাল মহানগর গোয়েন্দা দফতরে আসামীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডিবির রিমান্ড শেষে আসামীদের কুমিল্লায় পাঠানো হবে। নিহত আবুল কালামের বাড়ি ফেনী সদর থানার বারাইপুর।

ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব আলাউদ্দিন জানান, আবুল কালাম মূলত তার চাচার মাইক্রোবাস চালাতেন। তবে ঘটনা শোনার পর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি পলাতক অপর আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Friday, January 11, 2013

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু! মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু!

মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার


স্বপ্ন বড় লোক হবার। এজন্য গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে শুরু। না সেখানেও ফলাফল শূন্য। এরপর গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা। এবার চেষ্টা কোন বিত্তবানের বাড়ি দারেয়ান হওয়া অথবা প্রাইভেটকার চালকের চাকরি। সফল হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে গার্ডের চাকরি জোটে। আর সিকিউরিটি কোম্পানিতেই পরিচয় সমমনা যুবক রবিনের সঙ্গে। তারা কোম্পানি মালিককে অনুরোধ করে একই বাড়িতে দায়িত্ব নেয়। এরপর পরিকল্পনা শুরু করে টার্গেট পূরণে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল প্রাইভেট চুরির। ব্যাটে বলে তা মেলেনি। এরপর টার্গেট করে ডাকাতির। ডাকাতির জন্য প্রয়োজন অস্ত্র। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করাও দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় নিরাপত্তা (গার্ড রুম) রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫শ টাকা দিয়ে কেনে অত্যাধুনিক চাকু। আর তা দিয়ে প্রথম অভিযান শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে। বাড়ির তিন তলার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষক মাহবুব-ই-সাত্তারের ফ্ল্যাটে। হত্যা করে তার স্ত্রীকে। লুট করে ২০ হাজার টাকা ও ৫শ ডলারসহ অন্যান্য মালামাল। নিজের সম্পর্কে এভাবে বক্তব্য দেয় আইনজীবী রওশন আক্তার খুনের ঘটনায় জড়িত রাসেল ওরফে সাকিব। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুইটি টিম বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে সাকিব ও তার সহকর্মী সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা করে। ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর শেলটেক টিউলিপ ভবনের তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আইনজীবী রওশন আক্তার। রবিন ও রাসেল ঐ বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী ।

ডিসি ডিবি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অল্প সময় বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমে গাড়ি চুরি করার পরিকল্পনা করেছিল। গাড়ি চুরিতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বর্ণ ও টাকা লুটের জন্য হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মৌচাকে সিকিউরিটি নিয়োগকারী একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ হাজার টাকা জমা রেখে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। শেলটেক টিউলিফ ভবন ফ্ল্যাটের ফ্ল্যাট মালিক সমিতি নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই না করে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানি হতে সিকিউরিটি ভাড়া করেছিল।

ডিবি এডিসি মশিউর রহমান বলেন, রবিন ও রাসেল গত ১০ ডিসেম্বর সিকিউরিটি কোম্পানির পক্ষ থেকে শেলটেক টিউলিপ এপার্টমেন্টে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পায়। এরপরই তারা এপার্টমেন্টের কোন ফ্ল্যাটে চুরির পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিতায় গত ১৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেয় আইনজীবী রওশন আক্তার ফ্ল্যাটে চুরি করার। পরিকল্পনা মোতাবেক গার্ড রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫০০ টাকা দিয়ে চাকু কেনে। ঘটনার দিন সকালেই রওশন আক্তারের স্বামী ও ডাক্তার মেয়ে বাসা থেকে বের হন। এ সুযোগে তারা রওশন আক্তারের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টেপে। দরজা খোলেন রওশন আক্তার।

দরজা খোলার পরপরই তারা ভেতরে ঢোকে। রবিন বালিশের কভার দিয়ে রওশনের মুখ চেপে ধরে। আর রাসেল চাকু দিয়ে ভয় দেখায়। এ অবস্থায় তারা দুজনে মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে ২০ হাজার টাকা, ৫শ মার্কিন ডলার, কয়েকটি ঘড়ি, কয়েকটি স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে গার্ড রুমে যায়।

তিনি আরও বলেন, হত্যার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে রাসেলের হাত কেটে যায়। তারা নীচে এসে গার্ড রুম থেকে একটি ছেঁড়া লুঙ্গির অংশ দিয়ে হাত বাঁধার সময় নীচের গাড়ির একজন চালক তা দেখে ফেলে। এ সময় চালক তাদের জিজ্ঞাসা করে, 'কী হয়েছে'? তখন রাসেল ও সোলায়মান জানায়, তারা উপরে খেলতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। এর কিছু সময় পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও আবু তোরাব বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন লামা এলাকায় এবং ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুল (১৯) ও রাসেল ওরফে সাকিবকে গ্রেফতার করেন।