Pages

Sunday, October 28, 2012

রোহিঙ্গাদের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

রোহিঙ্গাদের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে দাঙ্গা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ বলছে, এই সহিংসতায় বাস্তচ্যুত হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসাহায্য দরকার।
মিয়ানমার সরকারের হিসাবেই জুন মাসে দাঙ্গা শুরুর পর থেকে ২০ হাজারের মতো লোক গৃহহীন হয়েছে। তবে জাতিসংঘের হিসাবে গৃহহীনের সংখ্যা অন্ত লাখখানেক, যাদের সিংহভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সর্বশেষ এই সহিংসতায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। শরণার্থীদের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প, নৌকা, বিভিন্ন দ্বীপ ও পাহাড়ের চূড়ায়।

সরকারি প্রতিনিধি দলের সাথে শনিবার এসব এলাকা সফরে গিয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন যে, তাদের এখন জরুরি  ত্রাণসাহায্য প্রয়োজন।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবিষয়ক প্রধান আশোক নিগম বলছেন, প্রকৃত শরণার্থীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছে, এদের কেউ কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ নিখোঁজ।

আশোক নিগম বলেছেন, পরিস্থিতি খুবই গুরুতর এবং তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজটাই এখন সবচে বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করার পর মিয়ানমারে  জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি হান্স টেড ফেল্ড বিবিসিকে বলছেন, “জরুরি ভিত্তিতে যা করা দরকার সেটা হচ্ছে তাদের জন্যে খাবার-দাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। তাদের কাছে অন্যান্য সামগ্রীও পৌঁছাতে হবে। কারণ আগুনে তারা সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।”

এদিকে, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য সরকারের মুখপাত্র দাবি করছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তবে রাজধানী সিতওয়েতে নতুন করে কোনো শরণার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বলা হয়, সবশেষ এই সহিংসতায় উপকূলীয় চাওপিউ শহরের রোহিঙ্গা মুসলিম-অধ্যুষিত একটি এলাকার পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সংস্থাটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ওই এলাকার ছবিও প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বিবিসির কাছে ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গত জুন মাস থেকে এই সহিংসতা শুরু হয় যাতে এ পর্যন্ত এক লাখের মতো মানুষ উদ্ধাস্ত হয়েছে। এদের প্রায় সকলেই রোহিঙ্গা মুসলিম।
সরকারও স্বীকার করেছে যে সহিংসতায় ৮০ জনের মতো নিহত হয়েছে।

No comments:

Post a Comment