Pages

Showing posts with label freedom fighter. Show all posts
Showing posts with label freedom fighter. Show all posts

Sunday, November 4, 2012

জেল হত্যার পুনর্বিচার দাবি আওয়ামী লীগের

জেল হত্যার পুনর্বিচার দাবি আওয়ামী লীগের

 দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেল হত্যার পুনর্বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করতে আদালতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

তারা বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বিচার শেষ করে আইনের মাধ্যমে চূড়ান্ত দণ্ড ঘোষণা করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।

শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘জাতির কলঙ্কমোচন ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে জেল হত্যার পুনর্বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শহীদ এম মুনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতিশ চন্দ্র রায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘জাতির জনককে হত্যার পর বার বার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আঘাত হানা হয়েছে। পরাজিত শক্তি দেশের স্বার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে।’’ জেল হত্যাও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সমালোচনা করে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘আজকে তারা (বিরোধী দল) মুখে যাই বলুক, অন্তরে বিশ্বাস করেন অন্য। তারা কোনোদিনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছাড়তে পারবেন না।’’

বিরোধী দলের নেত্রীকে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বলেন, ‘‘আপনারা বিদেশের প্রভূর কাছে ক্ষমা না চেয়ে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান। দেশের জনগণের কাছে স্বীকার করুন আপনি এতদিন ভুল রাজনীতি করেছেন।’’

তিনি বলেন, বিদেশী প্রভুর কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ হবে না। কারণ ক্ষমতায় বসানোর মালিক দেশের জনগণ। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কোনো দিন আপনার সাথে যাবে না।’’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেল খানায় জাতীয় চারনেতা হত্যার দায় কোনোভাবেই জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া এড়াতে পারেন না।’’

তিনি বলেন, ‘‘জিয়া ও খালেদা জিয়া যে জড়িত তার উদাহরণ ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল।’’

দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিচার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেল হত্যার পুনর্বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে।  বিরোধী দলীয় নেত্রী বিদেশ সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বিদেশে ঘোরার সময় পান, রামুতে যাওয়ার সময় পান না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ নজরুল ইসলামের ছেরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। আমাদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের সুসর্ম্পক আছে।

ভারতীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে আওয়ামী লীগের ভালো সর্ম্পক রয়েছে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রতিটি গণমনা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সর্ম্পক ভালো।’’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক রয়েছে বলেই আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।’’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়েই বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক ছিল। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম  শুধু মাত্র নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার জন্য নয়। দেশের জনগণের কল্যাণের জনই আওয়ামী লীগের জন্ম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে আওয়ামী লীগের সুসর্ম্পক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে একটি নির্দেশনা তুলে ধরা হবে।

ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কিছু কিছু লোক রয়েছে যারা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ৭১ সালে। আর ঐক্য নষ্ট হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে।

তিনি বলেন, আমরাও ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমরা ভিন্ন মতের রাজনীতি করতে পারি। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে কোনো বিভেদ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখন যদি রমনি প্রেসিডেন্ট হয়, তাহলে বারাক স্বাগত জানাবে। জাতীয় ঐক্যর ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিভেদ নেই।

বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আশরাফ বলেন, যদি জাতীয় ঐক্য চান তাহলে ১৫ আগস্টের দিন জন্মদিন পালন বিরত থেকে অন্যদিন পালন করুন। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ বা অন্যদিন পালন করে প্রমাণ করুন আপনি জাতীয় ঐক্য চান।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য শোকের দিন। আর একটি গোষ্ঠী এইদিনটিতে উল্লাস করে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার কলঙ্কমোচন হয়েছে। আজ জেল হত্যার কলঙ্কমোচন করা হোক, জাতি এটাই চায়। সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের বলবো ন্যায় বিচার করুন।

জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বার বার ক্ষমতায় থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পুনর্বাসন করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বাবা হারানো শোকে কষ্ট পাই। কিন্তু গর্ববোধ করি আমরা শহীদ পরিবারের সন্তান। কোনো বেঈমানের সন্তান না। মির্জাফরের সন্তানের কোনো গর্ব নেই। শহীদের সন্তানের গর্ব করার আছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘জেল হত্যা ষড়যন্ত্রের কোনো ক্ষুদ্র অংশ ছিল না। এটা ছিল ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতারই অংশ। পুথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে আর বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই।’’ বর্তমান সরকারের মেয়াদেই জেল হত্যার বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।

জেল হত্যার দিন জাতীয় চারনেতার সঙ্গে জেলখানায় বন্দী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘‘এখনো ৩ নভেম্বর এরে আমার কাছে মনে হয় কোয়ামতের রাত। জীবন্ত অবস্থায় সেদিন কেয়ামত দেখেছি।’’

শহীদ তাজউদ্দিনের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি তার বাবার স্মৃতিচারণ করেন। এসময় হলরুমে সুনশান নীরবতা নেমে আসে।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নুহে আলম লেলিন ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

Monday, October 29, 2012

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মদিন

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মদিন
সোমবার ২৯ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মদিন। ১৯৪১ সালের এই দিনে তিনি পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈতৃক বাড়ি ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন। মা সৈয়দা মোবারুকুন্নেসা৷ বাবা মৌলবি আব্দুস সামাদ৷ তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকা কালেক্টর অফিসের সুপার৷

নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে ছিল তাদের পৈতৃক নিবাস৷ নয় ভাই দুই বোনের পরিবারে জন্ম নেয়া মতিউর ছিলেন অষ্টম৷ ছেলেবেলা থেকেই তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, দুরন্ত, ডানপিটে৷ ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে তার শিক্ষাজীবন শুরু ৷ ১৯৬০ সালে মতিউর কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করলেন ডিস্টিংশনসহ৷ এরপর ১৯৬১ সালের আগস্টের ১৫ তারিখে তিনি রিসালপুরে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর একাডেমিতে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন জিডি পাইলট কোর্সে৷

মতিউর ছিলেন একজন চৌকস ক্যাডেট৷ তার একাগ্রতা, ইচ্ছা আর মেধা দিয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন ৷ ১৯৬৭ সালে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি হয় মতিউর রহমানের৷ ১৯৬৮ সালের ১৯ এপ্রিল বিয়ে করেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে মিলি খানকে৷ বিয়ের কয়েকদিন পরেই মতিউর চলে যান পাকিস্তানের চাকলালা বিমানঘাঁটিতে৷ ১৯৬৯ সালের ২৩ এপ্রিল জন্ম হয় এ দম্পতির প্রথম কন্যা মাহিনের৷ শহীদ হওয়ার পর বিজয় দিবসের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর,১৯৭১ জন্ম হয় মতিউরের দ্বিতীয় সস্তান তুহিনের৷

১৯৭১ সালের শুরুতে সারা দেশ যখন উত্তাল, তখন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর সপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে আসেন ঢাকা৷ ২৫ মার্চের কালরাতে মতিউর ছিলেন রায়পুরের রামনগর গ্রামে৷ তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না৷ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হয়েও অসীম ঝুঁকি ও সাহসিকতার সাথে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুললেন৷ যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকলেন৷ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন একটি প্রতিরোধ বাহিনী৷ পরে মতিউর ১৯৭১ সালের ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান৷


এদিকে দুই মাসের ছুটিতে এসে চার মাস পেরিয়ে গেছে ততদিনে৷ করাচি পৌঁছে মতিউর লক্ষ করলেন বাঙালি অফিসারদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে৷ তাকেও তার নিজের দায়িত্ব না দিয়ে দেয়া হলো ফ্লাইট সেফটি অফিসারের দায়িত্ব৷ মতিউরের চিন্তা তখন কেবল একটি বিমানের৷ তিনি পরিকল্পনা শুরু করেন৷ সহকর্মীদের সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করছেন আর খুঁজছেন সুযোগ৷ পিআইএর একটি বিমান হাইজ্যাকের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বাঙালি অফিসারদের ওপর কড়া নজর রাখা শুরু হয়৷ বাঙালি পাইলটদের আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি বাতিল করা হয়৷

মতিউর তখন করাচির মশরুর বিমানঘাঁটির বেস ফ্লাইট সেফটি অফিসার৷ এর আগে মতিউর ছিলেন ফ্লাইট ইন্সট্রাকটর৷ ছাত্রদের বিমান চালনার প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি৷ তার অনেক পাকিস্তানি ছাত্রের একজন রশিদ মিনহাজ৷ সে পুরাতন ছাত্র৷ মতিউর জানতেন, সে একা আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি পাবে৷ তাই তিনি তাকে টার্গেট করেন৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট শুক্রবার৷ ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মিনহাজের উড্ডয়ন আজ৷ মতিউর পূর্ব পরিকল্পনামতো অফিসে এসে শিডিউল টাইমে গাড়ি নিয়ে চলে যান রানওয়ের পূর্ব পাশে৷ সামনে পিছনে দুই সিটের প্রশিক্ষণ বিমান টি-৩৩, রশিদ মিনহাজ বিমানের সামনের সিটে বসে স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসছে৷ এবার মতিউরের পালা৷ মতিউর হাত তুলে বিমান থামালেন৷ হাতের ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করলেন, বিমানের পাখায় সমস্যা৷

রশিদ মিনহাজ বিমানের 'ক্যানোপি' খুলতেই মতিউর তাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে বিমানের পেছনের সিটে লাফিয়ে উঠে বসলেন৷ কিন্তু জ্ঞান হারাবার আগে মিনহাজ বলে ফেললেন, 'আই হ্যাভ বিন হাইজ্যাক্ড৷' ছোট পাহাড়ের আড়ালে থাকায় কেউ দেখতে না পেলেও কনট্রোল টাওয়ার শুনতে পেল তা৷ বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতিউর বিমান নিয়ে ছুটে চললেন৷ রাডারকে ফাঁকি দেবার জন্য নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে অনেক নিচ দিয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন তিনি৷ যদিও ততক্ষণে এফ ৮৬ ও একটি হেলিকপ্টার তাকে ধাওয়া করা শুরু করে কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশে৷

বিমানটি যখন ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাচ্ছে তখন মিনহাজের জ্ঞান ফিরে আসে এবং সে বাধা দিতে চেষ্টা করে ৷ সীমান্ত থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরত্বে সিন্ধু প্রদেশের জিন্দা গ্রামে বালির ঢিবির উপর আছড়ে পড়ে ব্লুবার্ড-১৬৬ ৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট দেশের জন্য শহীদ হন আমাদের এই বীর সন্তান মতিউর৷ মতিউরের বিমান হাইজ্যাকের স্বপ্ন সফল হলো না৷

এরপর মতিউর ও মিনহাজের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং কোনো প্রকার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া মসরুর বিমানঘাঁটিতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে মতিউরের লাশ দাফন করা হয়৷ তাঁর কবরে লেখা হয় 'গাদ্দার' বা বিশ্বাসঘাতক৷ দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৫ জুন তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে আনা হয়৷ ২৬ জুন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়৷ দীর্ঘ ৩৫ বছর অবহেলায় থাকলেও মতিউর ফিরে আসেন তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশে৷ ঠাঁই পান এ দেশের মাটিতে৷