ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও
দেশের নামী এনজিও ব্র্যাক। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও হাইতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা নেই এমন অজুহাতে সরকারি দরপত্র থেকে নামী এ
এনজিওটিকে নন-রেসপনসিভ (দরপত্র বাতিল) করা হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) নামের একটি আঞ্চলিক এনজিওকে। আলাদা আরেক লটের দরপত্রে অংশ নিলেও ওই দরপত্র থেকেও ব্র্যাককে বাদ দেয়া হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন (বাপসা) নামের একটি এনজিওকে। ব্র্যাক ছাড়াও প্রশিকা, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো অতি পরিচিত এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। তবে মেরি স্টোপস ক্লিনিক সোসাইটি ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মতো নামী এনজিও রেসপনসিভ হলেও তারা দামে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। এসব ঘটনা ঘটেছে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের এনজিও নির্বাচন দরপত্রে। ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪৪১ কোটি টাকার এ দরপত্রে যারা কাজ পেতে যাচ্ছেন তারা আদতে নামীদামি কোন এনজিও নয়। অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নেই। এনজিও নির্বাচনের দরপত্রে নামীদামি যেসব এনজিও অংশ নিয়েছিল তাদের নানা কারণ দেখিয়ে বাদ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৯টি এনজিওকে ২১টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যাদের কাজ দেয়া হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভাল যোগাযোগের কারণে তারা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে উতরে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এনজিওগুলোর মধ্যে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) চারটি এলাকার ২৬ কোটি ৩০ লাখ ৩১৪৫ টাকা, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা চারটি এলাকার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা, নারী মৈত্রী তিনটি এলাকার ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৭২৯৮ টাকা, ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) তিনটি এলাকার ১৩ কোটি ৩১ লাখ ১৯ হাজার ২৬২ টাকা, এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ একটি এলাকার ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৪ টাকা, ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস) একটি এলাকার ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৫ হাজার ২০৪ টাকা, ঢাকা আহছানিয়া মিশন দু’টি এলাকার ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫ টাকা, সীমান্তিক ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং সৃজনী বাংলাদেশ ১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার দু’টি কাজ পেতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে পাঁচটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে দু’টি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে ব্র্যাক ও ভলান্টারি এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টসহ নামী এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়। এতে অনেক অল্প পরিচিত এনজিও কাজ পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে তিনটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে পাঁচটি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো পরিচিত এনজিওকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য এলাকার জন্য এনজিও নির্বাচনেও নানা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে। বিভিন্ন এনজিওর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) সারা দেশে তাদের ১৮১০ জন স্টাফ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে ৬৫০ জন পুরুষ এবং বাকিরা মহিলা বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থার কোন ওয়েবসাইট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি আদতে একটি আঞ্চলিক এনজিও। নারী মৈত্রী একটি পরিচিত এনজিও। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রয়েছে তাদের অফিস। অন্যগুলোর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) খুলনা অঞ্চলের একটি এনজিও। স্বাস্থ্যখাতে এই এনজিওর অভিজ্ঞতা খুব বেশি দিনের নয়। এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ মূলত ট্রেনিং কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, সীমান্তিক এবং সৃজনী বাংলাদেশ এ দেশের পরিচিত এনজিও।
ওদিকে দেশের ১০টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর) এবং ৬টি পৌরসভা (টঙ্গী, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এজন্য ৩০টি পার্টনারশিপ এলাকায় একটি করে এনজিও নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৮টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা) এবং চারটি পৌরসভা (সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আগে থেকে চলমান ২৬টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য জানুয়ারি ২০১৩ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ৮৬টি দরপত্র পাওয়া যায়। এসব দরপত্র স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এরপর দরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭ সদস্যের জাতীয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এবং তিনটি টেকনিক্যাল সাব-কমিটি গঠন করে। টেকনিক্যাল সাব-কমিটি ৮৬টি দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে। এর ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৪৮টি প্রস্তাবকে টেকনিক্যালি রেসপনসিভ ঘোষণা করে। ওদিকে টেকনিক্যাল ইভাল্যুয়েশন কমিটি প্রস্তাবটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বরাবর পাঠালে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার পাঁচটি প্যাকেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থগিত রাখে। বাকি ২১টি প্যাকেজের জন্য সুপারিশ করা ৩৭টি কারিগরি রেসপনসিভ প্রস্তাবের বিষয়ে সম্মতি দেয় তারা। তাই এসব প্যাকেজের সর্বনিম্ন দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই ৯ এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার।
No comments:
Post a Comment