Pages

Friday, November 16, 2012

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

(ডা: ফারজানা চৌধুরী)
মানুষ যখন ভূমি চাষ, আগুনের ব্যবহার আয়ত্তে এনেছে, তখন থেকেই তামাকপাতা ও আফিম ফল মস্তিষ্কে যে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে তাও আবিষ্কার করে ফেলেছে। সেসব নেশাই কয়েক দশক ধরে সমাজকে গ্রাস করছে। সারা পৃথিবীতে অস্ত্রের পরপরই বড় ব্যবসা হচ্ছে মাদকদ্রব্যের। মাদকদ্রব্য হচ্ছে সেগুলোই, যেগুলো মস্তিষ্কের ওপর কাজ করে এবং আচরণের অনাকাক্সিত পরিবর্তন ঘটায়। এগুলোর মধ্যে আছেÑ
১. স্নায়ু নিস্তেজক মাদকদ্রব্য, যেমনÑ আফিম, মরফিন, হেরোইন, প্যাথেডিন, কোডেইন, গার্ডিনাল, ডায়াজিপাম, মদজাতীয় দ্রব্য ইত্যাদি।
২. স্নায়ু উত্তেজক মাদকদ্রব্য : যেমন গাঁজা, ভাং, চরস, সিদ্ধি, মারিজুয়ানা, কোকেন ইত্যাদি।
৩. মায়াবিভ্রমকারী বা হেলোসিনেজিক মাদকদ্রব্য : যেমন এলএসডি।
৪. অন্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে তামাক, নিকোটিন, নাকে শুঁকার দ্রব্য ও যন্ত্রণা নিবারক ওষুধ।
কিন্তু আমাদের দেশের তরুণেরা তাদের তারুণ্যের প্রকাশ ঘটাচ্ছে ধ্বংসাত্মকরূপে। বিভিন্ন আর্থসামাজিক কারণে তাদের গঠনমূলক প্রবণতাগুলো বিকশিত হচ্ছে না। ফলে সহজলভ্যতা ও সেবনের সহজ পদ্ধতির কারণে তারা আকৃষ্ট হচ্ছে ফেনসিডিলের প্রতি। এই ফেনসিডিলে আছে (এক চামচে) প্রোমিথাজিন হাইড্রোকোরাইড ৩.৬ গ্রাম, কোডিন ফসপেট ৯ মি.গ্রাম এবং ইফিড্রিন ৭.২ মি. গ্রাম। বর্তমানে এ ওষুধটি নিষিদ্ধ। তার পরও নানাভাবে এ ওষুধটি বাজারে আসছে।
আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থবিরতা, নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ চিত্তবিনোদনের অভাব, জীবনের উদ্দেশ্যবিহীনতা, পিতামাতার সন্তানের প্রতি অবহেলা, পরিবারে মাদকের প্রভাব, বিষণœতা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও মারাত্মক মানসিক রোগের কারণে, বন্ধুদের প্ররোচনা, অত্যাধুনিক হওয়ার প্রবণতা, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের আকাক্সা, মানসিকভাবে দুর্বলচিত্ত, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তরুণেরা ফেনসিডিলে আসক্ত হয়। এই নিষিদ্ধ ওষুধটি তরুণদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তাশক্তি হ্রাস করছে। স্মৃতিবৈকল্য ও স্মৃতিভ্রংশতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে। তরুণের জগৎ ও জীবন সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ে, ফলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করে না। নিস্পৃহ ও নির্লিপ্ত হয়ে যায়। মুখে কথা জড়িয়ে আসে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখ লাল ও বড় হয়ে থাকে। ফেনসিডিলের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়, যাকে বলে ড্রাগ ডিপেনডেনস।  ফলে নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়।
একটানা এ মাদকদ্রব্য খাওয়ার ফলে দেহে সৃষ্টি হয় নানা রোগ। যেমনÑ জন্ডিস, কিডনির রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও জটিল লিভারের রোগ।
তরুণদের এই ফেনসিডিল বা মাদকদ্রব্যের আসক্তি থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব কেবল সমাজ ও সরকারের নয়Ñ অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া তরুণেরা হতাশ হলে চলবে না। মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো ভাবতে হবে। ভাবতে হবে পরিবার, সমাজ ও জাতির কথা।

No comments:

Post a Comment