Pages

Showing posts with label Road Accident in bangladesh. Show all posts
Showing posts with label Road Accident in bangladesh. Show all posts

Friday, February 1, 2013

আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা

আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা


এটিই প্রথম ঘটনা নয়। তিতাস কমিউটারের যাত্রী হয়ে এর আগেও মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন অনেক যাত্রী। আর গতকাল দুর্বৃত্তরা ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করলো ৩ যাত্রীকে। আহত হয়েছেন ২ জন। একটি কামরার ৫ জন যাত্রীকেই চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হয় সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার পর। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান দুই যাত্রী। যদিও তাদের অবস্থা গুরুতর। গতকালের এ ঘটনার পর এ ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তদের নিয়মিত অভিযানের আরও অনেক ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আখাউড়া-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি গতকাল সকাল সাড়ে ৫টায় আখাউড়া থেকে ছেড়ে পাঘাচং রেলস্টেশনে পৌঁছলে তাতে ডাকাতরা হানা দেয়। ৭-৮ জনের ডাকাত দলটি ইঞ্জিনের পেছনের বগিটিতে ওঠে। ওই কামরায় যাত্রী ছিলেন ৫ জন। এর মধ্যে একজন মহিলা। ঘটনার শিকার আখাউড়া কালাছড়া গ্রামের রুবেল মিয়া (২২) জানান, ডাকাতরা কামরাতে উঠেই এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে সবাইকে। তার কাছ থেকে নগদ ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দরজা দিয়ে তাকে ছুড়ে বাইরে ফেলে দেয়। সমতল জায়গায় পড়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এভাবে একে একে বাকি ৪ যাত্রীকেও ছুড়ে মারা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী রেল ব্রিজে ওঠার আগে পরে ডাকাতরা আরও ৩ যাত্রীকে ছুড়ে ফেলে। এই ৩ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। তাদের একজনের লাশ পাওয়া গেছে কুরুলিয়া রেলসেতুর নিচে পাথরের ওপর। এ থেকে আরও কয়েক শ’ গজ দক্ষিণে পাওয়া গেছে বাকি দু’জনের লাশ। ফজরের নামাজ শেষে লোকজনের চলাফেরা শুরু হলে তারা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ও আখাউড়া জিআরপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে। নিহত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী গ্রামের সুদ মিয়া (৫০) এবং একই গ্রামের মুসলিম মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম (৪০)। তারা দু’জন সম্পর্কে চাচা-ভাইঝি। দুপুরে খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা ছুটে আসেন জেলা সদর হাসপাতালে। লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডাকাতরা তাদের ছুড়ে ফেলে দিয়েই হত্যা করেছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোন আঘাত ছিল না। তিনি জানান, ট্রেনে ঢাকা জিআরপির একটি টহল দল ছিল। তবে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। বলেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এ ব্যাপারে জানবো। তবে এলাকার লোকজন ট্রেনে জিআরপি দায়িত্ব পালন করা না করা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সকালে ঘটনাস্থলে গেলে ভাদুঘর ও কাউতলী এলাকার অনেক লোকজন জানান, তারা প্রায়ই এভাবে রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল এ ট্রেনটিতে মোট ৬টি যাত্রীবাহী বগি ছিল।
আতঙ্কের ট্রেন: শুধু গতকালই ছুড়ে ফেলে দিয়ে ৩ জনকে হত্যা করেনি দুর্বৃত্তরা- এর আগে ঘটেছে এমন আরও অনেক ঘটনা। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমানায় ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তরা নিয়মিতই এমন ঘটনা ঘটিয়ে নেমে পড়ছে। এখানে সেখানে রেললাইনের পাশে আহত-অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকছে মানুষ। ২রা ডিসেম্বর রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয় এক ব্যবসায়ীকে। ব্যবসায়ীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, বেশ কিছু টাইলস এবং আচারের সামগ্রী নিয়ে যায়। আখাউড়া উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বাসিন্দা, আচার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ওই রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতশালা এলাকায় ট্রেনটি ধীরগতিতে চলতে থাকলে চারজন যুবক ট্রেনের ওই বগিতে ওঠে। তাদের মধ্য থেকে একজন এসে লাভলুর কাছে সিগারেট চায়। একটু পরেই সংঘবদ্ধ হয়ে এসে সবাই মিলে তাকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে ফেলে দেয়া হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার টহল পুলিশের একটি দল এদিক দিয়ে গেলে একজনকে হাত উঠিয়ে সাহায্য চাইতে দেখে পুলিশের দলটি এগিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে রাত দেড়টার দিকে এক মহিলা আখাউড়া রেলজংশনে এসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। জানান, তার ছেলেকে তালশহরের এখানে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। পরে ওই ছেলের কি দশা হয়েছে তা আর জানা যায়নি। এ ঘটনার মাস দুয়েক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাঘাচং যাওয়ার পথে কাছাইট গ্রামের আবদুল হান্নানকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। আবদুল হান্নান দুধ বিক্রেতা। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন তিনি। তাকে ফেলা হয় কুরুলিয়া রেলব্রিজের কাছে। আহত অবস্থায় সেখান থেকে তিনি কাউতলী এলাকায় এসে লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অহরহই এমন ঘটনা ঘটছে। ট্রেনটি সকাল ৫টায় ঢাকার পথে ঠিক সময়ে ছাড়লেও রাতে ঢাকা থেকে এর পৌঁছার সময় ঠিক থাকে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে এর পৌঁছার সময় রাত পৌনে ৯টা হলেও কখনও ১১টা-১২টার আগে পৌঁছায় না। এরপর এখান থেকে আখাউড়া পৌঁছতে বেজে যায় সাড়ে ১২টা-১টা। তবে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমার মধ্যেই দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তার এমন ঘটনা জানা নেই। তার এখানে যোগদানের পর এমন ঘটনা ঘটেনি।

Monday, January 14, 2013

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Sunday, November 4, 2012

‘জনমত যাচাইয়ের নামে মন্ত্রণালয় মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে’

‘জনমত যাচাইয়ের নামে মন্ত্রণালয় মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে’

 ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ নির্ধারণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জনমত যাচাইয়ের নামে একটি মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে বলে অভিযোগ করেছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন ‘নিড়াপদ সড়ক চাই’(নিসচা)।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জনমত যাচাইয়ের উদ্যোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের জন্য ‘নিরড়াপদ সড়ক চাই’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

লিখিত বক্তব্য বলা হয়, “আমাদের আগে কেউ নিরাপদ সড়ক দিবসের দাবি তোলেনি। আমরাই প্রথম ২২ অক্টোবরকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের দাবি করি। ইতিমধ্যে দিবসটি সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর তা গেজেট বিজ্ঞপি আকারে প্রকাশের জন্যে দাবি করেছি। কিন্তু এরকম একটি মিমাংসিত বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয় নতুন করে জনমত যাচায়ের নামে পক্ষপাত দুষ্ট আচরণের মাধ্যম্যে বিষয়টিকে বিতর্কিত করছে।’’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়,‘‘ আমরা জনমত যাচায়ের বিপক্ষে নই। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনমত যাচায়ের নামে একটি নির্দিষ্ট দিবসকে সুপারিশ করছে। তাছাড়া হঠাৎ করে কেনই বা নিরাপদ সড়ক দিবসের ব্যাপারে জনমত যাচায়ের প্রয়োজন পড়লো? যেখানে দেশে প্রায় সকল জনসাধারণ ২২ অক্টোবরকেই নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে জানে।

প্রসঙ্গত ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সকড় চাই’ গঠন করেন। এবং তখন থেকেই তার সংগঠনের পক্ষ থেকে   ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং ২০০২ সালে নভেম্বরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্বা কাউন্সিলের ৮ম সভায় ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিসব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  কিন্তু তৎকালীন সময়ে মন্ত্রিপরিষদের সভায় তা অনুমোদন না হওয়ায় তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় নি।

কিন্তু গত ২২ অক্টোবর রাতে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের জন্যে ৪টি তারিখ দিয়ে ইন্টারনেটে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে ফটোসাংবাদিক কাজী বিপ্লব সহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এবং নিহতদের স্মরণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।

ডা. শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ডা. শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছোট ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তিয়েতনামে তিনদিনের সরকারি সফরে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বড়ডুবা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শুভ নিহত হন।
 
মহাসড়ক পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকাল ছয়টার দিকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক মুশফিকুরের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

 

Monday, October 29, 2012

পুকুরে ডুবে বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট

পুকুরে ডুবে বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু ::

কক্সবাজার শহরে মোহাজেরপাড়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে মুরছালিম করিম নামে এক বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর দুইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মুরছালিম করিম চট্টগ্রাম অক্সিজেন এলাকার জিল্লুর করিমের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম বষের্র শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ বিষয়ে মুরছালিমের নানা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঈদের ছুটিতে রোববার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন মুরছালিম। দুপুর দুইটার দিকে পুকুরে গোসল করতে যেয়ে ডুবে যান। পরে আত্মীয়স্বজনরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইলে বাস খাদে, নিহত ১০

টাঙ্গাইলে বাস খাদে, নিহত ১০

 রোববার রাতে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকায় চারাভাঙ্গা ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে যায়। এতে ১০ জন মারা যান এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন।

ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের মাদারগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস রাত একটার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের ধনবাড়ীর চারাভাঙ্গা সেতুতে ওঠে। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়।

এতে বাসের চালকসহ ১০ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরো ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১২ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: মাদারগঞ্জের এলাহি বাজার গ্রামের নাসির (৩৫) ও ধনবাড়ীর বানিয়াজান গ্রামের রফিকুল (৪৫)।
ধনবাড়ী থানার ওসি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পরে মধুপুর উপজেলার পুলিশ ও দমকলবাহিনীকে ডাকা হয়। পুলিশ ও দমকলবাহিনীর দুটি দল সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।