Pages

Showing posts with label PSC. Show all posts
Showing posts with label PSC. Show all posts

Friday, December 28, 2012

সেরাদের সেরা

সেরাদের সেরা

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) ঢাকা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮৯। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩২৭ জন। রাজশাহী বোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করে ও ৫৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। যশোর বোর্ডে  প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এবং ৪৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম সদরের খাস্তগীর গভ: গার্লস হাই স্কুল। এখানে ৩৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৩ জন অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে শতভাগ ও ২৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরিশাল বোর্ডের সেরা হয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে। এছাড়া, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫১ জন। সিলেট বিভাগের সেরা হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে এই কলেজ। দিনাজপুর বিভাগের সেরা স্কুল রংপুর ক্যাডেট কলেজ। এখানে ৫৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  মাদরাসা বোর্ডে শীর্ষ হয়েছে ডেমরার দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ২৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭ জন।

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গতকাল। পাসের হার ও জিপিএ’র  জয়জয়কার এ বছর। ৪টি পরীক্ষার ফলের আড়ালে পড়ে গেছে আরেকটি খবর। ৫ম ও ৮ম শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়েছে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এবার ৮টি শিক্ষাবোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডে জেএসসি-জেডিজি পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ১৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৮ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগেই ঝরে পড়ে ৬৮ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সব মিলে পাস করেছে ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন। আর ফেল করেছে রেকর্ড সংখ্যক ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী। জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫৮ জন। বিভিন্ন ধরনের ৯২ হাজার ৩২৮টি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত (ডিআরভুক্ত) হয়। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৩৪১ জন। ফেল করে ৬৫ হাজার ৭৭৮ জন। ফেল ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২  লাখ ২৬ হাজার ৫৬২ জন। আর এবতেদায়িতে পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৯ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৩ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী। সবমিলে পাস করে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৪ জন। ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৭৯ জন। ইবতেদায়িতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৭৫ জন শিক্ষার্থী। সব মিলে ঝরে পড়া ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৯৫ জন। এবার জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেড়েছে। ২০১১ সালে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৯১৮ জন। এ বছর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭৮২ জন। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার ৮৬৪ জন বেশি। বেড়েছে বহিষ্কারের সংখ্যাও। গত বছর বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫ জন। এ বছর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জনে। যা গত বছরের চেয়ে ২৩৪ জন বেশি। ফলের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ ও উপবৃত্তি দেয়ার সমাপনী পরীক্ষার ফলে ‘ইতিবাচক প্রভাব’ পড়েছে বলেই তিনি মনে করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ফলের সব সূচকেই উন্নতি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে পারা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আমরা তাদের স্কুলে ধরে রাখতে পেরেছি। এর পেছনে অভিভাবকরাও ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল পড়তে পারছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল করছে। মেয়েরা এখন ‘অব্যাহতভাবে’ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন- পরিবারে, সমাজে, মানসিকতায় এবং ভবিষ্যতের জন্যও মেয়েদের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মেয়েদের বিভিন্ন বাধা-প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করছি। তিনি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এবার অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু বেশি ছিল। এর কারণ হলো আমরা বিশেষ শিক্ষার্থী ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। তাদের অনেকেই সুযোগ নিয়েছে। যারা সুযোগ নিতে পারেনি তাদের আমরা আবারও সুযোগ দেবো। শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও মনে করেন, ভর্তির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে ভাল ফল হচ্ছে। এবারের সার্বিক ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, এবার ফল ভাল করার পেছনে কারণ হলো গ্রাম ও শহরের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। গ্রামের স্কুলগুলো অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল করেছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার পাশাপাশি তাদের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে।