Pages

Monday, November 12, 2012

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জন্য ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত পাকিস্তানের। ওই সময়ে যে গণহত্যা ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে অবশ্যই পাকিস্তানকে তা স্বীকার করতে হবে। গতকাল পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘দ্য অ্যাপোলজি ইস্যু’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের অনেকেরই গভীর ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এটা একটি ভাল লক্ষণ। এই সম্মেলন এ মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই যুদ্ধের সময় ব্যাপক হারে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনায় ঢাকা পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে একটি যথাযথ ক্ষমার আহ্বান প্রত্যাশা করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০০২ সালে ওই হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু তা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের মতে, এখনও দু’দেশের মধ্যে অনিষ্পন্ন বেশ কিছু বিষয় আছে। তিনি বলেন, হিনা রব্বানি খার বলেছেন- পাকিস্তান বিভিন্নভাবে তার দুঃখ প্রকাশ করেছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। এক্ষেত্রে দু’পক্ষের শিক্ষাবিদ ও আলোচকদের মধ্যে বিতর্ক চলতেই থাকবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে কেউ কেউ বলেন হাজার হাজার মানুষ, কেউ বলেন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে বিতর্ক-লড়াই চলতেই থাকবে। তবে যে কথা অস্বীকার করা যাবে না তাহলো- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতাপন্থি, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ সমর্থকদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল। নির্যাতিতরা ছিলেন একীভূত পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। পরিণামে ভারতীয়রা মাঠে নামে এবং বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। এজন্য পাকিস্তানকে তার ভুল স্বীকার করতেই হবে। তা করলে পাকিস্তান অন্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যারা ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছে, তাদের দু’পক্ষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে। ক্রুসেডের সময় কনস্টানটিনোপলের ওপর হামলা ও ক্যাথলিক নয় এমন ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল ক্যাথলিকরা। এজন্য ভ্যাটিক্যান ক্ষমা চেয়েছে। যুদ্ধকালীন আগ্রাসনের জন্য কোরিয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে জাপান। এখন পাকিস্তানের জন্য সময় এসেছে তার অতীতকে অতিক্রম করে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ার।

No comments:

Post a Comment