Pages

Sunday, October 28, 2012

ঢাবির প্রবেশপথে রক্ষণাবেক্ষণ নেই, অবাধে চলছে ভারী যানবাহন

ঢাবির প্রবেশপথে রক্ষণাবেক্ষণ নেই, অবাধে চলছে ভারী যানবাহন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলায় অবাধে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত ভারী ও অন্যান্য যানবাহন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় দিনই ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে বহুসংখ্যক বহিরাগত যানবাহন।  এজন্য শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষর অবহেলাকেই।
 
ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে ‘ভারী যানবাহন প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। হরহামেশাই ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাতায়াত করছে বাস-ট্রাকসহ নানা ভারী যানবাহন। এতে করে নানা সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরোজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি প্রবেশপথ সব সময় খোলা থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ রয়েছে আটটি। এগুলোর কোনোটিরই নিরাপত্তাকর্মী বেশির ভাগ সময় থাকেন না। বারবার ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসানের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ।
এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোর অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়া হলেও এখনো মেরামত করা হয়নি। যেখানে সেখানে কার্পেট উঠে গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায় না। রিকশা, সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাব চালকরা আবাসিক হলগুলোতে সহজে ভাড়া যেতে চান না। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোশাহিদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যাতায়াত করলে নিজের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।”
ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বহিরাগত ভারী যানবাহনসহ নানা ধরনের গাড়ি চলাচলকে এর কারণ হিসেবে জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জেবরা ক্রসিং, ওভারবব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় যাতায়াতের ফলে গত বিশ বছরে ১১ জন শিক্ষার্থী অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট শাহবাগে বাসের ধাক্কায় নিহত হন তৌহিদ নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির যানবাহন চলছে। ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকের যন্ত্রণায়ও অতিষ্ঠ অনেকে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট আটটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বংশাল, চাঁনখারপুল, গুলিস্তান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন। এসব প্রবেশপথ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘‘ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দু-এক দিন এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।’’
জানা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, বাইসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব এবং বাসসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এছাড়া কয়েক হাজার গাড়ি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসের মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, স্যার এ এফ রহমানসহ বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে রাত-দিনে সমানে যানবাহন চলাচল করে। ৎ
জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী মূল ক্যাম্পাসের বাইরে যেমন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ও ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে থাকেন এবং যেসব ছাত্রছাত্রী সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন,  তাদের নীলক্ষেতের দুটি ক্রসিং রোড পার হওয়ার সময় বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কেননা ওই হল ও ইনস্টিটিউট পিলখানার ৩ নম্বর গেটে অবস্থিত।
ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ওই দুই ছাত্রী হলের জন্য দুটি মিনি বাস বরাদ্দ থাকলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
যানজটের কারণে ইতোমধ্যে নীলক্ষেত হয়ে নিউমার্কেট দিয়ে বিডিআর গেট পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। তবে পরিচয়পত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখানোর সময় বিড়ম্বনা পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন মৈত্রী হল, ফজিলাতুননেছা হল এবং শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা ।
 
এ বিষয়ে শাহবাগ থানা ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেবো। তবে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।’’
ক্যাম্পাসে যানজট এবং প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ক্যাম্পাস দিয়ে বহিরাগত যান চলাচল করায় নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

আন্টার্কটিকায় বরফ বাড়ছে

আন্টার্কটিকায় বরফ বাড়ছে

আন্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরুর ভূমি আবিষ্কার করা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে। রুশ সমুদ্র অভিযাত্রী লাজারেভ ও বেল্লিনসহাউজেন এই কাজ করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে সেখানে প্রথম সোভিয়েত মেরু স্টেশন ‘মিরনি’ খোলা হয়। তার পর থেকে রাশিয়া ষষ্ঠ মহাদেশের গবেষণায় নেতৃস্থানীয় জায়গা দখল করে রেখেছে। সেখানে বর্তমানে কাজ করছে ১১টি দেশের ৬০ খানি ঘাঁটি।

 মনে হয়, আন্টার্কটিকা এলাকায় বেঁচে থাকাই সম্ভব নয়। চারিদিকে শুধু বরফ আর এমনই ঠাণ্ডা যে, গরমে তা মাইনাস ২০ এবং শীতে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো বাতাসের জোর আর যাবতীয় সৌররশ্মিসহ প্রবল রোদ, তা সত্ত্বেও এ ভয়ঙ্কর এলাকা মানুষকে টানে।

রাশিয়ার ‘বেল্লিনসহাউজেন’ স্টেশনে ২০০৭ সালে ‘পবিত্র ত্রয়ী’র গির্জায় প্রথম বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছিল। দক্ষিণ মেরুতে এমনকি শিশুর জন্মও হয়েছে। প্রথম বাচ্চা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। কিন্তু এখানকার বেশির ভাগ লোকই মেরু স্টেশনের বিজ্ঞানি। এখানে রাশিয়ার সাতটি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী, দুটি ঋতুনির্ভর। সেখানে কাজ করছে দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জাহাজ ‘অ্যাকাডেমিক ফিওদরভ’ ও ‘অ্যাকাডেমিক কারপিনস্কি’।

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া। কারণ ষষ্ঠ মহাদেশ বিশ্বের আবহাওয়ায় বিশাল প্রভাব ফেলে, এ কথা উল্লেখ করে আর্কটিক ও আন্টার্কটিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর আলেকজান্ডার দানিলভ বলেছেন: ‘সারা বিশ্বের উষ্ণায়নের ঝুঁকি রয়েছে। এই সম্পর্কে আন্টার্কটিকা বিশ্বের জীবজগতের উপরে নির্দিষ্ট রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ এখানের বরফ গলতে শুরু করলে মহাসমুদ্রের জলের স্তর উঁচু হবে। এর অর্থ হল্যান্ডের মতো বহু দেশ পানির নিচে চলে যাবে। এরর মধ্যে রাশিয়ার অংশও রয়েছে। এটা খুবই গুরুতর বিপদ।’

বর্তমানের আন্টার্কটিকা সংক্রান্ত পরিকল্পনার মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বরফের নিচে থাকা ‘ভস্তক’ হ্রদের পানি অবধি পৌঁছনোর কাজ করছেন। এর জন্য প্রায় ৪০০০ মিটার বরফ খুঁড়তে হচ্ছে। এখন বাকি মাত্র ২০ মিটার। সম্ভবত এটা এ বছরেই শেষ করা যাবে। আর তাহলে এটা মানুষের মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মতই বড় মানবসভ্যতার আবিষ্কার হবে। এই হ্রদ বৈকালের অর্ধেক কিন্তু এর নিচে বা পানিতে একবার পৌঁছনো গেলেই হতে পারে যে, একেবারেই অন্য ধরনের প্রাণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, যা আগে কখনও জানা ছিল না।

এ হ্রদ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে বিগত ৪২০ হাজার বছরে পৃথিবীর আবহাওয়াতে কি ধরনের পরিবর্তন হয়েছে – এ কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমির ভূগোল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির কতলিয়াকভ বলেছেন: ‘এটা চারটে আবহাওয়ার বৃত্ত, যখন পরিস্থিতি ছিল হিম যুগের, আর তার পরে মধ্য হিম যুগের। বর্তমানে আমরা রয়েছি মধ্য হিম যুগে, আর আগের যুগের পৃথিবীর মাটির তাপমাত্রা থেকে এখনকার তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি কম হয়েছে। তার মধ্যে আবার বিশ্বে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে, যা তখন ছিল না। মানব সমাজের ভাগ্য ভালো যে, আমাদের কাজকর্মে বিশ্বের প্রধান আবহাওয়ার প্রক্রিয়াতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রকৃতির যন্ত্র আগের মতোই কাজ করছে, তা ভালোই ভারসাম্য রেখে চলে।’
মেরুতে কাজ করা বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে যে, আর্কটিকের তুলনায় আন্টার্কটিকায় বরফ জমা কমছে না, বরং তা উল্টো বাড়ছে, অর্থাৎ দক্ষিণ মেরু উত্তর মেরুর সঙ্গে ভারসাম্য রেখেই রয়েছে। সূত্র: রেডিও রাশিয়া।

টম ক্রুজের মানহানি মামলা

টম ক্রুজের মানহানি মামলা

 হলিউড তারকা টম ক্রুজ দুটি মার্কিন পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন। সম্প্রতি লস এঞ্জেলসের একটি আদালতে ‘ইন টাচ’ এবং ‘লাইফ অ্যান্ড স্টাইল’ নামের দুটি পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলায় ৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মিশন ইমপসিবল খ্যাত টম ক্রুজ।

এ বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এই দুই পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, স্ত্রী কেটি হোমসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর কন্যা সুরিকে ত্যাগ করেছেন পিতা টম ক্রুজ। ইন টাচ পত্রিকার প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছিল, বিচ্ছেদের পর প্রায় ৪৪ দিন বাবার মুখই দেখেনি ৬ বছরের সুরি। এরপরই ওই দুই পত্রিকার মালিক জার্মান প্রকাশনা সংস্থা বয়ের মিডিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ। তার আইনজীবী বার্ট ফিল্ডসের দাবি, পিতার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন টম ক্রুজ। তার বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ক্রুজের আইজীবী আরও জানিয়েছেন, মামলায় জিতলে ক্ষতিপূরণের টাকা কোনও অনাথ আশ্রমে দান করবেন টম ক্রুজ।সূত্র: অনলাইন।

এই ঈদেও সুস্থ থাকুন

এই ঈদেও সুস্থ থাকুন

ঈদের অনেকেরই কমবেশি  গরু, খাসি ও অন্যান্য পশুর মাংস খাওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সময়ও আপনি চাইলেই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতন হয়ে ঈদকে করে তুলতে পারেন স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময়।

 কোরবানির মাংস এক-দুই দিন খেলে যে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হবে তা নয়, তবে যারা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগী, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা ডিসপেপসিয়ার রোগী, তারা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঈদের সময় খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা করলে ভালো হয়।

যারা স্থূল শরীরের অধিকারী তারা ঈদের সময় খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। নিয়মিত ওজন পরীক্ষা করবেন। কোরবানির মাংসে জীবাণুর সংক্রমণ হলে মারাত্মক অ্যান্টারাইটিস হতে পারে। এটি পেটের এক ধরনের সংক্রামক, যা খুবই ভয়াবহ।

পশুচর্বি এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কোরবানির সময়ও এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় আমরা খাবার সুস্বাদু হবে এমন ভুল ধারণা পোষণ করে কোরবানির মাংসে আলাদাভাবে চর্বি যোগ করি। এটা একাবেরই ঠিক নয়, বরং যতটুকু সম্ভব মাংসের চর্বি অপসারণ করে খাওয়া ভালো।

এই ঈদে অতিভোজন আর হঠাৎ বিশ্রামে স্বাস্থ্য-সচেতনেরাও হঠাৎ মুটিয়ে যেতে পারেন। আর যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য-সচেতন থাকা বেশি জরুরি।
অবশ্যই অধিক চর্বিযুক্ত মাংস খাবেন না। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত সেবন করতেও ভুলবেন না।

দাঁতের দিকে খেয়াল অবশ্যই রাখবেন, কেননা শুধু মাংস নয়, হাড় চিবানোর মজাও অনেকেই ছাড়তে চান না। কিন্তু এতে দাঁত ভাঙার বিড়ম্বনাতেও  পড়তে পারেন অনেকে। সূত্র: স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট।

 

ইমরান খানকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ::

ইমরান খানকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ :: 
 মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে রাজনীতিবিদ ইমরান খানকে বিমান থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তারা পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলা সম্পর্কে তার অভিমত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। পার্টি কর্মকর্তারা শনিবার এ কথা জানান।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর নেতা ইমরান খান তার দেশে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজন তালেবান ও আল-কায়েদা সক্রিয় কর্মীদের ওপর বিতর্কিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে জোর প্রচারাভিযান চালিয়েছেন। তার যুক্তি, এই হামলা বেআইনি ও নিরর্থক। গত মাসে তিনি ড্রোন হামলার প্রতিবাদ জানাতে অশান্ত উপজাতীয় এলাকা অভিমুখে কয়েক হাজার সমর্থক ও একদল মার্কিন শান্তি কর্মীর এক মার্চে নেতৃত্ব দেন।

ইমরান খান টুইটারে লিখেছেন, টরোন্টোতে তাকে মার্কিন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে বিমান থেকে নামিয়ে কানাডায় মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা ড্রোন হামলা সম্পর্কে আমার অভিমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ব্যাপারে আমার ভূমিকা পরিষ্কার। ড্রোন হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোনো কিছুই আমার ভূমিকা পরিবর্তন করতে পারবে না।’

ইমরান খান বলেছেন, বিলম্বের ফলে তিনি ফ্লাইট ধরতে এবং নিউইয়র্কে তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। সূত্র: এএফপি

Saturday, October 27, 2012

ভারতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের লাইন

ভারতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের লাইন
 ভারতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের ঠিক আগের দিন ইউপিএ-২ সরকারের মন্ত্রিদের মধ্যে পদত্যাগের লাইন পড়েছে। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণর পর আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে লাইন দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া শুরু করেছেন।

 ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অম্বিকা সোনি, পর্যটনমন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায়, রাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেব খান্ডেলা। আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল ওয়াসনিকও গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন।

কংগ্রেস সূত্র মতে, দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার জন্য সোনি মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে শুক্রবার এম এস কৃষ্ণর পদত্যাগের পর ওই দিন রাতেই প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেন।

আগামীকাল রবিবারের ক্যাবিনেট রদবদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মা। এছাড়া শোনা যাচ্ছে কপিল সিব্বাল এবং শশী থারুরের নামও।

এছাড়া রাহুল গান্ধীর কাছের মানুষ হিসেবে মনিকা ঠাকুর এবং মিনাক্ষী নাতারাজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

পশ্চিমবাংলা থেকে আবু হাসেন খান চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় যোগদান মোটামুটি চূড়ান্ত। এছাড়া উঠে আসছে প্রদীপ ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরী ও দীপা দাসমুন্সির নাম। তবে এদের মধ্যে প্রদীপ ভট্টাচার্য্ সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। শোনা যাচ্ছে মৌসম বেনজির নুরের কথাও।

আগামীকাল সকাল ১১.৩০ নাগাদ সম্ভবত ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হতে চলেছে। সূত্র: ২৪ঘণ্টা.কম।

দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির 
  রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ঈদুল আজহার আনন্দে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার সকালে বঙ্গভবনে পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার শিক্ষা দেয়, যা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকের এদিনে আমি সবাইকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এ উপলক্ষে আমি আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদেরও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম ফারুক খান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ সম্বর্ধনায় যোগ দেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের ডিন, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারকবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক, তিন বাহিনীর প্রধান, সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ সম্বর্ধনায় যোগ দেন।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেন।  সুত্র: বাসস।

আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি সিসিসির

আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি সিসিসির

 ঈদের দিন সন্ধ্যার আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জবাই করা কোরবানির পশুর আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) কর্তপক্ষ।
কর্পোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমদ বার্তা২৪ডটনেটকে জানান, দ্রুত বর্জ্য অপসারণে আগে থেকে বাস্তবভিত্তিক ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে কোরবানির পশুর প্রায় আশি শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বাকি বর্জ্য-আবর্জনা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ সম্ভব হবে। অনেক বাসা বাড়ি থেকে জমে থাকা বর্জ্য-আবর্জনা দিনের বেলায় না ফেলে রাতে একসাথে ফেলতে পারে । এ কারণে বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাত ১২টা পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালাবে। তাছাড়া আগামী কাল জবাই করা পশুর বর্জ্য অপসারণে সিসিসির চলমান প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।
সিসিসি কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে দেড় শতাধিক গাড়ি, ১৫০০ পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীও নিয়োগ করেছে। খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কোরবানি উপলক্ষে বর্জ্য অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারক করতে পুরো শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ জোনে বিভক্ত করে দুই জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সিসিসি সূত্র মতে, নগরীতে কোরবানি উপলক্ষে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ গরু আর ২০ থেকে ৩০ হাজার ছাগল জবাই হয়ে থাকে ।
সিসিসি কর্তৃপক্ষ  এই প্রথমবারের মতো ক্রমানুসারে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণে সক্ষম এমন তিনটি ওয়ার্ডকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণে এলাকাভিত্তিক এক ধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা গেছে।
সিটি মেয়র এম মনজুর আলম বিকেলে নগরীর হালিশহর ও আরেফিন নগরস্থ প্রধান দুই আবর্জনাগার পরিদর্শন ছাড়াও বেশ কটি ওয়ার্ড সফর করে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখেন এবং লোকজনের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ।

রাজধানীতে ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণের দাবি ডিসিসির

রাজধানীতে ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণের দাবি ডিসিসির
শনিবার সকালে পশু কোরবানির পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। সন্ধ্যার আগে নগরীর বিভিন্ন স্থানের ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন অঞ্চল পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তারা।

নগর ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে মো. শাজাহান জানান, ঈদের দিন সকাল ৮টার পর থেকেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের অভিযান শুরু হয়। এর আগে কোরবানির সম্ভাব্য স্পটগুলোতে বিনামূল্যে পলিথিন ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী সুলতান-উল ইসলাম বলেন, করপোরেশনের ৫৬টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নিয়মিত ৫১০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬০০ ভ্যান সার্ভিসে আড়াই হাজার জনবল কাজ করছেন।

অঞ্চল ১-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টার আগে তার নির্ধারিত এলাকায় ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বাকি কাজ রাতের মধ্যেই শেষ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকেলেও অনেক স্থানে পশু কোরবানি হয়েছে। এ জন্য সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার পর আবার রিপিট করা হবে।

মিন্টু রোড, বেইলী রোড, সিদ্ধেশ্বরী, গুলিস্তান, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চল-১-এর অন্তর্ভুক্ত।

মাদারটেক, বাসাবো, গোড়ান, মতিঝিল, কমলাপুর, পল্টন, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মেরাদিয়া নিয়ে অঞ্চল-২। এ অঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, সকালে যেসব স্থানে পশু কোরবানি করা হয়েছে তার ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ হয়েছে। বিকেলে যে পশু কোরবানি দেয়া হয় সেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ১০০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। পুরানা পল্টনে বর্জ্য অপসারণের কাজ শতভাগ হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, কমলাপুর এবং গোলাপবাগ হাটে গরু থাকার কারণে দুটি হাটের বর্জ্য অপসারণে বিলম্ব হচ্ছে। বিক্রেতারা গরু নিয়ে চলে যাওয়ার পর এসব হাটে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হবে।

অঞ্চল ৩-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন জানান, এসব এলাকায় অতিরিক্ত ৫টি কনটেইনার কেরিয়ারের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। এছাড়া অতিরিক্ত দুটি কমপেক্টর এবং ৫টি ড্যাম্পার বর্জ্য আপসারণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

হাজারীবাগ, জিগাতলা, রহমতগঞ্জ, নিউ পল্টন, শহীদনগর, ঋষিপাড়া, কিল্লার মোড় ও আজিমপুর নিয়ে অঞ্চল-৩।
সাহাবউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যেই এসব অঞ্চলের ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যেভাবে কাজ করছেন তাতে রাতের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণের কাজ শতভাগ শেষ করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

তবে রহমতগঞ্জে দুটি গরুর হাটে এখনো গরু থাকায় হাট দুটিতে আজ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, শুরুর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

পশুরহাটসহ নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ডিসিসি ১০ হাটের জন্য ৬টি পোল্ডার, ৫টি টায়ার ডোলার, ২৫টি ড্যাম্পার, ৪টি ট্রেইলার, দুটি প্রাইম মোভার ও ১০টি পানির গাড়ি সরবরাহ করেছে। সূত্র: বাসস

দি সুপারসনিক ম্যান: ফেলিক্স বমগার্টনার

দি সুপারসনিক ম্যান: ফেলিক্স বমগার্টনার

 ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন অস্ট্রিয়ান ‘ডেয়ারডেভিল’ ফেলিক্স বমগার্টনার। ১৪ অক্টোবর মাটি থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০০ ফিট উপরের একটি স্পেস ক্যাপসুল থেকে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে লাফিয়ে পড়েন বমগার্টনার। পতনের গতি ছাড়িয়ে যায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৩৩.৯ মাইল। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে পতনের পর প্যারাসুটের সাহায্যে মাটিতে নামেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েলে। সবচেয়ে উচ্চতম স্কাইডাইভিংয়ে আগের রেকর্ডটি ভেঙে গড়েন নতুন রেকর্ড। সাউন্ড ব্যারিয়ার ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক ম্যান হিসেবে। খবর বিবিসির।
ইতিহাস গড়া স্কাইডাইভিংয়ের জন্য বমগার্টনারকে পেরিয়ে আসতে হয়েছে অনেক বাধা বিপত্তি। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দীর্ঘদিন। প্রথমে স্কাইডাইভিংয়ের দিন স্থির করা হয়েছিলো ৮ অক্টোবর। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারবার পিছিয়ে যায় বহু প্রতীক্ষিত দিনটি। শেষে ১৪ অক্টোবর জীবনের ঝুঁকি ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহাশূন্যে। পৃথিবীর মাটিতে পা দিয়ে গড়েন ইতিহাস।
কিন্তু আরেকটু হলেই শেষ মুহুর্তে বমগার্টনারকে বাতিল করতে হতো স্কাইডাইভ। কাজ করছিলো না তার স্পেস স্যুটটির হিটার। ফলে প্রতিবার নিশ্বাস ফেললেই ঘোলা হয়ে যাচ্ছিলো ভাইজরটি।
স্পেস ক্যাপসুল থেকে লাফ দেবার পর বমগার্টনার মাটিতে নেমে আসেন ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডে। একেবারে মাটির কাছাকাছি এসেই খুলে দেন নিজের প্যারাসুট। অবতরণের পর হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন মাটিতে, হাত দুটো আকাশ পানে ছুঁড়ে করেন বিজয় উল্লাস। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অভিনন্দন জানাতে সেখানে পৌঁছে যায় রিকভারি হেলিকপ্টার।


এর পরপরই এক প্রেস কনফারেন্সে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বমগার্টনার বলেন, ‘আমি যখন পৃথিবীর উপরে স্পেস ক্যাপসুলটিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিলো তখন। ভুলে গিয়েছিলাম বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার কথা। কেবল জীবন্ত পৃথিবীর বুকে ফিরে আসার কথাই ভাবছিলাম বারবার।’
শুরুতেই নিজের রেড বুল স্ট্র্যাটোস টিমের সদস্য আর দর্শক, সাংবাদিকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন বমগার্টনার। পতনের শুরুতে মাথা নিচে, দু’ হাত ছড়িয়ে দিয়ে তার থাকার কথা ছিলো ডেল্টা পজিশনে। কিন্তু লাফিয়ে পড়ার পরই বায়ুমণ্ডলে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলেন বমগার্টনার। শেষপর্যন্ত দীর্ঘদিনের বেইজ জাম্পিং এবং স্কাইডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতাই তাকে বাঁচিয়ে দেয় মৃত্যুর হাত থেকে। নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান নিজের ওপর। ফিরে আসেন ডেল্টা পজিশনে।

কিন্তু নাটকীয়তার শুরু আরো আগেই। মিশন শুরু হবার আগেই একদম শেষ মুহূর্তের ইকুইপমেন্ট চেকে ধরা পড়ে, নষ্ট হয়ে গেছে বমগার্টনারের স্পেস স্যুটের হিটারটি। ফলে বমগার্টনার শ্বাস ফেললেই ঘোলা হয়ে যাচ্ছিলো তার ভাইজরটি। ছোট ত্রুটি মনে হলেও, ওই নষ্ট হিটারটির জন্য তার মৃত্যু হতে পারতো।


তবুও আর পিছপা হতে রাজি ছিলেন না বমগার্টনার। ঘোলাটে দৃষ্টিসীমার কারণে আছড়ে পড়তে পারতেন পৃথিবীতে। পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা করে মিশন চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ফেলিক্সের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন আরেক কিংবদন্তী মার্কিন এয়ারফোর্স কর্ণেল জো কিটেনগার। বিশ্বের উচ্চতম স্কাইডাইভিংয়ের রেকর্ডটির মালিক এতোদিন ছিলেন কিটেনগার। সেই রেকর্ডের পাঁচ দশক পর নতুন রেকর্ড গড়ে যেন গুরুর নাম রাখলেন শিষ্য ফেলিক্স।

শুরু থেকেই ফেলিক্সের সঙ্গে ছিলেন কিটেনগার। যখনই হতাশ হয়ে পড়েছেন বমগার্টনার, নিজের দক্ষতাকে  প্রশ্ন করেছেন, তখনই উৎসাহ জুগিয়েছেন কিটেনগার। দিয়েছেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। ফেলিক্স মাটিতে অবতরণ করার পর জ্যেষ্ঠ এই কিংবদন্তী বলেন, ‘ফেলিক্স খুবই সাহসিকতার সঙ্গে কাজটি করেছে। ওর সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।’


২০০৫ সালে প্রথম এই স্কাইডাইভিংয়ের কথা মাথায় আসে বমগার্টনারের। এরপর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেন তিনি। ১৪ অক্টোবর নিউ মেক্সিকোর আকাশে বাতাসের চাপ ছিলো মাত্র ২ শতাংশ। বমগার্টনারকে মহাকাশে পৌঁছে দিতে নভোচারীদের স্পেস ক্যাপসুলের ডিজাইন অনুকরণ করে বানানো হয়েছিলো একটি বিশেষ ক্যাপসুল। হিলিয়াম বেলুন ক্যাপসুলটিকে উড়িয়ে নিয়ে যায় মাটি থেকে প্রায় ২৪ মাইল উপরে। স্পেস স্যুটটিও বানানো হয়  নভোচারীদের স্পেস স্যুটের আদলে।

বমগার্টনারের এই ইতিহাস গড়া স্কাইডাইভিংয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। দ্রুতগতিতে মহাকাশ থেকে পতন সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা কাজে আসবে ভবিষ্যৎ স্পেস মিশনে। মিশনে বমগার্টনারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলো নাসাও।

বমগার্টনারের মিশনটি নিয়ে বিবিসি এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বানাচ্ছে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম। নভেম্বর মাসে দেখানো হতে পারে ডকুমেন্টারিটি।

এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে চারটি ছবি :: এন্টারটেইনমেন্ট

এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে চারটি ছবি :: এন্টারটেইনমেন্ট  
বেশ ক বছর ধরেই ঈদে ছবি মুক্তি পাওয়া কমে যাচ্ছে। গত ঈদুল ফিতরে সবচে কমসংখ্যক মাত্র পাঁচটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। ঈদুল আজহায় তা আরও নেমে এসেছে। এ ঈদে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে মোট চারটি ছবি।

এ ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো হলো শাহাদৎ হোসেন লিটনের ‘জিদ্দি মামা’, বদিউল আলম খোকনের দুটি ছবি ‘ডন নম্বর ওয়ান’ ও ‘১০০% লাভ- বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’ এবং এফ আই মানিকের ‘স্বামী ভাগ্য’। গত কয়েক বছরের মতো এবারের ঈদেও প্রধান নায়কের আসন ধরে রেখেছেন শাকিব খান।

বেশ কিছুদিন ধরে শাকিবের বিপরীতে অপু বিশ্বাসকেই নায়িকা হিসেবে বেশি দেখা গেছে। তবে গত ঈদে একটি মাত্র ছবি মুক্তি পেলেও এবার অপু বিশ্বাসের অভিনীত দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। ‘জিদ্দি মামা’ ও ‘১০০% লাভ...’।

অন্যদিকে শাকিবের বিপরীতে ছবি দুটিতে নায়িকা হিসেবে আসছেন রোমানা। এই প্রথম একসঙ্গে তার অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে।
অ্যাকশনধর্মী ‘ডন নম্বর ওয়ান’ ছবিতে শাকিবের সঙ্গে নায়িকা হয়েছেন সাহারা।
 

‘সহিংসতায় আহতদের চাপে হাসপাতাল’ | স্বাস্থ্য | bdnews24.com

‘সহিংসতায় আহতদের চাপে হাসপাতাল’ | স্বাস্থ্য | bdnews24.com
 দেশে প্রতি এক হাজার ৫৭৪ জনের বিপরীতে হাসপাতালে একটি শয্যা থাকলেও এর বেশিরভাগেই থাকে সহিংসতায় আহতরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) বার্ষিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে সব রোগী ভর্তি হয় তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক রোগীই আসেন সহিংসতার শিকার হয়ে।

জেলা সদর হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে ১৪ দমমিক ৮৬ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ রোগীই সহিংসতায় আহত হয়ে ভর্তি হন।

জেলা হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং মহিলা ওয়ার্ডে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং উপজেলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ এবং নারী ওয়ার্ডে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশই এই ধরনের রোগী।

আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সহিংসতায় আহত। এ ধরনের রোগী থাকে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর পরে রয়েছে দুর্ঘটনায় আহত, যা মোট রোগীর ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ওই বুলেটিন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ।

এর পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

“সহিংসতায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পিছনে কোনো প্রাকৃতিক কারণ নেই। মানুষের কারণেই এমনটা হয়। কিন্তু আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অন্য রোগের চিকিৎসায় আমরা সম্পদের ব্যবহার করতে পারি। একইসঙ্গে সমাজে শান্তি বিরাজ করে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে যে সব রোগ হয় তার মধ্যে ৬১ শতাংশই অসংক্রামক রোগ।

হাসপাতালের শয্যায় কোন কোন ধরনের রোগী থাকে তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার সাতশ’ শয্যার বিপরীতে একই সময়ে গড়ে দুই হাজার সাতশ’ রোগী ভর্তি থাকে। প্রায় সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র একই রকম।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ূন কবির বলেন, “আমাদের দেখতে হবে, সহিংতায় আহত রোগীর সংখ্যা কিভাবে কমানো যায়। বিপুল সংখ্যার এ ধরনের রোগী সামলাতে আমাদের চিকিৎসকদের ব্যস্ত থাকতে হয়।”

অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক আ স ম আমানউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে ‘সমাজে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে’।

“গড়ে ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সহিংসতার শিকার হন।”

বাংলাদেশে সহিংসতায় হতাহতের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর সহিংসতায় বিশ্বে ১৬ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এছাড়া সহিংতার কারণে অনেকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, মানসিক, যৌন ও প্রজনন সমস্যায় ভোগে।

“কিন্তু আমরা এটা প্রতিরোধ করতে পারি,” বলেন অধ্যাপক আমানউল্লাহ।

এক্ষেত্রে শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনীতিকদের কাজে লাগিয়ে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সহিংসতা রোধে স্কুল পর্যায় থেকেই ছেলে-মেয়েদের সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন সমাজবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।

কোরবানির আনুষ্ঠিকতায় ব্যস্ত সবাই :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

কোরবানির আনুষ্ঠিকতায় ব্যস্ত সবাই :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে আজ (শনিবার) বাংলাদেশ ও ভারতে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। প্রতিবারের মতো এবারো বাংলাদেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।
 
রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
 
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক ও রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের নাগরিকরা ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি ঈদ জামাত হচ্ছে।
 
ঈদের নামাজের পরপরই বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়ে গেছে পশু কোরবানি। এবার রাজধানীতে গরু সরবরাহ ভাল থাকায় দুদিন আগেই দাম পড়ে যায়। কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে অসন্তুষ্ট মনে বাড়ি ফিরতে হয়েছে গরু ব্যবসায়ীদের অনেককেই।
 
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া আলাদা বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের সুখ ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন।
 
এর আগে গতকাল (শুক্রবার) ইরান ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ঈদ উদযাপিত হয়।
 
সারাবিশ্বের মুসলমানের কাছে ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত। এদিন মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং সাধ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট ইত্যাদি পশু কিনে কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে এ দিনে মহান আল্লাহর নির্দেশে তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয়তম সন্তান হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে আত্মত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে আল্লাহর ইশারায় একটি দুম্বা কোরবানির মাধ্যমে সে নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়।
 
তখন থেকেই মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের নিদর্শন হিসেবে প্রতি বছর গৃহপালিত পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগের প্রতীকী পরীক্ষা দেয়ার বিধান চালু হয়। পরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে এই কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) করা হয়।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
রাজধানীতে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে জামাত শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। খুতবা ও মোনাজাত শেষ হয় ৮টা ৫৪মিনিটে।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে উপস্থিত হন। এছাড়া বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এই জামাতে নামাজ আদায় করেন।

সকাল থাকেই মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে সমেবেত হতে থাকেন। নতুন পাঞ্জাবী আর পোশাক, আতর গোলাপে সুবাসিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ এক সামিয়ানার নিচে ঈদের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কমনায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে ৪০০টি সিলিংফ্যান লাগানো হয়। বিছানো হয় কার্পেট। দুই লাখ ৫৭ হাজার ২০৭ র্বগফুট বৃষ্টি প্রতিরোধক ত্রিপল শামিয়ানাও টানানো হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিয়ার অ্যান্ড সন্স এর দায়িত্বে এসব কাজ সম্পন্ন হয়।

নামাজ শেষে ঈদগাহের সামনে উপস্থিত গরীব-দুঃখীদের মাঝে দান-খয়রাতও করেন সামর্থবানরা। 

জাতীয় মসজিদে ঈদ জামাত
সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদ-উল আজহার প্রথম জামাত আদায় হয়েছে। এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান। এই জামাতেও হাজার হাজার মুসল্লি শরিক হন।

বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাতের মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল সকাল আটটায়, তৃতীয়টি নয়টায়, চতুর্থটি ১০টায় এবং পঞ্চমটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বেলা ১১টায়।

প্রথম জামাত শেষে দোয়া শুরুর আগে ইমাম মুসলিম উম্মাহকে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় কোরবানির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ যেন তার আত্নার পশুবৃত্তিকে কুরবানি করে দেয়। পরে তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া পাঠ করেন। দোয়া শেষে সব বয়সের মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

কারাগারে বাবর, সাকা, নিজামীর ঈদ |

কারাগারে বাবর, সাকা, নিজামীর ঈদ |
কারাগারে ঈদ করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীসহ বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা, যারা ১০ ট্রাক অস্ত্র এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আটক রয়েছেন।

কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রথম ইউনিটের উপ-কারারক্ষক মো. সাইমুর উদ্দিন জানান, এ কারাগারে লুৎফুজ্জামান বাবর, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ মোট ৮০৩জন বন্দি রয়েছেন। তিনটি আলাদা জামাতে কারাবন্দিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন।

দ্বিতীয় ইউনিটের কারারক্ষক সুভাষ চন্দ্র ঘোষ জানান, মো. কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্যা ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ এ কারাগারে মোট ২২৪৬ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে তিন জন ডিভিশন ও ৯৪ জন ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি।

বন্দিরা কারাগারের ভেতরে ৫টি পৃথক জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

কাশিমপুরে এই দুই ইউনিটের পাশাপাশি মহিলা কারাগারেও ঈদ করছেন ১৪৩ কয়েদি। আর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে ৪০৭ জন ফাঁসির আসামিসহ মোট ১১১৭ জন বন্দি।

আপরদিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে একমাত্র ডিভিশনপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীসহ ৯০০জন বন্দি রয়েছেন, যারা একটি জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ঈদ উপলক্ষে এসব কারাগারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালে পায়েস, সেমাই, মুড়ি খেতে দেয়া হয়েছে। দুপুরে থাকবে সাদা ভাত আলুর দম, মাছ এবং রাতে পোলাও মাংস, কোমল পানীয় বা মিষ্টি ও পান সুপারি।

ঈদের রঙে সেজেছে দেশ, নিরাপত্তা জোরদার

ঈদের রঙে সেজেছে দেশ, নিরাপত্তা জোরদার

শনিবার বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা৷ এবার প্রথমবারের মতো ঈদের জামাতের নিরপত্তায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হয়েছে৷ আর সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সতর্ক অবস্থায়৷
 
কক্সবাজরে রামুর বৌদ্ধ পল্লি এবং বৌদ্ধ বিহারে হামলার পর, দূর্গা পূজায় নিরপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো৷ আর কোরবানির ঈদেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না৷ ঢাকার জাতীয় ঈদগায়ে পুলিশ ও ব়্যাবের পাশাপাশি নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী৷ আর ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদ এবং ঈদগায়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা৷ রাজধানী জুড়ে তল্লাশি, পর্যবেক্ষণ চৌকি কিছুই বাদ রাখা হয়নি৷ ঢাকা মাহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল জানান, নিরপত্তায় কোনো ফাঁক রাখা হয়নি৷ জাতীয় ঈদগায়ে রাষ্ট্রপতিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করেন৷ তাই এখানকার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হয়েছে৷
 
এদিকে, ঈদগায়ে ঈদের প্রধান জামাতের আয়োজনেও কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি৷ মহিলাদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা আছে৷ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জিল্লার রহমান জানিয়েছেন যে, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকরা ঈদগায়ের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছেন৷
 
ঈদের নামাজের পর মুসলমানরা পশু কোরবানি করবেন৷ তাই নগরীর বর্জ্য অপসারণের জন্য ১৩ হাজার কর্মী এবং ৭০০ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোরবানির পশুর বর্জ্য নগরীকে দূষিত করতে না পারে ৷ যা জানান বর্জ্য ব্যবস্থাপক বিপন কুমার৷
 
কোরবানির সঙ্গে আছে ত্যাগের ইতিহাস৷ তাই কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা না করে সবাইকে হিংসা, হানাহানি ভুলে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন৷
 
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাকে সাজানো হয়েছে রং-বেরঙের পতাকায়৷ আর অনেকেই ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ায় রাজধানী ফাঁকা হয়ে যায়৷ সাধারণভাবে যানজটের নগরী বলে পরিচিত ঢাকা এখন ধরা দিয়েছে ভিন্ন রূপে৷

 

Friday, October 26, 2012

গ্রামীণ থেকে গুগলে

গ্রামীণ থেকে গুগলে

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীনফোন-এর প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে  সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল ইনকরপোরেশনে যোগ দিয়েছেন কাজী মনিরুল কবির। ৫ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে গুগল  সিঙ্গাপুর অফিসে যোগ দেবেন তিনি।

অবশ্য বর্তমানে ছুটিতে থাকা মনিরুল কবিরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি গ্রামীণফোন। তবে ঈদের ছুটি শেষে গ্রামীণফোন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেনা-পাওনাসংক্রান্ত হিসাবের জটিলতায় আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের এখনো কিছুটা বাকি।

এ সম্পর্কে মনিরুল কবির বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, প্রায় এক মাস আগেই আমি অনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামীনফোনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো গ্রামীণফোনের কেউ কিছু জানাননি।

অপরদিকে গ্রামীনফোনের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ নিয়ে গুগলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দেখে মুগ্ধ গুগল। ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি হলেও কনটেন্ট খুবই কম।এ কারণেই এই বাজারটিকে খুব সম্ভাবনাময় মনে করে তারা। কনটেন্ট বৃদ্ধি পেলে ইন্টারনেটের ব্যবহারও অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করে গুগল।

বর্তমানে গুগলের ভারত, শ্রীলংকাসহ আশপাশের আরো কয়েকটি দেশে অফিস রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশেও সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রা শুরু করেছে তারা।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণফোনে গণছাঁটাইয়ের নেপথ্যে মনিরুল কবিরের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক কর্মীরা। এ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাইলে মনিরুল নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করে বলেন, আসলে অভিযোগটি আমার বিরুদ্ধে নয়, আমার পদবির। আমি কেবল কোম্পানির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছি। শত্রু বা মিত্র হিসেবে নয়।  

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন মনিরুল কবির। তারপর তিন বছর দুই মাস ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করলেন তিনি। তার সময়েই গ্রামীণফোন বাংলাদেশের যাত্রার ১৩তম বছরে এসে প্রথমবারের মতো টেলিনর গ্রুপের বেস্ট ব্র্যান্ডে অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে গ্রামীণফোনেই রিজিওনাল সেলস (ন্যাশনাল সেল ম্যানেজার) বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ওই পদে কাজ করছিলেন তিনি। মনিরুল জানান, ওই পদে থেকে দেশের প্রায় সব উপজেলা সফরের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। প্রতিটি সেল সেন্টারে পৌঁছার কারণে ওই সময় গ্রামীণফোন আরো প্রসারিত হয়।

গ্রামীণফোনে যোগদানের আগে এক বছর এক মাস তিনি মার্কেট অ্যাকসেস প্রোভাইডার নামে একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। আরও আগে ছয় মাস কাজ করেন রহিম আফরোজ লিমিটেডে। বাংলাদেশে বাংলালিংকের যাত্রার সময় (২০০৫ সালের মার্চ থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত) কাজ করেন হেড অব ডাইরেক্ট সেলস ডিভিশনে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানিতে ২০০০ সালের এপ্রিলে ক্যারিয়ার শুরু করেন মনিরুল কবির। এখানে চ্যানেল ডেভেলপ ম্যানেজার পদে কাজ করেন শুরুর ২ বছর এক মাস। পরে কাজ করেন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড প্রোমেশন ম্যানেজার এবং রিজিউওয়ানাল ট্রেড মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার পদে। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো ছাড়েন তিনি।

 

বাবা-মা ছাড়া মেঘের দ্বিতীয় ঈদ

বাবা-মা ছাড়া মেঘের দ্বিতীয় ঈদ

 মাহির সারওয়ার মেঘ। নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান। তার বয়স এখন ছয় বছর চার মাস। বাবা সাগর সরওয়ারের সঙ্গেই গত কোরবানির ঈদের নামাজ পড়েছিল মেঘ। কিন্তু এবার রোজার ঈদের মতো এই ঈদও তার কাটবে বাবা-মা ছাড়া।

“মেঘ এখন পুরোপুরি ভালো আছে। সে সব বোঝে। আগে সাংবাদিকরা বাসায় এসে ভিড় করলে, সে তা অপছন্দ করত। এখন কোরবানির গরু নিয়ে মজা করছে।” জানালেন মেঘের মামা নওশের রোমান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও কলেজের ইন্দিরা রোডের ছাত্রাবাস মসজিদে মামাদের সঙ্গে এবার ঈদের নামাজ পড়বে মেঘ। এরপর আজিমপুর গোরস্থানে বাবা-মার কবর জিয়ারত করতে যাবে। কোরবানির গোস্ত কাটাকাটি দেখা শেষে নবাবপুরে দাদুবাড়িতে যাবে।  

নওশের জানান, “সারাক্ষণ মেঘের সঙ্গে পুলিশপাহারা থাকে। তাই বেশি ঘোরাঘুরি হয় না। দাদুবাড়িতেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় না। তবে মেঘের দাদু ফোনে তার খোঁজখবর নেন।”

“মেঘ প্রতি রাতে শোবার আগে বাবা-মার জন্য দোয়া করে। শুরুর দিকে তাকে এটি শেখানো হয়েছিল। এখন সে নিয়মিতই এ দোয়া করে ঘুমায়।” জানান তিনি।
আরেকটি খবরও জানালেন তিনি। মেঘ এখন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুকে যে কেউ তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। তার আইডি: www.facebook.com/mahirsarowar.megh

গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশের তদন্তের পর মামলাটি তদন্ত শুরু করে ডিবি। এরপর আদালতের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত শুরু করে র্যাব।

এই ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিকরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ৯ অক্টোবর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এই মামলায় সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের কথা জানান। কিন্তু হত্যার কারণ জানাতে না পারায় মন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিমূলক’ বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তানভীর নামে একজন নিহতদের পারিবারিক বন্ধু বলে জানান মন্ত্রী। কিন্তু এই নামে তাদের কোনো বন্ধুকে চেনে না বলে জানায় রুনির পরিবার।

শুক্রবার নওশের হতাশা প্রকাশ করে বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা জাফরুল্লাহ স্পষ্ট কিছুই জানান না। শুধু বলেন ‘তদন্ত কাজ আগাচ্ছে’। বার বার একই বক্তব্য শুনতে কেমন লাগে।”

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় একদিনেই নিহত ৫৬

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় একদিনেই নিহত ৫৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা একদিনেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬তে।

বুধবারও নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছিল চারজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুটি শহরে কারফিউ জারির পরও সহিংসতা থামানো যায়নি।

তবে নিহতদের মধ্যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বা এত মানুষ কীভাবে নিহত হলো, সেটি জানা যায়নি।

খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাথা টাউঙ শহরে সহিংসতা শুরুর পর তা কায়ুক টো শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সহিংসতার সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতার সময় এ পর্যন্ত শত শত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত মে মাসে একজন বৌদ্ধ নারীকে কয়েকজন মুসলমান ধর্ষণ করেছে, এ অভিযোগে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। তারপর থেকেই সেখানে উত্তেজনা রয়েছে।

কিন্তু এবারের সহিংসতা কেন, সেটি পরিষ্কার নয়। বিবিসির ডেভিড লয়েন বলছেন, এ সহিংসতা তার কাছে জাতিগত নির্মূলের মতো বিষয় বলেই মনে হচ্ছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ডেভিড লয়েন জানান, প্রথম দফা সহিংসতা যখন শুরু হয়, তখন থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বর্ণনা করে মিয়ানমার  সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বার্মার এ দাবিকে বরাবরই খারিজ করে দিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের মতে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় ভাষাগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যারা নিগ্রহের শিকার।সূত্র: বিবিসি।

 

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়
 কাঁচা চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার না করে দেশীয় লবণ ব্যবহার করতে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার করা হলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, যা পরে কোনো কাজেই আসে না বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, ভারতীয় লবণের গুণগত দেশি লবণের চেয়ে কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লবণের সিন্ডিকেট এই সময়টায় বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেকেরই পক্ষেই চামড়ায় দেশীয় লবণ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এই সুযোগেই ভারতীয় কালোবাজারিরা লবণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ দেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ।

তাদের মতে, প্রতি বছর চামড়াশিল্পে দেড় থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। আর আমাদের দেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। অথচ ঈদ-পরবর্তী সময়ে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে লালবাগ পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার মান চিন্তা করে না। এ কারণেই তারা ভারতীয় শস্তা লবণ চামড়ায় ব্যবহার করে, যার ফলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও কোহিনুর ট্যানারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীন আহমেদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, আমাদের দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কিন্তু এই সময়টায় একটি চক্র লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই অনেক ব্যবসায়ী ভারতীয় লবণ চামড়ায় ব্যবহারে করে বলে তিনি জানান।
তিনি মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশের চামড়ার সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ধরে রাখার দায়িত্ব সবার। তাই চামড়া নষ্ট বা মান খারাপ না করে ভারতীয় লবণ ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে এই ঈদে লবণ সিন্ডিকেট যাতে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন ট্যানারি মালিকরা।