Pages

Showing posts with label EDUCATION. Show all posts
Showing posts with label EDUCATION. Show all posts

Thursday, January 10, 2013

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

প্রায় দুই দশকের আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষাধিক বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের এক মহাসমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ২০০ বিদ্যালয়ের এক লাখ ৩৮৪৫ জন বেসরকারি শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন যত্রতত্র  স্কুল গড়ে তুললে হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিভাবে হবে। কোথায় প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে তা আমরা দেখবো। যেগুলো বেসরকারি আছে সেগুলো থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২২ হাজার ৯৮১টি বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ২৪ জন শিক্ষক চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকেই সরকারের আওতায় চলে এলেন। এজন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা চেয়েছিলেন শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ। আমরা যে শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করছি তা নয়- আমরা স্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমপিও-বহির্ভূত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এনজিও বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত বিদ্যালয় এবং স্থাপিত কিন্তু চালুর অনুমতির অপেক্ষাধীন বিদ্যালয়সমূহ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী/অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও পরিচালিত ২২৫২টি বিদ্যালয়ের ৯০২৫ জন শিক্ষককে ১লা জুলাই থেকে এবং পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত এবং পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা ৯৬০টি বিদ্যালয়ের ৩৭৯৬ জন শিক্ষককে তৃতীয় ধাপে আগামী বছর ১লা জুলাই জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় ধাপের জাতীয়করণের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি ৩৭১ কোটি টাকা এবং তৃতীয় ধাপে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন এবং সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী। প্যারেড স্কোয়ারে নির্মিত বিশাল শামিয়ানা ছাড়িয়ে হাজার হাজার শিক্ষক দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য শোনেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বেশির ভাগ সদস্য এই সমাবেশে অংশ নেন বলে সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী জানান। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয়করণের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সমিতি বিলুপ্ত হলো। এই সমিতির সকল সদস্য এখন থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সদস্য। শিক্ষকদের জাতি গড়ার মূল কারিগর অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষকরাই একটি জাতিকে গড়ে তুলতে পারেন। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীসহ ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতির পিতা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আমরা কেন পারবো না? শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে শিক্ষকরা এই দাবিতে অনশন করেন। আন্দোলনে একজন শিক্ষক যখন মারা গেলেন তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী- যিনি এখনকার বিরোধীদলীয় নেতা তার সুগন্ধা কার্যালয়ে একটি উৎসব করছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়ে গেলেও পরে বিএনপি আমলে তা কমে যায়। ভর্তির পর ঝরে পড়া রোধ করতে শিশুদের উপবৃত্তি দেয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা হাত পাততে চাই না, আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়ালেই হবে না। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সমাবেশে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭২০টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শাখা খোলা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শতভাগ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে। শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চালু করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মূল বেতনের ১০০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৩৯টি নতুন রেজিস্টার্ড বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১৪০৫ জন শিক্ষক এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জাতীয়করণ রেজিস্টার্ড বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বহুদিনের দাবি। আমরা জানি, এর একটা যৌক্তিকতা রয়েছে। তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু আপনারা জানেন, এজন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সরকারি হয়ে গেছে বলে স্কুলে না গিয়ে বাসায় বসে থাকবেন- তা হবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা যে টাকা পাচ্ছেন তা জনগণের টাকা। আমি আশা করছি, আপনাদের প্রতি সরকারের এ আন্তরিকতার প্রতিদান দিতে আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের ২৭শে মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন শিগগিরই শিক্ষক মহাসমাবেশ থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হবে।
 

Thursday, January 3, 2013

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

দেশের নামী এনজিও ব্র্যাক। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও হাইতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা নেই এমন অজুহাতে সরকারি দরপত্র থেকে নামী এ
এনজিওটিকে নন-রেসপনসিভ (দরপত্র বাতিল) করা হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) নামের একটি আঞ্চলিক এনজিওকে। আলাদা আরেক লটের দরপত্রে অংশ নিলেও ওই দরপত্র থেকেও ব্র্যাককে বাদ দেয়া হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন (বাপসা) নামের একটি এনজিওকে। ব্র্যাক ছাড়াও প্রশিকা, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো অতি পরিচিত এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। তবে মেরি স্টোপস ক্লিনিক সোসাইটি ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মতো নামী এনজিও রেসপনসিভ হলেও তারা দামে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। এসব ঘটনা ঘটেছে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের এনজিও নির্বাচন দরপত্রে। ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪৪১ কোটি টাকার এ দরপত্রে যারা কাজ পেতে যাচ্ছেন তারা আদতে নামীদামি কোন এনজিও নয়। অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নেই। এনজিও নির্বাচনের দরপত্রে নামীদামি যেসব এনজিও অংশ নিয়েছিল তাদের নানা কারণ দেখিয়ে বাদ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৯টি এনজিওকে ২১টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যাদের কাজ দেয়া হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভাল যোগাযোগের কারণে তারা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে উতরে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এনজিওগুলোর মধ্যে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) চারটি এলাকার ২৬ কোটি ৩০ লাখ ৩১৪৫ টাকা, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা চারটি এলাকার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা, নারী মৈত্রী তিনটি এলাকার ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৭২৯৮ টাকা, ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) তিনটি এলাকার ১৩ কোটি ৩১ লাখ ১৯ হাজার ২৬২ টাকা, এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ একটি এলাকার ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৪ টাকা, ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস) একটি এলাকার ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৫ হাজার ২০৪ টাকা, ঢাকা আহছানিয়া মিশন দু’টি এলাকার ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫ টাকা, সীমান্তিক ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং সৃজনী বাংলাদেশ ১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার দু’টি কাজ পেতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে পাঁচটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে দু’টি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে ব্র্যাক ও ভলান্টারি এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টসহ নামী এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়। এতে অনেক অল্প পরিচিত এনজিও কাজ পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে তিনটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে পাঁচটি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো পরিচিত এনজিওকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য এলাকার জন্য এনজিও নির্বাচনেও নানা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে। বিভিন্ন এনজিওর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) সারা দেশে তাদের ১৮১০ জন স্টাফ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে ৬৫০ জন পুরুষ এবং বাকিরা মহিলা বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থার কোন ওয়েবসাইট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি আদতে একটি আঞ্চলিক এনজিও। নারী মৈত্রী একটি পরিচিত এনজিও। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রয়েছে তাদের অফিস। অন্যগুলোর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) খুলনা অঞ্চলের একটি এনজিও। স্বাস্থ্যখাতে এই এনজিওর অভিজ্ঞতা খুব বেশি দিনের নয়। এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ মূলত ট্রেনিং কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, সীমান্তিক এবং সৃজনী বাংলাদেশ এ দেশের পরিচিত এনজিও।
ওদিকে দেশের ১০টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর) এবং ৬টি পৌরসভা (টঙ্গী, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এজন্য ৩০টি পার্টনারশিপ এলাকায় একটি করে এনজিও নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৮টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা) এবং চারটি পৌরসভা (সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আগে থেকে চলমান ২৬টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য জানুয়ারি ২০১৩ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ৮৬টি দরপত্র পাওয়া যায়। এসব দরপত্র স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এরপর দরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭ সদস্যের জাতীয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এবং তিনটি টেকনিক্যাল সাব-কমিটি গঠন করে। টেকনিক্যাল সাব-কমিটি ৮৬টি দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে। এর ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৪৮টি প্রস্তাবকে টেকনিক্যালি রেসপনসিভ ঘোষণা করে। ওদিকে টেকনিক্যাল ইভাল্যুয়েশন কমিটি প্রস্তাবটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বরাবর পাঠালে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার পাঁচটি প্যাকেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থগিত রাখে। বাকি ২১টি প্যাকেজের জন্য সুপারিশ করা ৩৭টি কারিগরি রেসপনসিভ প্রস্তাবের বিষয়ে সম্মতি দেয় তারা। তাই এসব প্যাকেজের সর্বনিম্ন দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই ৯ এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার।

Friday, December 28, 2012

সেরাদের সেরা

সেরাদের সেরা

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) ঢাকা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮৯। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩২৭ জন। রাজশাহী বোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করে ও ৫৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। যশোর বোর্ডে  প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এবং ৪৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম সদরের খাস্তগীর গভ: গার্লস হাই স্কুল। এখানে ৩৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৩ জন অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে শতভাগ ও ২৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরিশাল বোর্ডের সেরা হয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে। এছাড়া, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫১ জন। সিলেট বিভাগের সেরা হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে এই কলেজ। দিনাজপুর বিভাগের সেরা স্কুল রংপুর ক্যাডেট কলেজ। এখানে ৫৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  মাদরাসা বোর্ডে শীর্ষ হয়েছে ডেমরার দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ২৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭ জন।

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গতকাল। পাসের হার ও জিপিএ’র  জয়জয়কার এ বছর। ৪টি পরীক্ষার ফলের আড়ালে পড়ে গেছে আরেকটি খবর। ৫ম ও ৮ম শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়েছে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এবার ৮টি শিক্ষাবোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডে জেএসসি-জেডিজি পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ১৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৮ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগেই ঝরে পড়ে ৬৮ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সব মিলে পাস করেছে ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন। আর ফেল করেছে রেকর্ড সংখ্যক ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী। জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫৮ জন। বিভিন্ন ধরনের ৯২ হাজার ৩২৮টি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত (ডিআরভুক্ত) হয়। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৩৪১ জন। ফেল করে ৬৫ হাজার ৭৭৮ জন। ফেল ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২  লাখ ২৬ হাজার ৫৬২ জন। আর এবতেদায়িতে পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৯ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৩ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী। সবমিলে পাস করে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৪ জন। ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৭৯ জন। ইবতেদায়িতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৭৫ জন শিক্ষার্থী। সব মিলে ঝরে পড়া ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৯৫ জন। এবার জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেড়েছে। ২০১১ সালে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৯১৮ জন। এ বছর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭৮২ জন। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার ৮৬৪ জন বেশি। বেড়েছে বহিষ্কারের সংখ্যাও। গত বছর বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫ জন। এ বছর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জনে। যা গত বছরের চেয়ে ২৩৪ জন বেশি। ফলের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ ও উপবৃত্তি দেয়ার সমাপনী পরীক্ষার ফলে ‘ইতিবাচক প্রভাব’ পড়েছে বলেই তিনি মনে করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ফলের সব সূচকেই উন্নতি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে পারা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আমরা তাদের স্কুলে ধরে রাখতে পেরেছি। এর পেছনে অভিভাবকরাও ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল পড়তে পারছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল করছে। মেয়েরা এখন ‘অব্যাহতভাবে’ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন- পরিবারে, সমাজে, মানসিকতায় এবং ভবিষ্যতের জন্যও মেয়েদের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মেয়েদের বিভিন্ন বাধা-প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করছি। তিনি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এবার অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু বেশি ছিল। এর কারণ হলো আমরা বিশেষ শিক্ষার্থী ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। তাদের অনেকেই সুযোগ নিয়েছে। যারা সুযোগ নিতে পারেনি তাদের আমরা আবারও সুযোগ দেবো। শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও মনে করেন, ভর্তির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে ভাল ফল হচ্ছে। এবারের সার্বিক ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, এবার ফল ভাল করার পেছনে কারণ হলো গ্রাম ও শহরের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। গ্রামের স্কুলগুলো অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল করেছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার পাশাপাশি তাদের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে।