৫ বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হতে পারে। এজন্য মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে পারে বাংলাদেশ। তবে কি কারণে বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে বিশ্বের ১৪০টি দেশে এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্তির জন্য আন্দোলন করে আসছে। মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্র মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। এ বিচার প্রক্রিয়ায় ভুলভাবেও অনেকের মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ রয়ে গেছে। এ কারণে আমরা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের পক্ষে নই। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানের পক্ষে আমরা। ১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী ‘ইন্টারন্যাশনাল কভিন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ গৃহীত হয়। ১৯৭৬ সালের ২৩শে মার্চ থেকে এটি কার্যকর হয়। তবে এ চুক্তিতে স্বাক্ষরে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কোন বাধ্যবাধকতা নেই। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এ বছর মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের ৭৪টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। তবে নিম্ন আদালত কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা কার্যকর হয় না। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর করা যায় না। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে আইনজীবী নিয়োগ না দিলেও রাষ্ট্র তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।’ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিকে অমানবিক উল্লেখ করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট পরে ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে বাংলাদেশেও সামপ্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সামপ্রতিক অতীতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার ঘটনা ঘটছে খুবই কম। বৈশ্বিক পটভূমিতেও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গত বছরগুলোতে সারা দুনিয়ায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ২০০৩ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবস। মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপের ক্ষেত্রে গত দশকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে ১৭টি দেশ যে কোন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করেছে। এতে মৃত্যুদণ্ড বিলোপকারী দেশের সংখ্যা ১৪০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭০ শতাংশ দেশ এখন এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
No comments:
Post a Comment