Pages

Showing posts with label BKMEA. Show all posts
Showing posts with label BKMEA. Show all posts

Friday, January 18, 2013

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট


বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। ক্রেতারা তাদের আচরণবিধি রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য এ সমালোচনা করা হয়। সমবেদনা জানানো হয় তাজরিন গার্মেন্ট ও ২০০৬ সাল থেকে এ যাবৎ বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি। গার্মেন্টে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা না হলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। গার্মেন্টে পোশাক তৈরির আগে যেভাবে জিন্স থেকে ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কার করা হয় তার সব পন্থা বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে। আশুলিয়ায় তাজরিন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার এ আলোচনা করা হয় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে। আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য। এ সময় জিইউই/এনজিএল নামের পার্লামেন্টারি গ্রুপের সদস্য পল মারফি নিজস্ব আচরণবিধি রক্ষায় ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার নিন্দা জানান। ওই গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবপেইজে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাজরিন ফ্যাশন্স লিমিটেডে অযৌক্তিক যে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। একই রকম সমবেদনা জানাই ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ৭০০ নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি। তিনি এসব প্রাণহানির জন্য দায়ী করেন কারখানা মালিকদের। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকেও সমান দায়ী করেন। তিনি বাংলাদেশের এসব কারখানাকে ‘মৃত্যুফাঁদের কারখানা’ বলে অভিহিত করেন। পল মারফি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তৈরী পোশাকের রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। শুধু ২০১১ সালে এ দেশ তৈরী পোশাক রপ্তানি করে আয় করেছে ১৯০০ কোটি ডলার। এ দেশ থেকে টমি হিলফিগার, গ্যাপ, কেলভিন ক্লেইন, এইচঅ্যান্ডএম এবং ওয়াল-মার্টের মতো নামী ব্রান্ডের প্রতিষ্ঠান পোশাক কিনেছে। এদেশে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলার। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মোট শ্রমিকের শতকরা ৮৫ ভাগই নারী। তাদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩৭ ডলার। তাদেরকে কোন শ্রমিক ইউনিয়ন করতে দেয়া হয় না।
শ্রমিক ইউনিয়ন করা থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। পল মারফি ডেনিম জিন্স তৈরির সময়কার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জিন্সের কাপড় থেকে পোশাক তৈরির সময় তা থেকে যে বালুকণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্রমিকরা গ্রহণ করেন তা থেকে তারা সিলিকোসিস ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এসব শ্রমিককে এমন বালুকণা ও কারখানার ধুলোবালি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে পরিবেশগত কারণে। আইরিশ ওই এমপি আরও বলেন, পোশাক তৈরির আগে তা থেকে ধুলোবালি পরিষ্কারের যে পদ্ধতি (স্যান্ডব্লাস্টিং) আছে তার সব রকম প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করে দেয়া উচিত। যারা সিলিকোসিস (বালু-ধুলোকণা থেকে সৃষ্ট রোগবিশেষ)-এ আক্রান্ত তাদের জন্য সামাজিক ও চিকিৎসা সহায়তার সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যেসব কারখানায় ধুলোবালি বিমুক্ত করার জন্য শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন সেখান থেকে ধুলোবালিমুক্ত জিন্সের কাপড় রপ্তানি অবশ্যই বাতিল করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য খসড়া করা হয়েছে। ওই খসড়ার ওপর গতকাল ভোট হওয়ার কথা।

Tuesday, January 1, 2013

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

গত মাসে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে মনে করছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাইরের কোন  ইন্ধন এর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএ’র গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘পরিকল্পনায়’ জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করছি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নাশকতা’ উল্লেখ করে, যদিও তারা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার ওই কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১১ জন নিহত হন। পরদিন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) এসএম মান্নান কচি।
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় আহত শ্রমিক কর্মচারীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যে সাক্ষ্য প্রমাণ আমরা নিয়েছি, তা বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ঘটনার ইংগিত পাওয়া গেছে, যা আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরিন কারখানার নিচতলায় যদি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গুদাম না থাকত, অথবা গুদামের চারপাশ যদি দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকত এবং ভবনের প্রতিটি সিঁড়ি যদি কারখানার বাইরে এসে শেষ হতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এতো বেশি হতো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ভবনের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার জন্য মালিকপক্ষেরও চরম অবহেলা ছিল, যার দায় মালিকপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
তাজরিনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়।

Tuesday, December 18, 2012

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু


তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড সূত্রপাতের পেছনে ছিল ‘নাশকতা’। আর অমার্জনীয় অবহেলার কারণে ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন সহ ৯ জন দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তাজরিন গার্মেন্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব বক্তব্য উল্লেখ করেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রিপোর্টটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদের কাছে জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার। গার্মেন্ট ভবনটি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে। রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ। ঘটনার কারণ চিহ্নিত করাসহ সামগ্রিক বিষয়ে একটি রিপোর্ট আজই (গতকাল) বিকালে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, এতগুলো মানুষের মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ জন্য আমরা তদন্ত রিপোর্টে বলেছি, অমার্জনীয় অবহেলার কারণেই ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে গার্মেন্টটিতে আগুন লাগার পেছনে নাশকতা কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষণ করা হয়। এজন্য গার্মেন্টটির কোন কোন কর্মকর্তা দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন, তাজরিন ফ্যাশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক আল আমিনসহ গার্মেন্টটির বিভিন্ন ফ্লোরে দায়িত্ব পালনকারী আরও ৫ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বলেন, আগুন নেভানোর মহড়া চলছে। শ্রমিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নির্দেশেই কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল ও অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও ঘটনার দিন একটিও ব্যবহার করা হয়নি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, আগুনের সতর্ক সঙ্কেত বাজার পরও কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগে বাধা দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আগুন দেখার পর তা নিয়ন্ত্রণের জন্য একদিকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়ে বরং কারখানার ভেতরে কাজ করতে নির্দেশ দিয়ে শ’ শ’ শ্রমিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানার মালিকপক্ষ বা শ্রমিকরা কেউ সাধারণ অগ্নি আত্মরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ করেনি। তাজরিন ফ্যাশনের মান সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার অবস্থান একটি পল্লীর ভেতরে। কারখানার সামনের দিকে ৮ থেকে ১০ ফুট রাস্তা। পেছনে তিনদিকে লাগোয়া বাড়িঘর। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি অভিযান চালাতে পারে না। কোন ধরনের বহির্মুখী জরুরি নির্গমন পথ অথবা বিকল্প সিঁড়ি না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শ্রমিকরা লোহার গ্রিল, কাচ, এগ্‌জস্ট ফ্যান ভেঙে জীবন বাঁচাতে পাশের টিনের চালে লাফিয়ে পড়েন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তাজরিন গার্মেন্টটি কোনভাবেই শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উপযোগী বা যথাযথ মান পরিপালনকারী (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা নয়। কারখানার ভবন তৈরিতেও ন্যূনতম ‘ভবন নির্মাণ বিধিমালা’ অনুসরণ করা হয়নি। কর্মক্ষেত্রের উপযোগী ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হলে এত বেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনসে একাধিকবার সরজমিন পরিদর্শন প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজরিন ফ্যাশনস কারখানার নয়তলা ভবনটির নিচতলার পুরোটাই ছিল গুদাম বা ওয়্যার হাউস। এখানে সুতা ও কাপড় গুদামজাত করা হয়। সেখানে ঢুকতেই একটি সদর দরজা, এরপর নিচতলার ওয়্যার হাউসের ভেতর থেকেই তিনটি সিঁড়ি প্রতিটি তলা স্পর্শ করে ছাদে গিয়ে মিলেছে। প্রতি তলার প্রবেশমুখেই কলাপসিবল দরজা। নিচতলার ওয়্যার হাউসে আগুন লাগায় এর অগ্নিদাহ্য সিনথেটিক জাতীয় সুতা, কাপড়ের বিশাল মজুত থাকায় আগুন লাগার পর পরই পুরো ভবনটি ইটভাটার মতো রূপ নেয় এবং সিঁড়িগুলো হয়ে ওঠে উত্তপ্ত চিমনি। নিচতলার ভয়াবহ আগুনের তাপ, শিখা ও কালো ধোঁয়া তিনটি সিঁড়ি দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে শ’ শ’ কর্মব্যস্ত শ্রমিকরা প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার বহির্গমনের কোন পথ না পেয়ে দমবন্ধ ও পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে গত ২৪শে নভেম্বর রাতে তাজরিন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ছিলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আবদুস সালাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
ওদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি চূড়ান্ত এবং ১৬টি সাধারণ সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তাজরিনের মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহেলার জন্য শাস্তির সুপারিশ, দেশের যেসব জেলায় এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ওইসব জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। উল্লেখ্য, গত ২৪শে নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরী পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক পালন করা হয়। এরই মধ্যে নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৬ লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Monday, October 29, 2012

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে আগুন, আহত ১০

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে আগুন, আহত ১০

 নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নয়ামাটি কুতুবাইল এলাকায় একটি রফতানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট সাত ঘণ্টা চেষ্টার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ফতুল্লার ইউরো টেক্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের ডাইং সেকশন থেকে রোববার রাত দুইটায় আগুন লাগে। ডাইং সেকশনে থাকা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে  আগুন চারদিকে  ছড়িয়ে পড়ে। এতে ডাইং সেকশন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পরে আগুন এক তলার বিদ্যুতের মোটা ক্যাবল দিয়ে গার্মেন্টসে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসব ফ্লোরে গার্মেন্টসের বিপুল পরিমাণ শিপমেন্টের মালের কার্টন, কাটিং, ফিনিশিং সেকশন ও গোডাউন ছিল।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি ফায়ার স্টেশনের দশটি ইউনিটের শতাধিক কর্মী সাত ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, কাপড় ও মেশিন পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ দশজন আহত হয়েছেন। আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মালিকপক্ষ ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ইউরো টেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, গার্মেন্টস কারখানাটি ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়েছে। গার্মেন্টসটি প্রায় একশ কোটি টাকার প্রকল্প। আগুনে এর বেশির ভাগই পুড়ে গেছে।


ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. জহিরুল আমিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্তসাপেক্ষ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে।