ব্যর্থতার বেড়াজালে শাবির প্রক্টরিয়াল বডি :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা ও
প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে অনভিজ্ঞ ও অকর্মান্যদের দিয়ে। ফলে ভেঙে পড়েছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কার্যক্রম।
গত চার বছরে একের পর এক অনিয়ম ও ব্যর্থতায় প্রকাশ পেলেও এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি আওয়ামী লীগপন্থী প্রশাসন। প্রক্টরিয়াল বডির মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নীতি বাস্তবায়ন ও রদবদলে ব্যস্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা গেছে, মহাজোট সরকারের ক্ষমতা লাভের পর থেকে শাবির প্রশাসনিকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে কাজে দক্ষতা ও ‘সিনিয়রিটি’ বিচার না করে এসব পদে অদক্ষ ও অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে এক ধরনের ‘খামোখা’ প্রক্টরিয়াল বডি গঠন করেছেন কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, মহাজোটের মদদপুষ্ট ও নিয়োগ প্রাপ্ত প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের অধিকাংশই নিয়মিত অফিস কিংবা ক্যাম্পাসের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ গ্রহণে তৎপরতা নেই। বরং অনেকে একটি ছাত্র সংগঠনের পেটুয়া হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। অনেক সদস্য মাসের পর মাস সুবিধা নিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের মাথা ব্যথা নেই।
এর মধ্যে বিগত বছরগুলিতে ক্যাম্পাসে কারণ ছাড়াই বিভিন্ন সময় হোস্টেল ও মেসের নিরীহ শিক্ষার্থীরা পুলিশী তল্লাশি ও গ্রেফতারের শিকার হলেও প্রক্টরিয়াল বডি ছিলেন নিরব।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো সমস্যায় পড়লে প্রক্টরিয়াল বডিকে ফোন দিলে পান না। এর মধ্যে সাবেক প্রক্টর ড. সাইফুল ইসলামের রেকর্ট ছিল সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীরা তাকে ফোন দিলে তিনি ধমক দিয়ে ফোন কেটে দিতেন।
অপরদিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের উদাসিনতা এবং তাদের ব্যর্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানিমূলক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যার হলেই শহীদ মিনার, ছাত্রী হল ও আশপাশ এলাকায় বখাটেরদের দৌরাত্ব বেড়ে যায়।
তাছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। এসব স্থানে বখাটেরা ফেনসিডিল ও মদ্য পানের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়। গত সাড়ে তিন বছরে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা থেকে একাধিক বখাটে, মদ্যপ, ফেনসিডিল ও জুয়াখোরদের আটক করে।
অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতা, ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিষেদগার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়ায় ক্যাম্পাস ও সিলেট শহরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল নিজেই শ্যামলী পরিবহন শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হন।
নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণে ভিসি ড. মো. সালেহ উদ্দিনের তোপের মুখে পড়লে ভিসি বিরোধী ড. সুশান্ত ও ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন শিক্ষকদের ওই প্যানেলের প্রক্টর ড. এস এম সাইফুল ইসলামসহ অপর চার সহকারী প্রক্টর চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনী রবিন, ইসরাত ইবনে ইসমাঈল, সাঈদ আরেফিন খান নোবেল, আসিফ ইকবাল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরে প্রশাসন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়কে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের পরপরই তিনিও ব্যর্থ হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী অনিক ও খাইরুল হত্যার জের ধরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালায় শিক্ষার্থীরা। অথচ তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রক্টরিয়াল বডি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
বিভিন্ন দাবিতে ছাত্রলীগ উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবনে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখলেও ব্যবস্থা নেয়নি এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বরং এ ক্ষেত্রে তারা ছিলেন টুনো সরদারের ভূমিকায়।
তাছাড়া জানুয়ারিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
শাবির প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। ক্যাম্পাস বা বাইরে কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদেরকে ফোন দিলে অধিকাংশ সময়েই ফোন বন্ধ পান শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক সময় বাড়িতে থাকলে প্রক্টরিয়াল বডি স্ত্রীদের দিয়ে ফোনে কথা বলানোরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সিনিয়র শিক্ষাকগণ আশঙ্কা পোষণ করে বলেন, অতীতের তুলনায় শাবির আইন শৃঙ্খলার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। যারা আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা এ কাজে এক্সট্রা সম্মানি পান। তবে কাজের দায়বদ্ধতা না থাকায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলায় তারাও আইন ভঙ্গে লিপ্ত।
গত চার বছরে একের পর এক অনিয়ম ও ব্যর্থতায় প্রকাশ পেলেও এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি আওয়ামী লীগপন্থী প্রশাসন। প্রক্টরিয়াল বডির মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নীতি বাস্তবায়ন ও রদবদলে ব্যস্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা গেছে, মহাজোট সরকারের ক্ষমতা লাভের পর থেকে শাবির প্রশাসনিকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে কাজে দক্ষতা ও ‘সিনিয়রিটি’ বিচার না করে এসব পদে অদক্ষ ও অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে এক ধরনের ‘খামোখা’ প্রক্টরিয়াল বডি গঠন করেছেন কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, মহাজোটের মদদপুষ্ট ও নিয়োগ প্রাপ্ত প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের অধিকাংশই নিয়মিত অফিস কিংবা ক্যাম্পাসের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ গ্রহণে তৎপরতা নেই। বরং অনেকে একটি ছাত্র সংগঠনের পেটুয়া হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। অনেক সদস্য মাসের পর মাস সুবিধা নিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের মাথা ব্যথা নেই।
এর মধ্যে বিগত বছরগুলিতে ক্যাম্পাসে কারণ ছাড়াই বিভিন্ন সময় হোস্টেল ও মেসের নিরীহ শিক্ষার্থীরা পুলিশী তল্লাশি ও গ্রেফতারের শিকার হলেও প্রক্টরিয়াল বডি ছিলেন নিরব।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো সমস্যায় পড়লে প্রক্টরিয়াল বডিকে ফোন দিলে পান না। এর মধ্যে সাবেক প্রক্টর ড. সাইফুল ইসলামের রেকর্ট ছিল সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীরা তাকে ফোন দিলে তিনি ধমক দিয়ে ফোন কেটে দিতেন।
অপরদিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের উদাসিনতা এবং তাদের ব্যর্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানিমূলক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যার হলেই শহীদ মিনার, ছাত্রী হল ও আশপাশ এলাকায় বখাটেরদের দৌরাত্ব বেড়ে যায়।
তাছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। এসব স্থানে বখাটেরা ফেনসিডিল ও মদ্য পানের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়। গত সাড়ে তিন বছরে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা থেকে একাধিক বখাটে, মদ্যপ, ফেনসিডিল ও জুয়াখোরদের আটক করে।
অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতা, ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিষেদগার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়ায় ক্যাম্পাস ও সিলেট শহরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল নিজেই শ্যামলী পরিবহন শ্রমিকদের হাতে লাঞ্ছিত হন।
নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণে ভিসি ড. মো. সালেহ উদ্দিনের তোপের মুখে পড়লে ভিসি বিরোধী ড. সুশান্ত ও ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন শিক্ষকদের ওই প্যানেলের প্রক্টর ড. এস এম সাইফুল ইসলামসহ অপর চার সহকারী প্রক্টর চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনী রবিন, ইসরাত ইবনে ইসমাঈল, সাঈদ আরেফিন খান নোবেল, আসিফ ইকবাল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরে প্রশাসন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়কে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের পরপরই তিনিও ব্যর্থ হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী অনিক ও খাইরুল হত্যার জের ধরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালায় শিক্ষার্থীরা। অথচ তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রক্টরিয়াল বডি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
বিভিন্ন দাবিতে ছাত্রলীগ উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবনে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখলেও ব্যবস্থা নেয়নি এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বরং এ ক্ষেত্রে তারা ছিলেন টুনো সরদারের ভূমিকায়।
তাছাড়া জানুয়ারিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
শাবির প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। ক্যাম্পাস বা বাইরে কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদেরকে ফোন দিলে অধিকাংশ সময়েই ফোন বন্ধ পান শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক সময় বাড়িতে থাকলে প্রক্টরিয়াল বডি স্ত্রীদের দিয়ে ফোনে কথা বলানোরও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সিনিয়র শিক্ষাকগণ আশঙ্কা পোষণ করে বলেন, অতীতের তুলনায় শাবির আইন শৃঙ্খলার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। যারা আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা এ কাজে এক্সট্রা সম্মানি পান। তবে কাজের দায়বদ্ধতা না থাকায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলায় তারাও আইন ভঙ্গে লিপ্ত।

No comments:
Post a Comment