Pages

Thursday, October 11, 2012

মওদুদের মামলা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

মওদুদের মামলা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দুদকের করা একটি মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত  বাড়িয়েছে আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেন।

আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে আহসানুল করিম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে  খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।

মওদুদ আহমদের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, “হাই কোটের্র রায়ের কার্যকারিতা চেম্বার বিচারপতি স্থগিত করেছিলেন। ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে ওই সময় পর্যন্ত মওদুদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।”

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের ওই মামলা বাতিল চেয়ে মওদুদের করা আবেদন গত রোববার খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। পরে মঙ্গলবার হাইকোটের্র রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মওদুদ চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন।

পরে শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাই কোটের্র দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দুদক মওদুদের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন।

ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির আত্মসমর্পণ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির আত্মসমর্পণ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ হস্তান্তরের অভিযোগে করা দুদকের মামলায় তারা এ আবেদন করেন। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হকের আদালতে তারা হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এ আবেদন করেন। গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় হারুন-অর-রশিদ, রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় ২২ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুটি মামলা করে দুদক। মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মোট তিন হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অন্যত্র স্থানান্তরের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। মামলা করার এক সপ্তাহের মাথায় গত ৬ আগস্ট রফিকুল আমীনসহ পাঁচ পরিচালককে জামিন দেন সিএমএম আদালত। পরে বাকি ১৭ জনেরও জামিন হয়। কিন্তু সরকারপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করলে ২২ আগস্ট জামিন আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত শুনানি শেষে জামিন বাতিল হয়ে যায়।

ডান হাতে অস্ত্র, বাম হাতে লাঠি, পেছনে পুলিশ

ডান হাতে অস্ত্র, বাম হাতে লাঠি, পেছনে পুলিশ
 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীদের মধ্যে ‘সংঘর্ষের’ খবরটি ছিল ০৩ অক্টোবর অধিকাংশ পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ। সংঘর্ষের কারণ হিসেবে বেশিরভাগ পত্রিকা লিখেছে, ‘আধিপত্য বিস্তার’, তবে বিষয়টি কী তার কোনো ব্যাখ্যা ছিল না। আর সংঘর্ষ শুরুর কারণ হিসাবে একেক পত্রিকা একে রকম বর্ণনা দিয়েছে। ইত্তেফাক লিখেছে, ‘এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।’ কালের কণ্ঠ বলেছে, ‘... দুই পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে টুকিটাকি চত্বরে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।’ প্রথম আলো’র বর্ণনা: ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগৈর কর্মীরা ভাগ হয়ে গ্রন্থাগারের দিকে আসতে থাকলে শিবিরের কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘটনা প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের সংবাদমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা কিছুটা হলেও যে ‘আহত’ হয়েছে, তা উপরের তিনটি উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায়। বিশেষ কোনো পক্ষকে ‘বাঁচানোর’র চেষ্টার নাম আর যা-ই হোক, বস্তুনিষ্ঠতা হতে পারে না। শিরোনামের ক্ষেত্রেও পত্রিকাগুলোর গা বাঁচানো মনোভাব লক্ষ্যণীয়। তবে ব্যতিক্রম ছিল আমার দেশ ও কালের কণ্ঠ। তারা ব্যবহৃত ছবির সাথে মানানসই শিরোনাম দিয়ে দায়ী পক্ষটির দিকে সরাসরি আঙ্গুল তোলার বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করেছে।

এদিন অস্ত্রহাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘বীরত্বের’ ছবি সব পত্রিকা ছাপালেও সবচাইতে ব্যতিক্রমী ছবিটি ছাপার কৃতিত্ব দেখিয়েছে নিউ এজ। এতে দেখা যায়, এক ছাত্রলীগ কর্মী শিবিরকর্মীদের ওপর হামলা করছে। তার ডান হাতে অস্ত্র, বাম হাতে লাঠি আর পেছনে পুলিশ। পুলিশ প্রহরায় প্রতিপক্ষের ওপর অস্ত্রবাজির ছবিটি ছাপিয়ে প্রশংসার দাবিদার হয়েছে নিউ এজ।

একই ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষুব্ধ মন্তব্য ছাপিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে ইত্তেফাকও। সিঙ্গল কলামে ছাপা সংবাদটির শিরোনাম ‘রাবির ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী: গরীব মানুষের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চালাই কী বদমাশ তৈরির জন্য’। অন্যান্য পত্রিকা এই নজিরবিহীন মন্তব্যটি ছাপাতে ব্যর্থ হয়েছে। আর শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন তার কথিত ‘বদমাশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

পুলিশ প্রহরায় অস্ত্রবাজির ছবি প্রথম দিন ছাপতে না পারলেও পরদিন ০৪ অক্টোবর ‘ক্ষতিপূরণ’ করার চেষ্টা করে প্রথম আলো। এদিন তারা ছোট আকৃতির (তিন কলামে তিনটি) তিনটি ছবি ছাপায়, যাতে দেখা যায়, পুলিশের সামনে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুঁড়ছে ছাত্রলীগকর্মীরা। সঙ্গে ছিল রাজশাহী থেকে পাঠানো আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদের রিপোর্ট: ‘পুলিশের সামনেই অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি, তবু গ্রেফতার নেই’।

এছাড়া এই ইস্যুতে ০৪ অক্টোবর আমাদের সময়-এর শীর্ষ সংবাদটি ছিল দর্শণীয়। তারা শিরোনাম দিয়েছে ‘যিনি গুলি ছুঁড়ছেন, তিনিই মামলার বাদি!’ অন্য পত্রিকাগুলো ঘৃণ্য দলবাজির ন্যক্কারজনক এই দিকটি ঠিকমতো ধরতে পারেনি অথবা পাঠককে জানাতে চায়নি।

পরদিন ০৫ অক্টোবর উল্লম্ফনের একটি বিরাট সুযোগ তৈরি করেও নিজে থেকে হোঁচট খায় আমাদের সময়। এদিন সব পত্রিকায় শিক্ষকদের পিটুনির খবর ছাপা হলেও ব্যতিক্রমী দিকটি ধরতে পেরেছিল আমাদের সময়। তারা শিরোনাম দেয় ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের পূর্বদিনে ঢাকায় পুলিশী আচরণ’। শিক্ষকদেরকে বেধড়ক লাঠিপেটা ও তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের বর্বরোচিত ঘটনাটি বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ঠিক আগের দিনই ঘটালো পুলিশ, এই ব্যতিক্রমী দিকটিতে আলোকপাত করতে পেরেছে কেবল আমাদের সময়। কিন্তু এরপরই হোঁচট খেল শিরোনামটি। বলা হলো, ‘পুলিশী আচরণ’। সব পত্রিকা যেখানে লাঠিপেটা, টিয়ারসেল নিক্ষেপ লিখলো, সেখানে এসত্যটি উচ্চারণে দ্বিধান্বিত কেন আমাদের সময়? আর ‘আচরণ’ শব্দের অর্থই বা কী? এটা কি লাঠিপেটার প্রতিশব্দ হতে পারে?

ইত্তেফাক ০৩ অক্টোবর দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ করে ‘প্রতারণার দায়ে সৌদিতে এরশাদের জেল’। উপশিরোনাম ছিল ‘তিল লাখ রিয়েল জারিমানা দিয়ে মাফ’। প্রথম দর্শনে মনে হবে এটি বুঝি নতুন ঘটনা এবং ইত্তেফাক নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে জেল-জরিমানার কথিত ঘটনাটি ২০০৬ সালের এবং খবরটি ইত্তেফাকের নিজস্ব অনুসন্ধান নয়। দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বিরাগভাজন হয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদের হুইপ পদ হারানোর পর অভিযোগটি করেছেন এইচএম গোলাম রেজা এমপি। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরেক ব্যক্তির অভিযোগকে দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির (এরশাদ) বক্তব্য ছিল না রিপোর্টটিতে, যা থাকাটা ছিল খবরের বস্তুনিষ্ঠতার দাবি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা যদি ‘আহত’ হয়ে থাকে, তবে এক্ষেত্রে তা একেবারে উধাও হয়ে গেছে বলা যেতে পারে।

পর দিন অবশ্য বস্তুনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায় পত্রিকাগুলোতে। গণতন্ত্রকে ‘আহত’ করে পুলিশ যে ৭২ ঘণ্টা ধরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে সে খবরকে ০৪ অক্টোবর শীর্ষ সংবাদ করে আমার দেশ, ইত্তেফাক, সকালের খবর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে রাখে প্রথম আলো।

০৩ অক্টোবর কালের কণ্ঠের ১৯ পৃষ্ঠায় ডাবল কলামে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম: ‘রাত দেড়টায় মোবাইল ফোনে জানানো হয়, দরজায় বোমা!’ শেরপুর শহরের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গৃহকর্তা পুলিশকে খবর দিলে শুরু হয় তোলপাড়। আসে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর বোমাবিশেষজ্ঞরা। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান ‘জানান’ (নাকি, বলেন?), ‘আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই এমন কাজ করা হয়েছে।’ প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য কুকাজটি করেছে, কিন্তু কালের কণ্ঠ কিজন্য খবরটি ছাপালো, আতঙ্ক ছড়ানোর একটা উপায় জানিয়ে দিতে? সব ঘটনাই ‘খবর’ হতে পারে না- একথা কেন ভুলে যাবে একটি দায়িত্বশীল পত্রিকা? কালের কণ্ঠ ও অন্যান্য পত্রিকার কাছে এ ব্যাপারে আরো সতর্কতাই কাম্য থাকবে পাঠকের।

ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় পাম নিয়ে বেশ হামহুম শুরু হয়েছিল। ভাবখানা, পা গাছ লাগালেই দেশের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাদের অব্যাহত প্রপাগাণ্ডার ফলে দেশে পাম চাষে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। সেই উৎসাহের গাছে ফল ধরেছে। ০৪ অক্টোবর সেরকম একটি নিউজস্টোরি ছাপায় ইত্তেফাক। ভেতরের পৃষ্ঠায় তিন কলাম রঙিন বক্স করে ছাপানো সচিত্র খবরটির শিরোনাম ‘সাতকানিয়ায় পাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে’। কেন বাড়ছে- জানাতে গিয়ে সংবাদদাতা উদ্ধৃতি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজনের। তারা বলেন, ‘এখন জেনেছি এর লাভের দিক অনেক।’ সেই ‘লাভের দিক’টির ব্যাখ্যা দিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রতি পরিবার অন্তত একটি পা গাছ লাগালে তাদের ভোজ্য তেলের চাহিদা অনেকটাই মিটবে।’ এবার দেখা যাক একই দিন একই বিষয়ে কী রিপোর্ট করেছে কালের কণ্ঠ। পত্রিকাটির ‘শিল্প-বাণিজ্য’ পাতায় যশোর থেকে পাঠানো ফখরে আলমের রিপোর্টের শিরোনাম ‘পাম চাষ করে বিপাকে কৃষক’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “রঘুনাথপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম দুই বছর আগে এক বিঘা জমিতে পাম চাষ করেন। তিনি জানান, ‘গ্রিন বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি এনজিওর পরামর্শে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০০টি পাম গাছ লাগান। সে সময় এনজিওর কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ফল এলে তারা নায্য মূল্যে তা কিনে নেবেন। প্রয়োজনে প্রসেসিং মেশিন দেওয়া হবে। এ কথা শুনে তিনি পা চাষে খরচ করেন দুই লাখ টাকা। এখন রবিউলের সব পাম গাছে ফল ধরেছে; কিন্তু ওই এনজিওর আর খবর নেই।”

“এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেন, ‘আমি এলাকার সব পাম ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। বেশির ভাগ পাম গাছেই ফল ধরেছে। কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে কৃষকদের কোনো পরামর্শ দিতে পারছি না! এই ফল কে কিনবে? কোথায় প্রসেসিং হবে? কোন মেশিনে ভাঙলে তেল পাওয়া যাবে? তা আমাদের জানা নেই।”

“কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ যশোরের উপপরিচালক শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘ঝিকরগাছা উপজেলাসহ যশোরের আরো কিছু এলাকায় পাম গাছ রয়েছে। পাম গাছে ফল এসেছে। ফল গাছেই নষ্ট হচ্ছে। আমি নিজে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ফল থেকে তেল তৈরির ব্যাপারে কথা বলেছি। সেখানে ৩০টি ধাপে শোধনের পর কারখানা থেকে খাওয়ার উপযোগী তেল তৈরি হয়। ওই কারখানা খুবই ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে এ ধরনের কারখানা স্থাপন সম্ভব নয়। কাজেই আমরা পাম চাষে আপাতত কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছি।”

০৫ অক্টোবর হুমায়ূন আহমেদের অপ্রকাশিত লেখা ‘লীলাবতীর মৃত্যু’ প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপায় কালের কণ্ঠ। লেখাটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও সৌভাগ্যক্রমে তা হয়নি। একই দিন কালের কণ্ঠের দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রলীগের ভয়ংকর নেতারা’ ছিল উল্লেখযোগ্য। পাঠক টিভি বিজ্ঞাপনের ভাষায় বলতে পারেন, ‘ভাবতে ভালোই লাগে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে’।

০৬ অক্টোবর সব পত্রিকা একযোগে একটি তথ্যবোমা ফাটায়, রেলের অর্থকেলেঙ্কারি ধরিয়ে দেয়ার নায়ক আলী আজমে সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল আরটিভি’র রিপোর্টার বায়েজিদ আহমদ। সেটি ওই চ্যানেলে প্রচারিত হলে সব পত্রিকা পরদিন সেটিকে শীর্ষ সংবাদ করে। এটা করা হয় দু’ট কারণে। প্রথমত দীর্ঘ দিন আলী আজমের কোনো খোঁজ ছিল না। এর মাধ্যমে জানা গেল তিনি নিখোঁজ থাকলেও নিহত হননি। দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারে আলী আজম অনেক চাঞ্চল্যকর কথা বলেছেন। যেমন, ৭৪ লাখ টাকার বস্তাটি মন্ত্রীর (সুরঞ্জিত) বাসাতেই যাচ্ছিল, আগেও কয়েক বার গেছে। মন্ত্রীপুরের টেলিকম ব্যবসার পুঁজি এই ঘুষের টাকা থেকেই দেয়া হয়েছে ইত্যাদি। বেশিরভাগ পত্রিকা খবরটিকে ফলাও করে প্রকাশ করলেও দুই কলামে ছেপেছে প্রথম আলো, নিউজ এজ, সকালের খবর প্রভৃতি। সবচাইতে ভালো ট্রিটমেন্টটি ছিল কালের কণ্ঠের। তারা মূল খবরের পাশাপাশি দু’টি আকর্ষণীয় পার্শ্বসংবাদ ছেপেছে। এবিষয়ে সমকাল-এ খলিলের কার্টুনটিও ছিল মজাদার।

একই দিন প্রথম আলো সম্পাদকীয় পাতায় ছেপেছে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিবন্ধ ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’। এটি প্রথম ছাপা হয় লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্বিমাসিক জার্নাল ‘স্ট্যাটেজিক অ্যানালাইসিস’-এর সেপ্টেম্বর পাতায়। প্রথম আলো তার বাংলা অনুবাদ ছাপে। অনুবাদটি কার তা জানায়নি প্রথম আলো, তবে অনুবাদটি ছাপিয়ে তারা পাঠককে জানিয়ে দিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন অনেক বই লিখেছেন, তেমনি তার প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়াও লেখালেখিতে আছেন, সংখ্যায় কম হলোও।

পরদিন ০৭ সেপ্টেম্বর একটি উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎকার ছেপেছে কালের কণ্ঠ। আরিফুজ্জামান তুহিনকে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন পটুয়াখালীর আওয়ামী লীগ এমপি গোলাম মওলা রনি। সরকারি দলের এমপি হয়েও সরকারের সমালোচনা করতে পিছপা হন না তিনি। ফলে দেশব্যাপী তার একটা পরিচিতি আছে। তবে কোনো পত্রিকায় তার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার সম্ভবত এটিই প্রথম। এতেও নিজ অবস্থানে অটল থেকে নানা কথা বলেছেন, যা সরকার ও তার সমর্থকদের কাছে বিস্বাদ ঠেকতে পারে। যেমন, ‘এই সরকার পদ্মা সেতুর একটি খুঁটিও গাড়তে পারবে না’। ‘সরকার চায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আর তার আশপাশের মানুষ হলো এনালগ’, ‘বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা নিয়ে সরকার ভয়াবহ বিব্রত হবে’, ‘চুয়াত্তরে... দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বাংলাদেশে, আমরা আবার সেদিকে যাচ্ছি’ ইত্যাদি। সাক্ষাৎকারটির জন্য পাঠকের ধন্যবাদ অবশ্যই পেতে পারে কালের কণ্ঠ। তবে সাক্ষাৎকারদাতা এমপি’র সম্বন্ধেও নানা অভিযোগ পত্রিকায় বিভিন্ন সময় এসেছে। সে-বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করা হলো না কেন, এটাও পাঠকের একটা প্রশ্ন হতে পারে।

০৮ অক্টোবর একটি বড়- খবর ছিল বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদের গ্রেফতার হওয়া। সব পত্রিকা খবরটিকে ফলাও করে ছাপে। পাশাপাশি প্রথম আলো ছাপে আরেক বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার খবর। তানভীর-তুষার গ্রেফতার হলেন হারুন-রফিকুল কোথায়, এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই পাঠকের মনে জাগতো। প্রথম আলো রিপোর্টটি করে পাঠকের না-চাওয়া দাবিটি মিটিয়েছে।

একই দিন কালের কণ্ঠের শীর্ষ সংবাদ ছিল ‘রূপালী ব্যাংকেও বড় কেলেঙ্কারি’। আবুল কাশেমের রিপোর্টটি থেকে জানা যায়, এই ব্যাংকটিও এক হাজার কোটিরও বেশি টাকা ঋণ অবৈধভাবে বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ৮০১ কোটি টাকা আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীর্ণ। সরকারি ব্যাংকগুলোতে জনগণের টাকা নিয়ে কী চলছে, তা জেনে পাঠক ‘খুশি’ হতে পারেন। নতুন ঋণকেলেঙ্কারি খবর প্রকাশ করায় ধন্যবাদ পেতে পারে কালের কণ্ঠ।

একই দিন আমার দেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের একটি ‘মূল্যবান’ বক্তব্য ছেপেছে আমার দেশ। প্রথম পৃষ্ঠায় দুদক চেয়ারম্যানের ছবিসহ সিঙ্গল কলামে ছাপা রিপোর্টে উদ্ধৃত বক্তব্যটি এরকম: ‘রেডিও-টেলিভিশনে প্রকাশিত সংবাদ সত্য হলে কোনো তদন্ত সংস্থার প্রয়োজন হতো না। পিয়ন, চাপরাশি ও ড্রাইভারদের কথায় সব বিচার হতো। এটা হয় না।’ প্রশ্ন হলো, পিয়ন, চাপরাশি ও ড্রাইভারদের সাক্ষ্য এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর- সবকিছুই কি মূল্যহীন? মিডিয়াগুণীরা এ বিষয়ে কিছু বলবেন কি?

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে। এবছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয় করলেন আমেরিকা ও জাপানের দুই গবেষক। খবরটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আজ মঙ্গলবার কয়েকটি পত্রিকা খবরটিকে প্রথম পৃষ্ঠায় স্থান দিলেও শীর্ষস্থানীয় দুয়েকটি পত্রিকা ছাপিয়েছে শেষ পৃষ্ঠায়। এ ট্রিটমেন্ট পাঠককে বিস্মিত করবে বৈকি।

আজকের বেশিরভাগ পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ ছিল হলমার্ক গ্রুপের এমডি ও জিএমের রিমান্ড। তবে ব্যতিক্রম ছিল কালের কণ্ঠ। তারা বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টকে শীর্ষ সংবাদ করে সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছে। আপেল মাহমুদ ও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের করা রিপোর্টটির শিরোনাম ‘বিজি প্রেসে মুখস্থ হয়ে প্রশ্ন ফাঁস, ছাত্রলীগের বাণিজ্য’। এদিন কালের কণ্ঠের আরেকটি রিপোর্টও ছিল মর্মস্পর্শী। ‘ফাঁস করে ফেঁসে গেলেন সিরাজী’ শিরোনামের রিপোর্টটি করেছেন শেখ শাফায়াত হোসেন। হলমার্ক-সোনালী ব্যাংক ঋণকেলেংকারী ফাঁস করে দেয়ার ‘অপরাধে’ সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক আ. ন. ম. মাসরুরুল হুদা সিরাজীকে কেমন হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে, তারই বর্ণনা দেয়া হয়েছে রিপোর্টে। পাঠকের অবগতির জন্য এর দুয়েকটি লাইন: গত নয় মাসে তাকে চার বার বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর প্রায় সব-ক’টিতেই তাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ সোনালী ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার নামগন্ধও ছিল না।

সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মানুষটির এহেন দুর্ভোগের খবর ছাপিয়ে কালের কণ্ঠ সবার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছে।

কক্সবাজারের দৈনিক বাঁকখালীর বার্তা সম্পাদক আটক :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

কক্সবাজারের দৈনিক বাঁকখালীর বার্তা সম্পাদক আটক :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট
 কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাঁকখালী পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মোস্তফা সরওয়ারকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ শহরের ঝাউতলাস্থ পত্রিকাটির কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর ওই পত্রিকায় ‘মিয়ানমারের আকিয়াবে বড় মসজিদে আগুন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এটিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হানি করার উদ্দেশে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

এই অভিযোগে পুলিশ পত্রিকাটির সম্পাদক, প্রকাশক, বার্তা সম্পাদক ও প্রতিবেদকসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

ইতিপূর্বে একই অভিযোগে ‘পত্রিকাটির প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না’ মর্মে তিন দিনের মধ্যে জবাব চেয়েও একটি নোটিশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

ঢাবি’র মৈত্রী হলে ছাত্রীকে ‘গালিগালাজ’ শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাবি’র মৈত্রী হলে ছাত্রীকে ‘গালিগালাজ’ শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর হল সিট বরাদ্দ বাতিল করায় ‘অভিযুক্ত’ আবাসিক শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা।

জানা গেছে, বুধবার  রাত ৯টার দিকে হলের বাইরে এসে রাস্তায় এসে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই হলের ছাত্রীরা।

হলের কয়েকজন ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘সন্ধ্যায় আবাসিক শিক্ষক লোপা আহমেদ একটি কক্ষের দু’জন শিক্ষার্থীকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তবে তারা যেতে দেরি করায় লোপা আহমেদ নিজেই ওই কক্ষে এসে ওই ছাত্রীদের রুমে দেখে খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন। সেখান থেকে নিজের (লোপা) অফিস রুমে ফিরে গিয়েই তাদের হলের সিট বরাদ্দ বাতিল করেন এবং ছাত্রীদের বাসায় ফোনে যোগাযোগ করে ছাত্রীদের নামে বাজেভাবে কথা বলেছেন বলেও জানান তারা।

তারা আরো জানান, “এ নিয়ে ছাত্রীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ম্যাডামের পদত্যাগের দাবি এবং তার আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে রাত পোনে ১০টার দিকে আবাশিক শিক্ষক লোপা আহমেদ পদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়েছেন।’’

এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফরিদা বেগম এবং অভিযুক্ত আবাসিক শিক্ষক লোপা আহমেদের সঙ্গে ফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যানি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কেটে দেন এবং পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।

বিশ্বে এখনো প্রতি ৮ জনে একজন ক্ষুধার্ত: জাতিসংঘ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিশ্বে এখনো প্রতি ৮ জনে একজন ক্ষুধার্ত: জাতিসংঘ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, বিশ্বে এখনো প্রতি আট জনে একজন মানুষ ক্ষুধার্ত। এই পরিস্থিতি ‘গ্রহণযোগ্য’ নয় উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, বিশ্বে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গতি ধীরে ধীরে কমছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্য সংকট সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০-১২ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৮৭ কোটি অপুষ্টির শিকার এবং ক্ষুধার্ত লোকের সংখ্যা এখনো অপ্রত্যাশিতভাবেই বেশি। এফএও’র এই হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে এখনো প্রতি আট জনে একজন মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এফএও প্রধান জোসি গ্রাজিয়ানো দ্যা সিলভা বলেন, “আমরা এমন এক পৃথিবী চাই যেখানে সবার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য থাকবে এবং সেখানে কেউ অভুক্ত থাকবে না।” সূত্র: এএফপি

তালেবানের গুলিতে আহত মালালার অস্ত্রোপচার সফল :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

তালেবানের গুলিতে আহত মালালার অস্ত্রোপচার সফল :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 পাকিস্তানে নারী শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও তালেবানের বিরুদ্ধে সোচ্চার কিশোরী মালালা ইউসুফ জাইয়ের (১৪) শরীরে বিদ্ধ গুলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছে।

বুধবার সকালে পেশোয়ারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বিবিসি উর্দু পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানী ইসলামাবাদের উত্তর-পশ্চিমে সোয়াত উপত্যকায় মঙ্গলবার মালালা তার সহপাঠীদের সঙ্গে বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। বন্দুকধারীরা বাস লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মালালার মাথা ও ঘাড়ে গুলি লাগে। তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

তালেবানের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো নারী মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে তাকে হত্যা করার কথা শরিয়া আইনে পরিষ্কার বলা আছে।”

মালালা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে পেশোয়ারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাতভর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।

একজন সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, মালালার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল পেশোয়ারে ছুটে গেছে। প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হবে।

রাষ্ট্রীয় বিমান পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, মালালাকে দেশের বাইরে নিতে একটি বোয়িং বিমান পেশোয়ার বিমানবন্দরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে দুবাই নেয়া হতে পারে।

এয়ারলাইনসের প্রধান জুনায়েদ ইউসুফ বলেন, ‘আমরা নতুন নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। নির্দেশ পাওয়া মাত্র আমরা রওনা হব।’

গত বছর মালালা পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে জাতীয় শান্তি পুরস্কার পায়। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশনের ‘ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ’-এর মনোনীত হয় মালালা।

ছয় আম্পায়ার সাময়িক বরখাস্ত :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট

ছয় আম্পায়ার সাময়িক বরখাস্ত :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ছদ্মবেশী টিভি সাংবাদিকের ফাঁদে ধরা পড়ার পর টি২০ ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সেই ছয় আম্পায়ারকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসিসি এবং এর সংশ্লিষ্ট ছয়টি বোর্ড ‘ইন্ডিয়া টিভি’র ফাঁদে ধরা পড়া ছয়জন আম্পায়ারকে কোনো ম্যাচে দায়িত্ব না দিতে সম্মত হয়েছে।

অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ম্যাচের কন্ডিশন বুঝে বিশেষ কোনো দলের অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেয়ার অভিযোগ ওঠা আম্পায়াররা হলেন, পাকিস্তানের নাদিম ঘোরি ও আনিস সিদ্দিকী, বাংলাদেশের নাদির শাহ এবং শ্রীলংকার গামিনি দিশানায়েকে, মরিস উইনস্টন ও সাগর গালাগে।

ওই ফাঁদে দেখা যায়, পাকিস্তানের আম্পায়ার নাদিম ঘোরি অর্থের বিনিময়ে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিতে রাজী হন। শ্রীলংকান আম্পায়ার সাগর গালাগে ম্যাচ শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে পিচ কন্ডিশন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দুটো দলের খেলোয়াড়দের নামের তালিকা সরবরাহে সম্মত হন। আর বাংলাদেশের আম্পায়ার নাদির শাহ কোনো বোলারকে অবৈধভাবে সতর্ক করতে রাজি হয়েছিলেন।

টি২০ বিশ্বকাপের ওয়ার্ম আপে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের পিচের কন্ডিশন এবং একাদশ সম্পর্কে তথ্য ৫০ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে মরিস উইনস্টন পাচার করেন।

নারায়ণগঞ্জে ডক ইয়ার্ডে আগুন :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট

নারায়ণগঞ্জে ডক ইয়ার্ডে আগুন :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ইস্পানি এলাকায় থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড নামে একটি ডক ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। বুধবার বিকেলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

আগুনে বৈদ্যুতিক টান্সফরমার ও জেনারেটর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে মালিকপক্ষ দাবী করেছে। তবে অগ্নিকান্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বন্দর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নাসিরউদ্দিন জানান, খবর বন্দর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

ডক ইয়ার্ডের মালিক কাজী জহির জানান, আগুনে ডক ইয়ার্ডের ভেতরে থাকা একটি বৈদ্যুতিক টান্সফরমার ও জেনারেটর পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
 

রামুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি খালেদার :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

রামুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি খালেদার :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
 রামু, উখিয়া ও পটিয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘সরকার সত্যিকারভাবে চাইলে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া সম্ভব। তারা এটা না করলেও আগামীতে ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিবে বিএনপি।’’

বুধবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে রামুর বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাত করতে এলে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

অতীতের মতো আগামী দিনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সকল দুর্যোগে বিএনপি পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ রামুর ঘটনার পরে আমরা দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। দলের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে, এটা অব্যহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো সংস্কারের জন্য যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।’’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের পাশে থাকলেও সেখানে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আপনাদের উপাসনার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব সরকারের।’’

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি রামু, উখিয়া ও পটিয়াসহ সকল এলাকার জনগণের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

খালেদা জিয়াকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখার জন্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের আমন্ত্রণ গ্রহন করে তিনি বলেন, ‘‘চীন সফর থেকে ফিরেই আমি নেতাদের নিয়ে আপনাদের এলাকায় যাবো।’’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সময় পুলিশের নীরব থাকার কারণ খুঁজে বের করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শাস্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত না করে কাউকে জড়িয়ে এমন বক্তব্য দেয়া অন্যায়। এতে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিচার বিভাগীয় তদমত্ম হোক আর নিরপেক্ষ সাবেক কোনো বিচারপতিকে দিয়ে হোক একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করলে এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুজে বের করে শাস্তি দেয়া সম্ভব। সরকার চাইলেই তা করতে পারে।’’

আতঙ্কে রামুর উখিয়া ও পটিয়ার বৌদ্ধরা
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবন্দা মহাস্থবির বলেন, ‘‘বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে এ নৈরাজ্যের ঘটনাকে সম্প্রতি মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা সমস্যার প্রতিক্রিয়া বলে আমাদের কাছে মনে হয়।”

তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুকে উত্তম কুমার নামে একজন পুরষের ছবি আপলোড করার কথা বলেলেও আসলে এখানে একজন মহিলার পায়ে নেলপালিশ ছবি ছিল।’’

খালেদা জিয়াকে সরেজমিনে এ ঘটনা পরিদর্শনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনি সেখানে গিয়ে সবাইকে বলে আসবেন যে আমরা সবাই একত্রে বসবাস করবে।’’

সকল ধর্ম ও পেশার মানুষকে নিয়ে শাস্তি কমিটি গঠনেরও দাবি করেন তিনি।

পটিয়ার কোলাগাঁও সার্বজনীন রত্নপুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দীপানন্দ ভিক্ষু বলেন, ‘‘আমরা নিরীহ মানুষ, কাউকে আমরা ক্ষতি করি না। অথচ আমরা যার পূজা করি সে মূর্তিগুলোকে ভাঙার পাশাপাশি লুটতরাজ করা হয়। এখন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা থাকলেও পুলিশ চলে গেলে যে কি অবস্থা হবে তা আমরা জানি না।’’

‘‘ওয়েস্ট্রিন নামক একটি শিপইয়ার্ডের শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে এখানে  হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’’

তাই রামুসহ এসব এলাকায় গিয়ে সবাইকে নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে রামুতে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ ও দাবি পেশ
সাক্ষাত অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা রামুর ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা একটি স্বারকলিপি দেন এবং খালেদা জিয়ার কাচে বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো বিধ্বসত্ম এলাকায় খালেদা জিয়ার একদিনের সফর করে এলাকাবাসিকে স্বামত্মনা দেয়া, বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ত্রান তহবিল গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও মামলা, হামলা থেকে রক্ষা করা ও বর্তমানে ও ভবিষ্যতে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের যেকোনো ধরণের সমস্যা ও খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে যাতে সদস্য অবহিত করা যায় সেজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করার দাবি জানান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

খুবলিয়ার বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতি বোধি ভিক্ষু, রামুর বৌদ্ধ বিহারের বিশুদ্ধাবংশা ভিক্ষু, উখিয়ার বৌদ্ধ বিহারের কোলিয়া বংসা ভিক্ষু, উখিয়ার ভালুকিয়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি দীপক বড়ুয়া, উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবুল সেন বড়ুয়া, মরিয়া দীপংকর বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি লাল বড়ুয়া, রেজুরকুল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি প্রেমানন্দ বড়ুয়া, সুরুলিয়া ধর্মজ্যেতি বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক চন্দন বড়ুয়াসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এতে  উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রামুর ঘটনায় বিএনপির তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

কোনো তদন্তে ভীত নই, প্রয়োজনে পদত্যাগে প্রস্তুত: সুরঞ্জিত :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

কোনো তদন্তে ভীত নই, প্রয়োজনে পদত্যাগে প্রস্তুত: সুরঞ্জিত :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
 দফতরবিহীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রেল কেলেঙ্কারির ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে বলেছেন, “তদন্ত নিয়ে আমি কখনোই ভীত ছিলাম না, এখনো নই। যত রকমের তদন্ত আছে, করুন। জাতীয়, আন্তর্জাতিক, জাতিসংঘ, দুদক, সংসদীয় কমিটি, বিচার বিভাগীয়, বিরোধী দলীয়- সব ধরনের তদন্ত করুন। তবে এ নিশ্চয়তা দিতে হবে, সে তদন্তের পর আর কোনো তদন্ত হবে না।” তদন্তের স্বার্থে তিনি প্রয়োজনে দফতরবিহীন মন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগ করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়ে বলেন, একবার নয়, বার বার শত বার পদত্যাগ করতে পারি।
 
বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে পূর্ব নির্ধারিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত এসব কথা বলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে তার সাবেক এপিএসের গাড়িচালক আজম খান রেলের অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ভার তার ওপর চাপিয়ে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় সুরঞ্জিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
 
তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে সব ধরনের অভিযোগ থেকে মুক্তি চান বলে মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত। দুর্নীতির অভিযোগ এনে হেনস্তা করায় নিজের ও পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে দাবি করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “পৈত্রিক সম্পত্তি থাকা কি অপরাধ?”

ড্রাইভার আজম খান রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন অভিযোগ করে সুরঞ্জিত বলেন, “তার ভাষা ও বেশভুষা দেখে মনে হচ্ছে, তাকে কেউ শিখিয়ে-পড়িয়ে এনে মিডিয়ার সামনে কথা বলিয়েছে।”

সুরঞ্জিত প্রশ্ন করেন, “আজম খান এতদিন কোথায় ছিল, কে তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, কার ইন্ধনে সে ছয় মাস পর ওই চিহ্নিত একটি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিল? ছয় মাস আগে দুদক যখন তদন্তের জন্য তাকে বারবার ডেকেছে তখন সে কেন আসেনি।”

সুরঞ্জিত এই ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা এটাই নতুন নয়। আগে অনেক হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।” তবে আমিই যেন শেষ শিকার হই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
সুরঞ্জিত বলেন, “আমার এবং আমার নিরাপরাধ পরিবারকে রক্ষার জন্য কতিপয় সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছি।”
 
নিজের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “রাজনীতি করার কারণে আমার নিরীহ পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার হোক তা চাই না।”
 
সুরঞ্জিত বলেন, “আমাদের যেমন আমলনামা রয়েছে, ঠিক মিডিয়া মালিকদেরও আমলমানা আছে।” আইন শুধু আমাদের জন্য, তাদের জন্য নয় প্রশ্ন রাখেন তিনি।
 
তবে কবে, কোথায়, কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করবেন তা স্পষ্ট করেননি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।
 
সংবাদ সম্মেলন শুরুতেই তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, “বন্ধুরা সংবাদ পরিবেশনের সময় একবারও আমার দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনীতির দিকে তাকালেন না।”
 
তিনি দাবি করেন, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ ও সংসদের বাইরে জোরালো বক্তব্য রাখায় তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি সব সময় রাজনীতি ও মিডিয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলেও জানান।

দুদকের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন দাবি করে সুরঞ্জিত বলেন, “রেলের কেলেঙ্কারির ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তদন্তের স্বার্থে আমি পদত্যাগ করি। কিন্তু তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর যারা আমাকে দোষারোপ করেছিলেন তারা কেউ দুঃখ প্রকাশ করেননি। অথচ তাদেরকে আমি কিছু বলিনি।”

সুরঞ্জিত বলেন, “এখনো আমাকে পদত্যাগ করার কথা বলা হচ্ছে। আমার তো কোনো পদই নেই, পদত্যাগ করবো কোথায় থেকে। আমাকে বলা হয় ‘উজিরে খামোখা।’ অথচ উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক জওহর লাল নেহেরুও দফতরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন। তিনি পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও হন।”
 
“আমার বন্ধু মওদুদ (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ) বলছেন, পদত্যাগ করতে। আজ পদত হয়ত একসময় বলবেন দেশত্যাগ করুন। দোষী প্রমাণিত হলে সব ধরনের প্রশাসিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাবো।”

যেকোনো তদন্তে তিনি প্রস্তুত জানিয়ে বলেন, “জাতীয়, আন্তর্জাতিক, বিচার বিভাগীয় যত ধরনের তদন্ত হতে পারে সব কিছুতে আমি প্রস্তুত। প্রয়োজনে পদত্যাগ করে তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করবো।”
 
সুরঞ্জিত তার বক্তব্যে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদের সমালোচনা করে বলেন, “বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এসে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে যায়, তখন তো পদত্যাগ করলেন না?”
 
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রশ্ন করেন, “সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ছয় মাস আগেই তো আমি রেলমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ছয় মাস পরে কোন পদ থেকে পদত্যাগ করবো? আমার কি পদ আছে? দফতরবিহীন মন্ত্রীর পদ থেকে কীভাবে পদত্যাগ করবো? আপনারা কি দেখেছেন আমি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাই?”
 
“আপনারা আমার সব কেড়ে নিতে পারবেন, নাগরিকত্ব কাড়তে পারবেন না। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি” বলেন সুরঞ্জিত।
 
মওদুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন মামলা আছে, তাহলে আপনারা কি পদত্যাগ করবেন?”

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার বেরসরকারি টেলিভিশন আরটিভিতে দ্বিতীয় পর্বের সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য ফাঁস করেন সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুকের গাড়িচালক আজম খান।

প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল রাতে সুরঞ্জিতের এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। ফলে চাপের মুখে পড়েন রেলমন্ত্রী। ১৬ এপ্রিল ব্যক্তিগত সহকারীর ‘অর্থ কেলেঙ্কারির’ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পরে দুদক তদন্তে সুরঞ্জিতকে নির্দোষ প্রমাণ করে।

সাগর-রুনির খুনিদের আড়ালের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ মোশাররফের :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

সাগর-রুনির খুনিদের আড়ালের চেষ্টা চলছে, অভিযোগ মোশাররফের :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘ সাংবাদিক দম্পতি হত্যার এতদিন পরে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে তাতে সাধারণ কিছু অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের আসল খুনি, পরিকল্পনাকারী ও খুনের কারণ সম্পর্কে তদন্তে কিছু বলা হয়নি।’’

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

স্বৈরাচার বিরোধী গণ-আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেহাদ স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সরকার সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রেলের কেলেঙ্কারি ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘আবুল হোসেন ও মশিউরের মতো এ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতায় এলে সরকারের সকল দুর্নীতি ও অপকর্মের বিচার করবে বিএনপি।’’

তিনি বলেন, ‘‘দেশের অধিকাংশ মানুষ রেলের কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুরঞ্জিত বাবু জড়িত বলে বিশ্বাস করলেও আজ তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। কিন্তু এতে কাজ হবে না ।’’

তিনি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘‘আমি এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য সুরঞ্জিত সেনকে গ্রেফতারের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের অনলাইন জরিপে এ বক্তব্যের পক্ষে বিপক্ষে ভোটে শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’’

তাই সরকার সুরঞ্জিত সেনের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিলেও আগামীতে জনগণের ভোটে জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় এলে সরকারের সকল দুর্নীতি ও অপকর্মের বিচার করবে।’’

‘মহাজোট সরকার আতাতের মাধ্যমে পাতানো নির্বাচন করতে চায়’  অভিযোগ করে মোশাররফ বলেন, ‘‘আগাম হোক আর সময় মতো নির্বাচন হোক সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে হলে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। আর সরকার যদি এর বাইরে কিছু করার চেষ্টা করে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার জবাব দেবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকার ব্যর্থতা ও দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে। রামুতে সরকার দলীয় লোকজন রামুর ঘটনায় জড়িত থাকলেও তারা বিরোধী দলকে এ ঘটনায় দায়ী করছে।’’

সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবীবুর রহমান হাবিব, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, শহীদ জেহাদের বড় বোন চামেলী মাহমুদ।

সভা পরিচালনা করেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন।

এর আগে বুধবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজধানীর দৈনিক বাংলামোড়ে জেহাদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাছের ওপর রেস্তোরাঁ :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

গাছের ওপর রেস্তোরাঁ :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 থাইল্যান্ডের খো খুড দ্বীপে সোনেভা ফিরি রিসর্টের পর্যটকদের জন্য রয়েছে নতুন চমক। সিয়াম উপসাগরের তীরবর্তী এ রিসর্টের হোটেল গেস্টদের জন্য রয়েছে ‘বৃক্ষ রেস্তোরাঁ’।

১৬ ফুট ওপরে পল্লবিত বড় একটি গাছের প্রায় মগডালে কাঠের পাটাতন এবং ইস্পাতের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মিনি রেস্তোরাঁ। একসঙ্গে চার অতিথি এখানে বসে খাবার খেতে পারবেন।

উঁচু থেকে সাগরের বালুকা বেলা, দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি, পাখিদের কূজন প্রশান্তি এনে দেবে অতিথিদের মনে। শান্ত, নিরিবিলি পর্যটন কেন্দ্রের এ শূন্যে তৈরি রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ওয়েটাররা শূন্যে মোটা ফিতায় ঝুলতে ঝুলতে খাবার নিয়ে ওপরে উঠে আসেন এবং পরিবেশন করেন রিসর্টের অর্গানিক শাক-সবজি দিয়ে রান্না করা টাটকা সুস্বাদু নানা পদের থাই খাবার।

এ রিসর্টে এক রাত যাপনের মাথাপিছু খরচ ৪৪ হাজার থাই বাথ। অন্যান্য খরচের জন্য আলাদা বিল নেয়া হয় না। এমনকি গাছের ওপরে রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া ফ্রি। শুধু ভিড় এড়াতে অগ্রিম বুকিং দিতে হয়। সূত্র: বিবিসি

‘ডিজিটাল দেশ গড়তে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে’ :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘ডিজিটাল দেশ গড়তে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে’ :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে এখানকার সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আইসিটি বই এবং শিশির ২০১২: বাংলা অপারেটিং সিস্টেম’ এর প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, “প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরো সহজলভ্য করতে হবে। ইংরেজি থেকে পিছিয়ে দিতে নয় বরং ইংরেজিতে যারা পিছিয়ে বা দুর্বল আছে তাদেরকে প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতেই বাংলা অপারেটিং সিস্টেম।”

ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশের স্থানে এখনো অনেক স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “কোথাও ল্যাব থাকলেও শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রযুক্তির আওতায় আসতে চাইলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থার আরো উন্নতি করা দরকার।”

বাংলা ভারসন ব্যবহার করা যাবে না এমন কোনো মোবাইল ফোন দেশে রাখা হবে না বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন অঙ্কুরের সাধারণ সম্পাদক মাহে আলম খান, স্পেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন পেড্রো জিনাস, বেসিসের সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর এবং সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বৈঠক :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বৈঠক :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
দক্ষিণ এশিয়ার নয়টি দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে দক্ষিণ এশীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল (এসএটিআরসি) । এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সহযোগিতায় বিটিআরসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী সভা ও কর্মশালা ।

এতে অংশ নিয়েছেন আফগানিসত্মান, ইরান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, পাকিসত্মান, ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রক, বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, পরামর্শকসহ ১৫ জন সদস্য।

উদ্বোধনী সভায় বিটিআরসির পক্ষ থেকে স্বাগত ভাষণ দেন বিটিআরসির দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াসউদ্দিন আহ্মেদ।

এরপর কার্যকরী গ্রম্নপের চেয়ারম্যান ইরানের ড.  মিনা দস্তি ও এসএটিআরসির পরামর্শক অমরেন্দ্র নারায়ণ আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফরহাদুল পারভেজ দক্ষিণ এশিয়া তরঙ্গ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিটিআরসির পক্ষ থেকে লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন  (পরিচালক, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট) বাংলাদেশের তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের ওপর  একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন।

দু দিনব্যাপী এই সভায় প্রতিনিধিরা অ্যাকশন প্ল্যান ফেজ-৪, এসএটিআরসি দেশগুলোতে ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের সঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহার, সীমান্ত সমন্বয়, এশিয়ার দেশগুলোতে তরঙ্গ বণ্টনে বাজারভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ, আঞ্চলিক মোবাইল ব্রডব্যান্ডের জন্য তরঙ্গের প্রয়োজনীয়  প্রাপ্যতা গবেষণা, তরঙ্গ ব্যবহারের তথ্য আদান-প্রদান, ঢাকা ঘোষণা ও পরবর্তী ১৪তম সভার প্রসত্মাব বিষয়ে মতবিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

টেলিটক’র থ্রিজি সেবা চালু ১৪ অক্টোবর :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

টেলিটক’র থ্রিজি সেবা চালু ১৪ অক্টোবর :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
 পরীক্ষামূলকের পর ১৪ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে টেলিটক এর থ্রিজি সেবা। তবে শুরুতেই এই সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। ইতিমধ্যেই যারা গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্য হয়েছেন তাদের সকলকেও শুরুর দিন থেকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই থ্রিজি সেবা প্রাপ্তির তালিকায় প্রথমেই নির্বাচন করা হয়েছে কর্পোরেট গ্রাহকদের।  একই সঙ্গে থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকরে মুঠোফোনে দেশী টিভি’র অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বিষয়টিও চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়নি টেলিটক কর্তৃপক্ষ।

টেলিটক এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, পূর্ণ প্রস্ত্ততি আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে টেলিটকের থ্রিজির আনুষ্ঠানিক যাত্রা। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম পর্যায়ে করপোরেট দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই কেবল এই সংযোগ দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া যারা ইতোমধ্যে গ্র্যাভিটি ক্লাবের সদস্য হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে মাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা বহারকারীরা উদ্বোধনের পর থেকে এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আর চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে থ্রিজি ব্যবহার করতে পারবেন সকল গ্রাহক। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ লাখ গ্রাহককে থ্রিজি সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান।

জানাগেছে, আগামী ১৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভিডিও কল করে থ্রিজির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টা ব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। ওই অনুষ্ঠান গ্র্যাভিটি ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যারা থ্রিজি সেবা উপভোগ করছেন তারা মোবাইলফোনে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন বলে বার্তা২৪ ডটনেট-কে নিশ্চিত করেছেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, টেলিটক এখনো অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে দেশীয় ৫টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে লিংক তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র। এসব বাস্তবায়ন করতে আরো ৬ থেকে ৮ মাস সময় প্রয়োজন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর লিংক শেয়ার, কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়গুলোও সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত থ্রিজি দিয়ে স্যাটেলাইট টিভিতে সরাসরি খেলা দেখা আপাতত সম্ভব হবে না।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান বলেন, “আমরা শুরতে ইন্টারনেট সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডেটা কানেক্টিভিটি (২ এমবিপিএস) নিয়ে কাজ করছি। কনটেন্টের (আধেয়) বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।”

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে টেলিটকের থিজি নেটওয়ার্কে ডেটা কানেক্টিভিটির পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্স করা যাবে। এজন্য মোবাইলফোন সেট বা ল্যাপটপে বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকতে হবে।

এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও এরিনাফোন বিডির পরিচালক ফজলে রাবিব বলেন, “মোবাইলফোনে থ্রিজি ব্যবহার করে নাটক, গান বা মুভি দেখতে চাইলে উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি প্রয়োজন। স্মার্টফোনেই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি আছে। এ বিষয়টিও ব্যবহারকারীদের ভাবতে হবে। তা না হলে অল্প দিনের মধ্যেই মোবাইলফোন সেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।”

তিনি জানান, দেশের সিংহভাগ টেলিটক সিম ব্যবহারকারীর মোবাইলফোনসেট মাঝারি মানের। ডেটাকার্ড (ইন্টারনেট মডেম) দিয়ে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করলে নাটক, মুভি বা গান উপভোগ করা যাবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির টেলিটকের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো তৈরি না করে সেবা চালু করার বিষয়টিকে গ্রাহক ধরার কৌশল হিসেবে দেখছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ৪-৫ লাখ নতুন গ্রাহক তৈরি করতে যাচ্ছে থ্রিজি চালু করে। থ্রিজির ঘোষণা আসার পর থেকে টেলিটকের গ্রাহক বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, টেলিটকের জন্য ‘২১১০ থেকে ২১৬০’ মেগাহার্টজ তরঙ্গের (ফ্রিকোয়েন্সি) মধ্যে ১০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ দিয়েছে বিটিআরসি। রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান বলেই টেলিটক অগ্রাধীকারভিত্তিতে লাইসেন্স পেয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি (লাইসেন্সের নিলাম) আগেই থ্রি-জি সেবা চালু করতে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে থ্রি-জির নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ওই নিলামে টেলিটকও অংশ নিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করবে।

মায়ের পিস্তলেই কি আত্মঘাতী আশা-কন্যা? :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

মায়ের পিস্তলেই কি আত্মঘাতী আশা-কন্যা? :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
 পুলিশ সূত্রে খবর ৩০-৩৫ বছর আগে আশা ভোঁসলের একটি পিস্তল হারিয়ে যায়। বর্ষা ভোঁসলে নিজের প্রাণ নেয়ার সময় সেই পিস্তলটিই ব্যবহার করেছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে আত্মহত্যার অস্ত্রটির মালিক অনুসন্ধানে আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমনকি বর্ষার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বর্ষার ভাই আনন্দ ভোঁসলের কাছেও একটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে। পুলিস তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে, এই সপ্তাহের শেষের দিকে মা আশা ভোঁসলে ও খালা লতা মঙ্গেসকরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা পুলিসের।

বর্ষার মৃত্যুর কারণ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ভোসলে পরিবার। তবে সূত্রের খবর বেশ কিছুকাল ধরে পারবারিক অশান্তির জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন আশা ভোসলে। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দেশে ফিরে আসছেন। সূত্র: জিনিউজ।

আটান্ন বসন্ত পেরিয়ে চিরযৌবনা রেখা :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

আটান্ন বসন্ত পেরিয়ে চিরযৌবনা রেখা :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
 আটান্নতে পা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ভানুরেখা গণেশন। তিনি ভারতীয় সিনেমার মায়া। তিনিই ভারতীয় ছবির প্রথম চাঁদনি। পৃথুলা থেকে চাবুকের মতো ধারালো হয়ে ওঠার নজিরে তিনি অদ্বিতীয়া। দুই গভীর দুচোখের চোখের মায়াবী আবেদনে, সিক্ত রক্তাভ ঠোঁটের নেশায় এই উমরাও জান ভারতীয় সিনেমার একমেবাদ্বিতীয়ম এনিগমা। তার আবেদনে দিশেহারা হয়েছেন আমজনতা থেকে দীর্ঘকায় পুরুষটি পর্যন্ত!

শাওন ভাদো দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু রেখার। সালটা ১৯৭০। তবে রেখার সাফল্যের পথ কোনোদিনই মসৃণ হয়নি। অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে দো আনজানে বদলে দিল রেখার ভাগ্যরেখা। বিনোদ মেহরার বিপরীতে ঘর ছবিতে রেখার অভিনয় দর্শক মনে রাখবে চিরকাল।

এরপর একে একে মিস্টার নটবরলাল, খুবসুরত, সিলসিলা, উমরাও জান, খুন ভরি মাঙ্গ, ইজাজত, আস্থা, কামসূত্র, বুলান্দি, জুবেইদা ছবিতে নিজের দৃপ্ত অভিনয়ের পরিচয় দিয়েছেন রেখা। ১৯৮২ সালে উমরাও জান ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারও জেতেন রেখা। কোই মিল গয়া ছবিতে হৃতিক রোশনের মায়ের ভূমিকায় রেখাকে দেখে যারা ভেবেছিলেন এবার বোধহয় মায়েদের দলেই ঢুকে গেলেন রেখা, তাদের সবাইকে চমকে দিয়ে মাত্র দুবছর পরেই ফিরে এসেছিলেন অসাধারণ আইটেম গান দিয়ে। ক্যায়সি পহেলি হ্যায় জিন্দেগানি। ছন্দে ছন্দে যৌবনের জয়গান। ছবির নাম পরিণীতা। সত্যিই। রেখাই পারেন।

রিল লাইফে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছলেও তার ব্যক্তিগত জীবন বারবার উথাল পাতল হয়েছে। বিগ বির সঙ্গে সম্পর্ক, তিনবার ক্ষণস্থায়ী বিবাহ, স্বল্পবাক, রেখাকে করে তুলেছে আরও রহস্যময়ী। যা বলিউডে সত্যিই বিরল। ভারতীয় অভিনেত্রীরা নিজেদের সময়ে ডিভা হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে গৃহিণী তকমা গায়ে নিয়ে হারাতে থাকেন আবেদন। আসলে ভারতীয় পুরুষদের মন বোধহয় এখনও নিজের স্বপ্নের নারীটিকে কারও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারে না।

আর যদি তার ব্যক্তিগত জীবন হয় একটু ট্র্যাজিক, তাহলে ভারতীয় পুরুষের চোখে তিনি হয়ে ওঠেন আরও রহস্যময়ী। সেইজন্যই বোধহয় একাকিনী রেখার আবেদনও চিরকালীন। সূত্র: জিনিউজ।

বছরে ১০ লাখ লোক বিষণ্ণতার কারণে আত্মহত্যা করে :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

বছরে ১০ লাখ লোক বিষণ্ণতার কারণে আত্মহত্যা করে :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বিষণ্ণতার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখ লোক আত্মহত্যা করে। বিষণ্ণতা একটি গুরুতর কষ্টদায়ক ও কর্মক্ষমতা হ্রাসকারী মানসিক রোগ। এ কারণেই বিষণ্ণতায় ভুক্তভোগীদের অনেকে আত্মহত্যাপ্রবণ।

বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস আয়োজিত ‘বিষণ্ণতা: একটি বৈশ্বিক সংকট’ শীর্ষক কনফারেন্সে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

কনফারেন্সে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১ শতাংশ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। বিষণ্ণতার কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষণ্ণতা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

তারা আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষের মধ্যে একটি গবেষণা করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬.১ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের মানসিক রোগে ভুগছে।

মানসিক রোগী ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি এক কিনা জানতে চাইলে প্রফেসর ডা. মো. শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এক নয়, তবে মানসিক রোগের কারণে মাঝে মাঝে প্রতিবন্ধিতা আসতে পারে। সামাজিক, পারিবারিক বা যে কোনো ধরনের চাপের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে।

অধ্যাপক এম গোলাম রব্বানী জানান, ২০০৯-১০ সালে শিশুদের ওপর পরিচালিত পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট ১৮.৪ শতাংশ শিশু-কিশোর কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতার হার মাত্র ১ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নীতিমালা নিয়ে আমরা দিন রাত্রি কাজ করে যাচ্ছি। এটা বাস্তবায়ন করতে দুটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। আগামী সপ্তাহে আমরা বসব। তারপরে এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়া হবে। আমরা আশা করি এক মাসের মধ্যেই এ নীতিমালায় একটা গতি আসবে।

কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানসিক হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়াজিউল আলম।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় টমেটো :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় টমেটো :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
 যারা নিয়মিত টমেটো খেতে ভালোবাসেন, তাদের স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কম। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণা শেষে এ তথ্য দেন।

নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা এক হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে গবেষণা করেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান লাইকোপেন কম ছিল।

গবেষকরা দেখেছেন, যারা নিয়মিত টমেটো খেয়েছেন, তাদের স্ট্রোকের আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কমে গেছে।

গবেষণাটিতে ফলমূল ও শাকসবজি জাতীয় খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। টমেটো, তরমুজ, পেঁপেতে লাইকোপেন নামে এই রাসায়নিক উপাদানটি পাওয়া যায়। তবে তা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে টমেটোতে, যা শরীরের কোষগুলোকে সুরক্ষা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

২৫৮ ব্যক্তিকে নিয়ে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রক্তে লাইকোপেন সবচেয়ে কম, তাদের প্রায় ১০ জনের মধ্যে একজনের স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। আর রক্তে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বেশি রয়েছে এমন ২৫৯ ব্যক্তিকে নিয়ে চালানো গবেষণায় দেখা যায়, তাদের প্রায় ২৫ জনের মধ্যে একজনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, টমেটোয় থাকা লাইকোপেন অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্টের তুলনায় প্রদাহ ও রক্ত জমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারে। সূত্র: বিবিসি