Pages

Wednesday, January 2, 2013

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ


বেসরকারি অপারেটরদের থ্রি-জি প্রযুক্তি দেয়ার গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গাইডলাইন তৈরির আগে অপারেটরদের মতামত না নেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) নিজেদের মতো গাইডলাইন তৈরি করে অপারেটরদের কাছে মতামত চায়। বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয়নি বেসরকারি অপারেটররা। তাদের বক্তব্য গাইডলাইনে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া আছে যা তাদের ব্যবসার জন্য ইতিবাচক নয়। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হলে বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান হতো। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের মধ্যে অপারেটরদের হাতে থ্রি-জি লাইসেন্স দেয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানুয়ারির মধ্যে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের হাতে থ্রি-জির লাইসেন্স তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওই ঘোষণার সঙ্গে সুর মেলান। এদিকে গত ২৮শে মার্চ থ্রি- জি মোবাইল সার্ভিস লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বিটিআরসি। এতে পাঁচটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। বর্তমানে এ সুবিধা পাচ্ছে কেবল সরকার নিয়ন্ত্রিত মোবাইল অপারেটর টেলিটক। অক্টোবরের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থ্রিজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, থ্রি-জিকে জনপ্রিয় করতে অপাটেরগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে কম দামে থ্রি-জি লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে তারা। প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য ‘বিডি মানি’ ১ কোটি ডলার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এর আগে থ্রি-জি খসড়া নীতিমালায় প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য বিডি মানি (ন্যূনতম দর) ৩ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। সমপ্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তরঙ্গ মূল্য নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তা ২ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে গাইডলাইনে অন্যতম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও থ্রি-জি’র সেবা পৌঁছে দিতে হবে। অপরেটররা এ শর্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য- থ্রি-জি প্রযুক্তির শুরুর দিকে এটা সম্ভব নয়। কারণ, ওই প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে ব্যাপক কারিগরি কাজের বিষয় রয়েছে। এটা দ্রুত সম্ভব নয়। আপাতত শহরকেন্দ্রিক থ্রি-জি সেবা পৌঁছানো সম্ভব। অপারেটররা জানান, এখানে ব্যবসারও বিষয় রয়েছে। এভাবে নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিলে ব্যবসা করা কঠিন হবে। তারা জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ পেলে থ্রি-জি সেবাকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি জানিয়েছে, থ্রি-জির গাইডলাইন ড্রাফট শেষ। বেসরকারি অপারেটররা বেশ কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ করেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে গাইডলাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিটিআরসি নিলামের জন্য প্রস্তুতি নেবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, থ্রি-জি সংযোগ দিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কল করা, মোবাইল ফোনে টেলিভিশন দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং, রিয়েল টাইম গেমিং, অডিও ভিডিও চ্যাটিং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। এদিকে টেলিটক এরই মধ্যে তাদের থ্রি-জি সেবার কাজ শুরু করেছে। টেলিটকের এমডি মুজিবুর রহমান জানান, গ্রাহকরা এখন কেবল রাজধানীতে থ্রি-জি সেবা পাচ্ছেন। জানুয়ারিতে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেটে থ্রি-জি সেবা দেয়া হবে। টেলিটক আশা করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর চার লাখ গ্রাহক পাবেন এ সেবা। যদিও দুই মাসে তারা প্রায় এক লাখ থ্রি-জি সিমকার্ড বিক্রি করেছে।

No comments:

Post a Comment