Pages

Thursday, October 11, 2012

রামুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি খালেদার :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

রামুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি খালেদার :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
 রামু, উখিয়া ও পটিয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘সরকার সত্যিকারভাবে চাইলে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া সম্ভব। তারা এটা না করলেও আগামীতে ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিবে বিএনপি।’’

বুধবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে রামুর বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাত করতে এলে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

অতীতের মতো আগামী দিনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সকল দুর্যোগে বিএনপি পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ রামুর ঘটনার পরে আমরা দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। দলের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে, এটা অব্যহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো সংস্কারের জন্য যথাসম্ভব সাহায্য করা হবে।’’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের পাশে থাকলেও সেখানে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আপনাদের উপাসনার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব সরকারের।’’

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি রামু, উখিয়া ও পটিয়াসহ সকল এলাকার জনগণের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

খালেদা জিয়াকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখার জন্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের আমন্ত্রণ গ্রহন করে তিনি বলেন, ‘‘চীন সফর থেকে ফিরেই আমি নেতাদের নিয়ে আপনাদের এলাকায় যাবো।’’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সময় পুলিশের নীরব থাকার কারণ খুঁজে বের করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শাস্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত না করে কাউকে জড়িয়ে এমন বক্তব্য দেয়া অন্যায়। এতে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিচার বিভাগীয় তদমত্ম হোক আর নিরপেক্ষ সাবেক কোনো বিচারপতিকে দিয়ে হোক একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করলে এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুজে বের করে শাস্তি দেয়া সম্ভব। সরকার চাইলেই তা করতে পারে।’’

আতঙ্কে রামুর উখিয়া ও পটিয়ার বৌদ্ধরা
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রামুর রামকোট বৌদ্ধ তীর্থের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবন্দা মহাস্থবির বলেন, ‘‘বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে এ নৈরাজ্যের ঘটনাকে সম্প্রতি মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা সমস্যার প্রতিক্রিয়া বলে আমাদের কাছে মনে হয়।”

তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুকে উত্তম কুমার নামে একজন পুরষের ছবি আপলোড করার কথা বলেলেও আসলে এখানে একজন মহিলার পায়ে নেলপালিশ ছবি ছিল।’’

খালেদা জিয়াকে সরেজমিনে এ ঘটনা পরিদর্শনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনি সেখানে গিয়ে সবাইকে বলে আসবেন যে আমরা সবাই একত্রে বসবাস করবে।’’

সকল ধর্ম ও পেশার মানুষকে নিয়ে শাস্তি কমিটি গঠনেরও দাবি করেন তিনি।

পটিয়ার কোলাগাঁও সার্বজনীন রত্নপুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দীপানন্দ ভিক্ষু বলেন, ‘‘আমরা নিরীহ মানুষ, কাউকে আমরা ক্ষতি করি না। অথচ আমরা যার পূজা করি সে মূর্তিগুলোকে ভাঙার পাশাপাশি লুটতরাজ করা হয়। এখন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা থাকলেও পুলিশ চলে গেলে যে কি অবস্থা হবে তা আমরা জানি না।’’

‘‘ওয়েস্ট্রিন নামক একটি শিপইয়ার্ডের শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে এখানে  হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’’

তাই রামুসহ এসব এলাকায় গিয়ে সবাইকে নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে রামুতে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ ও দাবি পেশ
সাক্ষাত অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা রামুর ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা একটি স্বারকলিপি দেন এবং খালেদা জিয়ার কাচে বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো বিধ্বসত্ম এলাকায় খালেদা জিয়ার একদিনের সফর করে এলাকাবাসিকে স্বামত্মনা দেয়া, বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ত্রান তহবিল গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও মামলা, হামলা থেকে রক্ষা করা ও বর্তমানে ও ভবিষ্যতে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের যেকোনো ধরণের সমস্যা ও খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে যাতে সদস্য অবহিত করা যায় সেজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করার দাবি জানান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

খুবলিয়ার বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতি বোধি ভিক্ষু, রামুর বৌদ্ধ বিহারের বিশুদ্ধাবংশা ভিক্ষু, উখিয়ার বৌদ্ধ বিহারের কোলিয়া বংসা ভিক্ষু, উখিয়ার ভালুকিয়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি দীপক বড়ুয়া, উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি বাবুল সেন বড়ুয়া, মরিয়া দীপংকর বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি লাল বড়ুয়া, রেজুরকুল বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি প্রেমানন্দ বড়ুয়া, সুরুলিয়া ধর্মজ্যেতি বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক চন্দন বড়ুয়াসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এতে  উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রামুর ঘটনায় বিএনপির তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment