বাংলাদেশের সহজ জয়
সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিজাদু, এরপর তামিম-এনামুল-নাঈমদের ব্যাটিং-ঝড়। বলে-ব্যাটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আজ শুক্রবার খুলনায় অনেকটা হেসেখেলে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ৪৬.৫ ওভারে দলীয় ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোহাগ গাজী সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আবদুর রাজ্জাক শিকার করেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।
জয় পেতে প্রয়োজন ২০০ রান। এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৮৮ রানের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৫৮ রানের নজরকাড়া এক ইনিংস খেলে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। তাঁর ৫১ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছয়ের মার। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক ফেরেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে। নাসির হোসেন আউট হন ব্যক্তিগত ২৮ রানে।
বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায় ৪০.২ ওভার খেলে। বড় জয় নিশ্চিত করে নাঈম ইসলাম ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ৫০ রানের মধ্যে পতন ঘটে আরও দুটি উইকেট। ইনিংসের গোড়ার দিকে পাওয়া এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। নবম উইকেটে নারাইন ও রামপলের ৫৭ রানের জুটিটা না হলে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ সুনীল নারাইনের (৩৬)। ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো দুজনেরই সংগ্রহ ৩৫ রান। রবি রামপল করেন ২৫ রান।
আইসিসির ‘ব্যাটসম্যান-বান্ধব’ নতুন নিয়মের কারণে ওয়ানডে ম্যাচ এখন বোলারদের জন্য বলতে গেলে অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশি বোলাররা উতরে গেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত এ জয়ের পর কথাটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আইসিসির নতুন নিয়মে এখন ম্যাচের ৫০ ওভারই বলতে গেলে পাওয়ার প্লে! ম্যাচের প্রথম ১০ ওভার বাধ্যতামূলক পাওয়ার প্লেতে দুজন ফিল্ডার ৩০ গজি বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে সর্বোচ্চ তিনজন। বাকি ৩৫ ওভারে বাউন্ডারি ঠেকাতে চারজনের বেশি বৃত্তের বাইরে রাখা যাবে না। ওয়ানডের এই নতুন নিয়ম এ মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে চালু হয়েছে। তবে এই নিয়মে আজই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা।
সাড়ে চার বছর পর সাকিব আল হাসানকে ছাড়া ওয়ানডে খেলল বাংলাদেশ। শিনবোনে চোট পাওয়ায় পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে রাখা হয়নি এই অলরাউন্ডারকে।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে আজ দলে অভিষেক হয়েছে মমিনুল হকের। অভিষিক্ত হয়েছেন আরও তিনজন—এনামুল হক, সোহাগ গাজী ও আবুল হাসান। এক ম্যাচে চার ক্রিকেটারের অভিষেক! ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এমন ঘটনা এই প্রথম।
এর আগে বাংলাদেশ দলে চার বা এর বেশি খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে অভিষেকের উদাহরণ পেতে ফিরে যেতে হবে ১৭ বছর আগে। তখনকার প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলার জন্য তখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকত এশিয়া কাপের দিকে। সেটি কখনো দুই বছর পর আসত, কখনো পাঁচ বছর পর। ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে পাঁচজনের অভিষেক তাই স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। আজ বাংলাদেশের অসাধারণ জয়ের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে চার ক্রিকেটারের অভিষেকের মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে রইল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯/১০ (৪৬.৫ ওভার)
নারাইন ৩৬, গেইল ৩৫, ব্রাভো ৩৫
সোহাগ ৪/২৯, রাজ্জাক ৩/৩৯
বাংলাদেশ: ২০১/৩ ( ৪০.২ ওভার)
তামিম ৫৮, নাঈম ৫০*, এনামুল ৪১
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
No comments:
Post a Comment