Pages

Wednesday, October 31, 2012

নৌমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ

নৌমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ


নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শ্রম ও জনসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইস্রাফিল আলমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হুমকি ও মানহানির অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেছিলেন শামীম চৌধুরী নামের এক আইনজীবী। বিকেলে এ মামলটি খারিজ করে দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলাম।
 
২৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি চ্যানেল আরটিভির টক শোতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
 
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলামের আদালতে মামলার শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। আদালত তার খারিজ আদেশে উল্লেখ করেন, মামলার বাদীর এ মামলা আনয়ন করার কোনো এখতিয়ার না থাকায় মামলাটি খারিজ করা হলো।
 
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের উপস্থাপনায় সরাসরি একটি টক শোতে ‘ঈদে ঘরে ফেরায় যাত্রীদের দুর্ভোগ’ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।
 
বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে এবং উভয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় একজন অন্যজনের দিকে হাত তুলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে থাকেন। উপস্থাপক তাদের থামাতে চাইলেও ব্যর্থ হন। ব্যারিস্টার রফিক এক পর্যায়ে শাজাহান খানকে উদ্দেশ্য করে ‘স্টপ ইট’ বললে, মন্ত্রী শাহজাহান খান তা ‘স্টুপিড’ শুনে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনিও রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ‘বেয়াদব’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘হারামজাদা, তোর চোখ তুলে ফেলবো’।
 
এ সময় টক শোতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, গোলাম মাওলা রনি, সাংবাদিক মনির হায়দার, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার সোহায়েল আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, পূজা কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর প্রমুখ।
 
মামলার আরজিতে বলা হয়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া একজন স্বনামধন্য আইনজীবী এবং সাবেক মন্ত্রী। তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হত্যা করার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার পক্ষে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
 
এ নিয়ে ঢাকার আদালতে বর্তমান সরকারের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হলো। ইতিপূর্বে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী  গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঐ দিনই মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। এ মামলাটিও দিনের মধ্যেই বাদির এখতিয়ারহীনতায় খারিজ করা হলো।

No comments:

Post a Comment