সিটবেল্ট
গাড়ির চালক এবং এর যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সিটবেল্ট এর উপকারিতার কথা
নতুন করে বলার কিছু নেই। বিশেষ করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা
পালন করতে সিটবেল্টের অবদান এতোটাই অনস্বীকার্য যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই
রীতিমতো আইন করে চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট পড়ার নিয়ম চালু রয়েছে। যদিও
প্রথম দিককার প্রাইভেট কার বা অন্যান্য নানা ধরনের গাড়িতে সিটবেল্ট নামে
কোনো অংশের বালাই ছিল না। এ বাস্তবতায় গাড়ির মাঝে এ ধরনের একটি অনুষঙ্গের
প্রয়োজনীয়তার কথা প্রথম যিনি উল্লে¬খ করেন তিনি হলেন আমেরিকার নিউইয়র্ক
অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ড জে. ক্লেগহর্ন নামের এক ব্যক্তি। ১৮৮৫ সালের ১০
ফেব্রুয়ারি এই ক্লেগহর্নই সর্বপ্রথম তার এক প্যাটেন্ট আবেদনে গাড়ির মাঝে এ
ধরনের একটি অংশ সংযোজনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। প্যাটেন্টের জন্য তার
করা আবেদনে সিটবেল্টের বর্ণনা দিতে যেয়ে ক্লেগহর্ন বলেছিলেন, 'এটি হচ্ছে
এমন একটি সামগ্রী যা একজন ব্যক্তিকে অন্য একটি স্থায়ী কাঠামোর সাথে হুক
এবং বেল্টের মাধ্যমে সংযুক্ত রেখে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।' যদিও সে
সময়ে বেশ কিছু গাড়িতে সংযুক্ত করা ক্লেগহর্নের উদ্ভাবিত সিটবেল্টটি ঠিক
আজকের দিনের সিটবেল্টের মতো ছিল না। বরং এগুলো ছিল এক ধরনের 'টু-পয়েন্ট'
সিটবেল্ট বা পরবর্তী সময়ের ল্যাপবেল্টের মতো যা একজন ব্যক্তির শুধুমাত্র
কোমর বা পেটের অংশকে গাড়ির সিটের সাথে আবদ্ধ রাখতো। এ ধরনের সিটবেল্টের
সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে, বড় ধরনের দুর্ঘটনায় এটি আরোহীকে গাড়ির সিটের সাথে
আটকে রাখতে পারলেও তার শরীরের সামনের অংশ ঝুঁকে পড়ে গাড়ির অন্য কোনো
অংশের সাথে আঘাত লাগবার সম্ভাবনা ছিল। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই পরবর্তী
সময়ে সুইডিশ আবিস্কারক নিলস বোহলিন 'থ্রি-পয়েন্ট' সিটবেল্টের ধারণা নিয়ে
আসেন যেটি অনেকটা আধুনিক সময়ের সিটবেল্টের মতোই ছিল। বোহলিনের এই
সিটবেল্টে কোমর বা পেটের অংশ ছাড়াও বাড়তি একটি বেল্টের অংশ রাখা হয়
আরোহীর কাঁধ বরাবর যা সামনে ঝুঁকে পড়া প্রতিহত করতে সক্ষম। নিলস বোহলিনের
আবিষ্কৃত এই ল্যাপ ও সোল্ডার বেল্ট প্রথম ব্যবহূত হয় ১৯৫৯ সালে বিখ্যাত
গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভোর কিছু গাড়িতে। কালে কালে বোহলিনের এই
সিটবেল্টটিই আরও কিছু সংশোধনের পর একই বেল্টের মাধ্যমে পিঠ ও কাঁধের অংশকে
সিটের সাথে আটকে রাখার সুবিধা এনে দেয়। অন্যদিকে ঠিক সিটবেল্টের মতো না
হলেও আধুনিক সময়ে গাড়ির মাঝে শিশুদের বসার জন্য যে চাইল্ড সিটের দেখা মেলে
সেটির প্রথম প্রচলন দেখা যায় ১৯২১ সালে। সে সময় হেনরি ফোর্ডের জনপ্রিয়
মডেল টি কারে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সম্বলিত সিটের
ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যদিও গাড়ির প্রাথমিক যুগের অন্য অনেক অনুষঙ্গের মতো
শিশুদের জন্য নিরাপদ এই সিটের ধারণাটিও পরবর্তী সময়ে নানা সংযোজন ও
বিয়োজনের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।
No comments:
Post a Comment