Pages

Showing posts with label GANG RAPE. Show all posts
Showing posts with label GANG RAPE. Show all posts

Friday, March 8, 2013

দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ

দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ


দিল্লিতে গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের রাজধানীতে চলন্ত গাড়িতে আবারও দু’টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে পূর্ব দিল্লির ওয়েলকাম এলাকাতে চলন্ত গাড়িতে এক নারীকে চার ব্যক্তির ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে শনিবার রাতে গাজিয়াবাদ জেলা থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী অটোরিকশাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব দিল্লির নিউ জাফরাবাদ এলাকার ডাস্টবিনের কাছে পুলিশ অজ্ঞান অবস্থায় ২৫ বছরের এক নারীকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেয়ার পর ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি চাকরি খুঁজছিলেন। কয়েক দিন আগে যশদেব নামের এক ব্যক্তিকে তিনি কাজ খুঁজে দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। যশদেব তাকে সোমবার সন্ধ্যায় কাজ দেয়ার কথা বলে জাফরাবাদ পার্কে দেখা করতে বলে। নির্ধারিত স্থানে ওই নারী আসার পর সেখানে থাকা গাড়িতে আগে থেকেই আরও তিন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। যশদেব তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত কোমল পানীয় খাইয়ে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে। পানীয় খাবার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি ঠিক বলতে পারেননি তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়েছে। যশদেবকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যদের সন্ধ্যানেও অভিযান চলছে। এদিকে পুলিশ আরও জানিয়েছে ইন্দরাপুরাম শিপরা মল থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অটোতে করে গণধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে ১৯ বছরের ওই তরুণীকে অটোতে বসার পরপরই অপহরণ করা হয়। এরপর পেছনের সিটে আরও দুই ব্যক্তি তাকে জোর করে ধরে রেখে ২৫ কিলোমিটার দূরে দাসনাতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে একটি মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সন্দেহভাজন অভিযুক্ত অনকিত এবং ডুপপনকে ধর্ষণ, অপহরণ এবং ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০ কোঠায় বয়স দু’জনই ছিঁচকে অপরাধী। গাজিয়াবাদ থেকে অটোরিকশাটি চুরি করা হয়েছিল।

Thursday, January 31, 2013

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

Monday, January 21, 2013

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

 ‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে। কত অনুনয় করে বললাম, ছেড়ে দিন। কোন কথাই শুনলো না। পশুর মতো আমার মুখে কাপড় বেঁধে নির্যাতন করে। এর আগে ধারালো ছুরি ধরে রাখে গলায়। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি’-এ কথাগুলো বলে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সিলেটের নির্যাতিতা তরুণীটি। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী নির্যাতিতা কেন্দ্রে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এসব কথা জানান। তরুণীটির অবস্থা ভালো নয়। ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও নির্যাতনের নির্মম দৃশ্য মনে হলেই আঁতকে উঠে। ফুলের মতো এই তরুণীর সঙ্গে নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করেছে সিলেটের এক পাষণ্ড। ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে কাপড় বেঁধে তার ওপর চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। আর এই নির্যাতনে তছনছ হয়ে গেছে একটি জীবন। স্বাভাবিক হতে পারছেন না মেয়েটি। সিলেট শহরতলীর দাউদপুরের মাঝপাড়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ওই মেয়েকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার আগে বাড়িতে রেখে আপসে বিষয়টির মীমাংসা চালানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা কোন মীমাংসা করতে পারেন নি। তার বয়স পনেরো। পিতা রিকশা চালক। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ওই তরুণী ৩য়। মাঝপাড়া গ্রামের হাওরের পাশে নতুন বাড়ি করেছেন পিতা। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও বাড়ি থেকে সকালেই রিকশা নিয়ে বের হয়ে যান পিতা। পরিবারের অন্য সদস্যরাও যে যার কাজে চলে যান। বাড়িতে ছিল তরুণীটি ও তার ভাবী। ভাবী গৃহস্থালি কাজে বাড়ি থেকে প্রায় ৩শ’ ফুট দূরে জমিতে কাজ করছিলেন। আর তরুণীটি দরোজা খোলা রেখে ঘরের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলো। এমন সময় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম শামীম। শামীমের বয়স ২৪। সিলেট নগরীর লামাবাজারের ইউসিবি ব্যাংকের গার্ড। সে একই গ্রামের রিকব আলীর ছেলে। শামীম বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণীকে একা পেয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তরুণীটির ভাবী ও তার বড় বোন বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের দেখে ঘরের ভেতর থেকে দৌড়ে পালাতে থাকে শামীম। এ দৃশ্য দেখে ভাবী ও বোন দৌড়ে ঘরে ঢুকে দেখেন তরুণীটির দেহ পড়ে আছে খাটের উপর। গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছে। তার মুখ বাঁধা। অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে সে। এ দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করে ভাবী ও বোন। তারা মুখের বাঁধন খুলে দিয়ে তার মাথায় পানি দেন। প্রায় ৫ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। এরপর সে জানায়, শামীমের নির্যাতনের কথা। এদিকে, ঘটনার পর থেকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলো তরুণীটি। বিষয়টি গোটা গ্রাম জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানান, পশুও পশুর ওপর এরকম আচরণ করে না। হাসপাতালে ভর্তি করা পর্যন্ত তরুণীটির অবিরাম রক্ত ঝরছিলো বলে জানান তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করতে দাউদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম, স্থানীয় মেম্বার সেলিম আহমদ সহ এলাকার লোকজন চেষ্টা চালান। তারা সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠক ডাকেন। এবং ওই বৈঠকের মাধ্যমে নির্যাতিতা মেয়েটিকে শামীমের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চালান। মেয়েটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিলেও শামীমের পরিবার বিয়ে মানে নি। মধ্যরাত পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা বিফলে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম জানিয়েছেন, বিষয়টিকে বিয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে স্থানীয় মেম্বার সহ তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীমের পরিবার বিষয়টি মানেনি। পরে রাত ১টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা প্রদান করা হলে ভোরের দিকে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে আসে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছে সে। ঘটনার চিত্র তার চোখের সামনে ভেসে এলেই আতঁকে উঠে। তরুণীর স্বজনরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। ডাক্তাররা বলেছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে হাসপাতালের ওসিসিতে দেখতে আসেন মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মুরছালিন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি শামীম। মামলা দায়েরের পর পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পায়নি। পিতা হাসপাতালের ওসিসি’র বাইরে বসে কাঁদছিলেন। মেয়ের ওপর এ অত্যাচারের বিচার চান তিনি। বলেন, কোন মানুষ ফুলের মতো এতটুকু মেয়ের ওপর এরকম নির্যাতন চালাতে পারে না। এদিকে, সকালে গোটাটিকর এলাকার একটি বস্তিতে শামীম নামের এক যুবক ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নেয়। পরে ঘরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ শামীম ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারী অভিনা নামের আরেক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে।

Tuesday, January 8, 2013

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

 

টাঙ্গাইলে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এসে মেয়েটির খোঁজ-খবর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ড. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই! তিনি বলেন, ছাত্রীটি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান বলেন, মেয়েটির মা আমাকে দুটো বাক্য বলেছেন। তা হলো- আল্লাহর ভরসায় ফেলে রাখলে বিচার হয় না। মানুষের বিচার মানুষকেই করতে হবে। এখন বিচার বিভাগকে নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ কথা মুখে নয় কার্যকর করতে হবে। এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তিনি বলেন, এখন মানুষের অস্তিত্ব নেই। মানুষ অন্যায়ের বিচার পায় না। এই মেয়েটিও বিচার পাবে না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই সময় বীথিকে এক দিন রিমান্ড নেয়ার পর আর রিমান্ড না চাওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই দেশে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষকদের কোন অভিযোগে আটক করা হলে ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার মূল বীথিকে মাত্র এক দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। বীথিকে আরও কিছু দিনের রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো।
এদিকে টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানালেন ওসিসির করডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে সে। ডা. বিলকিস আরও জানান, মেয়েটির মুখে খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাই তাকে নাক দিয়ে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এদিকে গত রোববার মেয়েটির এইচআইভি পারীক্ষা করা হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এদিকে সাভারে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী গত রোববার ওসিসি ত্যাগ করেছে বলে ডা. বিলকিস বেগম জানান। তিনি বলেন, ওই মেয়েটির মেডিসিনের প্রয়োজন হয়নি তবে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংগঠিত গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সংগঠন। গতকাল দুপুরে ব্র্যাক, সেবক, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, পেইস, সংযোগ, পল্লী সমাজ, পিডিএস, নিরাপদ সড়ক চাই ও আসকসহ বিভিন্ন সংগঠন শহরের নিরালা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে। পরে তারা মৌন মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম সরোয়ার, সমন্বয়কারী মুনির হোসেন খান, চিত্তরঞ্জন সরকারসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। একই দাবিতে নিজেরা করি, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ভূমিহীন সমিতি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নিজেরা করি’র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. শামছুল আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। স্মারকলিপি দুটি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম। এদিকে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আসামিদের গত রোববার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে যা দরকার তার সবই করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ‘খ’ অঞ্চল আমলী আদালত আসামি হারুণ অর রশিদ, নুরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনি ও শাজাহান আলীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামি ধর্ষিতার বান্ধবী বীথি আক্তারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Monday, January 7, 2013

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট


ভারতের পন্ডিচেরি সরকার এবার মেয়েদের যৌন শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্দা প্রথার দিকে ঝুকে পড়ছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন শনিবার মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসের ডিজাইন নতুন করে করার প্রস্তাব করেছে। এ ডিজাইনের আওতায় ওভারকোর্ট ব্যবহার করা প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমস্ত্রীর সভাপতিত্বে শনিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে এক বাস কণ্ট্রাক্টরের হাতে দ্বাদশ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হবার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা টাইমস অব ইনডিয়াকে বলেছেন বৈঠকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওভারকোটের ব্যবহার, তাদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের সরকার নারী বিশেষ করে স্কুলের নারী শিক্ষার্তীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। সরকারের এ ধরণের সিদ্ধান্ত নারী এবং মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে তীব্র আপিত্তি জানানো হয়েছে। অল ইনডিয়া ডেমক্রেটিক উইমেন’স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুধা সুন্দররমন বলেছেন আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পোশাকের সঙ্গে যে ধর্ষণের কোন সম্পর্ক নেই সেটা সম্পর্কে সরকার ওয়াকেবহাল নয়। আসল সমস্যাকে চিহ্নিত না করে এর মাধ্যমে বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হচ্ছে। নারী এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে ওভারকোট ব্যবহারের পরামর্শ কোন সঠিক জবাব নয়। এ ধরণের ওভারকোট ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার এ অপরাধের জন্য নারীদেরকেই দায়ী এবং জবাবদিহি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Sunday, January 6, 2013

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু


দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের সময় ধর্ষিতার সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুটি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার ও তার বান্ধবীর সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন চালানোর সময় তাদের কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ ও অন্য কেউ তাদের সে ডাকে সাড়া দেয়নি। এর ফলে ওই নরপশুদের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তার বান্ধবী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভারতে তোলপাড় চলছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্যাতনে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতে ধর্ষণ রোধে সরকার আইনে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে। দিল্লিতে নির্যাতিত তরুণীর ২৮ বছর বয়সী বন্ধুটি প্রথম নির্যাতনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাদের আক্রমণে তার পা ভেঙে যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এখনও তার সেই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটেনি। সেই তরুণ মুখ খুলেছেন দিল্লিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। তাতেই এমন সব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে কৌশলে সেই বাস থেকে তিনি কোনভাবে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে স্বীকার করেছেন, নারীদের ওপর অপরাধ রুখতে দেশটিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপর যেকোন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। দিল্লিতে সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, তখন কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্ত বয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু সে-ই দু’বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তরুণীর ওপরে সব চেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Saturday, January 5, 2013

নীরব প্রতিবাদ

নীরব প্রতিবাদ


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একজন নারী একটি কাগজে 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই, শেম শেম' লিখে দাঁড়িয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরের দিন শুক্রবারও তিনি একই জায়গায় দাঁড়ান আর একটি কাগজে 'স্টপ রেপ' লিখে। তবে সেদিন তার সঙ্গে দাঁড়ান বিভিন্ন পেশার আরও দশজন মানুষ। টাঙ্গাইলের ধর্ষণের ঘটনা আমাদের আলোড়িত করেছে। আমরা সবাই এদের মতো করে সমাজ থেকে ধর্ষণ দূর করতে চাই।

প্রতিদিনের মতোই জজ কোর্টে নিজের রুমের পত্রিকা পড়তে শুরু করেন অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার শিল্পী। একটি হেড লাইনে তার চোখ আটকে যায় 'নীরব সুধিসমাজ নিশ্চুপ নারীবাদ'। প্রতিবেদনটি পড়ে শাহনাজ শিহরিত হন। পাশেই টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন অন্যরা। যতই সময় গড়াচ্ছিল ততই নিজে কিছু করার তাগিদ বোধ করছিলেন তিনি। কাজ গুছিয়ে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে শাহনাজ একটি কাগজে লিখেন 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই। শেম শেম' তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আশপাশ ঘিরে উত্সুক জনতার সঙ্গে যুক্ত হন অনেকেই এই নীরব প্রতিবাদে।

Thursday, January 3, 2013

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে'

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে


দিল্লির বাসে মারধর ও গণধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে। ঘটনার এই বিবরণ ও ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়ার জন্য এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এপি'কে জানায়, গণধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে একজনের বয়স আঠারো বছরের নীচে। এদিকে ভারতের কিশোর অপরাধ আইনানুযায়ী বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে হত্যা মামলা চালানো যায় না। তাই তার বয়স নিশ্চিত হতে হাড় পরীক্ষা করা হবে। মঙ্গলবার মেয়েটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তারা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর ও ধর্ষণ, তাকে বাঁচাতে আসায় তার বন্ধুকে বেদম পিটুনি, তাদের দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টাসহ সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ থাকছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দিয়েছিল মেয়েটি। তিনজনের দেহে এর চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী শশি থারোর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষিত মেয়েটির নাম প্রকাশ করে তার নামেই ধর্ষণবিরোধী আইন করা হোক। এদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আন্দোলনকারী এবং রাজনীতিকরা। এছাড়া এ আইনে রাসায়নিকভাবে বন্ধাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আবেদন জানান তারা। ফিজিওথেরাপির ঐ ছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণের শিকার হবার পর জরুরি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়।

Monday, December 31, 2012

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো


নয়াদিল্লির গণধর্ষণ ভিকটিমের বেদনাদায়ক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক সময়ের আলোচিত গণধর্ষণ ভিকটিম পাকিস্তানের মুখতারান মাই তার ভুক্তভোগী হিসেবে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন নৃশংস দুর্ঘটনা বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। ভারতে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাক বলে জানান মুখতারান। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও নিপীড়নের জন্য সরকার ও আইনি ব্যবস্থা দায়ী। আইন বইতে পরিবর্তন হয় কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে কেউই শিক্ষা নেয় না। যদি একটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়া হতো তবে মানুষ শিক্ষা নিতো। যদি একশ’ মানুষ জানতো বিষয়টি অপরাধ তবে তারা এমন কাজ করতো না। কেন আমাদের সরকার, বিচার বিভাগ এমনটি করে না। পুলিশ থেকে আদালত, সরকার থেকে পার্লামেন্ট কেউই এ বিষয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয় না। তার মতে, এক সময় নারীরা চুপ করে থাকতো। তারা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। মুখ খুলতো না। এখন তেমন অবস্থা নেই। নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা মুখ খুলতে শুরু করছেন। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন। তবে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মুখতারান মাই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোথায় একজন নারী চারজন সাক্ষী পাবেন। আমি ৭০ সাক্ষী হাজির করেছিলাম। কিন্তু কেন আমাকে তখন ন্যায়বিচার দেয়া হয়নি। আইন যেহেতু ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে পারছে না তাই কিভাবে ধর্ষণ নিপীড়নের মতো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কেবল কিছু নারীই পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে। আদালত, পুলিশ ও সরকার- সব স্থানে পুরুষের আধিক্য। নারীরা নেই বললেই চলে। এসব স্থানে যদি নারীরা বেশি বেশি থাকতেন তবে নিপীড়ন-নির্যাতন কমে আসতো বলে মনে করেন মুখতারান। ভারতের নৃশংস ওই ঘটনায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তার আহ্বান- মেয়েটি মারা গেলেও তার শোকার্ত পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্য অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অন্য ভিকটিম নারীরা ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসার সাহস পাবেন। নিজে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্রচণ্ড রকমের কষ্ট ও বেদনা সয়েছিলেন। ফলে দিল্লির মেয়েটির কথা শুনে অনেক রাগ হচ্ছিল বলে জানান তিনি। নিজের ওপর আক্রমণকারীদের প্রাপ্ত সাজার বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে আপিল করেছেন। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন বলে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সাজার অপেক্ষার কথা বলেন মুখতারান।

Friday, December 28, 2012

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

 প্যারামেডিকের ছাত্রী গণধর্ষণ নিয়ে দিল্লিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখনই ৪২ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ দিন আটকে রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে ১৫ জন। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল পুলিশ বলেছে, উত্তর প্রদেশের ৪২ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে কালকাজি নামক এলাকায় ফেলে যায় নরপিশাচরা। এ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে দিল্লিতে বহুল আলোচিত ধর্ষিত প্যারামেডিকের ছাত্রীকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পর। বলা হয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ওই নারীর প্রজননতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাকে নেয়া হয়েছে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে। এ ঘটনার নায়ক দীলিপ বর্মাকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তিনটি টিমকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘেরাও অভিযান চালাচ্ছে। ওদিকে মধ্য প্রদেশে সবিতা (পরিবর্তিত নাম) নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ই ডিসেম্বর তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। তারা তাকে আটকে রাখে। সেই আটকাবস্থা থেকে সে মঙ্গলবার পালিয়ে বাড়ি ফিরেছে। পরের দিন বুধবার পুলিশ খারগাঁওয়ের খেদা গ্রামের কাশিরামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, সবিতা নিশ্চয়তা দিয়েছে তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

Monday, December 24, 2012

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত


দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনা যে খুব বিরল, তা মোটেই নয়। বরং বেশিরভাগ ধর্ষিতাই মিডিয়ার পাদপ্রদীপের অন্ধকার-তলে কাঁদে নীরবে। তবে গত সপ্তাহে দিল্লির চলন্ত বাসের ভেতরে এক ছাত্রী-ধর্ষণ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ত্রিপুরাতেও একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গত সপ্তাহজুড়েই দেশটির সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, সংবাদমাধ্যম, এমন কি রাজনীতিকরাও ফেটে পড়েন প্রতিবাদে। দিল্লির গণধর্ষণ-ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার রাজধানীর ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার শিকার হন আন্দোলনকারীরা।

ছাত্রী-ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর রবিবার রাতে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত ঘটনার আদ্যোপান্ত থেকে জানা যায়, সে রাতে দিল্লিতে বাস নিয়ে বেরনোর আগে ছোটখাটো একটা পার্টি করেছিল বাসের চালক রাম সিং ও তার সঙ্গীরা। তারপর বাস নিয়ে শহর ঘুরতে বেরোয় তারা। পবন আর বিনয় নামে আরো দু'জন যোগ দেয় তাদের সঙ্গে। প্রত্যেকেই তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। পরিকল্পনা ছিল আরো হৈ-হুল্লোড়ের। এই হৈ-হুল্লোড়ের টাকা জোগাতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যাত্রী তোলার। রাত সোয়া ন'টা নাগাদ ওই বাসে ওঠেন প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রী (২৩) ও তার বন্ধু (২৮)। বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই ওই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে তারা। ছাত্রীর বন্ধুর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তারা দু'জন অত রাতে বাড়ির বাইরে কেন, এখানে কী করছিলেন, ইত্যাদি প্রশ্ন করে তাদের বিরক্ত করছিল তারা। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিবাদ করেন ছাত্রীর বন্ধু। তারপরই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে ছেলেটিকে পেটাতে শুরু করে বখাটেরা। বাধা দিতে গিয়ে রোষের মুখে পড়েন ওই তরুণী। প্রথমে রড দিয়ে মার, তার পরে পিছনের সিটে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধর্ষণ করে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে তাদের দু'জনকে উড়ালপুলের ওপর বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। তবে এরপরের ঘটনাও সমান বিস্ময়কর। এমন নৃশংস অপরাধের পরও নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। তাই সোমবার সকালে প্রতিদিনকার মতোই কাজে বেরোয় পবন ও বিনয়। রাম সিং আর তার ভাই মুকেশ অবশ্য খানিক লুকোচুরির চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা।

ধর্ষণের পরে প্রায় নগ্ন করে মেয়েটি ও তার বন্ধুকে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা রামের ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাম জানিয়েছে যে সে প্রমাণ লোপাটের জন্য পুরো বাসটিকে ধুয়ে ফেলে। কোনোভাবেই যাতে অসহায় ওই দু'টি ছেলেমেয়ে কোনো সাহায্য চাইতে না পারে, সেজন্য ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের মোবাইল ফোনও। সাঙ্গ-পাঙ্গদের নির্দেশ দিয়েছিল, পুরো বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলতে। কেউ যেন কিছু না জানতে পারে। রাম সিংকে ইতিমধ্যেই পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অন্য আর এক অভিযুক্ত, অক্ষয় ঠাকুরকে এদিন পুলিশ বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কারো মধ্যেই কোনো অনুশোচনা ছিল না। বরং তারা যে সে রাতে মদ্যপ অবস্থায় 'মজা লুটে' বেশ খোশ মেজাজেই ছিল, সে কথাই বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করলেও শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে চায়নি পবন ও বিনয়। একমাত্র মুকেশ রাজি। মূল অভিযুক্ত, বাসচালক রাম সিং, প্রথমে অবশ্য দাবি করেছিল, সে কিছুই জানে না। শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে রাজি হয়নি সেও। পরে অবশ্য জেরার মুখে সব স্বীকার করে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সে জানিয়েছে, মেয়েটিকে নাকি 'উচিত শিক্ষা' দিতে চেয়েছিল সে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে রাম সিংকে ডাক্তারী ছাত্রীটি যেভাবে হোক রুখতে গিয়ে প্রথমে চড় মারেন। হাতে কামড় দেন। তাতেই নাকি মাথায় রক্ত চড়ে যায় রামের। সে তখন তার আরও পাঁচ সঙ্গীকে নিয়ে মেয়েটিকে 'শিক্ষা দেয়ার জন্য' লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারতে থাকে। তবে গ্রেফতারের পর আদালতে অকপট স্বীকারোক্তিতে ধর্ষক পবন বলেছে, সে একটা ঘৃণ্য অপরাধ করেছে। আর তার একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। কাজেই তার ফাঁসিই হওয়া উচিত। ধর্ষিতা মেয়েটির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। বাদ দেয়া হয়েছে অন্ত্রের অধিকাংশ। এখনও রয়েছেন ভেন্টিলেটরে। তরুণী যখন শোনেন যে দুষ্কৃতকারীরা ধরা পড়েছে, তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এ ঘটনা প্রকাশের পর ভারতের সংসদ থেকে রাজপথ, একটাই সুর— অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ওই রবিবারের গণধর্ষণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, এদিন দিল্লি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করে। পুলিশকে ভর্ত্সনা করে আদালত দু'দিনের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। বিচারকের প্রশ্ন, 'সেদিন রাতে ওই বাসটি অন্তত পাঁচটি পুলিশ চেকপোস্ট পেরিয়েছে। এই বর্বর ঘটনা কারো নজরে কেন পড়ল না? পুলিশ কি মজা দেখছিল?' মঙ্গলবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত হাইকোর্টকে অনুরোধ করেছিলেন, ধর্ষণের বিচারের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অনুমোদন দিতে। হাইকোর্ট সবমিলিয়ে পাঁচটি কোর্টের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে এদিন লোকসভায় এই মামলা সংক্রান্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। রাতে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হবে। সব এলাকাতেই চলবে টহলদারি। ধর্ষণ রুখতে এসবের পাশাপাশি বখাটেদের মানসিক বোধোদয় তৈরির ব্যবস্থাও সমান জরুরি বলে মনে করেন মনোবিদরা। অর্থাত্ গলদ রয়েছে অসংখ্য জায়গায়, যার সবটুকু চোখে দেখা যায় না।

উত্তাল ভারতের সংসদ

দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির সংসদের দুই কক্ষ। দল নির্বিশেষে নারী সাংসদেরা গত সপ্তাহে এই ঘটনার নিন্দায় ফেটে পড়েন। ট্রেজারি বেঞ্চে বসে বিরোধী সাংসদ তো বটেই, এমনকি নিজের দলের সাংসদদেরও ধিক্কার শুনতে হয় ভারতের কেন্দ ীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দেকে। ধর্ষণের জন্য ফাঁসির দাবি তোলেন বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় সামাল দিতে এই ঘটনার তদন্ত ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে হবে বলে সংসদে বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাসচালক রাম সিংকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত ও জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মার সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহত তরুণীকে দেখে আসেন তিনি। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রেকর্ড থেকে জানা যায়, গোটা ভারতেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। ভারতে এ মুহূর্তে ধর্ষণের অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৪৭৬টি।

ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দাবি

ধর্ষকদের নির্বীজকরণ করা হোক, এমন দাবি জানাল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। কমিশনের সভাপতি মমতা শর্মা বলেছেন, চরম শাস্তি ধার্য না করা হলে কমানো সম্ভব নয় ধর্ষণের মতো অপরাধ। দিল্লি গণধর্ষণের অপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর পরামর্শ, শাস্তি হিসাবে নির্বীজকরণ করা হোক ধর্ষকদের। তাঁর কথায়, 'ওই অপরাধীদের নির্বীজকরণ করা হোক। সারাজীবন যেন তারা সেই শাস্তি মনে রাখে, প্রায়শ্চিত্ত করে।' সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি অত্যাচারের ক্ষেত্রে আইন কড়া করাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মমতা। তাঁর মতে, আইনী পথে সাহায্য না এলে নারীরা নিরাপদ বোধ করবেন না। শুধুমাত্র রঙিন কাঁচে নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে আর প্রহরা কড়া করে এই অপরাধের মোকাবিলা করা যাবে না। ধর্ষণ ও নির্যাতনের তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে আরও সংবেদনশীল ব্যবহারেরও দাবি করেন মমতা। 'হত্যার ক্ষেত্রে তো আক্রান্তের সমস্যা থাকে না। তবে একজন ধর্ষিতার জন্য আসল সমস্যা শুরু হয় ঘটনার পর থেকে।' বলছেন মমতা। তাঁর দাবি, রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে নির্যাতিতাকে প্রকৃত ন্যায় দেয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু হওয়া সবার আগে দরকার।

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি শিশুদের

ধর্ষণ শব্দের অর্থ বোঝার মতো বয়স হয়নি তাদের অনেকেরই, তবু দিল্লির ধর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে একটি চিঠি লিখেছে শিশুরা। দিল্লির শিশু অধিকার রক্ষাকারী এক বেসরকারি সংস্থার শিশুরা এ চিঠি লেখে। তাদের ছোট্ট মনে ঘটনার প্রভাব এতটাই তীব্র যে তারা চায় না অভিযুক্তদের ফাঁসি হোক। বরং একটা ছোট ঘরে যদি তাদের আজীবন আটকে রাখা হয়, তবেই তারা অনুভব করবে তাদের অন্যায়ের নৃশংসতা। ধর্ষিতা 'দিদি'র সঙ্গে হওয়া অন্যায় ভবিষ্যতে বন্ধ করার জন্য রাতের রাস্তায় বেশি আলো,পুলিশি প্রহরা ও রাতঅবধি সরকারি বাস চালানোর অনুরোধও জানিয়েছে। হিংসা ছড়ানো সিনেমা বা ইন্টারনেট গেমের বিরুদ্ধেও সরব তারা। পরিবর্তন এত সহজে না হলেও আপাতত দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় খুদেরা।