Pages

Tuesday, November 20, 2012

আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি

আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি


সরকারি চাকরির ১৩ লাখ ৭০ হাজার পদের মধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানো বা বয়স বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সংসদ কার্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লিখিত জবাবে সংসদকে জানান, সরকার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও আত্মকর্মসংস্থান- তিনটিকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তার পক্ষে অপু উকিলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আংশিকভাবে সত্যতা আছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সত্যতার অভাব রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গায়ের জোরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় না। তখন ঘটনা তদন্ত করতে হয়। কমিটি গঠন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা শুদ্ধতার দিকে এগোতে চাই। কারও স্বার্থে কিছু করতে চাই না। অপু উকিলের প্রশ্নটি ছিল- নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব করা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পদ শূন্য পড়ে থাকে। এ বিষয়ে সরকার কোন প্রতিকার নেবে কিনা- সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। মন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ই মার্চ সরকারি চাকরিতে কোটা সম্পর্কে পরিপত্র জারি করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের কোটার শতকরা হার হচ্ছে- মেধা কোটা (জেলা কোটা বহির্ভূত) ৪৫ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বণ্টন) ৫৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১০ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ১০ শতাংশ। তাছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী (জেলা কোটা বহির্ভূত) ১০ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বন্টন) ৯০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১৫ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ, আসনার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ৩০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে সরকার সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণ করে থাকে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রী জানান, ৩৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন দালিলিক ডকুমেন্টস আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে পিএসসি পায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পিএসসি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কোন নাগরিকের হাতে থাকলে তার কপি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে তথ্য পিএসসিকে দেয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পত্রপত্রিকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কমিশন গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত আবশ্যিক ও একটি পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। বিএনপির অনুপস্থিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। তার নাম আ ত ম ফজলুল করিম। উল্লেখ্য, তিনি কবি আবু করিম হিসেবে পরিচিত।

No comments:

Post a Comment