মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে
মেগাসিটি ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাস করে বস্তিতে। অন্যান্য দেশের
মেগাসিটির বাসিন্দারা নানা নাগরিক সুবিধা পেলেও ঢাকার অধিকাংশ বাসিন্দা
রয়েছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার বাইরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চরিত্রের দিক থেকে
ঢাকা মেগাসিটি নয়। এখানে শুধু লোকসংখ্যা বাড়ছে। নাগরিক সুবিধাদি বাড়েনি।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা নগরীর
বস্তিগুলোতে যে ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে, তাদের অধিকাংশই অশিক্ষিত। বস্তির
১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পড়তে এবং লিখতে পারেন। এদের ১৯ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণী
পর্যন্ত লেখাপড়া করে-ছেন। বস্তির পুরুষদের ৪০ শতাংশ দিনমজুর। ভিক্ষাবৃত্তির
সাথে জড়িত আছেন ১৬ শতাংশ, ১১ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক। আর বস্তির নারীদের
মধ্যে ৩৬ শতাংশ ভিক্ষুক, ২৩ শতাংশ গৃহকর্মী, রাস্তাঘাটে দোকান করছেন ৯
শতাংশ। এছাড়া ৮ শতাংশ মহিলা যৌন শ্রমিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর একেএম নুরুন্নবী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো নয় বলেই ঢাকা শহরে দিন দিন বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বস্তিবাসীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের শিক্ষা নেই, কাজ নেই, খাবার নেই। চাষাবাদে টিকে থাকতে না পেরে এরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। ডক্টর নুরুন্নবীর মতে, সাধারণ মানুষের স্থান বদল বেড়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে যে কারণে স্থান বদল বাড়ছে, তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। এদের বেশিরভাগ লোক নিঃস্ব হয়ে গ্রামে কিছু না করতে পেরে শহরে আসছে।
ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর নিঃস্ব ও নিম্নআয়ের লোকজনের মধ্যে ২০ শতাংশই গত ১০ বছর ধরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন। সবচে ভয়াবহ তথ্য হল-নিম্নআয়ের যেসব মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি (নারী ৩০ শতাংশ, পুরুষ ১৮ শতাংশ)। জরিপে
দেখা গেছে, ফুটপাতে নারীর অবস্থান গড়ে ৯ বছর। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এ গড় ছয় বছর। ফুটপাতবাসী ৭১ শতাংশ মহিলা বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তারা ফুটপাতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পরিবারের নানা ঝামেলার কারণে ১২ শতাংশ ফুটপাতে বাস করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকজনের স্থান বদলের সাথে একটি দেশের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের লোকেরা যে স্থান বদল করছে, তাতে উপকার কিছুই হচ্ছে না। ডক্টর নুরুন্নবী এ বিষয়ে বলেন, যারা ঢাকা শহরের দিকে ছুটছেন তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে এখানে আসছেন। আমাদের হাতে বিকল্প শহর নেই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যা আছে। ৭০-এর দশকে অনেকে জেলা শহরে বাস করেছেন। এখন যুগ পাল্টেছে। সবাই রাজধানীমুখী। মানুষ মনে করে, এখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকামুখো জনস্রোত ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তার মত হচ্ছে, এটিও এখন শক্ত কাজ। প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক নতুন করে ঢাকার বাসিন্দাদের সাথে যুুক্ত হচ্ছেন। আবার কৃষি জমি কমছে এক শতাংশ হারে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা শহরের পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যাপক নুরুন্নবীর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার দুটি সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম। এছাড়া শহরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাচ্ছে। ধনী এবং গরীবের বৈষম্য অনেক বাড়ছে।
ঢাকা শহরে শুধু যে বস্তিবাসীই বাড়ছে তা নয়, যেসব শিক্ষিত শ্রেণী চাকরি নিয়ে ঢাকার বাইরে যান, তারাও সেখানে থাকতে চান না। সরকারি চাকরিজীবীরাও ঢাকার বাইরে যেতে চান না বললেই চলে। অনেকে গেলেও আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। এর ফলেও ঢাকাতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমাদের দেশে প্রশাসনের বিকেন্দ ীকরণ করা না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। যারা ঢাকার বাইরে চাকরি করেন, তাদের যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হয় তাহলে সেখানে তারা থাকবেন কেন? উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি নষ্ট হলে তিনি সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সারাতে পারেন না। তাকে কেন্দে র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসব কারণে অনেকে মফস্বলে যেতে চান না। আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অনেকে গ্রামে যেতে চান না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর একেএম নুরুন্নবী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো নয় বলেই ঢাকা শহরে দিন দিন বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বস্তিবাসীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের শিক্ষা নেই, কাজ নেই, খাবার নেই। চাষাবাদে টিকে থাকতে না পেরে এরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। ডক্টর নুরুন্নবীর মতে, সাধারণ মানুষের স্থান বদল বেড়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে যে কারণে স্থান বদল বাড়ছে, তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। এদের বেশিরভাগ লোক নিঃস্ব হয়ে গ্রামে কিছু না করতে পেরে শহরে আসছে।
ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর নিঃস্ব ও নিম্নআয়ের লোকজনের মধ্যে ২০ শতাংশই গত ১০ বছর ধরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন। সবচে ভয়াবহ তথ্য হল-নিম্নআয়ের যেসব মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি (নারী ৩০ শতাংশ, পুরুষ ১৮ শতাংশ)। জরিপে
দেখা গেছে, ফুটপাতে নারীর অবস্থান গড়ে ৯ বছর। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এ গড় ছয় বছর। ফুটপাতবাসী ৭১ শতাংশ মহিলা বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তারা ফুটপাতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পরিবারের নানা ঝামেলার কারণে ১২ শতাংশ ফুটপাতে বাস করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকজনের স্থান বদলের সাথে একটি দেশের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের লোকেরা যে স্থান বদল করছে, তাতে উপকার কিছুই হচ্ছে না। ডক্টর নুরুন্নবী এ বিষয়ে বলেন, যারা ঢাকা শহরের দিকে ছুটছেন তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে এখানে আসছেন। আমাদের হাতে বিকল্প শহর নেই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যা আছে। ৭০-এর দশকে অনেকে জেলা শহরে বাস করেছেন। এখন যুগ পাল্টেছে। সবাই রাজধানীমুখী। মানুষ মনে করে, এখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকামুখো জনস্রোত ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তার মত হচ্ছে, এটিও এখন শক্ত কাজ। প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক নতুন করে ঢাকার বাসিন্দাদের সাথে যুুক্ত হচ্ছেন। আবার কৃষি জমি কমছে এক শতাংশ হারে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা শহরের পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যাপক নুরুন্নবীর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার দুটি সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম। এছাড়া শহরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাচ্ছে। ধনী এবং গরীবের বৈষম্য অনেক বাড়ছে।
ঢাকা শহরে শুধু যে বস্তিবাসীই বাড়ছে তা নয়, যেসব শিক্ষিত শ্রেণী চাকরি নিয়ে ঢাকার বাইরে যান, তারাও সেখানে থাকতে চান না। সরকারি চাকরিজীবীরাও ঢাকার বাইরে যেতে চান না বললেই চলে। অনেকে গেলেও আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। এর ফলেও ঢাকাতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমাদের দেশে প্রশাসনের বিকেন্দ ীকরণ করা না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। যারা ঢাকার বাইরে চাকরি করেন, তাদের যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হয় তাহলে সেখানে তারা থাকবেন কেন? উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি নষ্ট হলে তিনি সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সারাতে পারেন না। তাকে কেন্দে র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসব কারণে অনেকে মফস্বলে যেতে চান না। আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অনেকে গ্রামে যেতে চান না।