Pages

Showing posts with label DCC. Show all posts
Showing posts with label DCC. Show all posts

Saturday, December 15, 2012

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাস করে বস্তিতে। অন্যান্য দেশের মেগাসিটির বাসিন্দারা নানা নাগরিক সুবিধা পেলেও ঢাকার অধিকাংশ বাসিন্দা রয়েছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার বাইরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চরিত্রের দিক থেকে ঢাকা মেগাসিটি নয়। এখানে শুধু লোকসংখ্যা বাড়ছে। নাগরিক সুবিধাদি বাড়েনি। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা নগরীর বস্তিগুলোতে যে ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে, তাদের অধিকাংশই অশিক্ষিত। বস্তির ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পড়তে এবং লিখতে পারেন। এদের ১৯ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে-ছেন। বস্তির পুরুষদের ৪০ শতাংশ দিনমজুর। ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত আছেন ১৬ শতাংশ, ১১ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক। আর বস্তির নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ ভিক্ষুক, ২৩ শতাংশ গৃহকর্মী, রাস্তাঘাটে দোকান করছেন ৯ শতাংশ। এছাড়া ৮ শতাংশ মহিলা যৌন শ্রমিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর একেএম নুরুন্নবী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো নয় বলেই ঢাকা শহরে দিন দিন বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বস্তিবাসীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের শিক্ষা নেই, কাজ নেই, খাবার নেই। চাষাবাদে টিকে থাকতে না পেরে এরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। ডক্টর নুরুন্নবীর মতে, সাধারণ মানুষের স্থান বদল বেড়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে যে কারণে স্থান বদল বাড়ছে, তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। এদের বেশিরভাগ লোক নিঃস্ব হয়ে গ্রামে কিছু না করতে পেরে শহরে আসছে।

ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর নিঃস্ব ও নিম্নআয়ের লোকজনের মধ্যে ২০ শতাংশই গত ১০ বছর ধরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন। সবচে ভয়াবহ তথ্য হল-নিম্নআয়ের যেসব মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি (নারী ৩০ শতাংশ, পুরুষ ১৮ শতাংশ)। জরিপে

দেখা গেছে, ফুটপাতে নারীর অবস্থান গড়ে ৯ বছর। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এ গড় ছয় বছর। ফুটপাতবাসী ৭১ শতাংশ মহিলা বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তারা ফুটপাতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পরিবারের নানা ঝামেলার কারণে ১২ শতাংশ ফুটপাতে বাস করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকজনের স্থান বদলের সাথে একটি দেশের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের লোকেরা যে স্থান বদল করছে, তাতে উপকার কিছুই হচ্ছে না। ডক্টর নুরুন্নবী এ বিষয়ে বলেন, যারা ঢাকা শহরের দিকে ছুটছেন তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে এখানে আসছেন। আমাদের হাতে বিকল্প শহর নেই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যা আছে। ৭০-এর দশকে অনেকে জেলা শহরে বাস করেছেন। এখন যুগ পাল্টেছে। সবাই রাজধানীমুখী। মানুষ মনে করে, এখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকামুখো জনস্রোত ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তার মত হচ্ছে, এটিও এখন শক্ত কাজ। প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক নতুন করে ঢাকার বাসিন্দাদের সাথে যুুক্ত হচ্ছেন। আবার কৃষি জমি কমছে এক শতাংশ হারে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা শহরের পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যাপক নুরুন্নবীর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার দুটি সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম। এছাড়া শহরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাচ্ছে। ধনী এবং গরীবের বৈষম্য অনেক বাড়ছে।

ঢাকা শহরে শুধু যে বস্তিবাসীই বাড়ছে তা নয়, যেসব শিক্ষিত শ্রেণী চাকরি নিয়ে ঢাকার বাইরে যান, তারাও সেখানে থাকতে চান না। সরকারি চাকরিজীবীরাও ঢাকার বাইরে যেতে চান না বললেই চলে। অনেকে গেলেও আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। এর ফলেও ঢাকাতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমাদের দেশে প্রশাসনের বিকেন্দ ীকরণ করা না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। যারা ঢাকার বাইরে চাকরি করেন, তাদের যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হয় তাহলে সেখানে তারা থাকবেন কেন? উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি নষ্ট হলে তিনি সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সারাতে পারেন না। তাকে কেন্দে র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসব কারণে অনেকে মফস্বলে যেতে চান না। আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অনেকে গ্রামে যেতে চান না।

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরাঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ভাগের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সনদ দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা। এত দিন কেবল কাউন্সিলর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এসব সনদ দেওয়ার এখতিয়ার ছিল। সম্প্রতি এ ক্ষমতা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদেরও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তারা বলছে, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে কোনো সনদ ইস্যুর নজির কোথাও নেই। ডিএসসিসি এই নজির স্থাপন করে নগরবাসীকে অপমান করছে। যাঁরা এসব সনদ দিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন, ভবিষ্যতে তাঁদেরও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডিএসসিসির সচিব মো. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যাঁরা আগে সনদ ইস্যুর দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁরা আর পেরে উঠছিলেন না। সনদ পেতেও অনেক সময় দেরি হচ্ছিল। তখন চিন্তা করা হলো- কিভাবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমিয়ে তাড়াতাড়ি সনদ দেওয়া যায়। তাই এই আদেশ জারি করা হয়েছে।' জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) বিভক্তির আগে কেবল ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ডিসিসির প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারাই এসব সনদে স্বাক্ষর করতেন। বিভক্তির পর মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নগরবাসীকে নানা ধরনের সনদ নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিড়ম্বনা এড়াতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় প্রধান, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের হাতে সনদ দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব মাহবুব হোসেন একটি অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশে দেখা যায়, এসব কর্মকর্তার পাশাপাশি সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদেরও জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব, ওয়ারিশানসহ বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অঞ্চল-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী মো. রোকনুজ্জামানের মূল পদ কেয়ারটেকার। তাঁকেই দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব। তিনি এখন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে অঞ্চল-৫-এর আফজালুল আজম রেজাও কেয়ারটেকার। তিনিও ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে সনদ দিয়ে যাচ্ছেন। অঞ্চল-১-এ দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু নাসের কচি। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ এ দায়িত্ব না দিলেও অঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন বলে সূত্রে জানা যায়। অবশ্য সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি আসার আগে থেকেই কচি সনদ ইস্যু করে যাচ্ছেন। আগের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।'
এ ছাড়া অঞ্চল-৪-এর মেহেদি হাসান ও অঞ্চল-২-এর সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীও কিছুদিন আগে কেয়ারটেকারই ছিলেন। পরে তাঁদের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ দুজন ছাড়া অন্যরা সবাই এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের সনদ ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আইন শাখা বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও কোনো অনুমতি নেয়নি। এতে যেমন আইনের বরখেলাপ হয়েছে, তেমনি তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের দিয়ে সনদ ইস্যু করে নগরবাসীকেও অপমান করা হচ্ছে। আইনগতভাবে এসব সনদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ফলে যারা এসব সনদ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে, ভবিষ্যতেও তারা নানাবিধ সমস্যায় পড়বে।
ডিএসসিসির সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, 'আইন শাখার কোনো মতামত নেওয়া না হলেও মন্ত্রণালয়ের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর এসব কর্মচারীর স্বাক্ষর করা সনদ তো ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কেউ সমস্যায় পড়েছে- এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এর পরও আপনি বিষয়টি আমাদের গোচরে এনেছেন। এখন পর্যালোচনা করে দেখব কী করা যায়।'