Pages

Friday, October 26, 2012

বাড়ির পথে জনস্রোত, টার্মিনালে ভোগান্তি

বাড়ির পথে জনস্রোত, টার্মিনালে ভোগান্তি
রাজধানী ছেড়ে বাইরে যাওয়ার মূল মহাসড়কগুলোতে বৃহস্পতিবারের মতো  শুক্রবারও সকাল থেকেই হাজারো মানুষের ভিড়। যানজটের কারণে টার্মিনালে বাস আসতে দেরি হওয়ায় আজও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বহু মানুষ।

ঈদের কারণে রাজধানীর পথঘাট ইতিমধ্যেই অনেক ফাঁকা হয়ে এলেও শহর থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছিল জনস্রোত। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘরমুখী মানুষের ঢল কিছুটা হালকা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে আবার বাস, লঞ্চ ও  রেলস্টেশনগুলোতে দেখা যায় মানুষ আর মানুষ।

ঢাকা ছেড়ে যাওয়াদের একটা বড় অংশ ছিলেন নিম্নবিত্ত শ্রেণীর। বিশেষ করে রাজধানীর তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার ভোর থেকে এখনো শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তায় রয়েছে জনতার স্রোত। সবার হাতে-কাঁধে ব্যাগ আর চোখে-মুখে সময়মতো বাড়ি পৌঁছানোর আকুতি।

অন্যদিকে রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কের চেহারা ছিল ভিন্ন। মূল সড়ক ও অলিগলিগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল ছিল বেশ কম। গতকাল মহাসড়কগুলোতেও যানজট কমে আসে। তবে গাবতলী ও আশপাশে অসংখ্য গরুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপের কারণে জট লেগেই ছিল। গাবতলী থেকে বাসগুলোর আমিনবাজার পেরোতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছিল। উল্টো পথেও প্রায় এক অবস্থা। এ কারণে গতকাল গাবতলী থেকে বেশির ভাগ বাস দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। গ্রামের বাড়িতে আনন্দের ঈদ উদযাপন করতে যাওয়ার পথে এই বিড়ম্বনা কষ্ট দিয়েছে বহু মানুষকে। বিশেষ করে যারা শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বাসের অপেক্ষায় থেকেছেন, তাদের কষ্টের মাত্রা ছিল বেশি। তবে গত পরশুর চেয়ে যানজট কিছুটা কম ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও গাড়িচালকেরা।

রংপুরে যাওয়ার জন্য বেলা সোয়া একটায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় লাভলী  ও তার ছোট ভাই তালেবকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাড়বে এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে গোল্ডেন লাইন কোম্পানির বাসের টিকিট কেটে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন গাড়ির খবর নেই। এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে বলে আশ্বাস দেন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক।

এসবি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মিথুন এ সময় জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ভোর ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তাদের মোট ৫০টি বাস ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যে বাসগুলো ছেড়ে গেছে, তার বেশির ভাগই দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে উল্লেখ করে মিথুন বলেন, মহাসড়কে তেমন যানজট না থাকলেও গরুর  ট্রাকের কারণে বাইরে থেকে বাসগুলো অনেক দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।

স্ত্রীকে নিয়ে বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা হারুন অপেক্ষা করছিলেন বাসের জন্য। তিনি জানান, গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশে এক ঘণ্টা ধরে বসে আছেন। এখনো টিকিট মেলেনি। চেষ্টা চলছে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে টিকিট কেনার। আরেক যাত্রী গোলাম কাদের বলেন, “যত কষ্ট আর অর্থদণ্ড যাক, ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাব। বছরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার এই একটাই সুযোগ। এটা হাতছাড়া করতে চাই না।”

No comments:

Post a Comment