Pages

Showing posts with label Politics. Show all posts
Showing posts with label Politics. Show all posts

Sunday, March 3, 2013

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি


পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশের ১৬ জেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ছাড়াও আছে পুলিশসহ দেশের সাধারণ নাগরিক। ওইসব মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়ে জেলাগুলোর পুলিশ সুপাররা একটি করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়ার পর থেকে সারা দেশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও জীবনহানি অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা স্বাক্ষরিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। গৎবাঁধা ওইসব প্রতিবেদনের আকার, ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। সূত্রমতে, প্রেরিত ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র একতাবদ্ধ হয়ে জনসারণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বাধা প্রদান করলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনসাধারণের জানমাল রক্ষা পুলিশের আত্মরক্ষা ও পুলিশের অস্ত্র রক্ষার জন্য পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেটের নির্দেশে গুলিবর্ষণ করে। উল্লিখিত প্রতিবেদনটি গাইবান্ধা থেকে প্রেরিত তবে দেখা গেছে যে সকল জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেসব জেলা থেকে প্রেরিত পুলিশি প্রতিবেদনের ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। কক্সবাজার জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সেখানকার পুলিশ গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেছে পুলিশ কোন গুলি ছুড়েনি। পুলিশের গুলিবর্ষণ ও জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহতদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির কর্মী পুলিশ, আওয়ামী লীগের কর্মী, নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, ছাত্র, প্রকৌশলী, পথচারী। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় জেলা প্রশাসকের অধীনে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিধান থাকলেও ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহতদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোন জেলাতেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। রংপুরের ডিসি জানিয়েছেন, এখনও কোন তদন্ত কমিটি হয়নি, তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি, তিনি জানিয়েছেন আজ অফিস খোলার পর হয়তো তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে।

Sunday, February 17, 2013

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার


জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র‌্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

Saturday, February 2, 2013

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংস্থান হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণই ছিল এ প্রকল্পের সবচেয়ে সহজ অর্থায়ন। বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়াকে খুব বেশি যৌক্তিক হয়নি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তার আগে তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মীর্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম মনে করেন সরকারের সিদ্ধান্ত খুব একটা যৌক্তিক হয়নি। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করে সেতু বাস্তবায়ন হলে তা সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরকার নিজে থেকেই সরে আসার বিষয়ে ড. আকবর আলি খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল সবচেয়ে উত্তম পথ। আর এটা সরকার জানে বলেই প্রথমে বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরে যখন দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে তখন তাদের খুশি করার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী বদল করা হয়। দুর্নীতির তদন্ত করা হয়। তাদের শর্ত পালন করতে গিয়ে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু যখন সমাধান হয়নি তখনই সরকার নিজে থেকেই সরে এসেছে। এখন সরকার বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করার চিন্তাভাবনা করছে। বিকল্প অর্থায়ন থেকে এই সেতু করা হলে এর ব্যয় বেড়ে যাবে এবং সময় লাগবে বেশি। বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করবে কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, ঋণ চুক্তি কি হবে তার ওপর। এটি প্রকাশ করলে বোঝা যাবে পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নই ছিল সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে আসায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোন প্রকল্পে সহায়তায় এর প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তা করার সময় তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। যদিও বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তারা বাংলাদেশের সহায়তা বন্ধ করবেন না।
সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে খুব বেশি যৌক্তিক বলে মনে করি না। কারণ বিশ্বব্যাংক দরজা বন্ধ করেনি। আমরা নিজেরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের কিছু প্রশ্ন ছিল। যার জবাব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই জবাবের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের মতামত আসার আগেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাভ-লোকসান পর্যালোচনা না করে এখন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করা বাস্তব সম্মত নয়। নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন উচ্চাভিলাষী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইতিবাচকভাবে দেখলে পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল সরকারের সিদ্ধান্তে তা শেষ হলো। সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এখন ভিন্নভাবে অর্থায়নে মনোযোগী হতে পারে। আশা করি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সুষ্ঠুভাবেই নিতে পারবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। সহজ শর্তে ঋণ থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু যে কারণে বৃহৎ এ প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো সেই অপবাদ কিভাবে দূর হবে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পেলাম না, তাই নিলাম না। এমন পরিস্থিতিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর চেয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রমোট করাই সরকারের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরকার একটি বড় সুযোগ হারালো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছিল মামলায় সেসব ব্যক্তিকে আসামি করা হলে বিশ্বব্যাংক অবশ্যই অর্থায়ন করতো। একই ইস্যুতে কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে। আবার কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এ বিষয়ে যা বলেছে তা সরকার ও দেশের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে- বিশ্বব্যাংক থেকে তারা এ বিষয়ে ঋণ নেবে না। এখন দুদকের তদন্তের ফল কি দাঁড়াবে তা-ও দেখার বিষয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাংক-এর চ্যাপ্টার ক্লোজড হওয়ার পর সেতু নির্মাণে বিকল্প পন্থা বের করা যুক্তিযুক্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে সুদ কি হবে? শর্ত কি হবে? এসব বড় বিষয়। বিকল্প পন্থা থেকে বিশ্ব ব্যাংক-এর মতো কম সুদে ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ হারে ঋণ নিয়ে সেতু নির্মাণ করলে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির ওপর কি প্রভাব পড়বে তা বড় প্রশ্ন। ভবিষ্যতে সরকার কতটুকু দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সেতু বাস্তবায়ন করতে পারবে সে প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।

Friday, February 1, 2013

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ কয়েক জনকে  কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।

Saturday, January 19, 2013

পিপার স্প্রে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিপার স্প্রে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর দাবি করেছেন, “অবৈধ সমাবেশ দমনে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কনভেশনে অনুমোদিত যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, পিপার স্প্রে সেগুলোর একটি। কাজেই এ উপকরণ সম্পর্কে কারো কোনো মত দেয়ার অধিকার নেই।”

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে পিপার স্প্রে ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “যখন নৈরাজ্য বন্ধ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে তখন তারা ফুলের মালা নিয়ে যাবে না, নৈরাজ্য দমন করার উদ্দেশ্যেই যাবে।”

মন্ত্রী দাবি করেন, “মনে রাখতে হবে, ভাঙচুর ও নৈরাজ্য বন্ধ করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।”

মন্ত্রী কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের একাদশ ও স্নাতক প্রথম বর্ষ শিক্ষার্থীর নবীনবরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি প্রদান এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করেন। পরে মন্ত্রী চাঁদপুর শহরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারীর বাবার স্মরণে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে যোগ দেন। এছাড়া তিনি আশ্রাফপুর স্কুল মাঠ ও জগতপুর বাজারে শীতার্ত লোকজনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন পিপার স্প্রে ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, ক্ষতিকর পিপার স্প্রে বিশ্বের অনেক দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই বাংলাদেশেও পিপার স্প্রে বন্ধের জোরালো দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Friday, January 18, 2013

এবার মন্ত্রীর দপ্তরে এমপি গিয়াসের গুলির হুমকি

এবার মন্ত্রীর দপ্তরে এমপি গিয়াসের গুলির হুমকি


ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং তার একান্ত সচিবের কম্পিউটার অপারেটরকে গালাগাল ও গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ে একটি কাগজের ফটোকপি দিতে দেরি হওয়ায় এমপি তাদের গালাগাল ও হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন। মন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দপ্তরি নিয়োগের তদবির নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিনের দপ্তরে যান ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি গিয়াস উদ্দিন। ওই সময় মন্ত্রীকে না পেয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর দুপুর দেড়টায় আবার মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটারটি নিয়ে যান। এতে সুপারিশ করে দেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফকে ডিও লেটারের কপিটির ফটোকপি দিতে বলেন। তখন বলা হয়, এখানে কোন ফটোকপি মেশিন নেই। তাই ফটোকপি করা যাচ্ছে না। পরে তিনি মন্ত্রীর পিএস রূপন কান্তির রুমে যান। সেখানে কম্পিউটার অপারেটর মাইনুদ্দিন ভূঁইয়াকে বলেন ফটোকপি করে দেয়ার জন্য। এসময় ফটোকপি করতে দেরি হওয়ায় গিয়াস উদ্দিন রেগে যান এবং কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিবাজও বলেন। শেষ পর্যায়ে সবাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এরপর মন্ত্রীর রুমে কম্পিউটার অপারেটর মাইনুদ্দিনকে নিয়ে ঢোকেন তিনি। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করেন মন্ত্রীর কাছে। এক পর্যায়ে বলেন, আপনি জানেন আমি মেজর জিয়াকে হত্যা করেছি, আমি ফাঁসির আসামি, কাউকে ভয় পাই না। আমি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজ করে দিতে হবে। এ কথা বলে চলে যান এমপি। ঘটনার বিবরণ এমপি’র কাছ থেকে মন্ত্রী শুনতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি। পরে মন্ত্রী তার দপ্তরে কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর মাইনুলের কাছ থেকে সব বিষয় জানেন। তবে মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে গুলি করার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এক কর্মকর্তা আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেছে, আমি মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছি, আমি তাকে হুমকি দেইনি। মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে আমি হুমকি দেবো, আমি কি পাগল? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন জানিয়েছেন, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, মিটমাট হয়ে গেছে। এর আগে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ জনগণকে গুলি করার জন্য পিস্তল তাক করে সারা দেশে আলোচনার ঝড় তোলেন এমপি গিয়াস। গতকালের ঘটনার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন এই এমপি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯শে মে গফরগাঁওয়ে স্থানীয় জনতাকে লক্ষ্য করে সরকার দলীয় এই এমপি গুলিবর্ষণ করেন। ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়েছিলেন তখন। সর্বত্র আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন।

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন


দুই কারণে আসামি হচ্ছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। শেষ পর্যন্ত এজাহারে আগত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন আবুল হাসান চৌধুরীও। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার সিঁড়ি ধরেই নাম থাকছে আবুল হাসানের। সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংকের বিদায় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়। অন্যদিকে আবুল হোসেনকে আসামি করা হলেও বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। এখন আবুল হোসেনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দুদক। আবুল হোসেনকে আসামি করা না করা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ফিরে গেলে পুরো দায় দুদকের ঘাড়ে পড়বে এবং চরম ভাবে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন মহল। দুদকের ওই মহলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলায় সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ক্ষেত্রে দুদক এক ধাপ এগিয়ে আছে এজাহারে তাদের নাম উল্লেখ করে। এখন অধিকতর তদন্তে তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন- এমন আসামি হওয়ার নজির দুদকে অনেক আছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান একাধিকবার বলেছেন, মামলা দায়ের করার সময় সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি হাতে ছিল না, এখন তদন্তে প্রমাণাদি পাওয়া গেলে তিনি আসামি হবেন। সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি বড় প্রমাণ এখন দুদকের নাগালে। রমেশ সাহার ডায়েরি ও এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের বৈঠক সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য। পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরি থেকে। ওই ডায়েরিতে মিনিস্টার ও সেক্রেটারি শব্দগুলোর পাশে ঘুষের পার্সেন্টেজ উল্লেখ করা আছে। কানাডিয়ান পুলিশের জব্দ করা ওই ডায়েরির পাশাপাশি ঘুষের প্রমাণ হিসেবে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আছে। এতদিন রমেশ সাহার ডায়েরি দুদকের কাছে ছিল না। বিশ্বব্যাংক বা কানাডিয়ান পুলিশ সেগুলো সরবরাহ করেনি। সূত্রমতে অতি সমপ্রতি কানাডিয়ান রয়েল পুলিশ এক চিঠি মারফত দুদককে জানিয়েছে তারা রমেশ সাহার ডায়েরি সহ রমেশ সাহার আদালতের কাগজপত্র দুদকে সরবরাহ করবে। রমেশ সাহার ডায়েরিতে পরিষ্কার ভাবেই মিনিস্টার শব্দ লেখা আছে, এটা সৈয়দ আবুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতার একটি বড় ধরনের প্রমাণ। এছাড়া, ঘুষ দিয়ে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার বক্তব্যও পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকাতে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের ভাষ্য অনুসারে ওই বৈঠকেই ঘুষ লেনদেনের ফয়সালা হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সে সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি দুদককে নিশ্চিত করেছেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিজেই দুদকে দেয়া তার বক্তব্যে। এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিতেই ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীও।
সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রমাণ হিসেবে দুদকের নাগালে। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল শুরু থেকেই বলে আসছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক পদ্ধতিতে মন্ত্রীই হচ্ছেন প্রধান। প্রধান ব্যক্তি দায় এড়াতে পারেন না।

Tuesday, January 15, 2013

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।

Wednesday, January 9, 2013

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জাপা নেতা বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপনকে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ছেলের যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে সদস্য পদ বাতিলের রেশ কাটতে না কাটতে তার এই ঘটনা আলোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। হাজী রিপন জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক। সোমবার বিকালে শহরের পাইকপাড়া ভুঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাজী রিপনকে এক তরুণীসহ আটক করে এলাকাবাসী। পরে জনতার রোষানল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ হাজী রিপন ও লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি নামে ওই তরুণীকে ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সকালে আদালতে পাঠায়। বিকালে নারায়ণগঞ্জের চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেন শুনানি শেষে তাদের উভয়ের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এলাকাবাসীর রোষানলের শিকার বজলুর রহমান রিপন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার না করে বলেন, তিনি নির্দোষ। তার সঙ্গে আটককৃত তরুণীকে আদালতে নিজের পারিবারিক আত্মীয় পরিচয় দেন হাজী রিপন। শুনানিকালে আটককৃত তরুণী লিন্ডা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার স্বামী বিদেশে থাকে। আত্মীয়তার সুবাদে রিপন বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাড়িতে যেতো। রিপন ও লিন্ডার পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট বিদ্যুৎ কুমার সাহা।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, সোমবার বিকালে পাইকপাড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দোতলায় ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে পার্লারে ঢুকে বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। পার্লারটির মালিক লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি। মহিলাদের পার্লারে একজন পুরুষ প্রবেশ করায় বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। আধা ঘণ্টা পরেও রিপন ওই পার্লার থেকে বের না হওয়ায় স্থানীয়রা পার্লারের বাইরের দরজায় তালা বদ্ধ করে দেয়। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ওই পার্লার থেকে রিপনকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই আজিজ লস্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে রিপনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে লিন্ডাকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি পক্ষ তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু অপর পক্ষ তাকেও পুলিশের কাছে সোপর্দের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে র‌্যাবের সহায়তায় সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত পার্লার ব্যবসায়ী লিন্ডাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হাজী রিপন ও তার সহযোগীরা প্রায় সময়েই লিন্ডার পার্লারে যাতায়াত করতো। রিপনের মদদে ওই পার্লারটিতে নারী ও মাদক ব্যবসা হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর (সিটি করপোরেশনের ১৭নং) আলমগীর ইসলামেরও নেপথ্য মদদ রয়েছে বলেও তারা জানান। হাজী রিপন ও আলমগীর দুজনই ঘনিষ্ট বন্ধু। সম্প্রতি জামায়াত ও শিবিরের আটক নেতাদের থানায় তদবির করে ছাড়াতে এসে ফেঁসে গিয়েছিল আলমগীর ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ১৭টি প্রতারণা মামলা ছিল। এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, রিপনের সঙ্গে সোমবার বিকালে আটককৃত লিন্ডা আক্তার বৃষ্টিকে রিপন বেশ কিছু দিন আগে বিয়ে করেছে। এটি রিপনের দ্বিতীয় বিয়ে। লিন্ডাকে বিয়ের পর রিপন তাকে ফতুল্লার আফাজ নগরের ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ দিপুর বাড়িতে বাসা ভাড়া করে রাখে। ঘটনাটি জানতে পারলে কয়েক মাস আগে বাড়িওয়ালা দিপু তাদের নোটিশ দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এরপর রিপন লিন্ডাকে শহরের পাইকপাড়ার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাখে। ওই ফ্ল্যাটেই লিন্ডা ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে বিউটি পার্লার চালু করে। ওই পার্লারের ভেতর থেকেই সোমবার বিকালে এলাকাবাসী রিপন ও লিন্ডাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর এলিট শ্রেণীর ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের (সাবেক ইউরোপিয়ান ক্লাব) স্টাফদের বাথরুম থেকে অহনা নামে এক তরুণীসহ রিপনের ছেলে সীমান্তকে আটক করে ক্লাবের সদস্য ও স্টাফরা। এ অভিযোগে বজলুর রহমান রিপনের ক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার ১৬ দিনের মাথায় বজলুর রহমান রিপন একই অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হলেন।

Sunday, January 6, 2013

কোন্দল থাকলেই পরাজয়

কোন্দল থাকলেই পরাজয়


ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। এ আসনে ধোবাউড়ার ৭টি ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯০-এর পর শুধু ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বাকি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন নির্বাচিত হন। গতবার নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এলাকায় তিনি একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও গত ৪ বছরে এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি। তার ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের লোকজন চরম ক্ষুব্ধ তার প্রতি। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানান। এ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেই কোন্দলের কারণে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। যারা দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন সেই দলের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে উভয় দলের নেতকর্মীদের অভিমত।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়ার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সি এন সরকার চন্দন, ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির নেতা আলী আজগর ও ধোবাউড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
আওয়ামী লীগ: এখানে তিন ভাগে বিভক্ত পড়েছে। প্রমোদ মানকিন গ্রুপ, ফারুক আহমেদ খান গ্রুপ ও তৃতীয় গ্রুপটি দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রমোদ মানকিন দলের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে বিগত নির্বাচনের আগে হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রমোদ মানকিনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ফারুক খান। প্রমোদ মানকিনকে মনোনয়ন দিলে চরম বিরোধিতা করে ফারুক খানের সমর্থকরা। পরে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ফারুক খান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিরোধিতা করেন প্রমোদ মানকিন গ্রুপ। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফারুক খান পরাজিত হন। বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হালুয়াঘাট আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৭ বছর ধরে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুলসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তারা বলেন, বর্তমান এমপি প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন এবং এলাকার উন্নয়ন করেননি। ফলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।
বিএনপি: হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র হালুয়াঘাট থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান। আরেক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা (উত্তর) বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর। তৃতীয় পক্ষ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক হিসেবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রিন্স দু’টি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর থেকে গ্রুপের সৃষ্টি হয়। হালুয়াঘাটের ব্যক্তি হিসেবে আলী আজগরের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৪ বছরে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট এলাকার কোন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, হালুয়াঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক প্রশস্ত করে সমপ্রসারণ কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সন্ত্রাস, খুন, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, চুরি, ছিনতাই টেন্ডারবাজি বেড়েছে। এলাকায় গেলে উন্নয়ন কারও চোখে পড়বে না। বিএনপির আমলে শুরু হওয়া কাজগুলো শেষ হয়েছে। নতুন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিন এলাকার উন্নয়ন করতে না পারলেও তিনি হালুয়াঘাটের নিজ গ্রামের বাড়িটিকে সুরম্য অট্টালিকায় উন্নীত করেছেন।

Saturday, January 5, 2013

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

মনিরামপুরে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই শরিফুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে শিবিরকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে। মনিরামপুর থানার ওসি আলী আযম জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাংড়া মোড় পেট্রল পাম্পের কাছে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি নসিমনযোগে এসে মিছিল করার জন্য জড়ো হয়। এ সময় তারা যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শিবিরকর্মীরা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইসমাইল ও ফারুক হোসেন নামে দুই জামায়াতকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত এএসআই শরিফুল বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ট্রেনটি এখন কোথায়?

ট্রেনটি এখন কোথায়?

যুতসই জবাবই পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন- আমরা বদলালে পৃথিবীও বদলাবে। তাই চলুন আমাদের প্রত্যেকে প্রথম পদক্ষেপটা করি। আসছে বছরের নতুন সূচনা করি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই বদলানোর ডাক শুনেই তাকে পাল্টা বার্তা ফিরিয়ে দিয়েছেন ফেসবুক জনতা। তারা রাজ্যের কর্ণধারকেই আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেকে প্রথমে বদলে দেখানোর জন্যে। পশ্চিমবঙ্গের চিত্র যখন এই তখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও দিনবদলের প্রশ্ন আজ জ্বলন্ত। চার বছর আগে এ দিনবদলের আওয়াজ তুলেই ক্ষমতার মসনদে আবির্ভূত হয় আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। জনঅভ্যুত্থানসহ নানা বিশেষণে মহিমান্বিত করা হয়েছে সে জয়কে। কিন্তু দিন কি বদলিয়েছে? নাকি খেলোয়াড়ই শুধু পরিবর্তন হয়েছে? এটা স্পষ্ট তেমন কিছুই বদলায়নি। পুরনো খেলাই চলছে নতুন করে। ওয়ান-ইলেভেনের শিক্ষা কথাটি আদর্শ লিপির পাঠ্য না হয়েও ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। সে শিক্ষা যে কেউ নেয়নি চলতি ঘটনাপ্রবাহ তার সাক্ষী। জরুরি জমানার সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের একটি উক্তি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল সবখানে। তিনি বলেছিলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সে ট্রেনটি এখন কোথায়? রাজনীতি নিয়ে কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। এটা ঠিক রাজপথে আগের সহিংসতার পরিমাণ অনেক কমেছে। তবে অশ্লীলতা বেড়েছে বহুমাত্রায়। রাজনীতিবিদরা একজন আরেক জনকে কালনাগিনী বলতেও পিছু হটছেন না। তবুও কিছু করার নেই। এদের নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। ভবিষ্যতের পথে। মহাজোট জমানায় সবচেয়ে বড় অপরারেশন হয়েছে শেরে বাংলানগরের অপারেশন থিয়েটারে। সংবিধান কাটাছেঁড়া বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানে যেভাবে কাটাছেঁড়া হয়েছে তা অভিনব। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেটে ফেলা হয়েছে। দোহাই দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের। অথচ সেই রায়েই বলা হয়েছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন। যেখানে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে হালাল করা হয়েছে। যদিও নিশ্চিতভাবেই বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দিয়ে গেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কোন পথে হয় সেটাই হবে এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা তার এজেন্ডা পূরণের পথে বহু দূর এগিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে নিজের কান্না থামাতে পারেননি তিনি। খালেদা জিয়ার দুই ছেলে কার্যত নির্বাসনেই আছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর এরই মধ্যে সাজা হয়েছে ঢাকার আদালতে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে এক ডজন মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সচল আছে একাধিক মামলা। শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। সারা দুনিয়ার মানুষ তার ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা করলেও নিজ ভূমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। যার উদাহরণ দিয়ে আলোচিত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারের এক অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। নাম পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় তিন বিছর আগে। জামায়াত এবং বিএনপি’র এক ডজন নেতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তবে মাস খানেক আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ আলাপ ফাঁস হয়ে যায়। এর সূত্র ধরে পদত্যাগ করতে হয় তাকে। বৃটেনের বিখ্যাত পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালও এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দি ইকোনমিস্টের কাভারে মুদ্রিত হয়েছে, ইনজাস্টিস ইন বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বাইরে এগিয়ে চলছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছে। মহাজোট জমানায় শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। আত্মহত্যাও করেছেন তাদের কেউ কেউ। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট কার্যকর হয়নি আজও। ছাত্রলীগ চার বছর ধরেই ছিল বেপরোয়া। গত বছরের শেষ মাসে চাপাতি হাতে বিশ্বজিৎ দাস নামের এক নিরীহ পথচারীর ওপর যে নির্মমতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনটি তা হতবাক করেছে প্রত্যেক মানুষকে। ২৮শে অক্টোবর থেকে যে, বাংলাদেশ বেশি দূর এগোয়নি এ যেন তারই প্রমাণ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে আবুল কাণ্ডে। শুরুতে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা না পেলেও পরে বিশ্বব্যাংকের চাপে পড়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। যদিও সে মামলায় পবিত্র সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়নি। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সরকারের অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকার কথা শোনা গেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দেয়া, লোডশেডিং কমানোর ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে সরকার।
বিএনপি’র মতো দুর্বল বিরোধী দল পাওয়াকে শেখ হাসিনার সৌভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। গত চার বছরে বিএনপি চেষ্টা করছে সে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্য বিএনপি সফলই হয়েছে। চীন ও ভারত সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছেন বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা সফল হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বিএনপি তেমন বড় কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর আজ পর্যন্ত একজন মহাসচিবও নিয়োগ দিতে পারেনি দলটি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে থাকলেও এ নিয়ে তেমন রা নেই বিএনপিতে। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে বার বার খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দিলেও এ আন্দোলনের সামর্থ্য বিএনপি’র আছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ আবারও এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াবের কথা বলেছেন বার বার। তবে টাঙ্গাইল ও রংপুরের নির্বাচন তার সে স্বপ্ন ধূসর করে দিয়েছে অনেকটাই। জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দলটির শীর্ষ সব নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে জামায়াত-শিবির কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলার সমালোচনা করছেন অনেকেই। লক্ষ্যহীন আন্দোলন করছে দলটি এমনই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। একটি কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যতদিন যাবে রাজনীতি ততই কঠিন হবে। মানুষ বিক্ষুব্ধ। নেতাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ সব সময় না-ও থাকতে পারে। তবে রাজনীতি জনতার হাতে থাকবে না অন্য কারও হাতে সময়ই সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে রাজনীতিবিদরা সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে সবার জন্য। একটি ধর্ষণের ঘটনায় পুরো ভারতবাসীর একতাবদ্ধ প্রতিবাদ কিছুটা লজ্জাতেই ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না কোথাও। পুরো বাংলাদেশ যেন নীরব। চার বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এক রাতে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ মিলেনি আজও। এমন আরও অনেকেই শিকার হয়েছেন গুমের। রাজনীতির বাইরে ক্রিকেটে গত চার বছরে মাঝে-মধ্যে কিছু সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশী তরুণীর হিমালয় চূড়ায় ওঠার ঘটনাও ঘটেছে।
শেষ কথা: রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ। কোথাও কোন সুখবর নেই। দিন বদলের বদলে গাঢ় অন্ধকারের দিকেই যাত্রা করছে বাংলাদেশ। তবে এতকিছুর মধ্যেও আশার কথা রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি অটোরিকশার পেছনে প্রায়ই চোখে পড়ে, ‘তোমরা যদি মুমিন হও, তোমরা হতাশ হয়ো না।’