Pages

Monday, February 4, 2013

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার


আগেই তথ্য ছিল দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করে ট্রাকে করে পালাচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা তাদের ধরতে মাইক্রোবাসে করে পিছু নেন। বার বার নির্দেশ সংকেত দিয়েও কোনভাবেই ট্রাকটি থামাতে পারছিলেন না তারা। একপর্যায়ে জীবন বাজি রেখে ট্রাকে ওঠার চেষ্টা করেন ডিবি কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি চালককে ট্রাক থামাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রাকে থাকা অপর এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে তাকে আঘাত করে। দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিঁটকে পড়েন শরিফুল। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য পিছু নেয়া ডিবি সদস্যরা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন ওই ট্রাকের চালক শিপন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে মুন্সিগঞ্জ গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, তারা আগেই জানতে পারেন দুর্বৃত্তরা ডেমরার সারুলিয়া এলাকা থেকে ভোররাতে বিদ্যুতের একটি চোরাই ট্রান্সফরমার ট্রাকে করে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় ডিবি পুলিশ দুটি মাইক্রোবাসে করে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ট্রাকটি দেখা মাত্রই ডিবি পুলিশ সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ট্রাক না থামিয়ে উপর থেকে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। এ পর্যায়ে ট্রাকটি সামনে থাকা অপর একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। তখন সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল দৌড়ে ট্রাকের বাম পাশের দরজার হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়েন এবং চালককে ট্রাক থামাতে বলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে ট্রাকের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে আঘাত করলে ছিঁটকে রাস্তায় পড়ে যান শরিফুল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর ডিবি পুলিশের গুলিতে ট্রাক চালক শিপন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পলাতক অপর দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান জানান, কিছু কাঠের গুঁড়ির বস্তা ও একটি ট্রান্সফরমারসহ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শরিফুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। সেখানে যোহরের নামাজের পর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি হাছান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা । জানাজা শেষে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, শরিফুল একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাতি গ্রামে। তার পিতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ খান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ গোরানে বসবাস করতেন শরিফুল। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ১৯৯৯ সালের ৫ আগস্ট কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নেন শরিফুল। ২০১০ সালে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। শরিফুল মারা যাওয়ার খবর পৌঁছালে তার গ্রামের বাড়িতে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুত্র শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার পিতা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা। শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত শরিফুলের লাশ চন্দনগাতি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

No comments:

Post a Comment