Pages

Showing posts with label Weather. Show all posts
Showing posts with label Weather. Show all posts

Tuesday, January 15, 2013

মা হতে এসে লাশ হয়ে যায় !

মা হতে এসে লাশ হয়ে যায় !


সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতে আসতে শুরু করেছে বৃহদাকার সামুদ্রিক মা-কাছিম। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের সাগর সৈকতে দু-একটি কাছিম চোখে পড়লেও কক্সবাজার, হিমছড়ি, পেঁচার দ্বীপ, ইনানির সাগর সৈকতে সামুদ্রিক কোনো কাছিম ডিম দিতে আসে না। অপরিকল্পিত আবাসন, সৈকতে আলোর ঝিলিক ও পর্যটকের অনিয়ন্ত্রিত পদচারণায় কাছিমের ডিম দেয়ার পরিবেশ গত পাঁচ বছরে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

কক্সবাজার, সোনাদিয়া, সন্দীপ, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে প্রায় ২০ হাজার ট্রলার মাছ শিকার করছে গভীর সমুদ্রে। জেলেরা ট্রলার থেকে ভাসাজাল, ডুবাজাল, অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রচালিত ট্রলারসহ ৪০-৬০ ফুট লম্বা বিহুন্দি ও লাক্ষ্যা জাল পেতে রাখে সাগরতলে। অপরদিকে হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে সামুদ্রিক কাছিম মা হওয়ার তাড়নায় ছুটে আসে এদেশের সাগর সৈকতে। কাছিমগুলো যখন সৈকতে এসে পৌঁছায়, তখন তারা এক একটি মস্তকবিহীন লাশ। নিথর দেহ নিয়ে ভেসে আসে জোয়ারের পানিতে। শরীরে তাদের আঘাতের দাগ।

বর্তমানে কমপক্ষে ৫০ হাজার বেহুন্দি জাল রয়েছে জেলেদের কাছে। গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে কাছিম আটকা পড়লে, জেলেরা তাদের বৈঠা, বাঁশ, কাঠ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। জাল থেকে ঝামেলা এড়াতে জেলেরা কাছিমগুলো নির্মমভাবে হত্যা করে। সামুদ্রিক কাছিম গবেষক জহিরুল ইসলামের গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিবছর উপকূলবর্তী এলাকায় ৬০০ থেকে ৮০০ মৃত কাছিম সৈকতে ভেসে আসে। আগত পর্যটকরা জানতেও পারে না, কেন তারা মারা পড়ে? অথচ উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন, হোটেল-মোটেলের আলোর ঝলক, প্রবাল ধ্বংস, সৈকত দূষণ কাছিমের বংশবিস্তারে বড় প্রতিবন্ধকতা। সৈকতে আলো জ্বালালে এরা সহজেই বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ডিম না দিয়ে ফিরে যায়। আবার কখনও বালুচরে উঠতে না পেরে পানিতে ডিম দেয়। তবে সে ডিম থেকে কখনও বাচ্চা ফোটে না। মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অপূরণ রেখে ফিরে যেতে হয় অন্য জায়গায়।

প্রাচীনকালে মানুষ যখন থেকে সমুদ্রে যাতায়াত ও তীরে বসবাস শুরু করে, তখন থেকে সামুদ্রিক কাছিমের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরা সরীসৃপ। অতিপ্রাচীন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা ১০-১৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের জীবনচক্র বড় জটিল ও রহস্যপূর্ণ। খাদ্যগ্রহণ এক জায়গায় আবার প্রজনন ক্ষেত্র আরেক জায়গায়। এ দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার হতে পারে। জীবনচক্রে তারা বিভিন্ন সাগর-মহাসাগরে বিচরণ করে, নানাভাবে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করে আসছে।

এখন পর্যন্ত অলিভ রিডলে, সবুজ কাছিম, হকসবিল, লগারহেড, লেদারব্যাক, ফ্লাটব্যাক ও ক্যাম্প রিডলে, এই সাত প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম বিশেজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়ার তথ্য জানায় সামুদ্রিক কাছিম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন লাইফ অ্যালাইন্স’। তবে এ সংখ্যা কমে বর্তমানে শুধু ‘অলিভ রিডলে’ বালুচরে আসছে।

সামুদ্রিক কাছিমের সঙ্গে স্থলভাগের কাছিমের অনেক অমিল রয়েছে। যেমন- এরা মাথা লুকাতে পারে না। এদের পা’গুলো সমুদ্রে চলার জন্য সাঁতার উপযোগী। অনেকটা বৈঠার আকারে। একটি সামুদ্রিক কাছিম প্রাপ্তবয়স্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগে। ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি হয়।

স্ত্রী কাছিম প্রজাতিভেদে বছরে তিন থেকে সাতবার ডিম পাড়ে। শুকনো বালু সরিয়ে ৫০-৬০ বা ১০০-১১০ সেন্টিমিটার গভীর করসি আকারের গর্ত করে ১০০-১৫০টি গোলাকার সাদা ডিম দেয়। সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চা প্রাকৃতিক নিয়মে ডিম ফুটে বের হয়ে সমুদ্রে চলে যায়। জীবন বাঁচাতে সাগরে নেমেই টানা ৪৮ ঘণ্টার মতো সাঁতরে গভীর সাগরে যায়। বাচ্চা কাছিম যে সৈকতে জন্মে ছিল বয়ঃপ্রাপ্তির পর সে বালুচরেই তারা আবার ডিম দিতে আসে। বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে সাগরের কাছিম নির্দিষ্ট সৈকত খুঁজে নিতে পারে। খাদ্য তালিকায় কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, জেলিফিশ, সাগর শসা, চিংড়ি, লবস্টার, শ্যাওলা ও সামুদ্রিক ঘাস খেয়ে থাকে।

সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে হুমকিসমূহ কমানোর চেষ্টা চলছে। পরিযায়ী বলে কাছিম সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। ২০০১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলো সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে IOSEA, যা ‘Marine Turtle Mou’ হিসেবে পরিচিত। মূলত সাগরের কাছিম বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সালে IOSEA সামুদ্রিক কাছিম সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকতে সামুদ্রিক কাছিম রক্ষার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নেই কোনো পর্যবেক্ষণ।

Friday, January 11, 2013

শীতে কাবু দেশ, ১২০ জনের মৃত্যু

শীতে কাবু দেশ, ১২০ জনের মৃত্যু


শীতে কাবু পুরো দেশ। বাড়ছে শীতের মাত্রা। সেসঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এ পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক। তারা হার্ট অ্যাটাক, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত ১০ দিনে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে মৃতের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে মৃতের এ সংখ্যা বলা হয়েছে ৮৫। তবে সরকারি তরফ থেকে এখনও এ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। মৃতদের মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জে ২২ জন, রাজারহাটে ৫, মানিকগঞ্জে ৪, বিশ্বনাথে ৩, বেনাপোলে ৬, মনিরামপুরে ৬, কাজীপুরে ৪, গলাচিপায় ২, ভাণ্ডারিয়ায় ৩, রৌমারীতে ৫, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে ১৪, রংপুরে ৮, বরিশালে ৫ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সাহায্যের পরিমাণ। এখনও সরকারি সাহায্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শীর্তাতরা। এমনকি বেসরকারি পর্যায় থেকেও সাহায্যের পরিমাণ একেবারে কম। এদিকে বুধবারের তুলনায় গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশি শীত পড়েছে। কমে গেছে তাপমাত্রা। আগের দিনের চেয়ে গতকাল তাপমাত্রা আরও নিচে নামে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে একদিনের মাথায়। আগের দিন দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র ছিল বরিশালের খেপুপাড়ায় ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন- রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আজও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শীতে সর্বত্রই মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শীতবস্ত্র বিতরণের হার বাড়েনি। এখনও খুব সামান্য জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য পৌঁছেছে। তবে যেখানে পৌঁছেছে সেখানে সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই কম। অনেক জায়গায় শীতবস্ত্রের অভাবে মানুষ চরম কষ্ট পোহাচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে থাকছে বিস্তারিত-
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হবিগঞ্জের ইতিহাসে এটা সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহে হবিগঞ্জে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। শুধুমাত্র হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পহেলা জানুয়ারি থেকে ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেছে ৫ শিশু। ৫৫ শিশু ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। গত ১০ দিনে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬০ জন। প্রচণ্ড এ শীত থেকে বাঁচতে সাধারণ ও ছিন্নমূল মানুষেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন শহরের শায়েস্তানগর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাঙ্গণে, কোর্ট স্টেশন, পৌর মার্কেটে ও চৌধুরী বাজারের হকার্স মার্কেটগুলোতে।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আয়শা নামের (৬৫) এক বৃদ্ধা আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে মারা গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ টি এম আনোয়ারুল হক প্রামাণিক জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃদ্ধা ও শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। গত ৪ দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা, আলুক্ষেত, বেগুনসহ রবিশস্যের ক্ষেতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাজারগুলো মানুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষজন শীতের গরম কাপড় কিনতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘিওরে গত রাতে এক শিশুসহ দু’জন মারা গেছেন। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেলেন ৪ জন।
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীতে বিশ্বনাথে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ই ডিসেম্বর সংসদ সদস্যের নামে ৩২৭টি কম্বল বরাদ্দ পায় পিআইও অফিস। কিন্তু উপজেলার জনসংখ্যার তুলানায় এ কম্বল খুবই কম। উপজেলা নির্বাহী আফিসার সোনামণি চাকমা বলেন, সংসদ সদস্যের বরাদ্দ ছাড়া উপজেলায় সরকারিভাবে আর কোন বরাদ্দ নেই।
বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলে গত কয়েক দিনে মারা গেছেন ৬ জন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা। কোল্ড ইনজুরিতে সীমান্ত এলাকায় মাঠের পর মাঠ বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে তীব্র শীতে শিশুরা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে।
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কালকিনি পৌর এলাকার পশ্চিম মিনাজদি গ্রামে বুধবার রাতে আবুল কাশেম ঘরামী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, পৌষের কনকনে শীতে আরও ১ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩ দিনে জেলায় শীতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গতকাল ভোরে তীব্র শীতে পাতাজান খাতুন (৭২) নামে আরও একজন বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ২ দিনে তীব্র ও শীতজনিত রোগে দৌলতপুরে ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
কাজীপুর প্রতিনিধি জানান, হাড়কাঁপানো শীত, ঘনকুয়াশা আর স্মরণকালের শৈত্যপ্রবাহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাজীপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে শীতবস্ত্রের যে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম শাফি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৬০০ এবং দ্বিতীয়বার ১০০০ কম্বল এসেছিল।
স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধায় বিগত দিনের চেয়ে আজ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায় গতকালের চেয়ে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা আরও নেমে এসেছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ দিনে ২৬ শিশু ও ৬ বৃদ্ধসহ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় গলাচিপা উপজেলার সর্বত্র ঘনকুয়াশা, কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস ও তীব্র শীতের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে হতদরিদ্র মানুষ। গত ৫ দিনে গলাচিপায় শীতজনিত রোগে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি জানান, গত দু’দিনের তীব্র শীতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় কমপক্ষে ৩ জন মারা গেছেন। শীতের কারণে ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, নিউমনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ। শীতবস্ত্রের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কয়েক শ’ কম্বল বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত তিনদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রৌমারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় করছে শ’ শ’ রোগী। রৌমারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। অপরদিকে বীজতলা ও রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, নিজ গড্ডিমারী গ্রামের রওশন হাবীব (৭৫) নামে একবৃদ্ধ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারওয়ার হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় শীতবস্ত্র বরাদ্দ কম। এরপরেও কয়েক হাজার কম্বল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, গত সাতদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নারীসহ ১৪ জন। সরকারিভাবে দুই উপজেলার লক্ষাধিক হতদরিদ্রের মাঝে এখন পর্যন্ত কম্বল বিতরণ করা হয়েছে ২৬০০টি। বদরগঞ্জ উপজেলার আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক ফরিদুল ইসলাম ওরফে পলাশ বলেন, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, এ পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত হাঁপানি, নিউমোনিয়া, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে শতাধিক লোক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, তাপমাত্রা সর্বনিম্নে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এদিকে ২০ লাখ শীতবস্ত্রের প্রয়োজন হলেও রংপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, সরকারিভাবে ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালে ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। গত ২ দিন ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে বুধবার শীতজনিত রোগে মারা গেছেন ৩ জন। গতকাল মারা গেছেন আরও ২ জন।