এ যেন অন্য এক ছক্কা নাঈম
নাঈম আসলে যখনই জাতীয় দলে খেলেছেন, বেশির ভাগই ৬ অথবা ৭ এ করেছেন ব্যাটিং। এবার একেবারে চারে উঠে আসার কারণটা জানান দেন তিনি নিজেই। ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের বিরুদ্ধে যখন খেলি, তখন আকরাম ভাই (প্রধান নির্বাচক) বলেছিলেন, জাতীয় ক্রিকেটে চার নাম্বারে ব্যাটিং করতে। তখনই একটা ইঙ্গিত পাই। ভালো করলে জাতীয় দলে ফিরব এবং টপ অর্ডারে ব্যাটিং করব। হাই পারফরম্যান্সের পর জাতীয় লিগেও ভালো করার পরই জাতীয় দলে ফেরা এবং চার নাম্বারে ব্যাটিংয়ের এ সুযোগ। এখানে ব্যাটিং করার ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতিটা আগেরই ছিল।’ নাঈমের নাম রয়েছে আরো একটা। বন্ধুরা তাকে ছক্কা নাঈম বলেও ডাকেন। একবার তার অনবরত ছক্কাতেই ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই নাঈম গতকাল ১৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করবেন এটা তো কল্পনাতীত। সেঞ্চুরি করেছেন ২২৮ বল মোকাবেলা করে ৩১৬ মিনিট ক্রিজে থেকে। ইনিংসে কোনো ছক্কা নেই। ১৭টি বাউন্ডারি শুধু। অন্য নাঈমকেই তো দেখা! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ওটিস গিবসনও প্রশংসা করেন তার। ‘দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন তিনি।’
মৃদুভাষী নাঈম জানালেন, ‘আসলে শর্টার ভার্সনের ম্যাচে স্ট্রোক খেলি। কিন্তু লংগার ভার্সন ম্যাচে দেখবেন আমি ধীরেই ব্যাটিং করে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘ক্রিজে আমি সব সময় আমার খেলাটাই খেলার চেষ্টা করি। আর এ ম্যাচেও আমার প্ল্যান ছিল তেমন। আমার জোনে বল পড়লে শট খেলব নতুবা না। সেটাই করেছি।’ নাঈম দলের টার্গেট সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করতে পারি সেটাই মূলত চেষ্টা। দিনের শুরু থেকেই যা ছিল, দেখবেন রিয়াদ নাসিরও সেই রোলটাই প্লে করেছে। তবে ম্যাচের এখনো বাকি দুই দিন। এুনি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা যতক্ষণ পারি ব্যাটিং করব।’ নাঈম সাকিব-তামিম সম্পর্কে বলতে যেয়ে বলেন, ‘আসলে সাকিব-তামিম চমৎকার ব্যাটিং করেন। আমার সৌভাগ্য যে তাদের সাথে ব্যাটিং করেছি। কাছ থেকে দেখেছি। অনেক কিছু শেখারও আছে সে থেকে।’
নাঈমের ফেরাটা এবার একটু অন্যরকমই! নাঈম মানেই ৬ বা ৭ এ ব্যাটিং করা। মোটামুটি একটা স্কোর করেই আউট। সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের প্রিয়পাত্র বলেই দলে চান্স তার, শুনতে হয়েছে এমন কথাও। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও দলে ছিলেন। কিন্তু (প্রথম টেস্ট ৩৬ ও ব্যাট করেননি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৫ ও ৩) এ ছিল দুই টেস্টের পারফরম্যান্স। এ জন্যই পাকিস্তানের সাথে সিরিজে স্থান হয়নি তার। তবে এ সিরিজে ফিরতে কিছুটা দৃঢ়তাই ছিল বৈকি তার! চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স তার। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩৭ ও ৪৪ এবং দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ১২৭ ও ৩ করেই আবার ফিরলেন টেস্ট স্কোয়াডে। এর আগে ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের সাথেও ভালো খেলেছিলেন নাঈম। ওই ধারাবাহিকতায়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও চমৎকার পারফরম্যান্স করে তার ফলও পেয়েছেন। সেঞ্চুরি। ব্যাটসম্যানদের স্বপ্নের ওই স্কোর। এর আগে ৬ টেস্টের ১১ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৫৯ রান এ মিরপুরে। হাফ সেঞ্চুরি বলতেও ছিল ওটাই। কাল একেবারে সেঞ্চুরি করেই থেমেছেন এ টপ অর্ডার। সকালে আগের দিনে ২৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১০৮ করে যখন আউট হন ততক্ষণে শুধুই তার সেঞ্চুরিই নয়, দলকেও সম্মানজনক এক ড্র করার স্বপ্ন দেখিয়ে রেখে গেছেন। যদিও ওটা বলার সময় আসেনি এখনো তবুও ম্যাচ কন্ডিশন এমনই একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ম্যাচের এমন চিত্র আঁকার ব্যাপারে নাঈম, সাকিবের রয়েছে অসাধারণ অবদান। তাদেরই চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ রেকর্ড ১৬৭ রানের পার্টনারশিপটাই পাল্টে দেয় সব চিত্র। সাকিব ব্যর্থ হলেও সে থেকে শিক্ষা নিয়ে নাঈম ঠিকই পৌঁছে যান ওই লক্ষ্যে। ফাস্ট বোলার টিনো বেস্টের করা লেগ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা বলটি ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির মার্কে। এটা বাংলাদেশের ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টস : ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে.
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : আগের দিনের ১৬৪/৩ (৩৬ ওভার) তামিম ৭২, জুনায়েদ ৭, নাফীস ৩১।
রান বল ৪ ৬
নাঈম ক রামদিন ব সামি ১০৮ ২৫৫ ১৭ ০
সাকিব ক ফুদাদিন ব রামপাল ৮৯ ১৪৩ ১০ ১
মুশফিক ক অ্যান্ড ব পারমাল ৪৩ ৯৭ ৭ ১
নাসির ব্যাটিং ৩৩ ৭৫ ১ ১
রিয়াদ ব্যাটিং ৪২ ৭৯ ৩ ১
অতি: (বা ৮, লেবা ১১, ও ৩, নো ৮) ৩০
মোট (১২৬ ওভার ৬ উই.) ৪৫৫
ব্যাট করেননি : সোহাগ, শাহাদত ও রুবেল।
উইকেট পতন : ১/২৫, ২/৮৮, ৩/১১৯, ৪/২৮৬, ৫/৩৬২, ৬/৩৬৮।
বোলিং : রামপাল ২৬-২-১০১-৩, বেস্ট ২০-৩-৬৮-০, সামি ২৩-৩-৮৩-২, নারিন ২১-৫-৮৯-০, পারমাল ২৭-৭-৬০-১, গেইল ৩-০-১৪-০ ও স্যামুয়েলস ৬-০-২১-০।
No comments:
Post a Comment