Pages

Sunday, February 17, 2013

সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল


সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল

 


পুলিশ ও শিবিরের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শনিবার নগরীর মীরবক্সটুলা, নয়া সড়ক ও চৌহাট্টা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১১ জন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে শিবিরকর্মী আলী আজকর রাহাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুপুরে তাকে এয়ার কপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক গুলি, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় উত্তেজিত শিবিরকর্মীরা ৫টি যানবাহন ভাঙচুর ছাড়াও দোকানপাটে হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ জনকে আটক করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ সিলেট জেলায় সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে ছাত্রশিবির। কক্সবাজারে পুলিশ ও জামায়াত সংঘর্ষের পর থেকে সিলেটের ছাত্রশিবিরের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকাল থেকে শিবিরকর্মীরা নগরীর কয়েকটি এলাকায় মিছিল বের করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে নগরীর শিবির অধ্যুষিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টায় ছাত্রশিবিরের কয়েক শ’ সদস্য নগরীর মীরবক্সটুলা, মানিকপীর রোড, কাজিটুলা এলাকা থেকে একযোগে মিছিল বের করে। এ সময় নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। মিছিল বের করার পরপরই পুলিশ সদস্য ভাগ হয়ে তিনটি মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীরা মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মীরবক্সটুলা থেকে বের হওয়া শিবিরের মিছিলটি চৌহাট্টা অভিমুখে আসে। একদল পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছোড়ে। লাঠিসোটা হাতে থাকা শিবিরকর্মীরা চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় শিবিরকর্মীরা মীরবক্সটুলা এলাকায় যায়। এ সময় তারা ফের পুলিশের মুখোমুখি হলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন শিবিরকর্মী আহত হয়। ওদিকে, মানিকপীর রোড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় পৌঁছলে তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। ওখানে সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। কাজিটুলা থেকে বের হওয়া মিছিলের সঙ্গে নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। তবে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। শতাধিক শিবিরকর্মী পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় তারা পুলিশকে ইটপাটকেল ও ককটেল ছুড়লে পুলিশের ট্রাফিক এসি রাজীব ও কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত। পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছিল। আর পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পরপরই পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ছাত্রশিবির কর্মী আলী আজকর রাহাতসহ ৭ জন। দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ করতে করতে শিবিরকর্মীরা নয়াসড়ক এলাকা থেকে কাজিটুলা, মানিকপুর রোড ও জেল রোড দিয়ে চলে যায়। জামায়াতের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ ৭ শিবিরকর্মীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গুরুতর আহত শিবিরকর্মী রাহাতকে প্রথমে উইমেন্সে এবং পরে ইবনে সিনার নেয়া হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে অস্ত্রোপচার করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বিকালে এয়ার কপ্টার যোগে তাকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রাহাত সিলেট মদনমোহন শিবিরের নেতা। সে মহানগর শিবিরের সহকারী ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক। তার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর চৌহাট্টা, হাওয়াপাড়া গলির মুখ, মীরবক্সটুলা নয়া সড়ক এলাকায় ৫টি যানবাহন ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাটেও হামলা চালানো হয়। এতে তটস্থ এলাকার মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ তিনটি ক্লিনিকের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে, সংঘর্ষের সময় আহত হন পুলিশের এসি ট্রাফিক রাজীব ও কোতোয়ালি পুলিশের ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন। এর মধ্যে এসি রাজীবসহ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন, শিবিরকর্মীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রায় ২৫ জনের মতো আটক করেছে। এর মধ্যে যারা শিবির কর্মী তাদের চিহ্নিত করে অন্যদের ছেড়ে দেয়া হবে। সিলেট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিকালে মানবজমিনকে জানান, পুলিশ সংঘর্ষকালে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়েছে। আর যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আজাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ নয়াসড়ক, চৌহাট্টা ও কাজিটুলা এলাকায় অভিয়ান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, নয়াসড়ক এলাকায় সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর সুবিদ বাজার এলাকায় মিছিল করেছে। তবে পুলিশ আসার আগেই তারা মিছিল শেষ করে চলে যায়। ওই মিছিলটি রাজারগলি এলাকা থেকে বের হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। একই সময়ে সিলেট এমসি কলেজের সামনে থেকে শিবিরকর্মীরা অপর আরেকটি মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষকালে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ওই এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী রাহাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার খবর দক্ষিণ সুরমায় পৌঁছা মাত্র ওখানে শিবিরকর্মীরা বিক্ষোভ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।

No comments:

Post a Comment