Pages

Tuesday, November 13, 2012

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল


১৬ মিলিয়ন মানুষের শহর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি। জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মহানগরী। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরাঞ্চল এ দিল্লিতেই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম আবাসন কলোনি দ্বারকা উপনগর। আর ব্যস্ত নয়া দিল্লির প্রাণ দ্রুতগতির মেট্রো রেল। চারদিকে ছুটছে লাখ লাখ ব্যস্ত মানুষ। অল্প সময়ে কম খরচে পৌঁছে যাচ্ছে শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। চারদিকে গতি আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পরিবেশ। এক দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষ দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করায় দিল্লি পরিণত হয় বহুজাতিক মহানগরে। সে সঙ্গে ঘটেছে দ্রুত উন্নয়ন ও নগরায়ণ। নব্বইয়ের দশকে জনসংখ্যা ও যান আধিক্যে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল দিল্লি শহর। প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল নগরবাসীর জীবনযাত্রা। বেড়ে গিয়েছিল শব্দ ও বায়ু দূষণ। যানজটে নষ্ট হচ্ছিল মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কিন্তু মাত্র একদশকের মধ্যেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভারত সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দিল্লি ফিরে পায় গতি। মেট্রো রেল ফিরিয়ে দিয়েছে নগরবাসীর প্রাণচাঞ্চল্য। যেটুকু পথ ট্যাক্সিতে পাড়ি দিতে খরচ পড়ে ১০০ রুপি সেটা মেট্রো নামিয়ে এনেছে ১০ রুপিতে। যেখানে দিল্লির অটো ও ট্যাক্সিওয়ালারা মিটারে যেতে অনাগ্রহী সেখানে মেট্রোই হয়ে উঠেছে নগরবাসীর প্রধান উপায়। আর পুরো নয়া দিল্লি শহরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে এ মেট্রো লাইন। দিল্লিতে বেশিরভাগ লোকই আপনাকে স্বাগত জানাবে মেট্রো রেলে। আপনার জিজ্ঞাসার জবাবে পরামর্শও দেবে মেট্রো জার্নির। রসিকজন মাত্রই বলবেন, যে দিল্লির মেট্রোতে চড়েনি সে তো ‘জরুর পস্তায়ে’।
মেট্রো রেলের মাধ্যমে দিল্লি কেবল যানজটই দূর করেনি, উল্টো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। শহর পেরিয়ে যার দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করেছে পার্শ্ববর্তী গুরগাঁও ও নয়দা অঞ্চলকে। বর্তমানে ৬টি মেট্রো লাইন দিল্লি শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে করেছে সহজ ও সুলভ। বর্তমানে উড়াল, ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ মিলিয়ে ১৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল লাইনের ১৪২টি স্টেশনে বিস্তৃত এ নেটওয়ার্ক। দিল্লি মেট্রোতে ভ্রমণ যেমন সাশ্রয়ী তেমনি নিরাপদও। দ্রুত গতির এ পরিবহনে চলছে ৫-৭টি কোচের সমন্বয়ে ২১০টি ট্রেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনবরত ৩ থেকে ৫ মিনিটের ব্যবধানের প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে। আপনি যে কোন মেট্রো স্টেশনে গিয়ে গন্তব্যের দূরত্ব অনুযায়ী টোকেন নিতে পারে। সেটা আর্চওয়ে গেটে স্পর্শ করলেই খুলে যাবে দুয়ার। ভ্রমণের পর কয়েনটি আর্চওয়ে বক্সের মধ্যে ফেললে ফের খুলে যাবে বেরোনোর দরজা। ফাঁকি দেয়ার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোটায়। আবার যাত্রীদের টিকিট কাটার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। তাৎক্ষণিক যাত্রার জন্য দূরত্ব অনুযায়ী ওয়ান টাইম টোকেন। যা সর্বনিম্ন ৮ রুপি থেকে সর্বোচ্চ ৩০ রুপি। এছাড়া রয়েছে ৩ দিন থেকে এক মাসের ট্রাভেল কার্ড। যা সর্বনিম্ন ১০০ রুপি থেকে ৮০০ রুপি। প্রতিটি স্টেশন এবং কোচেই সাঁটানো রয়েছে চার্ট ও ম্যাপ। আপনি কোন স্টেশনে যেতে চাইলে কোন ট্রেনে উঠতে হবে। অনাবরত এনাউন্স হচ্ছে হিন্দি ও ইংরেজিতে। প্রতিটি স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই কোচে এনাউন্স হচ্ছে স্টেশনের নাম। প্রতিটি ট্রেনের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে আলাদা কোচ। এছাড়া দিল্লি মেট্রোর নিরাপত্তায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, প্লাটফর্মে ঢোকার মুহূর্তে আর্চওয়ে। কোন যাত্রীকে লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না প্লাটফর্মে। নেই নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠতে না পারার ঝক্কি। ভুল ট্রেনে উঠলেও পরের স্টেশনে নেমে ট্রেন পাল্টানোর সুযোগ আছে। তবে সমস্যার মধ্যে রয়েছে অফিস আওয়ারে টিকিট কাটার দীর্ঘলাইন ও কোচে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি। ২০১০ সালের এক জরিপ মতে, ১৪২ স্টেশন থেকে প্রতিদিন মেট্রোতে যাতায়াত করছে ২.০৬ মিলিয়ন যাত্রী। উদ্বোধনের প্রথম ৭ বছরে দিল্লি মেট্রোর সার্ভিস ভোগ করেছে প্রায় ১০০ কোটি যাত্রী। সার্বিকভাবে মেট্রো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত সরকার প্রমাণ করেছে একটি জনবহুল ব্যস্ত শহরকে কিভাবে যানজটমুক্ত রাখা যায়। কিভাবে সাশ্রয় করা যায় কোটি মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা যায় নগরবাসীর যাতায়াত।
জানা যায়, ১৯৮১ থেকে ৯৮ সালে শহরে জনসংখ্যা ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ে ব্যাপকহারে। বেড়ে যায় যানবাহনের ভিড়, শব্দ ও বায়ু দূষণ। নষ্ট হয় মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮৪ সালে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও আরবান আর্টস কমিশন দিল্লি শহরের জন্য একটি বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখলে দিল্লি মেট্রোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার যৌথ উদ্যোগে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) স্থাপন করে ১৯৯৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে দিল্লি মেট্রোর প্রথম অংশ রেড লাইন চালু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ইয়েলো, ২০০৫ সালে ব্লু, ২০০৯ সালে ব্লু লাইনের নতুন শাখা, ২০১০ সালে গ্রিন লাইন চালু হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় ভাগে ২০১১ সালে এই লাইনগুলোর সম্প্রসারণ এবং দিল্লি এয়ারপোর্ট মেট্রো এক্সপ্রেস ও ভায়োলেট লাইন চালু হয়। কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারের আধাআধি মালিকানার এ প্রকল্প লাভজনক বলে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এখন চলছে সমপ্রচারণ কাজ। নতুন এ সমপ্রসারণ কাজে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৩৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার ৩০ ভাগ করে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার এবং বাকিটা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে জাইকা দেবে। বর্তমানে রেড লাইনে দিলশাদ গার্ডেন থেকে রিতালা পর্যন্ত ২৫.১৫ কিলোমিটারে মধ্যে ২১টি স্টেশনে ২৩টি ট্রেন, হলুদ লাইনে জাহাঙ্গির-পুরী থেকে হুদা সিটি সেন্টার পর্যন্ত ৪৪.৬৫ কিলোমিটারে ৩৪টি স্টেশনে ৪৫টি ট্রেন চলে। নীল লাইনে নয়দা সিটি সেন্টার থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ৪৯.৯৩ কিলোমিটারে ৪৪ স্টেশনে এবং যমুনা ব্যাংক থেকে বৈশালী পর্যন্ত ৮.৭৫ কিলোমিটারে ৮টি স্টেশনে ৫৯টি ট্রেন এবং সবুজ লাইনে ইন্দারলোক থেকে মুন্ডকা পর্যন্ত ১৮.৪৬ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ও কীর্তি নগর থেকে অশোকনগর পর্যন্ত ৩.৩২ কিলোমিটারে ২টি স্টেশনে ১৫টি ট্রেন চলে। বেগুনি লাইনে কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে বদরপুর পর্যন্ত ২০.০৪ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ২৯টি এবং বিমানবন্দর এক্সপ্রেস নয়া দিল্লি থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ২২.৭০ কিলোমিটারে ৬ স্টেশনে ৮টি ট্রেন চলাচল করে। এখন হলুদ লাইন হুদা সিটি সেন্টার ছাড়িয়ে বাদলি পর্যন্ত, বেগুনী লেন বদরপুর ছাড়িয়ে কাশ্মির গেট পর্যন্ত ও আরেকটি লাইন বল্লভপুর ফরিদাবাদ পর্যন্ত, নীল লাইন নাজাফগড় পর্যন্ত, সবুজ লাইন বাহাদুরগড় পর্যন্ত সমপ্রসারিত করার কাজ চলছে। দিল্লি মেট্রো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে রাজধানী ছাড়িয়ে পাশপাশের এলাকাগুলো পুরোপুরি মেট্রোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। দিল্লি মেট্রো কেবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেট্রো রেল নেটওয়ার্কই নয়, নয়া দিল্লির শাস্ত্রী পার্কে অবস্থিত ডিএমআরসি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় রেলের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। যা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মেট্রো রেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটও বটে। যেখানে মেট্রো প্রযুক্তির উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সও চালু রয়েছে। এছাড়া ডিএমআরসি বিদেশেও কনসালটেন্সি করে সুনাম অর্জন করেছে। জাকার্তা মেট্রো রেল সিস্টেমে ‘ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং সেবা’র জন্য ২০১২ সালে পুরস্কৃত করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এছাড়া দিল্লি মেট্রো ট্রেন ও ট্রেন যোগাযোগকে সহনীয় দূষণমাত্রার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকা। যানজটে নাকাল নগরবাসী। ঢাকাকে যানজট মুক্ত করে মানুষের লাখ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের প্রধান উপায় হতে পারে মেট্রো রেল চালু উদ্যোগ।

সরকারের বিরুদ্ধে বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা- বি. চৌধুরী

সরকারের বিরুদ্ধে বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা- বি. চৌধুরী


সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি, লোভ আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে দলীয় পরিচয়ে লুটপাট হচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতির জন্য দেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বাড়ছে
। বহির্বিশ্বে দুর্নীতির জন্য আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ছাত্র জনতা, কৃষক, বঞ্চিত মানুষের ঐক্যের প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীর গুলশানস্থ অল কমিউনিটি ক্লাব মিলনায়তনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের বর্ধিত সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহি বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বি. চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে আমি ও ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। পরদিন পবিত্র হজ্বব্রত পালনে বিদেশ গিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে এরকম বক্তব্য কাম্য ছিল না। তিনি বলেন, দেশ চালান রাজনীতিবিদরা। তারা যদি দুর্নীতি করেন সমাজের সকল স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে মানুষ গুম হয়ে গেলেও প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না। এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেষ চেষ্টা করবো। মাহি বি. চৌধুরী বলেন, আওয়ামী দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সে ডাক নিয়ে বিকল্পধারা দেশের জেলায় জেলায় যাবে। তিনি বলেন, দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপির বক্তব্যে প্রতিহিংসার রাজনীতির ভাষা স্পষ্ট। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে এলে বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে চিন্তা করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিকল্প ধারা কোন নির্বাচনে যাবে না। এছাড়া, সমপ্রতি দুই নেতার জাতীয় ঐক্য নিয়ে সৈয়দ আশরাফুলের বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ আখ্যায়িত করে তীব্র সমালোচনা করেন মাহি বি. চৌধুরী।

Daily Manab Zamin | হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদন, একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

 হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদন, একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে গতকাল অনলাইন হাফিংটন পোস্ট-এ এসব কথা লিখেছেন জোলিয়ন রুবিনস্টেইন। ‘বাংলাদেশ জার্নালিস্টস ডিনাইড প্রেস ফ্রিডম দ্যাট উই টেক ফর গ্র্যান্টেড’ শীর্ষক মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি বাংলাদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকরা যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন তা তুলে ধরেছেন। ওতে উঠে এসেছে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের সন্তান এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও। এতে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে সত্য খবর লেখার পরিণামে সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার হন। তাদেরকে প্রহার করা হয়। এমনকি তাদের মৃত্যুও ঘটে। তিনি লিখেছেন, গত বছর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর পর্যায়ক্রমে আঘাত করেছে। গত বছর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার শতাধিক ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করা বা দুর্নীতি উন্মোচন করে দেয়ার জন্য। একটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের সদস্যরা ১৯ জন সাংবাদিককে শহর ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়। তা না করলে তাদেরকে কেটে টুকরো টুকরো করে কবর দেয়ার হুমকি দেয়। এতে বলা হয়, সমপ্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তা এখানে উল্লেখ করা দরকার। সামপ্রতিক ঘটনার মধ্যে একটি নিউজরুমের ভিতরে হামলা হয়েছে। ছাত্রদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশ কভার করার কারণে তিনজন ফটো সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রহার করা হয়েছে। পুলিশের দু’জন এসআই ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হয়রানি করছিল। এ বিষয়ে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় পুলিশ তিন সাংবাদিককে অবমাননা করে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসমাবেশ কভার করা থেকে বিরত রাখা হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে। দি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস রিপোর্ট করেছে, বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের ওপর হুমকি ও হয়রানি অব্যাহতভাবে চলছে। দ্য ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডিকেটরে ১৯৯২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্থান দেয় ইমপিউনিটি ইনডেক্সে ১১ নম্বরে। সাংবাদিক হত্যার অনিষ্পন্ন ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে এমন নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে যেসব সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে তাদের শতকরা ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে দুর্নীতি, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা রিপোর্ট করার কারণে। তিনি আরও লিখেছেন, বৃটিশ সরকারের কারণে এ পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লন্ডন অলিম্পিকের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা তাকে সংবর্ধনা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনার সমর্থকরা যখন তার দেশে ন্যক্কারজনক কাজ করছিল তখন তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ভাষণ দিচ্ছিলেন। জোলিয়ন আরও লিখেছেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারী শাসকদের বৃটিশ সরকারের দেয়া এই মৌন সম্মতি আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। বৃটেন বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্থের যোগানদাতা। তারা প্রতি বছর বাংলাদেশে ২৫ কোটি পাউন্ড সহায়তা দেয়। এই অবস্থানকে ধরে রেখে বৃটিশ সরকারের উচিত এই নিদারুণ নিপীড়ন বন্ধ করার দাবি করা। ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রীর অবশ্যই শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে যে, তাকে সংবাদ মাধ্যমের মৌলিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। যখন প্রহার, নিখোঁজ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা কমছে না তখন রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা ‘নিশ্চয়তা’ আদায় করাই যথেষ্ট নয়। জোলিয়ন আরও লিখেছেন, বৃটিশ সরকারকে কোথা থেকে শুরু করতে হবে? তিনি নিজেই এর জবাব দিয়েছেন। লিখেছেন, সম্ভবত এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় একটি তদন্ত দাবি করতে পারে। এম ইলিয়াস আলী বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি তার গাড়ির চালকসহ নিখোঁজ হয়েছেন। জোলিয়ন লিখেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন- সরকারের একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছে। ওই সংস্থাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় সাধারণ ক্ষমার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর দায়ে মুস্তাফিজুর রহমান সুমনকে প্রহার করা হয়। তাকে এখনও আটক রাখা হয়েছে। জোলিয়ন লিখেছেন, বৃটিশ সরকার মুস্তাফিজুর রহমান সুমনকে মুক্তি দেয়ার দাবি তুলতে পারে। তারা দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের প্রধান মীর কাসেম আলীকেও মুক্তি দেয়ার দাবি তুলতে পারে। যুদ্ধাপরাধ আদালতের সমালোচনা করায় তাকে জেলে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় বিশ্বাস করা কষ্ট যে, কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার আহ্বানও জানান। বাংলাদেশে নির্বাচন আগামী বছর। তার আগেই বাংলাদেশ একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে। দৃশ্যত দেশটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশীদের দিতে হবে একটি সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যখন আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা লজ্জাজনকভাবে নীরবতা অবলম্বন করছে তখন যারা বাংলাদেশে কথা বলতে সাহস রাখেন তাদের পক্ষ অবলম্বন করা উচিত আমাদের। 

হলমার্ক কেলেঙ্কারি , ফেঁসে গেলেন জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা

 হলমার্ক কেলেঙ্কারি , ফেঁসে গেলেন জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা
হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে এবার ফেঁসে গেছে জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা। সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে হলমার্ককে টাকা দিয়ে এ  কেলেঙ্কারির সঙ্গে ফেঁসে যাচ্ছে জনতা ব্যাংক। নন ফান্ডেন্ড ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায়  সোমবার বিকালে  
ব্যাংকটির  জিএম, ডিজিএমসহ ১৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়েছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে।
যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন জনতা ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল ব্রাঞ্চের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আমিনুল ইসলাম, উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জয়নাল আবেদীন, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রুহুল আমিন খান, ব্যবস্থাপক (এক্সপোর্ট) আলাউদ্দিন আকন্দ, এক্সপোর্ট ইনচার্জ আবদুল গফুর, এলিফ্যান্ট রোড শাখার  জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা একে আজাদ, শাহবাগ শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়েব কবির। এ সাত কর্মকর্তাকে ১৮ই নভেম্বর দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।
১৯ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে সাতজনকে  নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন- এলিফ্যান্ট রোড শাখার এজিএম মুসতাক আহমেদ খান, জিএম আবদুস সালাম আজাদ, ডিজিএম এসএম আবু হেনা মোস্তফা কামাল,  বৈদেশিক শাখার ডিজিএম শেখ হায়দার  হোসেন ও এজিএম মিজানুর রহমান।
দুদক জানায়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা  হোটেল শাখা থেকে ৩৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত হলমার্ক ব্যতীত অন্য পাঁচ প্রতিষ্ঠান ও ২৬ ব্যাংকের ৬১টি শাখা জড়িত। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়েছে। 

সোহাগ গাজীর শিকার গেইল-ব্রাভো

সোহাগ গাজীর শিকার গেইল-ব্রাভো  

সোহাগ গাজী নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছেন। ক্রিস গেইলের পর তিনি ফিরিয়েছেন ড্যারেন ব্রাভোকে। টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ এই মুহূর্তে ২ উইকেটে ১০৫ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে খেলা হয়েছে ২৭ ওভার। সোহাগ গাজী ১০ ওভার বল করে ২৮ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন গেইল ও ব্রাভোর উইকেট। মুশফিকুর রহিমের ব্যবহূত অন্য দুই বোলার শাহাদাত হোসেন ও রুবেল হোসেন,সাকিব আল হাসান। সকালে ব্যাটিংয়ে নেমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন ক্রিস গেইল। টেস্ট মেজাজের বিপরীতে মাত্র ১৭ বলে ২৪ রান তুলে ফেলেছিলেন তিনি। তাঁর এই সংগ্রহে ছিল ২টি চার ও ২টি ছয়ের মার। কিন্তু সোহাগ গাজীর বলে লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহর হাতে। গেইল ফিরে যাওয়ার পর যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ঢংয়ে ব্যাট চালাতে থাকেন ব্রাভো এবং কিরান পাওয়েল। ওভারপ্রতি চার রান তুলে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কপালে যখন চিন্তার রেখে এঁকে দিয়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে মুশফিকুরের সামনে এসে দাঁড়ান সোহাগ গাজী। তাঁর বলে রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়ে ব্রাভোর ইনিংসটির পরিসমাপ্তি ঘটে। ব্রাভোর আউটের পর উইকেটে এসেছেন মারলন স্যামুলেস। ব্যক্তিগত ৪১ রান নিয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার পথে কিরান পাওয়েল।

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’


গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ সামলাতে চলতি বছরই ঢাকার রাস্তায় নামছে ‘আর্টিকুলেটেড’ বাস।

দুটি কোচ জোড়া দিয়ে বানানো এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ; যাত্রী ধারণ ক্ষমতাও দ্বিগুণ।

অবশ্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা না করলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যরে এসব বাসের কারণে সড়কে বিপত্তি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ২৫ থেকে ৩০টি আর্টিকুলেটেড বাস রাজধানীতে চলাচল শুরু করবে।

“৫০টি আর্টিকুলেডেট বাস তৈরির জন্য ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানিকে অর্ডার দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে সবগুলো বাস রাজধানীর রাস্তায় চলে আসবে।”

ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে ‘বিশেষভাবে তৈরি’ এসব বাস আনা হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

তিনি বলেন, “এই বাসের বিশেষ সুবিধা হলো- আসনের বাইরে অনায়াসে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। গণপরিবহন হিসাবে এটা ভাল কাজে আসবে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকায় যেসব আর্টিকুলেটেড বাস আসছে- সেগুলোতে আসন সংখ্যা হবে ৫৮টি।

তিনি বলেন, “এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের মতো দুটি বাস জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। বিআরটিসির একটি সাধারণ বাস রাস্তার মোড় ঘুরতে যতটুকু জায়গা প্রয়োজন- আর্টিকুলেটেড বাসের ক্ষেত্রে তার চেয়ে মাত্র দশমিক ২৫ মিটার জায়গা বেশি লাগবে।”

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শামসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আর্টিকুলেটেড বাসের চালক দক্ষ না হলে এর পেছনের অংশের সঙ্গে অন্য বাসের সংঘর্ষ হতে পারে।

ঝুঁকিমুক্ত চলাফেরার জন্য এসব বাসের আলাদা লেন থাকা উচিৎ জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার ব্রড ব্যান্ডের হলে লাইনও ব্রড ব্যান্ডের হতে হবে। আর্টিকুলেটেড বাস সাধারণত এক্সক্লুসিভ লেনেই চলাচল করে।”

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯২০ সালে ইউরোপে প্রথম আর্টিকুলেটেড বাসের প্রচলন দেখা যায়। বিভিন্ন দেশে বেন্ডি বাস, ট্যান্ডেম বাস, ব্যানান বাস, ক্যাটারপিলার বাস বা অ্যাকর্ডিয়ন বাস নামে পরিচিত এই বাহন। এসব বাসের দৈর্ঘ্য ১৮ থেকে ২২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, ঢাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) অর্থাৎ নির্ধারিত বাসের জন্য নির্দিষ্ট লেনের ব্যবস্থা চালু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

ঢাকার কয়েকটি রাস্তা চিহ্নিত করে বিআরটি চালুর জন্য সড়কের উভয় পাশে দুটি আলাদা লেন করা হবে। বিআরটির জন্য নির্ধারিত লেনে অন্য কোনো বাস আসতে পারবে না। এই লেনের গাড়িও লেনের বাইরে যেতে পারবে না।

আর বাংলাদেশে ‘নতুন ধাঁচের’ আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল শুরু করলে সবার কাছে যদি তা আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে হয়, তাহলে এ ধরনের আরো বাস আমদানি করা হবে।

“পজিটিভ রেসপন্স পেলে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর আশেপাশের এলাকায় এই বাস নামানোর চিন্তা রয়েছে”, বলেন এম এ এন ছিদ্দিক।

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’


গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ সামলাতে চলতি বছরই ঢাকার রাস্তায় নামছে ‘আর্টিকুলেটেড’ বাস।

দুটি কোচ জোড়া দিয়ে বানানো এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ; যাত্রী ধারণ ক্ষমতাও দ্বিগুণ।

অবশ্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা না করলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যরে এসব বাসের কারণে সড়কে বিপত্তি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ২৫ থেকে ৩০টি আর্টিকুলেটেড বাস রাজধানীতে চলাচল শুরু করবে।

“৫০টি আর্টিকুলেডেট বাস তৈরির জন্য ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানিকে অর্ডার দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে সবগুলো বাস রাজধানীর রাস্তায় চলে আসবে।”

ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে ‘বিশেষভাবে তৈরি’ এসব বাস আনা হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

তিনি বলেন, “এই বাসের বিশেষ সুবিধা হলো- আসনের বাইরে অনায়াসে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। গণপরিবহন হিসাবে এটা ভাল কাজে আসবে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকায় যেসব আর্টিকুলেটেড বাস আসছে- সেগুলোতে আসন সংখ্যা হবে ৫৮টি।

তিনি বলেন, “এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের মতো দুটি বাস জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। বিআরটিসির একটি সাধারণ বাস রাস্তার মোড় ঘুরতে যতটুকু জায়গা প্রয়োজন- আর্টিকুলেটেড বাসের ক্ষেত্রে তার চেয়ে মাত্র দশমিক ২৫ মিটার জায়গা বেশি লাগবে।”

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শামসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আর্টিকুলেটেড বাসের চালক দক্ষ না হলে এর পেছনের অংশের সঙ্গে অন্য বাসের সংঘর্ষ হতে পারে।

ঝুঁকিমুক্ত চলাফেরার জন্য এসব বাসের আলাদা লেন থাকা উচিৎ জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার ব্রড ব্যান্ডের হলে লাইনও ব্রড ব্যান্ডের হতে হবে। আর্টিকুলেটেড বাস সাধারণত এক্সক্লুসিভ লেনেই চলাচল করে।”

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯২০ সালে ইউরোপে প্রথম আর্টিকুলেটেড বাসের প্রচলন দেখা যায়। বিভিন্ন দেশে বেন্ডি বাস, ট্যান্ডেম বাস, ব্যানান বাস, ক্যাটারপিলার বাস বা অ্যাকর্ডিয়ন বাস নামে পরিচিত এই বাহন। এসব বাসের দৈর্ঘ্য ১৮ থেকে ২২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, ঢাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) অর্থাৎ নির্ধারিত বাসের জন্য নির্দিষ্ট লেনের ব্যবস্থা চালু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

ঢাকার কয়েকটি রাস্তা চিহ্নিত করে বিআরটি চালুর জন্য সড়কের উভয় পাশে দুটি আলাদা লেন করা হবে। বিআরটির জন্য নির্ধারিত লেনে অন্য কোনো বাস আসতে পারবে না। এই লেনের গাড়িও লেনের বাইরে যেতে পারবে না।

আর বাংলাদেশে ‘নতুন ধাঁচের’ আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল শুরু করলে সবার কাছে যদি তা আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে হয়, তাহলে এ ধরনের আরো বাস আমদানি করা হবে।

“পজিটিভ রেসপন্স পেলে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর আশেপাশের এলাকায় এই বাস নামানোর চিন্তা রয়েছে”, বলেন এম এ এন ছিদ্দিক।

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান


আসামের মুসলমানরা এবার বাংলাদেশী অভিবাসী সনাক্তের নামে তাদের হয়রান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বোরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (বিটিসি)-এর মুসলমানদের রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা সন্দেহের চোখে দেখে। সেখানে ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশী অভিবাসীরা অবস্থান করছে বলে অভিযোগ আছে। এর ফলে সেখানে বাংলাদেশী চিহ্নিত করার নামে মুসলমানদের হয়রান করা হচ্ছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন রেডিফ। এতে বলা হয়, এর ফলে সেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বার বার বোরো বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছর জুলাইতে বিটিসি ও ধুবরি জেলার আশপাশের এলাকায় দাঙ্গা হয়। ওদিকে গতকাল গোয়াহাটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিষদের কয়েক হাজার সদস্য বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা তাদের দাবির পক্ষে একটি বিবৃতি জমা দেয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর কাছে। এ সংগঠনের এক মুখপাত্র বি আলী আহমেদ বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গায় যত জন মুসলমান নিহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত প্রতিজনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৭ লাখ রুপি। তারা আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর যেসব বাংলাদেশী আসামে গিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে কোন শর্ত ব্যতিরেকেই ফেরত পাঠাতে হবে।

অপহৃত পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে?

অপহৃত পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে?


কেরানীগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্র পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে? অপহরণের দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কোন সন্ধান পায়নি। এমনকি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়েও কোন যোগাযোগ করেনি। এ অবস্থায় পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে- এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। গতকাল সরজমিন ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় সর্বত্র আতঙ্ক। পরাগের বোন পিয়ালী মণ্ডল বলেন, আমার সামনে থেকে ওরা আমাদের ভাইকে অস্ত্র উঁচিয়ে অপহরণ করেছে। মা, বোন ও ড্রাইভার চাচ্চুকে গুলি করেছে। আপনারা আমার ভাইকে খুঁজে এনে দিন। গুলিবিদ্ধ মা হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায়, আহত বড় বোন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে। আজ দু’দিন হলো আমার ভাই নেই। ভাইয়ের অপহরণ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে সে মূর্ছা যাচ্ছিল বারবার। রোববার সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার মা, বোন ও গাড়ির চালককে গুলি করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের একমাত্র পুত্র স্কুলছাত্র পরাগ মণ্ডল (৬)-কে অপহরণ করে মুখোশধারী ৪ সন্ত্রাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা এসেছিল দু’টি মোটরসাইকেলে।
ওই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের মা সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেছেন। পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, এএসপি সার্কেল শহিদুল ইসলাম গতকাল সকালে বিমল মণ্ডলের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। ডিআইজি মিজানুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাটি একটি বিশেষ মামলার গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশের পাশাপাশি তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাবের বিশেষ টিম শিশু পরাগকে উদ্ধারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপহরণকারী চক্রকে শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ বিমল মণ্ডলের সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক বিরোধ- তিনটি ক্লু নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে তিনি জানান। তবে ঘটনার তদন্তে পুলিশের বেশ অগ্রগতি এবং শিগগিরই ভাল ফল পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকা জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সরজমিন বিমল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে গোটা পরিবারের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক। পুলিশের আশার বাণীতে কোন আস্থা আনতে পারছে না মণ্ডল পরিবার। এমনকি স্থানীয় জনগণও। এলাকায় বিমল মণ্ডল একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধ রয়েছে এমনটি ভাবতেও পারেন না কেউ। শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার মণ্ডলবাড়ী এলাকাবাসীর কাছে বহুদিন ধরে ভাল মানুষের বাড়ি বলে পরিচিত। কি কারণে সেই পরিবারের ওপর এই ঘটনা, তা অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীকে। ব্যবসায়ী মণ্ডল পরিবারের দাবি, যে কোন কিছুর বিনিময়ে তাদের একমাত্র পুত্র সন্তানকে তারা ফেরত পেতে চান। বিমল মণ্ডল জানান, আমার সঙ্গে কারও এমন কোন বিরোধ নেই যার ফলে শিশু পুত্রকে অপহরণ করতে পারে। তবে কিছুদিন আগে শুভাঢ্যা এলাকার জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। কিন্তু সেটা মিটে গেছে। বিমল মণ্ডলের প্রতিবেশী জয়দেব চন্দ্র জানান, কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ভূমিদস্যুদের পক্ষে কাজ করে আসছে। হিন্দু সমপ্রদায়ের জমি পুলিশ দিয়ে দখল করে নিলেও পিছু ক্ষতির আশঙ্কায় সবাইকে নীরব থাকতে হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ- পরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, আসামি ধরার চেয়ে পুলিশ পরাগকে উদ্ধার করাটাকে জরুরি মনে করছে । তদন্তের স্বার্থে তেমন কোন কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় রহস্যজনক কারণে মণ্ডল পরিবার নিশ্চুপ। এদিকে ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ীর একমাত্র পুত্র অপহরণের পর থেকে বাড়ির লোকজন মুখে কুলুপ দিয়ে রেখেছে। সবার মুখে এক কথা- এর পেছনে কি রয়েছে কেউ জানে না।
প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলযোগে অস্ত্রধারী ৪ সন্ত্রাসী মায়ের কোল থেকে তার একমাত্র পুত্রকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে অন্যান্য পরিবার। পুলিশ আদৌ স্কুলছাত্র পরাগ মণ্ডলকে উদ্ধার করতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় এলাকাবাসীর। অন্য অভিভাবকরা তাদের স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাজধানীর এক সময়ের সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ কি আবার অশান্ত হয়ে উঠছে- এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর। আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের অভিভাবক রুমা জানান, পরাগ মণ্ডলের অপহরণ ঘটনার পর থেকে এলাকার সব বিদ্যালয়ের অভিভাবক মহল এখন উদ্বিগ্ন।
এদিকে আমাদের কেরানীঞ্জ প্রতিনিধি জানান, অপহৃত পরাগ মণ্ডলের পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়ায় তাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পশ্চিম শুভাঢ্যা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকালে পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী। অপহৃত পরাগের মা লিপি রানী মণ্ডল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ বোন পিণাকি মণ্ডলকে বাড়িতে আনা হয়েছে। ড্রাইভার নজরুল মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছেন শূন্য হাতে, কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিমানবন্দরে কান্না

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছেন শূন্য হাতে, কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিমানবন্দরে কান্না


লাখ লাখ টাকা খরচ। গিয়েছিলেন আয়-উপার্জনের আশায়। আয়ের মুখ তো দেখেনইনি, উল্টো ফিরছেন দলে দলে- একেবারেই শূন্য হাতে। কারও কাছে বাড়ি পৌঁছার বাস ভাড়াও নেই। সাহায্য নিচ্ছেন সফরসঙ্গীর কাছ থেকে। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কোন সম্বল সঙ্গে নেই অনেকের। তবে সবারই সম্বল আছে একটি- কান্না। যারা দেশের জন্য রেমিটেন্স পাঠাতে গেছেন স্বজন ছেড়ে, রাস্তায় বা মরুভূমির খোলা ময়দানে থেকেছেন তারা দিনের পর দিন, জেল খেটেছেন মাসের পর মাস- তাদের কোন অপরাধ না থাকলেও কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হয় দেশে। ওখানে কপালে কাজ জোটে না। চাকরিও নেই। না খেয়ে, না পরে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তারা। পুলিশ আর মালিকদের অমানবিক নির্যাতনে প্রাণ যায় যায় অবস্থা ছিল। মন ও শরীরের ওপর এত ধকলের পর তবুও সান্ত্বনা খুঁজছেন তারা। হাজার কষ্টের পর হোক, দেশে তো ফিরেছেন। এরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা বাংলাদেশী। শ্রমিক হিসেবে গিয়েছিলেন সেখানকার বিভিন্ন দেশে। তাদের প্রায় সবাই দেশে ফিরে আসছেন একেবারে। তারা জানান, এখনও দেশগুলোর কারাগারে আছেন কয়েক লাখ বাংলাদেশী। সেখানে অবস্থানকারী শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা, দুর্দশার প্রতিকারে কিংবা কারাগারে আটকদের জন্য কোন ভূমিকাই পালন করছে না বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো। এরা যখন হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন কারও মুখে হাসি ছিল না। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলেও হাসিমুখে কথা বলতে পারেননি। কেঁদেছেন অঝোরে। ঘরে ফেরা শ্রমিকদের চোখে-মুখে ছিল সর্বস্ব হারানো বেদনার ছাপ। যে টাকা খরচ করে গিয়েছিলেন তার সিকি ভাগও উপার্জন করতে পারেননি। এভাবে ফেরার কথা ছিল না তাদের। কিন্তু ফিরছেন। আর যাওয়া হবে না। সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদের। প্রতারিত হয়েছেন নিয়োগকারী কোম্পানির কাছ থেকে। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে শ্রমিকদের। অন্য দেশগুলোর প্রতি সুবিচার দেখানো হলেও বাংলাদেশীদের জন্য কোনই সহানুভূতি দেখাচ্ছে না আরব বিশ্বের দেশগুলো। এজন্য বাংলাদেশ সরকারও কোন ভূমিকা পালন করছে না। ফলে প্রতিদিনই রেমিটেন্স পাঠানো এসব মানুষের ঘরে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে।
গতকাল যখন বিমানবন্দরের বাইরে তাদের সঙ্গে কথা হয়, তখন অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের পানি চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকরা সুখে নেই। তাদের মধ্যে চলছে মাতম। চাকরি হারানো, পাওনা টাকা না পাওয়া, সুযোগ থাকার পরও বাংলাদেশীদের কাজ করতে না দেয়া, সরকারি ভাবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, অবহেলা আর নির্যাতন- এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবজমিনকে তারা জানান, খরচের টাকা সুদে নিয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। উদ্দেশ্য ছিল, দেনা শোধ করে সংসারে সুখ আনবেন। তাই দূর পরবাসে থেকেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু সুদে নেয়া সেই টাকা আর শোধ হয়নি। বরং পরিশোধ না করায় দেনার পরিমাণ বেড়েছে কেবল। তাই দেশে ফিরলেও তারা এখন রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। বিমান থেকে নেমেই তাই বললেন কেউ কেউ- কি হবে এখন জানি না।
সুখের খোঁজে যাওয়া এসব মানুষের চোখে এত হতাশা কেন? কান্নাই বা কেন তাদের একমাত্র সম্বল? কেন এত ক্ষোভ? তারা নিজেরাই দিয়েছেন এর উত্তর। বিমানবন্দরে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরব, দুবাই, ওমান, কাতার, বাহরাইন, জর্দান থেকে সব হারিয়ে দেশে ফেরা মানুষের স্রোতই বেশি। যে বিমানে করে তারা আসছেন তাতে কোন সিটই ফাঁকা থাকছে না। কিন্তু ওই একই বিমান যাওয়ার সময় অর্ধেক যাত্রী গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারছে না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় আসা চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের প্রায় সব যাত্রী ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা। বিমানবন্দরে এদের যে ক’জনের সঙ্গে আলাপ হয়, তাদের বেশির ভাগকে একেবারে চলে আসতে হয়েছে। আবার ফিরবেন এমন যাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম।
সকাল ১১টায় এয়ার দুবাইয়ের ফ্লাইটে এসেছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার নর কতমপুরের ইউনূস। ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দুবাই গিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। ডকলেন কোম্পানি নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য যাওয়া। গত ৭ মাস ধরে কোম্পানি তাকে দিয়ে কাজ করালেও কোন বেতন দিচ্ছিল না। এক সময় তাকে উল্টো ধরিয়ে দেয়া হয় পুলিশে। বলা হলো সে অবৈধ। পুলিশ অভিযোগ নিলো কিন্তু তা সত্য কিনা বিবেচনায় না নিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো। সেখানে ১ মাস ১৩ দিন জেল খেটে তিনি দেশে ফিরেছেন। এজন্য দেশ থেকে টিকিটের ১৩,০০০ টাকা পাঠাতে হয়েছে। ঢাকা পৌঁছে বাড়ি যাওয়ার পয়সা নেই তার। সফরসঙ্গীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি যাবেন। বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশকে এখন আর কেউই ভাল চোখে দেখছে না। নানা কারণে এদেশের শ্রমিকদের ওপর তাদের বিরক্তি। সুযোগ পেলেই নির্যাতন করা হচ্ছে। তার মতে, সেখানে কারাগারগুলোতে বিদেশীদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই বাংলাদেশী। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু ধরে নিয়ে জেলে রেখে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশে। এমনকি ছুটিতে আসা শ্রমিকদেরও এয়ারপোর্ট থেকে ধরে নিয়ে জেল খাটিয়ে একেবারে বিদায় করে দেয়া হচ্ছে। এখনও শুধু দুবাইয়ের বিভিন্ন জেলে আটক আছেন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ বাংলাদেশী শ্রমিক। জেলে যেমন শারীরিক নির্যাতন করা হয় তেমনি রাখা হয় মানসিক চাপেও। দুই বেলা পাতলা রুটি এবং একবেলা ডাল আর ঝোল দেয়া হয়। টিকিটের পয়সা নেই বললে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। দেশ থেকে টাকা আনতে দেরি হলে কারাগারে গিয়ে পুলিশ নির্বিচারে পেটায়। তিনি জানান, যে ফ্লাইটে এসেছেন, তার সঙ্গে আসা শ্রমিকদের মধ্যে জেল খেটে এসেছেন ৩০ জন। তারা একই সঙ্গে ছিলেন। ওই ফ্লাইটে আসা মাদারীপুর সদর উপজেলার কুন্তিপাড়ার বাসিন্দা বেলাল আহমদ কাজ করতেন ডায়মন্ড অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ফার্মে। তিনি রঙের কাজ করতেন। তাকে যেদিন পুলিশ ধরে আনে সেদিন সাতুয়া এলাকায় কাজে ছিলেন। তার পোশাকে তখনও রঙ লাগানো ছিল। জোর করে তাকে কোন কারণ ছাড়াই আটক করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আউট পাস দিতে দেরি হওয়ায় ২৪ দিন জেল খেটেছেন। তিনি জানান, তার চেনা ৪ বৈধ শ্রমিককে বাস থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকার অপরাধে পুলিশ বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছে। পরে জেল দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এমন হাজারো ঘটনা ঘটছে। এ মুহূর্তে বৈধ হয়েও প্রায় লুকিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশীদের এই অবস্থা উত্তরণে ভূমিকা রাখতে পারতো সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু তার কোন প্রমাণ পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। ফলে সেখানে অবস্থানকারীদের মাঝে হতাশা বাড়ছে। এয়ার এরাবিয়ানে দেশে ফেরা যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দুর্জয়নগর গ্রামের আবুল কালাম জানান, সেখানে যাওয়ার পর অনেক কোম্পানি পাসপোর্ট নিয়ে যায়। ধরা পড়লে কোন অজুহাতই আমলে নেয় না পুলিশ। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হলে জানানো হয় পাসপোর্ট তারা নেয়নি। ‘আনা মাফি মালুম’ (আমি কিছু জানি না) বলে পুলিশের কাছে দাবি করে। তখন অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। তারা একতরফা দায়ী করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের। তিনি তার এলাকার কসবা উপজেলার আলমগীর নামের একজনের কথা জানান যার পাসপোর্ট কোম্পানি গায়েব করে দিয়েছে। তিনি এখন পালিয়ে আছেন। আবুল কালাম বলেন, দুবাইর শারজার আল উর্দুন ক্লিনার কোম্পানির মাধ্যমে যাই। সেখানে কাজ করতাম সরকারি প্রতিষ্ঠানে। কোন কারণ ছাড়াই ২০১১ সালের ২০শে নভেম্বর আমাকে কাজ থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে কিছুদিন অন্যত্র কাজ করলেও গত ৬ মাস বেকার ছিলাম। সেখানে বাংলাদেশী শ্রমিক আউট পাসের জন্য দূতাবাসে গেলে সহযোগিতা করা হয় না। যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের রোহিঙ্গা বলে সহযোগিতা না করে দূতাবাস থেকে বিদায় করে দেয়া হয়। আলমগীরের সঙ্গে এই আচরণই করেছে দূতাবাস। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সাতিয়াদি গ্রামের কৃষক বাদল বিদেশ যাওয়ার আগে সুদে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। দেড় বছর পর গতকাল তিনিও ফিরেছেন খালি হাতে। কথা ছিল সুদ দেবেন ১ লাখ। যত দিন দিতে পারবেন না প্রতি ধানের মওসুমে তাকে দিতে হবে ১০ মণ করে ধান। দাদন ব্যবসায়ীকে সেই ধান পরিশোধ করছেন বছরে দুই বার করে। কিন্তু বিদেশে টাকা উপার্জন করতে না পারায় সুদের এক টাকাও ফেরত দিতে পারেননি তিনি। এখন দেশে ফেরার পর তার ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে আছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বলেন, পুঁজি যা ছিল সব খুইয়েছি। কি করবো এখন ভেবে পাই না। আমার মতো হাজার হাজার শ্রমিক এভাবে ফিরছেন। সরকারের কোন আইনি সহায়তা তারা পান না। তাই অনেকে পাওনা টাকা না পেয়েই ফিরছেন। শ্রমিকরা জানান, অনেক ভুয়া কোম্পানি বাংলাদেশী শ্রমিকদের সেখানে নিয়েছে। তাদের জন্য প্রতারিত হয়েছেন। সেখানে দুঃখ-দুর্দশায় তারা কান্না করলেও শোনার কেউ নেই। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকার ওই দেশগুলোকে কোন সুপারিশ করছে- এমন কথা তাদের জানা নেই।

বাংলা সাহিত্যের মহানায়কের ৬৪তম জন্মদিন আজ

বাংলা সাহিত্যের মহানায়কের ৬৪তম জন্মদিন আজ


দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৩তম জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্যের এ মহানায়ক ১৯৪৮ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুধু কথাসাহিত্যিকই নন-একাধারে নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, চলচ্চিত্র পরিচালক থেকে শুরু করে আরও নানা পরিচয় আছে তার। তাই বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে তিনি অন্যতম শক্তিশালী একটি জায়গা দখল করে আছেন। বাবা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তাকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে থাকতে হয়েছে। এ কারণে তাকে স্কুল ও কলেজও পাল্টাতে হয়েছে ঘনঘন। তিনি গ্রাজুয়েশন শেষ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর পলিমার ক্যামিস্ট্র্রির উপর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামিস্ট্রি বিভাগে শিক্ষকতার কাজে। দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার সাহিত্যিক জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। বাংলাদেশের পাঠককে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার যে অবদান তা সাহিত্যপ্রেমী মাত্রই বুঝতে পারেন। তার রচিত প্রতিটি বই পাঠক গ্রহণ করেছে সাদরে। তার রচিত উপন্যাস ও গল্প নিয়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে হিমু, মিসির আলী আর বাকের ভাইয়ের মতো চরিত্র তৈরিতে তিনি যে লেখনির দক্ষতা দেখিয়েছেন তাতে তাকে ও তার সৃষ্টিকে আজীবন মনে রাখবে পাঠক। হিমু সিরিজের বই, মিসির আলী সিরিজের বইসহ শ্রাবণ মেঘের দিন, অপেক্ষা, রূপার পালঙ্ক, লীলাবতী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা জ্যোস্না ও জননীর গল্পসহ অসংখ্য সুপাঠ্য বই তিনি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য। তার বেশ বড় মাপের অবদান রয়েছে বাংলাদেশের নাট্যজগতে। তার রচিত অনেক উপন্যাস ও গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে নাটক। এর মধ্যে অনেকগুলোই তার চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য এ ধারাবাহিক ও একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’ ‘কোথাও কেউ নেই’ প্রভৃতি যেগুলোর কথা পাঠক চিরদিন মনে রাখবে। তার রচিত উপন্যাস অবলম্বনে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘আমার আছে জল’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘দুই দুয়ারি’, ‘দূরত্ব’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘প্রিয়তমেষু’। হুমায়ূন আহমেদ তার অনবদ্য রচনা ও চিত্রনাট্য ও পরিচালনার জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাকসাস পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই আমেরিকার নিউ ইয়র্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কান চুলকানোর আড়ালে...


কান চুলকানোর আড়ালে...


নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, মিটফোর্ড হাসপাতাল

কিছুদিন ধরে কটনবাড খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে আপনার। কোন ড্রয়ারে, কোথায় রাখা আছে, ভালোই জানা হয়ে গেছে। কারণ, কান চুলকায়। এমনটি হয় অনেকেরই। অসুখটির নাম অটোমাইকোসিস।

কেন হয়
 রোগটা সেসব দেশেই বেশি হয়, যেখানকার আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র। যেমন—বাংলাদেশ।
 রোগটা তাঁদেরই ভেতর বেশি হয়, যাঁরা কোনো কারণবশত দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন।
 যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা যাঁদের রয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব।

কারা দায়ী
চুলকানি হয় ছত্রাকজাতীয় জীবাণু থেকে। এরা হচ্ছে উদ্ভিদ। দেহের অন্যত্র এটি থেকে দাদসহ নানা রোগ হয়। এদের মধ্যে অ্যাসপারজিলাস নাইজার দায়ী ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং ক্যানডিডা অ্যালবিকানস দায়ী ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ডারমাটোফাইট ও একটিনোমাইসেসের মাধ্যমেও কখনো কখনো রোগটি হতে পারে।

উপসর্গ
 কান বন্ধ হয়ে আছে—এমন উপলব্ধি;
 কানে অস্বস্তি;
 কান থেকে ধূসর, সবুজ, হলুদ বা সাদা রঙের নিঃসরণ বেরিয়ে আসতে পারে;
 জমা হতে পারে ভেজা খবরের কাগজের মতো ময়লা।

চিকিৎসা
 কানের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
 ছত্রাকবিনাশী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যেমন—
নাইস্টাটিন ক্রিম, ক্লোট্রিমাজল, ইকোনাজল ও জেনশিয়ান ভায়োলেট।
ওষুধগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাইড্রোকর্টিসন যুক্ত থাকলে তা ড্রাগের প্রতি টিস্যুর অতিসংবেদনশীলতা রোধ করে এবং কানে জ্বালা করার ভয় কমায়। ক্রিম বা ফোঁটা আকারে এগুলো ব্যবহার করা যায়। দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করলে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা কমে যায়।
 অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ।
এ ছাড়া কানে যদি ব্যথা শুরু হয়, তা হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসাও করণীয় হয়ে পড়ে।
খুব সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা না করলে কানের পর্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অটোমাইকোসিস রোগটি বহিঃকর্ণের। কিন্তু কানপাকা রোগীদের অর্থাৎ, মধ্যকর্ণের প্রদাহের কারণে যাদের কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে, তাদের কানেও মিশ্র সংক্রমণ হতে পারে।

প্রতিরোধ
 চাই সাধারণ স্বাস্থ্যকুশলতা উন্নয়নের প্রয়াস এবং ভিটামিন ও পুষ্টির মান বাড়ানো;
 মাঝেমধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নেওয়া;
 ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা;
 নিরুৎসাহিত করা চাই কান চুলকানোয় দেশলাইয়ের কাঠি, মোড়ানো রুমাল, মুরগির পালক, চাবি ও কটনবাডের ব্যবহার।

Monday, November 12, 2012

রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ


রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ

 

ডায়াবেটিস একটি মেটাবলিক বা বিপাকীয় রোগ। আর আক্রান্ত রোগীকে এ রোগ বেশ বিপাকেও (বিপদে) ফেলে দিতে পারে। ডায়াবেটিস হলে রক্তের চর্বি বা লিপিডের মাত্রা খারাপের দিকে মোড় নেয়। ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের পরিমাণ কমে যায় আর খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যায়। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বেড়ে যায়। এ অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিক ডিসলিপিডেমিয়া বা ডায়াবেটিসের জন্য রক্তের লিপিডের টালমাটাল অবস্থা। এতে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রক্তের লিপিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সুতরাং, ডায়াবেটিসের কারণে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা কমাতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো রক্তের চর্বির মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এ পরীক্ষাকে বলে ‘লিপিড প্রোফাইল’।
লক্ষ্য স্থির করতে হবে এলডিএলের মাত্রা
ডায়াবেটিস হলে রক্তে এলডিএলের মাত্রা বাড়তে থাকে। রক্তে এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকলে তা রক্তনালির দেয়ালে জমা হয়। রক্তনালির ভেতরটা সরু হয়ে যায়। এর ভেতর দিয়ে রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। হূৎপিণ্ডের রক্তনালি সরু হয়ে গেলে হূৎপিণ্ডের পেশি প্রয়োজনের তুলনায় কম রক্ত পায়। এতে হূদেরাগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই সুস্থতার জন্য রক্তে এলডিএলের মাত্রা কমানো প্রয়োজন। প্রতি ডেসিলিটার রক্তে বা প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে এলডিএলের মাত্রা ১০০ মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ৭০ মিলিগ্রামের কম থাকলেই ভালো। রক্তে এলডিএলের মাত্রা কম রাখতে পারলে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায়।
এইচডিএলের মাত্রা
ডায়াবেটিস হলে রক্তে এইচডিএলের মাত্রা কমতে থাকে। এইচডিএলের কাজ রক্তনালির দেয়াল থেকে জমে থাকা খারাপ কোলেস্টেরলকে সরিয়ে দেওয়া। তাতে রক্তনালির ভেতর দিয়ে সহজেই রক্ত প্রবাহিত হতে পারবে। তাই রক্তে এইচডিএলের মাত্রা কমে গেলে তা বাড়াতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে এইচডিএলের মাত্রা ৪০ মিলিগ্রামের বেশি আর নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রামের বেশি থাকা প্রয়োজন। যত বেশি থাকে, তত বেশি ভালো। যদি ৬০ মিলিগ্রামের বেশি থাকে, তাহলে তা হূদেরাগ প্রতিরোধে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা
ডায়াবেটিসে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বেড়ে যায়। এর মাত্রা বেড়ে গেলে এলডিএলের মতোই তা রক্তনালির দেয়ালে জমা হয়। ফলে রক্তনালির ভেতরটা সরু হয়ে যায়। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায়। সরু রক্তনালির ভেতর দিয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুতরাং, রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে হবে। প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত। তাতে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রক্তের লিপিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় হচ্ছে তিনটি মূলমন্ত্র:
শৃঙ্খলা
সব সময় কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে আছে: নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও সময়মতো উপযুক্ত খাবার আর ওষুধের প্রয়োজন পড়লে নিয়মিত ওষুধ সেবন বা ইনসুলিন গ্রহণ।
খাবারদাবার
শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। আঁশসমৃদ্ধ খাবারদাবারও বেশি খাওয়া উচিত। রিফাইন্ড শর্করা কম, অরিফাইন্ড শর্করা পরিমাণমতো খেতে হবে।
ওষুধ
ওষুধের প্রয়োজন পড়লে মুখে খাওয়ার ওষুধ খেতে হবে। আর ইনসুলিন ইনজেকশন দরকার হলে ইনসুলিন নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে রক্তের লিপিডের মাত্রা সঠিক রাখার চেষ্টার পাশাপাশি এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমানো ও এইচডিএলের মাত্রা বাড়ানোর উপায় অবলম্বন করতে হবে। আর এসব করা যায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে:
খাবারে চর্বি গ্রহণে সতর্কতা
রান্নায় তুলনামূলক কম তেল-চর্বি ব্যবহার করা। কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার কম খাওয়া। স্যাচুরেটেড তেল, ট্রান্সফ্যাট কম খাওয়া; আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি খাওয়া।
নিয়মিত ব্যায়াম করা
সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দ্রুতলয়ে হাঁটা। বাড়িঘরের দৈনন্দিন কাজ নিজ হাতে করা। লিফটে নয়, হেঁটে সিঁড়িতে ওঠা। গন্তব্যে পৌঁছার একটু আগে রিকশা বা ট্যাক্সি থেকে নেমে বাকি পথ হেঁটে যাওয়া বা বাসা থেকে বের হয়েই রিকশা, ট্যাক্সিতে না উঠে একটু দূরে হেঁটে গিয়ে ওঠা—এসবের মাধ্যমেও বেশ ব্যায়াম হবে। ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে, খারাপ কোলেস্টেরল কমবে।
শরীরের ওজন কমানো
ধীরে ধীরে শরীরের ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক রাখা। এর ফলে শরীরের চর্বি কমবে, কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকবে।
আঁশযুক্ত খাবার
যেমন-শাকসবজি, লাল আটা, লাল চালের ভাতজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় বেশি রাখা; খাদ্যের আঁশ রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে খুবই কার্যকর।
ধূমপান পরিহার করা
ধূমপান না করলে তাও রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

দংশন করে দেশকে নীল করে ফেলেছেন


দংশন করে দেশকে নীল করে ফেলেছেন


প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সর্প আপনারা, আপনারাই দংশন করে পুরো দেশকে নীল করে ফেলেছেন। এখন আবার রামুতে টাকাপয়সা দিয়ে ওঝা হয়ে ঝাড়ার চেষ্টা করছেন।’
আজ সোমবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের গণমিছিল কর্মসূচি শুরুর আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। ‘সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগের’ প্রতিবাদে ঢাকায় গণমিছিল করে ১৮-দলীয় জোট।
বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির কারণে বেলা তিনটার পর ফকিরাপুল থেকে মগবাজার সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এ রকম থাকে পাঁচটা পর্যন্ত। এতে চাপ পড়ে আশপাশের এলাকার রাস্তায়। মগবাজার, রামপুরা, মহাখালী, পল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীকে কর্মক্ষেত্র থেকে ঘরে ফেরার সময় পড়তে হয় বাড়তি ভোগান্তিতে।
কর্মসূচি শুরুর আগে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বারবার বাড়ছে। জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই। তিনি সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সরকারের লোকজন দুর্নীতিতে জড়িত।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু তাদের মাঠেই নামতে দেওয়া হচ্ছে না। শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হয় না। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, কোন আইনে এটি করা হচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিকেল চারটার দিকে মিছিল শুরু হয়। মূলত কর্মসূচিতে যোগ দিতে দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে বিজয়নগর, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তা নেতা-কর্মীদের দখলে চলে যায়। সরকারবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।
মিছিলটি কাকরাইল, মৌচাক হয়ে মগবাজারের সেঞ্চুরি আর্কেডের সামনে এলে যানজটে আটকা পড়ে। প্রায় আট-দশ মিনিট মিছিলটি এখানে আটকে থাকে। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে মগবাজার মোড়ে এসে মিছিল শেষ হয়।
মিছিলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাইরে ১৮-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন শিবিরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কর্মসূচি চলাকালে নয়াপল্টন থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, সদস্যসচিব আবদুস সালাম, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, মজিবুর রহমানসহ ১৮-দলীয় জোটের নেতারা অংশ নেন।

বাহারি ফুল দাদমর্দন


বাহারি ফুল দাদমর্দন



গ্রামে দাদমর্দনের তেমন কদর নেই। কারণ এই গাছে কোনো সুমিষ্ট ফল হয় না, কাঠও মূল্যহীন। নিতান্তই গুল্মশ্রেণীর গাছ। ময়লার ভাগাড় কিংবা পরিত্যক্ত স্থানে আপনাআপনিই জন্মে।
কিন্তু শহরে এর অনেক দাম। বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হয় পৌষ্পিক ঐশ্বর্য উপভোগ করতে, না হয় ঔষধি গাছ হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনে।
তবে, সবকিছু ছাপিয়ে এই ফুলের নজরকাড়া রূপই আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। ইদানীং অবশ্য আলংকারিক পুষ্পবৃক্ষের জন্যই বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হচ্ছে। আপনি যদি হেমন্তের কোনো এক আলোঝলমল দিনে মিষ্টি রোদ গায়ে মাখিয়ে গ্রামের কোনো নির্জন পথে বেড়াতে যান, তাহলে হয়তো দাদমর্দনের দেখা পাবেন। খাড়া পুষ্পদণ্ডে হলুদ সোনালি রঙের অসংখ্য ফুল আপনার মনকে আলোড়িত করবে। ঢাকায় শিশু একাডেমীর বাগান ও রমনা নার্সারিতে কয়েকটি গাছ দেখা যায়।
এরা ক্যাশিয়া জাতের ফুল। আমাদের দেশে ক্যাশিয়ার আরেকটি বুনো জাতের নাম কালকাসুন্দা। পথের ধারে ও পাহাড়ে অঢেল দেখা যায়। দাদমর্দন কখনো কখনো ডোবার ধার, খেতের মধ্যবর্তী আল এবং অনাবাদি স্থানেও জন্মায়। এদের ইংরেজি নাম Ringwoৎm Bush, Ringwoৎm Shৎub, Ringwoৎm Senna ইত্যাদি।
সারা দেশে মূলত ঔষধি গাছ হিসেবেই এরা পরিচিত। বিশেষ করে চর্মরোগে এই গাছ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে দাদ ও পাঁচড়ায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার্য। এখানে দাদের বাহ্যিক নিরাময়ের জন্য টাটকা পাতার লেই ব্যবহার করা হয়। আবার ঝলসানো পাতাও রেচক। এসব ছাড়াও যৌনরোগ চিকিৎসায় এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে এই গাছ সাধারণত টনিক হিসেবে কাজে লাগে। ব্যাপক বৃদ্ধি ও বিস্তারের ফলে বর্তমানে নিউগিনিতে আগ্রাসী প্রজাতির বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
দাদমর্দন দ্রুত বর্ধনশীল নরম-কাষ্ঠল গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড পুরু ও হলদেটে। ফুল ফোটার মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি। ডালের আগায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার খাড়া ডাঁটায় হলুদ রঙের ফুল নিচ থেকে ওপরের দিকে ফোটে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাচ্ছেন না

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাচ্ছেন না


ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলো ডটকমকে প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর বাতিলের খবরটি নিশ্চিত করেছে। উন্নয়নশীল আট জাতির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল।
বিস্তারিত আসছে...........

তৈরি হল অদৃশ্য পোশাক!


তৈরি হল অদৃশ্য পোশাক!



দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকেরা এমন একটি পোশাক বা আলখাল্লা তৈরির চেষ্টা করছিলেন; যা পরলে কারো চোখে তা আর ধরা পড়বে না। এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের কয়েকজন গবেষক সম্প্রতি কোনো বস্তুকে আলখাল্লায় ঢেকে বস্তুকে অদৃশ্য করার পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন।
গবেষকেদের দাবি, প্রথমবারের মতো কোনো ধরনের ফাঁকফোকর ছাড়াই এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যাতে এক সেন্টিমিটার আকৃতির সিলিন্ডারকে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করেও দেখা সম্ভব নয়।
যুক্তরাজ্যের ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০০৬ সাল থেকে অদৃশ্য আলখাল্লা তৈরিতে কাজ করছেন। তবে প্রতিটি আলখাল্লাই কোনো না কোনো আলোর ব্যবহারে আলখাল্লার পেছনের বস্তুটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। তাই পূর্ণাঙ্গ আলখাল্লা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
গবেষকেদের দাবি, তাঁদের তৈরি পদ্ধতিতে কোনো বস্তু একদিক থেকে সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে ফেলা সম্ভব।

শাহরুখের সৌন্দর্য

শাহরুখের সৌন্দর্য

 


বলিউডের নায়িকাদের জন্য নিজেদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি নাকি ইদানীং বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে; অন্তত যখন শাহরুখের বিপরীতে তাঁদের অভিনয় করতে হয়। এমন বিস্তর কানাঘুষাও চলছে যে, শাহরুখের সঙ্গে রোমান্টিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে হলে তাঁর নায়িকাকে যথেষ্ট সুন্দর হতে হবে। কারণ, শাহরুখের সৌন্দর্যর কাছে তাঁর নায়িকাদেরও নাকি ইদানীং ম্লান দেখাচ্ছে!
সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বলিউডের অভিনেতা শাহরুখ খান জানিয়েছেন, ইদানীং তঁাকে বিভিন্ন জন তাঁর ছবির নায়িকাদের চেয়েও সুন্দর বলতে শুরু করেছেন। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, কফি আর ধূমপান ছাড়া তাঁর আর কোনো বদভ্যাস নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুম, পরিবারকে যথষ্টে সময় দেওয়া হয়। এই ৪৭ বছর বয়সেও তিনি তারুণ্য ধরে রেখেছেন। অবশ্য শারীরিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিশেষভাবে তেমন কোনো শরীরচর্চা করেন না তিনি। কথা প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, তাঁর শরীরের চেয়েও মন বেশি চঞ্চল।
প্রায় আট বছর পর যশ চোপড়া নির্মিত রোমান্টিক চলচ্চিত্র `যব তক হ্যায় জান' চলচ্চিত্রে ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মার সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, নায়িকা সুন্দর হলে তবেই রোমান্টিক গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আট বছর খোঁজ করার পর তবে ক্যাটরিনা ও আনুশকাকে পছন্দ হয়েছে তাঁর।

১০ কোটির রেকর্ড মোবাইল সিমের

১০ কোটির রেকর্ড মোবাইল সিমের

 


১০ কোটির রেকর্ড স্পর্শ করলো মোবাইল সিম। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে সিম বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। প্রায় সবগুলো অপারেটর মাত্র এক মাসেই কমপক্ষে ১০ লাখ গ্রাহক বাড়িয়েছে। প্রায় অপরিবর্তিত আছে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক। সমপ্রতি থ্রিজি সিস্টেমের কারণে গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। উল্টো কমেছে দেশের সবচেয়ে পুরনো অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সমপ্রতি তাদের এক হিসাবে দেখিয়েছে অতীতের যে কোন মাসের তুলনায় গত সেপ্টেম্বরে মোবাইল ফোনের সিম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে গ্রাহক বেড়েছে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার জন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী গ্রাহক বৃদ্ধির এ সংখ্যা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে একবার ২০ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিটিআরসি ২০০৭ সালের মে থেকে ছয় মোবাইল ফোন অপারেটরের মাসওয়ারী গ্রাহক সংখ্যার হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে মোবাইল সিমের সংখ্যা ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার। সংশ্লিষ্টরা জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মিলে ওই সংখ্যা ১০ কোটির রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বিটিআরসির হিসাবে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রামীণফোনের। এ সময়ে তারা ১১ লাখ ৫১ হাজার গ্রাহক বাড়িয়েছে। বাংলালিংক একই সময়ে বাড়িয়েছে ১০ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক। তৃতীয় গ্রাহকসেবা অপারেটর রবির গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার। সেখানে এয়ারটেল বাড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার গ্রাহক। সেপ্টেম্বরে এত বেশি গ্রাহক বাড়লেও আগস্টে ছয় অপারেটর মিলে গ্রাহক বাড়াতে পেরেছিল মাত্র ৮ লাখ ১৪ হাজার। সে তুলনায় সেপ্টেম্বরে এসে সাড়ে তিন গুণ গ্রাহক বেড়েছে। এর আগে জুলাই মাসে গ্রাহক বৃদ্ধি পায় ৯ লাখ ২৬ হাজার। সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল সিম ১০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করলেও মূল গ্রাহক আরও কম। এ সংখ্যা কমপক্ষে ৮ কোটি হতে পারে। ওদিকে সমপ্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন অপারেটর থ্রিজি সিস্টেম চালু করায় গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে সিম বিক্রির পরিমাণও বেড়ে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯শ’ টাকা মূল্যের থ্রিজি সংযোগ দিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কল করা, মোবাইল ফোনে টেলিভিশন দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং, রিয়েল টাইম গেমিং, অডিও ভিডিও চ্যাটিং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। প্রথম পর্যায়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার নতুন সিম বিক্রি করা হবে। এখন পর্যন্ত নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সীমিত সংখ্যায় সিম বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্রাহকরা এখন কেবল রাজধানীতে থ্রিজি সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম ও জানুয়ারিতে সিলেটে থ্রিজি সেবা দেয়া হবে। টেলিটক আশা করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর চার লাখ গ্রাহক পাবেন এ সেবা। টেলিটক জানিয়েছে, ভিডিও কলের দাম একটু বেশি হলেও ব্যান্ডউইথ বিকোবে পানির দামে। ৫১২ কিলোবাইট গতির ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ বান্ডেলের দাম এক হাজার টাকা। ভিডিও এবং ভয়েস কল দু’টির সঙ্গেই থাকছে দশ সেকেন্ডের পালস। তারা জানায়, এত কম দামে এশিয়ার কোথাও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিক্রি হয় না। গ্রাহক বাড়লে তারা আরও কমে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করবেন।

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জন্য ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত পাকিস্তানের। ওই সময়ে যে গণহত্যা ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে অবশ্যই পাকিস্তানকে তা স্বীকার করতে হবে। গতকাল পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘দ্য অ্যাপোলজি ইস্যু’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের অনেকেরই গভীর ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এটা একটি ভাল লক্ষণ। এই সম্মেলন এ মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই যুদ্ধের সময় ব্যাপক হারে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনায় ঢাকা পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে একটি যথাযথ ক্ষমার আহ্বান প্রত্যাশা করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০০২ সালে ওই হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু তা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের মতে, এখনও দু’দেশের মধ্যে অনিষ্পন্ন বেশ কিছু বিষয় আছে। তিনি বলেন, হিনা রব্বানি খার বলেছেন- পাকিস্তান বিভিন্নভাবে তার দুঃখ প্রকাশ করেছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। এক্ষেত্রে দু’পক্ষের শিক্ষাবিদ ও আলোচকদের মধ্যে বিতর্ক চলতেই থাকবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে কেউ কেউ বলেন হাজার হাজার মানুষ, কেউ বলেন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে বিতর্ক-লড়াই চলতেই থাকবে। তবে যে কথা অস্বীকার করা যাবে না তাহলো- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতাপন্থি, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ সমর্থকদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল। নির্যাতিতরা ছিলেন একীভূত পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। পরিণামে ভারতীয়রা মাঠে নামে এবং বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। এজন্য পাকিস্তানকে তার ভুল স্বীকার করতেই হবে। তা করলে পাকিস্তান অন্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যারা ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছে, তাদের দু’পক্ষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে। ক্রুসেডের সময় কনস্টানটিনোপলের ওপর হামলা ও ক্যাথলিক নয় এমন ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল ক্যাথলিকরা। এজন্য ভ্যাটিক্যান ক্ষমা চেয়েছে। যুদ্ধকালীন আগ্রাসনের জন্য কোরিয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে জাপান। এখন পাকিস্তানের জন্য সময় এসেছে তার অতীতকে অতিক্রম করে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ার।