Pages

Wednesday, October 24, 2012

রাজধানীতে শতাধিক অবৈধ পশুর হাট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীতে শতাধিক অবৈধ পশুর হাট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 দুই সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়াই রাজধানীতে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ পশুর হাট।

অসাধু ব্যবসায়ীরা রাস্তার মোড়, সরকারি কলোনি, বিভিন্ন স্কুলের ছোট খেলার মাঠকে পশুর হাট হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা এসব হাট নিয়ন্ত্রণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই অংশ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ২০টি পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। তবে রাজধানী ঘুরে একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সিটি কর্পেরেশনের দুই অংশেই গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ ছোট ছোট শতাধিক পশুর হাট।

ঢাকা দক্ষিনের কমলাপুর স্টেডিয়াম, মতিঝিল কলোনির কয়েকটি রাস্তার মোড়, ধানমণ্ডির বিভিন্ন সড়ক, আনন্দবাজার ও চানখারপুল, মগবাজার চৌরাস্তা, শান্তিনগর বাজার এলাকায় ছোট ছোট অবৈধ প্রায় অর্ধশত হাট বসেছে।

অবৈধ পশুর হাটে পশু বিক্রির ব্যাপারে মতিঝিল কলোনি বাজারের মোড়ে সিরাজগঞ্জ থেকে পশু বিক্রি করতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, “এলাকার মানুষের অনুমতি নিয়েই এখানে ভেড়া ও খাসি বিক্রি করছিল। বিক্রি ভালো হলে ওদের মিষ্টি মুখ করাবো।”

তবে ওরা কারা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে এ প্রতিবেদক কিছু কিনতে এসছেন কিনা জানতে চান।

একাধিক স্থানীয় ও পশু বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রত্যেক ঈদেই এসব অবৈধ হাট বসে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা এসব অবৈধ হাটের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পশুর ধরন বুঝে তারা বিক্রেতাদের থেকে ২০০ হতে সর্ব্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। অবশ্য কখনো কখনো অবৈধ হাটে বিক্রির দিন অনুয়ায়ীও চুক্তি হয়। এখানে দুই হাজার হতে সর্বোচ্চ দশ হাজার পর্যন্ত টাকা নেয়া হয়।”

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি এমনটি হচ্ছে। কয়েকটি অবৈধ হাট উচ্ছেদও করা হয়েছে।”

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার গাবতলী এলাকার বেড়িবাধ, বিমান বন্দর সংলগ্ন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার মোড় হতে বাবুবাজার সেতু ও ইংলিশ রোড়ের পার্কেও বসেছে ছোট ছোট পশুর হাট।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা  ফসিউল্লাহ বলেন, “এ ব্যাপারগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের প্রমাণ পেলে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

অবৈধ এসব হাট সরিয়ে দিতে পুলিশকেও তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। উল্টো এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “হাটে জায়গা কম। তাই পশু বিক্রেতারা অনেকটা বাধ্য হয়েই হাটের পাশের রাস্তায় বসেছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন ঘটতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক আছে। অবৈধ পশুর হাট হতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা চাঁদা আদায় করছেন এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তাছাড়া এমন কিছু ঘটেছে বলে শুনিনি।”   

পুলিশের বক্তব্যের ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, “পশু বিক্রেতারা রাস্তায় হয়তো বাধ্য হয়েই পশু বিক্রি করছেন। কেউ চাঁদা নিলে তাদের অধিকাংশই পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করতে পারবে না। কারণ, আবেদন করতে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার, অনেকেরই তা নেই। তাই পুলিশ বলেছে, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে।”

No comments:

Post a Comment