সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২ টেস্টে বাংলাদেশের সমান ১২ হার। আর তাদের বিপক্ষেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশ ছাড়ার আগে এমই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তবে প্রত্যাশার পেছনে যুক্তিও দেখাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ। প্রতিপক্ষ দলে লঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতি দেখে বাড়তি আশাবাদ বাংলাদেশ দলের সেকেন্ড চিফ-এর। বলেন, ‘লঙ্কান দলের কয়েক জন তারকা ব্যাটসম্যান এবার দলে নেই। দলটিতে অনেক নতুন ক্রিকেটার। তাই সিরিজ জয়ের আশা করতে পারি।’ তবে বাস্তবতা ভিন্ন এখানেও। বাংলাদেশ দলেও বয়ে চলেছে ইনজুরি ঝড়। এতে এরই মধ্যে ঝরে পড়েছেন চার সেরা ক্রিকেটার সাকিব, নাইম, এনামুল ও নাফীস। এছাড়াও ইনজুরির ভোগান্তিতে আছেন দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও। মাহমুদুল্লাহর স্বপ্ন পূরণ আপাতত দেখার বিষয়। গতকাল দুপুর ১২টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিহিন লঙ্কান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ দল সরাসরি কলম্বো পৌঁছে বিকাল ৪টায়। ইনজুরি নিয়ে কোচ ও অধিনায়ক চিন্তিত হলেও আশা করছেন শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা উপহার দেবে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এ সফরে একটি অনুশীলন ম্যাচ, ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ৩রা মার্চ অনুশীলন ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা মিশন। এরপর ৮ই মার্চ শুরু হবে টেস্ট সিরিজ। এই মিশনে দলের প্রধান কোচ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ শেন জার্গেনসনের। তবে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও দল নিয়ে আশাবাদী কোচ বিমানে ওড়ার আগে শিষ্যদের শুনিয়েছেন আলাদা মন্ত্র। এর আগে শিষ্যদের জার্গেনসন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে বিমানে চড়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে একটি দল হিসেবে পারফরম করার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে।’ শাহরিয়ার নাফিসের দুর্ঘটনায় দলে সুযোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর অধিনায়াক মুশফিকের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন তরুণ ক্রিকেটার, সোহাগ গাজী ও আনামুল হক বিজয়। এছাড়াও আছেন টেস্ট দলে একেবারে নতুন মুখ তরুণ ক্রিকেটার মমিনুল হক সৌরভ ও মার্শাল আইউব। তবে দলের সহ-অধিনায়কও তরুণদের ওপর ভীষণ আস্থা রাখেন। তার বিশ্বাস তাদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের চেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখাবে বাংলাদেশ দল। সহ-অধিনায়কের মতো আত্মবিশ্বাসী দলের তরুণরাও। দেশ ছাড়ার আগে আনামুল হক বিজয় বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন সবার থাকে। এখন সুযোগ হয়েছে। আর এই সুযোগে নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’ আর মার্শাল আইউব বলেন, ‘দলে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ এসেছে আমার। তবে প্রাথমিক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার। যদি মাঠে নামার সুযোগ পাই তাহলে নিজের সেরাটা দিয়েই পূরণ করতে চাইবো বাকিটা। গতকাল এয়ারপোর্টে যথারীতি ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের বাবা। তিনি শুধু বিদায় বেলা ছেলেকেই আশীর্বাদ দেননি, তিনি আদরে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেন দলের বাকিদেরও। আর রওনার আগে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও বললেন, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটই খেলবে।