শেরেবাংলার ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী
উপমহাদেশের মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ ও কৃষক আন্দোলনের সংগ্রামী নেতা
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ শুক্রবার। তিনি ১৮৭৩
সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ।
কর্মময় জীবনে তিনি ১৯১১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। কমরেড মুজফফর আহমেদের প্রস্তাবে নবযুগের প্রকাশনাতে সাহায্য করেন। কাজী নজরুলের আগুনঝরা লেখার কারণে ‘নবযুগ’-এর প্রচারসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ সরকার ব্রিটিশবিরোধী লেখার জন্য ‘নবযুগ’ পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করে।
শেরেবাংলা ১৯১২ সালে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি নামে একটি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর তিনি বরিশাল পৌরসভার কমিশনার পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। ১৯১৩ সাল বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ সালে ঢাকায় আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রাঙ্গণে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্যার সলিমুল্লাহ। এ দিন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে তিনি প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৩-১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯১৮ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৯ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও খেলাফত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
১৯২২ সালে তিনি খুলনা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে খুলনা অঞ্চল থকে তিনি পুনরায় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় বাংলার গভর্নর লিটন ফজলুল হককে বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। ১৯২৪ সালের ১ আগস্ট ফজলুক হক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। যুক্ত হন কৃষক রাজনীতি সাথে। সংগঠিত করেন কৃষকদের। ১৯২৯ সালেই নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায়। ঢাকায় প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। এই সম্মেলনে ফজলুক হক সর্বসম্মতিক্রমে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার ম্যাকডোনাল্ড একটি গোলটেবিল বৈঠক আহ্বা করেন। ১৯৩০-৩১ সালের প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ফজলুল হক বাংলা এবং পাঞ্জাবের মুসলমানদের জন্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব দাবি করেন।
১৯৩৫ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের মার্চে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৯ টি আসন ও মুসলীম লীগ ৩৮ টি আসন লাভ করে। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে ফজলুক হক ১১ সদস্যবিশিষ্ট যুক্ত মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরেবাংলা। তিনি দরিদ্র কৃষকের উপরে কর ধার্য না করে সারা বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন। ‘বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ’ তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তার উদ্যোগেই ১৯৩৮ সালের ১৮ আগস্ট বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনী পাস হলে জমিদারদের লাগামহীন অত্যাচার চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৯ সালে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫০ ভাগ চাকরি নির্দিষ্ট রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। ওই বছর ‘চাষী খাতক আইনে’ সংশোধনী এনে ঋণ সালিশি বোর্ডকে শক্তিশালী করেন। কৃষি আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনার দৌলতপুরে কৃষি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। পাটচাষীদের নায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালে ‘পাট অধ্যাদেশ’ জারিতে তার ভূমিকা ছিল প্রধান। তিনি নারী শিক্ষার প্রতিও ব্যাপক গুরুত্ব প্রধান করেন।
১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলীম লীগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন ফজলুক হক। ১৯৪১ সালের ১২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। শরৎচন্দ্র বসু ও হিন্দু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে প্রগতিশীল যুক্ত পার্টি গঠন করে তিনি সেই দলের নেতা হয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চল ও খুলনার বাগেরহাট অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু দলীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নির্বাচনের পর ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়ার পর তিনি ঢাকা হাইকোর্টে পুনরায় ওকালতি শুরু করেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানের এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ফজলুক হক সমর্থন দেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় তার বাসভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। এই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফজলুক হক।
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয় ১৫ মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলুল হক। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন পুনরায় গণপরিষদের নির্বাচন মাধ্যমে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। মুসলিম লীগের চৌধুরী মোহাম্মদ আলী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ফজলুক হক হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।
১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র গৃহীত হুয়। ২৩ মার্চ তা কার্যকরী হয়। এ সময় ফজলুক হক পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করে চলে আসেন। ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করে। তখন তাঁর হয়েছিলো ৮৫ বছর। এরপর তিনি আর রাজনীতিতে জড়িত হননি। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কর্মসূচি
শেরেবাংলার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রয়াত নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা।
জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ শেরেবাংলার জন্মবার্ষিকীতে সকাল ৯টায় তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এ উপলক্ষে এ কে ফজলুল হকের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে।
কর্মময় জীবনে তিনি ১৯১১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। কমরেড মুজফফর আহমেদের প্রস্তাবে নবযুগের প্রকাশনাতে সাহায্য করেন। কাজী নজরুলের আগুনঝরা লেখার কারণে ‘নবযুগ’-এর প্রচারসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ সরকার ব্রিটিশবিরোধী লেখার জন্য ‘নবযুগ’ পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করে।
শেরেবাংলা ১৯১২ সালে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি নামে একটি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর তিনি বরিশাল পৌরসভার কমিশনার পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। ১৯১৩ সাল বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ সালে ঢাকায় আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রাঙ্গণে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্যার সলিমুল্লাহ। এ দিন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে তিনি প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৩-১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯১৮ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৯ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও খেলাফত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
১৯২২ সালে তিনি খুলনা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে খুলনা অঞ্চল থকে তিনি পুনরায় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় বাংলার গভর্নর লিটন ফজলুল হককে বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। ১৯২৪ সালের ১ আগস্ট ফজলুক হক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। যুক্ত হন কৃষক রাজনীতি সাথে। সংগঠিত করেন কৃষকদের। ১৯২৯ সালেই নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায়। ঢাকায় প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। এই সম্মেলনে ফজলুক হক সর্বসম্মতিক্রমে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার ম্যাকডোনাল্ড একটি গোলটেবিল বৈঠক আহ্বা করেন। ১৯৩০-৩১ সালের প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ফজলুল হক বাংলা এবং পাঞ্জাবের মুসলমানদের জন্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব দাবি করেন।
১৯৩৫ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের মার্চে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৯ টি আসন ও মুসলীম লীগ ৩৮ টি আসন লাভ করে। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে ফজলুক হক ১১ সদস্যবিশিষ্ট যুক্ত মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরেবাংলা। তিনি দরিদ্র কৃষকের উপরে কর ধার্য না করে সারা বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন। ‘বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ’ তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তার উদ্যোগেই ১৯৩৮ সালের ১৮ আগস্ট বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনী পাস হলে জমিদারদের লাগামহীন অত্যাচার চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৯ সালে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫০ ভাগ চাকরি নির্দিষ্ট রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। ওই বছর ‘চাষী খাতক আইনে’ সংশোধনী এনে ঋণ সালিশি বোর্ডকে শক্তিশালী করেন। কৃষি আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনার দৌলতপুরে কৃষি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। পাটচাষীদের নায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালে ‘পাট অধ্যাদেশ’ জারিতে তার ভূমিকা ছিল প্রধান। তিনি নারী শিক্ষার প্রতিও ব্যাপক গুরুত্ব প্রধান করেন।
১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলীম লীগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন ফজলুক হক। ১৯৪১ সালের ১২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। শরৎচন্দ্র বসু ও হিন্দু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে প্রগতিশীল যুক্ত পার্টি গঠন করে তিনি সেই দলের নেতা হয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চল ও খুলনার বাগেরহাট অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু দলীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নির্বাচনের পর ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়ার পর তিনি ঢাকা হাইকোর্টে পুনরায় ওকালতি শুরু করেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানের এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ফজলুক হক সমর্থন দেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় তার বাসভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। এই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফজলুক হক।
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয় ১৫ মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলুল হক। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন পুনরায় গণপরিষদের নির্বাচন মাধ্যমে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। মুসলিম লীগের চৌধুরী মোহাম্মদ আলী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ফজলুক হক হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।
১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র গৃহীত হুয়। ২৩ মার্চ তা কার্যকরী হয়। এ সময় ফজলুক হক পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করে চলে আসেন। ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করে। তখন তাঁর হয়েছিলো ৮৫ বছর। এরপর তিনি আর রাজনীতিতে জড়িত হননি। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কর্মসূচি
শেরেবাংলার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রয়াত নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা।
জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ শেরেবাংলার জন্মবার্ষিকীতে সকাল ৯টায় তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এ উপলক্ষে এ কে ফজলুল হকের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে।
No comments:
Post a Comment