ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
নিজেদের কার্যপরিধি বৃদ্ধির জন্য তৈরী পোশাকের বড় ক্রেতা ওয়াল-মার্ট স্টোরস ইনকরপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নতুন নতুন স্টোর খোলার জন্য এ ঘুষ দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে সোমবার। এতে বলা হয়, মেক্সিকোতে এরকম ১৯টি স্টোর খোলার জন্য ওয়াল-মার্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালমেক্স স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। গত এপ্রিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম রিপোর্ট করে যে, ওয়ালমেক্সের এ রকম দুর্নীতির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে ওয়াল মার্ট। গত মাসের শেষের দিকে মেক্সিকোর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা বলে যে, তারা মেক্সিকোতে ওয়াল-মার্টের অনুমোদন পাওয়ার পেছনে কোন অনিয়ম খুঁজে পায়নি। কিন্তু তখনও দুটি অডিট চলছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস তার নতুন রিপোর্টে ওয়াল মেক্সের অর্থ দেয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াল মেক্স মেক্সিকোতে নতুন স্টোর খোলার জন্য আইনি বিষয় ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে অর্থ দিয়েছে। তবে বেশির ভাগ দৃষ্টি পড়েছে মেক্সিকো শহরের উত্তরে প্রাচীন শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণের দিকে। ওই শহর থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে একটি ওয়ারহাউজ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল ওয়ালমেক্স ২০০৪ সালে। তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়। ওদিকে সোমবার রাতে ওয়াল-মার্টের মুখপাত্র ডেভিড তোভার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তিনি বলেন, এ অভিযোগ নিয়ে আমরা এখনও তদন্ত করছি। এখনও তা শেষ হয়নি। ওয়াল-মার্ট এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা ও মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ওদিকে মেক্সিকোর এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে গত এপ্রিলে প্রথম এ বিষয়ক রিপোর্ট দেখার পর একটি তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউটররা এতে অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পাননি। ওই তদন্ত কয়েক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ঘুষের অভিযোগে রিপোর্ট করলেও মোট কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে তা জানাতে পারেনি। তবে তারা কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণ করতে ওয়াল-মার্ট ২ লাখ ২১ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বাসিলিকা ডি গুয়াডালুপেতে একটি স্টোর প্রতিষ্ঠায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ডলার ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment