Pages

Friday, November 23, 2012

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর হচ্ছে আইইএলটিএস এবং টোফেলের পরিবর্তে পিয়ারসন  টেস্ট অব ইংলিশ (পিটিই) একাডেমীতে অংশ নেয়ার সুযোগ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই এ টেস্টকে অনুমোদন দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতেও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড  এ টেস্টকে ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ৯০ নম্বরের মধ্যে তাদের পেতে হবে কমপক্ষে ৭৩ (স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং)। এ টেস্টের আগে বার প্রফেসনাল ট্রেনিং কোর্সে আবেদনের জন্য আইইএলটিএস-এ প্রতি অংশে কমপক্ষে ৭.৫ (স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং) এবং টোফেলে ২৮ পেতে হতো। যা সহজে সম্ভব হয় না শিক্ষার্থীদের জন্য। ফলে অনেকের ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় না। ওই দু’টি টেস্টের চেয়ে পিয়ারসন টেস্ট সহজ ও কার্যকরী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ টেস্টকে আইইএলটিএস এবং টোফেলের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের ২২টি প্রতিষ্ঠান পিয়ারসন টেস্ট পরিচালনায় সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে- লন্ডন কলেজ লিগ্যাল স্টাডিজ সাউথ (এলসিএলস), গ্লোবাল স্টাডি, আইটি বাংলা, টিপিএনএল, আইসিসি প্রভৃতি। বাংলাদেশে কোন কেন্দ্রে পিয়ারসন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে ফি দিতে হয় ১১ হাজার ৬০০ টাকা। তবে পরীক্ষার তারিখের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করলে তা পড়ে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। ৩২ তোপখানা রোডের আইটি বাংলায় পিয়ারসন টেস্টের আগামী পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৬ ও ২০শে ডিসেম্বর। প্রতিটি পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পিয়ারসনের ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং ডিভিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার নাঈমুর রহমান বলেন, এটি অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে সহজ। যার জন্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ পরীক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে এলসিএলএস’র (সাউথ) হেড অব ল’জ ব্যারিস্টার খালেদ হামিদ চৌধুরী বলেন, পিয়ারসন টেস্ট ছাত্রদের জন্য খুবই কার্যকরী। এটি অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে সহজ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এলসিএলএস’র কোর্স কো-অর্ডিনেটর শাহরিয়ার সাদাত বলেন, এ পরীক্ষাটি বাস্তব ভিত্তিক। একজন শিক্ষার্থী বাস্তবে কি করেন সে প্রেক্ষিতেই এ পরীক্ষা হয়ে থাকে। এ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে হধুববসঁৎ.ৎধযসধহ@ঢ়বধৎংড়হ.পড়স  ই-মেইল করে।  ২০০৯ সালের শেষের দিকে স্বনামধন্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান,  পেশাজীবী সংগঠন কর্তৃক চালু হয় পিয়ারসন টেস্ট অব ইংলিশ (পিটিই) একাডেমিক। পিয়ারসন  টেস্টে ৩ ঘণ্টা মেয়াদি একটি পরীক্ষা যা কয়েকটি অংশে বিভক্ত থাকে। এক সেকশনের সময় শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য  সেকশনে চলে যায়। এতে রয়েছে স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং টেস্ট। সাধারণত স্পিকিং এবং রাইটিং অংশের জন্য বরাদ্দ থাকে ৭৭ থেকে ৯৩ মিনিট, রিডিং অংশের জন্য ৩২ থেকে ৪১ মিনিট আর লিসনিং অংশের জন্য ৪৫ থেকে ৫৭ মিনিট। তবে মোট ৩ ঘণ্টার এই পরীক্ষার সময় বিভক্তির পরিবর্তনও হতে পারে। পিয়ারসন টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য  অনলাইনে ৪৮ ঘণ্টা আগে  রেজিস্ট্রেশন করা যায়। তবে লেট ফি দিলে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও  রেজিস্ট্রেশন করা যায়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা টেস্ট সেন্টারগুলোর মধ্য থেকে পছন্দেরটি বেছে নিয়ে পছন্দের তারিখে রেজিস্ট্রশন করা যায় অনলাইনে। ফল সাধারণত ৫ কার্যদিবসের মধ্যেই পিয়ারসন  টেস্টের ফল দেয়া হয়। এজন্য পরীক্ষার্থীর একাউন্টে লগইন করতে হবে। তাছাড়া ফল  তৈরি হয়ে গেলে পরীক্ষার্থীকে ই-মেইল করেও স্কোর জানিয়ে দেয়া হয়। ই-মেইলে পাঠানো লিংকটি ক্লিক করলে পরীক্ষার্থীর স্কোর রিপোর্টটি কয়েকটি অংশে পাওয়া যাবে। এতে থাকে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিবরণ ও ছবি, মোট স্কোরসহ আলাদা আলাদা স্কোরের বিবরণ। এই পরীক্ষার জন্য কাগজে মুদ্রিত  কোন ফল দেয়া হয় না। স্কোর এই পরীক্ষায় মোট স্কোর হচ্ছে ৯০। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে পড়াশোনার জন্য স্কোর চায় কমপক্ষে ৫১ থেকে ৬১,  পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলের জন্য ৫৭ থেকে ৬৭ এবং এমবিএ  লেভেলের জন্য ৫৯ থেকে ৬৯। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে স্কোর পাঠানো পরীক্ষার্থী ইচ্ছা করলে তার স্কোর নিজের একাউন্ট থেকে যে কোন সংখ্যক পছন্দের প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পাঠিয়ে দিতে পারেন বিনামূল্যে। এজন্যে পরীক্ষার্থীকে নিজের একাউন্টে লগইন করতে হবে। তারপর সেন্ড স্কোরস লিংকে ক্লিক করে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার পর হবীঃ ক্লিক করে পড়হভরৎস ড়ৎফবৎ ক্লিক করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠানো স্কোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই  দেখতে পারবে। তবে একবারে  বেছে নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৭টি প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষাটি ইংল্যান্ডের ৯৫ ভাগেরও বেশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বীকৃত। স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, ইউকে বর্ডার এজেন্সির টিয়ার ওয়ান, টু,  ফোর ও স্পাউস ভিসা আবেদন এবং স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (ডিআইএসি) কর্তৃক ব্যাপকভাবে স্বীকৃত পিয়ারসন টেস্ট। পরীক্ষাটি হাজার হাজার বিষয়ে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির জন্য ছাড়াও  ৪ শতাধিক  বেশি বিজনেস স্কুল কর্তৃক স্বীকৃত।  যাদের মধ্যে আছে লন্ডন বিজনেস স্কুল, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল প্রভৃতি। এই জাতীয় প্রতিষ্ঠাগুলোর একটি সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া যাবে িি.িঢ়বধৎংড়হঢ়ঃব.পড়স/যিড়ধপপবঢ়ঃং ওয়েবসাইটে। তাছাড়া এটি গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট এিিমশন টেস্ট (জিএমএটি) পরীক্ষা পরিচালনাকারী গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট এডমিশন কাউন্সিল (জিএমএসি) কর্তৃক স্বীকৃত।

No comments:

Post a Comment