Pages

Thursday, November 22, 2012

বিস্মিত করল বাংলাদেশ

বিস্মিত করল বাংলাদেশ


চা বিরতির সময় বাংলাদেশ দলের বিপর্যয় দেখে যাঁরা খেলা দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, শেষ বিকেলে তাঁদের বিস্ময়ের অন্ত নেই। এ কী দেখছেন তাঁরা! ১৯৩ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের সংগ্রহ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫!
বিস্ময়ের ওপর বিস্ময়, দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ‘বোলার’ আবুল হাসান হাঁকিয়ে ফেলেছেন এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি! ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে এ কারণে, আবুল যে কীর্তি করেছেন, তা টেস্ট ক্রিকেটে বিরলতম ঘটনাগুলোর একটি। অভিষেকে দশ নম্বরে কোনো ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেটে সর্বশেষ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ১১০ বছর আগে, ১৯০২ সালে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার রেগি ডাফের সেই কীর্তিরই পুনরাবৃত্তি করলেন আমাদের আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বেলাটি ছিল বিস্ময় ছড়ানো। আবুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের রেকর্ড জুটিতে ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রণ থেকে ম্যাচ বের করে আনে বাংলাদেশ। আবুল হাসানের ব্যাটিং প্রথম থেকেই ছিল বিস্ময়-জাগানিয়া। ঠেকানোর বল ঠেকিয়ে, মারার বল মেরে আবুল লজ্জা দিচ্ছিলেন বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। মাহমুদউল্লাহও নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করে দিয়ে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলেন এই অভিষিক্ত তরুণকে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এর আগে মাত্র একটি ফিফটি হাঁকানো আবুল যে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিই হাঁকিয়ে ফেলবেন, তা কে ভেবেছিল? সেই বিস্ময়ই উপহার দিয়ে নিজেকে ইতিহাসের খাতায় বন্দী করে ফেললেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের পক্ষে খেলা এই তরুণ পেসার। আজকের পর থেকে আবুল হাসান নিশ্চয়ই পেসার হিসেবে পরিচিত হবেন না, আজ থেকে তিনি যে পুরোদস্তুর এক ব্যাটসম্যান; যাঁর ওপর নির্ভর করা চলে।
দিনের মধ্যভাগে দলীয় সংগ্রহ ২০০ পার হবে কি না, এই সংশয়ে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দিনশেষে ৮ উইকেটে ৩৬৫। ইতিহাস গড়ে ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত থাকা আবুল হাসানের সঙ্গী হয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ; তাঁর সংগ্রহ ৭২ রান। দলীয় স্কোরকে ৪০০ পার করে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা এখন দেখাই যায়।
আবুল হাসানের এই অনন্য কীর্তির দিনে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। জুনায়েদ সিদ্দিকীর পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া নাজিমউদ্দিনকে (৪) দিয়ে শুরু। শাহরিয়ার নাফীস (২৬), তামিম ইকবাল (৩২), সাকিব আল হাসান (১৭)—সবাই ব্যর্থ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাসির দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত ৫২ রান করে নাসির যেভাবে আউট হন, সেটা আর যা-ই হোক, কোনো টেস্ট ব্যাটসম্যানের সঙ্গে যায় না। মুশফিক ফিরে যান ৩৮ রানে। সোহাগ গাজী যখন আউট হলেন, তখন দলীয় স্কোর ২০০ হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ দিনের শেষে পুরো প্রেক্ষাপটই পরিবর্তিত হয়ে গেছে অবিস্মরণীয়ভাবে।
ফিদেল এডওয়ার্ডস মিরপুর টেস্টে খেলেননি। রবি রামপলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া এডওয়ার্ডসই আজ বাংলাদেশ শিবিরে সবচেয়ে বড় আতঙ্কটা ছড়িয়েছেন। ১৬ ওভার বল করে ৮১ রানে তাঁর সংগ্রহ ৫ উইকেট। তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছেন নাজিমউদ্দিন, সাকিব, নাঈম ইসলাম, মুশফিক ও সোহাগকে। দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। তামিম ইকবাল ও শাহরিয়ার নাফীস স্যামির শিকার। পেরমল পেয়েছেন নাসিরের উইকেটটি।
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকটা প্রথম দিন শেষেই স্মরণীয়। সপ্তম টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদাটা দিনশেষে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেলেন আবুল হাসান। তাঁকে অভিনন্দন না জানালেই নয় !

No comments:

Post a Comment