Pages

Friday, October 26, 2012

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়
 কাঁচা চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার না করে দেশীয় লবণ ব্যবহার করতে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার করা হলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, যা পরে কোনো কাজেই আসে না বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, ভারতীয় লবণের গুণগত দেশি লবণের চেয়ে কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লবণের সিন্ডিকেট এই সময়টায় বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেকেরই পক্ষেই চামড়ায় দেশীয় লবণ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এই সুযোগেই ভারতীয় কালোবাজারিরা লবণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ দেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ।

তাদের মতে, প্রতি বছর চামড়াশিল্পে দেড় থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। আর আমাদের দেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। অথচ ঈদ-পরবর্তী সময়ে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে লালবাগ পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার মান চিন্তা করে না। এ কারণেই তারা ভারতীয় শস্তা লবণ চামড়ায় ব্যবহার করে, যার ফলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও কোহিনুর ট্যানারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীন আহমেদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, আমাদের দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কিন্তু এই সময়টায় একটি চক্র লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই অনেক ব্যবসায়ী ভারতীয় লবণ চামড়ায় ব্যবহারে করে বলে তিনি জানান।
তিনি মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশের চামড়ার সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ধরে রাখার দায়িত্ব সবার। তাই চামড়া নষ্ট বা মান খারাপ না করে ভারতীয় লবণ ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে এই ঈদে লবণ সিন্ডিকেট যাতে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন ট্যানারি মালিকরা।

No comments:

Post a Comment