Pages

Friday, September 7, 2012

দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে: প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।”

বৃহস্পতিবার সাভারে ছয়টি পরমাণু গবেষণাগার উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনার সেখানে যাওয়া উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার জনপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চলছে।

এদিকে, এক সপ্তাহ পূর্ব থেকেই আনবিক শক্তি কমিশনের ভেতর লোকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়া যাওয়া উপলক্ষে গোটা সাভারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ক এবং আনবিক শক্তি কমিশনে ব্যানার, ফেষ্টুন, তোড়ন নির্মানসহ নানা বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে । আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

এছাড়া মহাসড়কের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, ডিভাইডার ও বিভিন্ন আইল্যান্ডে রং করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে।

সচিবালয়ে ককটেল মামলার স্থগিতে হাই কোর্টে ফখরুলের আবেদন

সচিবালয়ে ককটেল মামলার স্থগিতে হাই কোর্টে ফখরুলের আবেদন

 হরতালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অধস্তন বিচারিক আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুলের একটি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে আপিলে এই আবেদন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ফখরুল ইসলামের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন হাই কোর্ট বিভাগে এ আবেদন করেন।

পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোন বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, বিচারিক আদালতে মামলাটি আমলে না নেয়ার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন খারিজের আদেশ বাতিলের আরজি জানানো হয়েছে আবেদনটিতে।

তিনি বলেন, সচিবালয় ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়।  যার মধ্যে বিএনপি মহাসচিবসহ অনেক নেতাকে আসামি করা হয়।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেয়া এই অভিযোগপত্র ত্রুটিপূর্ণ। কারণ অভিযোগপত্রে মূল আসামিদের সনাক্ত না করে সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনে মামলার মূল আসামিদের সনাক্ত না করে সহযোগীদের সাজা দেয়া যায় না।

এ মামলাকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মামলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলা করা হয়েছে।”

হরতালের সময় সচিবালয়ে হাতবোমা বিস্ফোরণের বিএনপি নেতাদের আসামি করে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা হয়। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ছাড়াও ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২৬ অগাস্ট মহানগর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জহুরুল হক অভিযোগ আমলে না নিতে মির্জা ফখরুলের করা আবেদন খারিজ করে মামলাটি আমলে নেন।

২৬টি ব্যাংকের অর্থ হাতিয়েছে হলমার্ক

২৬টি ব্যাংকের অর্থ হাতিয়েছে হলমার্ক

 হলমার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি শুধু সোনালী ব্যাংকের একটিমাত্র শাখা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অনিয়ম করে হাতিয়ে নেয়ার মধ্যেই সীমিত নয়। দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে এই বাণিজ্যিক গ্রুপটির মোট হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ আরো কয়েকগুণ বেশি। কেলেঙ্কারি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের ৬ সদস্যের অনুসন্ধাণ দল ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিয়মের অবাধ্য হওয়া এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর সহযোগিতায় হলমার্কের প্রতারণার শিকার হয়েছে ২৬ টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

শুধুই ঋণ দিয়ে নয়, ব্যাক টু ব্যাক এলসির মালামাল সরবরাহের নিশ্চয়তাপত্র দিয়েছে সোনালী ব্যাংকের রুপসী শাখা। |এই নিশ্চয়তাপত্রের ভিত্তিতে অন্য  সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রুপটির নানা প্রতিষ্ঠানের বিল কিনেছে। প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, অথচ ঋণ দেয়া হয়েছে। এবং এই ঋণ নেয়ার সময় উৎপাদন চলছে বলে সোনালী ব্যাংক নিশ্চয়তাপত্র দিয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের গুলশান ও আগারগাঁও শাখা, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা ও স্থানীয় কার্যালয় (লোকাল অফিস ) এবং অগ্রনী ব্যাংকের প্রধান শাখা এসব কেলেঙ্কারিতে জড়িত।

এর ফলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক,  আল ফালাহ, বেসিক ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক,আইএফআইস ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচাল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যায়ান্ড কমার্স ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটিব্যাংক এনএ, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’র কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতে পেরেছে হলমার্ক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ ও দুদক কর্মকর্তারা ২০০৯-১০-১১ অর্থবছরের হলমার্ক গ্রুপের এলসির কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন|

হলমার্ক গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাইরেও ব্যবসায়িকভাবে সম্পৃক্ত নানা ভুয়া কোম্পানির নামেও ঋণ নিয়েছেন গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ।

আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, স্টার স্পিনিং মিলস, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ও সেঞ্চুরি স্পিনিং মিলসের নামে বারবার ঋণ নেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখায় আনোয়ারা স্পিনিং মিলস ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলের নামে দুটি হিসাব খোলা হয় ২০১১ সালের ৮ জুন। নথি অনুযায়ী, আনোয়ারা স্পিনিং মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম এবং ম্যাক্সের মালিক মীর জাকারিয়া। এই দুই হিসাবের পরিচয়দানকারী হচ্ছেন হলমার্ক গ্রুপের এমডি ও ববি স্পিনিং মিলের মালিক তানভীর মাহমুদ। জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা GB  দুই স্পিনিং মিলের নামে হিসাব খোলার পরপরই তাদের বিল কেনা শুরু করে।

বিলে দেখানো হয়েছে, হলমার্ক ফ্যাশনসহ এই গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে সুতা আমদানির জন্য আনোয়ারা ও ম্যাক্স স্পিনিংয়ের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখায় স্থানীয় ঋণপত্র করে। জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা এই বিল কিনে নেয় এবং সেই পরিমাণ অর্থ আনোয়ারা ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলের হিসাবে জমা দিয়ে দেয়। এভাবে ওই দুই প্রতিষ্ঠান তুলে নেয় ৮৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে কোনো সুতাই কেনাবেচা হয়নি। বাস্তবে প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো অস্তিত্বই নেই।

জনতা ব্যাংকের কাছে প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হলে তারা তা দিতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলমার্ক গ্রুপ পুরো অর্থ সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতে জন্য জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংকের কর্মচারী জড়িত ছিল।

জনতা ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় প্রায় একইভাবে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে সোহেল স্পিনিং মিল নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ছিল সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা ও হলমার্ক গ্রুপ। হলমার্ক গ্রুপকে পণ্য রফতানির নামে অর্থ তুলে নেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য রফতানি হয়নি। জনতা ব্যাংক যাচাই-বাছাই ছাড়াই সোহেল স্পিনিং মিলকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ায় আটকা পড়েছে ২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা সোহেল স্পিনিং মিল পরিদর্শন করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি চালু আছে বলা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল সেটি বন্ধ দেখে এসেছে।

সেনাবাহিনীতে শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি

সেনাবাহিনীতে শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি

 বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ তিনজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঁচজন কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সেনাসদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা

যে তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে সেনাসদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক করা হয়েছে। সেনাসদর দপ্তরের পূর্ত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল কাদিরকে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া নন কমিশন অফিসার্স একাডেমির (এমসিও) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাসদরের সামরিক সচিব নিয়োগ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ পাঁচ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দিকে নবম পদাতিক ডিভিশনে জেনারেল অফিসার্স কমান্ড্যান্ট (জিওসি) করা হয়েছে। নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি কে এম মমিনুর রহমানকে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আবুল হোসেনকে মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। রংপুরের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদকে চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিকের জিওসি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সেনাসদরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সালাহউদ্দিন নিয়াজিকে রংপুরের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সুবিধার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জোর আমেরিকার

বাণিজ্য সুবিধার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জোর আমেরিকার

সফররত বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম জে বার্নস জোর দিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য সুশাসন ইস্যুর ওপর। ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার এক ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।
 
বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্নস বলেন, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সহযোগিতা রুপরেখা চুক্তি (টিকফা) সই হলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
 
ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও ঢাকায় অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাসের পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য  জানানো হয়।
 
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমেকিরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেকসহ দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা।
 
আমেরিকার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নস বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় সুশীল সমাজ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা উল্লে­খ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।  
 
এর প্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বার্নসকে ব্যাখ্যা করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানটির অনেক নারী ঋণগ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। গ্রামীণ ব্যাংক বর্তমানে সংস্থাটির আইন ও বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
 
আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে দীপু মনি বলেন, আমেরিকার বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বাংলাদেশসহ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
 
জবাবে বার্নস বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টিকফা চুক্তিটি দ্রুত সম্পাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উচ্চশুল্ক হারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হতে পারে।
 
এছাড়া মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-আমেরিকা অংশীদারি সংলাপের সফলতার ব্যাপারেও জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুই মন্ত্রী।
 
তিন দিনের সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বৃহস্পতিবার কাতারের দোহা হয়ে চীন যাবেন।

কম কথা বলতে বলা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

কম কথা বলতে বলা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমি কথা বলব না। আমাকে কম কথা বলতে বলা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকেরা তাকে প্রশ্ন করতে গেলে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

সেখানে দেশের প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা অনেক আগের থেকে শুরু হলেও আশ্চার্যজনকভাবে এই প্রথম বাংলাদেশে কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির যাত্রা শুরু হলো।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি অভাবনীয় সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানেও এধরনের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি সফলতা পেয়েছে।’’

পরে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। এর মধ্যে মাত্র তিন বা চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এটা কোনো বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হৈচৈ করারও কিছু নেই।’

পরে  অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গতকাল বুধবার সংসদে বক্তব্য দেন সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। সেখানে তিনি মন্ত্রীকে কথা কম বলার অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে শেখ সেলিম বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রীর কথাবার্তায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওনার বয়েস হয়েছে, বুঝি। ওনার কথা কম বলা ভালো। এত বড় ঘটনা, ওনার কাছে চার হাজার কোটি টাকা বড় ব্যাপার না। কিন্তু মানুষের কাছে বড় ব্যাপার। এক টাকা হোক, ১০ টাকা হোক, যে টাকা লুট করবে, তার বিচার করতে হবে। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন এ ধরনের কথাবার্তা না বলেন। তার জন্য সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’’

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সংসদে মাফ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সংসদে মাফ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

 হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সংসদে মহাজোট সরকারের সিনিয়র এমপিদের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে মাফ চাইতে বাধ্য হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজেকে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি বলে দোষ স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘অবিলম্বে খুলনা উন্নয়ন ব্যাংক স্থাপন করা হোক’ সম্বলিত সংসদ সদস্য নূর আফরোজ আলীর সিদ্ধান্ত প্রস্তাব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে হলমার্ক নিয়ে সংসদে সরকার দলীয় সিনিয়র এমপিদের তোপের মুখে পড়েছে অর্থমন্ত্রী। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে এ ঘটনায় দায়ী করে বক্তব্য দেন। এত বড় কেলেঙ্কারির পরেও কেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়নি, তার কারণ জানতে চান তারা। ২০১০ সালে এ ঘটনার শুরু হলেও এতদিন কেন অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিল তার কারণও জানতে চান তারা। একই বিষয়ে দোষীদের স্পষ্ট বিবৃতি জাতির সামনে উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

তোফায়েল আহমেদ একই বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে জনগণ যে মতামত দিচ্ছে তারও মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা যখন আমাদের নির্বাচনী এলাকায় যাই মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা কি করছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘যে মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, সে সময়ে একটি কেলেঙ্কারি নিয়ে যে লেখালেখি হচ্ছে তার নিরসন হওয়া উচিত। যে ব্যাংকটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেখানকার পরিচালনা পর্ষদ তার দায় এড়াতে পারে না। ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে দোষী ব্যক্তি আস্তে আস্তে জামানত ফিরিয়ে দিবেন। আমি মনে করি যে ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার চেয়ারম্যানকে কেন রাখা হয়েছে? কেন তাকে অপসারণ করা হয়নি?’’

অপর এমপি মজিবুল হক চুন্নু  বলেন, ‘‘এতবড় ঘটনার পরেও সরকার কেন চুপ। যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপ-পরিচালকের সহযোগিতায় এটা হয়েছে এখনো কেনো তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়নি। কেন তাকে সরিয়ে নিরপেক্ষ লোক বসিয়ে তদন্ত করা হয়নি। দেশবাসী তা জানতে চায়।’’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ দেখিনি আমি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে।

আব্দুল জলিল বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে জড়িত। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি উপরের মহলের সহযোগিতা ছাড়া এতবড় দূর্নীতি সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। ধামাচাপা দেয়া চলবে না।’’

এর আগে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। জালিয়াতির সুযোগে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনেক টাকা পাচার করা হয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিৎ। একই সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দেয়া উচিত যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দেশে আর না ঘটে।

তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা দুইজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছি। ১৭ জনকে শোকজ করেছি। এ ধরনের শাস্তি অতীতে এদেশে আর কেউ দেখেছে বলে আমার জানা নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘হলমার্ককে আমরা মোটামুটি হলমার্ক কেলেঙ্কারি বলি। এটা ২০১০ সালে ধরা পড়ে। ২০১১ সালে সোনালী ব্যাংক দু’টি প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু পরে দেখা যায় এ দু’টি প্রতিবেদন অন্যায়ভাবে দাখিল করা হয়। এ হলমার্ক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু ঋণের নামে তারা অনেক টাকা পাচার করে। এটা তারা অন্যায় করেছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অডিট পরিচালনা করে। তাদের অডিটেও হলমার্কের কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। তাদের প্রতিবেদনে তারা হলমার্কের ঘটনার সঙ্গে কিছু দুষ্টু লোক জড়িত বলে অভিযোগ করে। একই সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ঘটনাটি তদন্তকারী সব প্রতিষ্ঠানকে বলেছি সুষ্ঠুভাবে তদন্তটি চালিয়ে নেয়ার জন্য। ইতিমধ্যে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ঘটনার প্রেক্ষিতে লোকাল এলসি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন বিধান জারি করেছে। দুই দিনের মধ্যেই টাকা জমা দিতে হবে। আগে অনেক দিন পর টাকা জমা দিতে পারতো।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি মালিকানাধীন চারটি বিশেষায়িত, ৩০টি বেসরকারি ও বিদেশি নয়টি ব্যাংক মিলিয়ে মোট ৪৭টি ব্যাংক কাজ করছে। শিগগিরই আরো চারটি ব্যাংক এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু‘টি বিশেষ ব্যাংক আছে। এগুলো কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষকে ব্যাংক সেবা প্রদান করতে পারছে। সেবা বাড়াতে ব্যাংকের সংখ্যা আরো বাড়ানো দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রসারসহ কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে কাজ করছি। এ নীতিমালায় আমাদের উন্নয়ন হয়েছে ও অর্থনীতির গতি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মুদ্রার মান ও প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সও সন্তোষজনক। অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ভালো আছে। তাই অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

তিনি বলেন, ‘‘নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁয় জেলা ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এগুলো ভেবে দেখবো। তবে এ মুহূর্তে করা সম্ভব নয়।’’

এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রী আজ কেন এ বিষয়ে কথা বলছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা গত দুই বছর ধরে চলছে। ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা কোথায় গেলো জাতি জানতে চায়। যেখানে তিন হাজার টাকা চুরি গেলে জেল হয়। সেখানে এত বড় কেলেঙ্কারির কি বিচার হবে আমরা দেখতে চাই।’’

Wednesday, September 5, 2012

টেলর সুইফট্ প্রেম উপাখ্যান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

টেলর সুইফট্ প্রেম উপাখ্যান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 ২২ বছর বয়সী পপস্টার টেলর সুইফট্ কেমনে কেমনে যেন শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন। কতই আর বয়স! তারপরেও জীবনের অল্প এই সময়ের মধ্যে টেলর কম তো দেখলেন না। জীবনে একে একে এসেছেন জন মায়ার, জো জোনাস এবং টেলর লুথনার।

প্রত্যেকেই তার জীবন থেকে গত হয়েছেন। প্রত্যেকের মধ্যেই নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘাটতি ছিল! অথবা পারফেক্ট পারসন চিনতে না পারার অক্ষমতা ছিল তার নিজেরই! কিন্তু এখন সুইফট্ ভীষণ খুশি। পেয়েছেন আইডল একজন প্রেমিক পুরুষ। যার কাছে নিঃদ্বিধায় নিজেকে প্রকাশ করা যায়। সেই একজন হলেন জন এফ কেনেডি (জুনিয়ার) পূত্র কনোর। গত গ্রীষ্মের গরমে চাওর হওয়া সুইফট্-কনোর যুগলের এই প্রেমকাহিনী মিউজিক পাড়ায় দারুণ উত্তাপ ছড়িয়েছে।

পপ, রক এন্ড রোল ঘরানার গান যারা করেন স্বভাবতই তাদের মেজাজ মর্জিও থাকে ধামাকাদার। নইলে গানের পূর্ণ আবহ শ্রোতাদের সামনে প্রকাশ পাবে কেমনে। আর এখানেই সুইফট্ একেবারে ভিন্ন। তার ব্যক্তিজীবন ভীষণ রকম ঘরোয়া। বন্ধুমহলও ছিমছাম। টেলর নিজেও ছিমছাম জীবনের দ্বৈন্দন্দিন সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান। সবসময়ই চেয়েছেন জীবনের উৎকৃষ্ট সময়ে বিয়ে করে একজন ট্রেডিশনাল স্ত্রী হতে। আর উপযুক্ত পাত্র তো পেয়েই গেছেন!

টেলর সুইফট্ উল্লেখ করেছেন তার বন্ধুদের কথা। যারা খুব সাধারণ গতানুগতিক জীবনযাপন করেন। তাদের বেশিরভাগই বিয়ে করে সন্তানের বাবা-মা হয়ে গেছেন। তার কিছুই হলো না। সুতরাং টেলর সেক্ষেত্রে নিজেকে পিছিয়ে পড়ার দলে ভাবছেন! বেচারি!

টেলর বয়ফ্রেন্ড কনোরের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে খুব খুশি। কনোরের উপস্থিতি তাকে ঐশ্বরিক অনুভূতি এনে দেয়। কনোরের সঙ্গে কাটানো একান্ত মুহূর্তে টেলরের মনে হয় তিনি পৃথিবীর সুন্দরীশ্রেষ্টা একজন মেয়ে, যেন তিনি রাজকন্যা! টেলরের মতে কনোর একেবারে তার জন্য আদর্শ পুরুষ। টেলর বলেন, ‘আমি এখন রুপকথার রাজ্যে বাস করছি এবং ভীষণ করে চাই এই কাহিনী যেন কখনো শেষ না হয়।’ সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ইরানি চলচ্চিত্রের পাঁচ সুন্দরী মেয়ে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

ইরানি চলচ্চিত্রের পাঁচ সুন্দরী মেয়ে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট


 ‘আমি রুপ নগরের রাজকন্য রুপের জাদু এনেছি/ ইরান তুরান পার হয়ে আজ তোমার দেশে এসেছি।’
অথবা-
‘নাচে নাচে ইরানি মেয়ে, নাচে ইরানি মেয়ে/ মরু বালুকা হরষে আকুল/ নাচে নাচে ইরানি মেয়ে, নাচে ইরানি মেয়ে।’

পারস্য মেয়েদের সৌন্দর্য্য পৃথিবী বিখ্যাত। শুধু পারস্য কবিতা, গানেই না বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাহিত্যকর্মে নানাভাবে ইরানি মেয়েদের সৌন্দর্য্য বর্ণিত হয়েছে। কঠোর ইসলামী অধ্যুষিত দেশ হলেও সেখানকার চলচ্চিত্রে নিজের দেশের ঐহিত্য মেনেই ইরানি মেয়েরা নিজেদেরকে সাবলীল করে তুলেছেন। তাদের সৌন্দর্য্য ও অভিনয় দক্ষতার ফলে অসাধারণ হয়ে উঠেছে ইরানি চলচ্চিত্র। ইরানি চলচ্চিত্র আর্ন্তজাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। চলুন আজ কয়েকজন জনপ্রিয় ইরানি অভিনেত্রীর সঙ্গে পরিচিত হই।

গুলশিফতে ফারাহানি: ১৯৮৩ সালের ১০ জুলাই গুলশিফতে জন্মগ্রহণ করেন।  ‘বডি অব লাইস’ ছবির অভিনেত্রী গুলশিফতে ছয় বছর বয়স থেকেই থিয়েটারে অভিনয় করেন। রিডলি স্কট পরিচালিত ‘বডি অব লাইস’ ছবির মোহময়ী অভিনেত্রী গুলশিফতেই প্রথম ইরানি অভিনেত্রী হিসেবে হলিউড প্রোডাকশনে কাজ করেন। ১৪ বছর বয়সে ‘দ্য পিয়ার ট্রি’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। প্রথম ছবিতেই গুলশিফতে ফাজর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনয় শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ইরানের ছবিতে নিজেকে উল্লেখযোগ্য করে তোলেন।

২০০৭ সালে দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ও গুলশিফতে অভিনীত বিতর্কিত ছবি ‘সান্তুর’ ইরানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই অভিনেত্রী পিয়ানো থেকে শুরু করে আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে সক্ষম। পড়ালেখা করেছেন মিউজিক স্কুলে। বাস করছেন ফ্রান্সের প্যারিসে।

নিকি কারিমি: ‘দ্য হিডেন হাফ’ ছবির অভিনেত্রী ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নিকি ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত একজন অভিনেত্রী ও পরিচালক। দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ‘সারা’ চবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। এই ছবির জন্যে নিকি ১৯৯২ সালে ‘সান সাবাস্তিয়ান’ ও নান্তেস ফিল্ম’ ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ শুরু পর থেকে প্রায় ত্রিশটির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন নিকি। নিকি কারিমি অভিনীত ওয়ান নাইট, আনসার্টেন রিগার্ডস্, এ ফিউ ডে’জ লেটার, টু হ্যাভ আর নট টু হ্যাভ- সহ বহু ছবি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

লেয়লা হাতেমি: ‘এ সেপারেশন’ ছবির অভিনেত্রী লেয়লা হাতেমি হাইস্কুল শেষ করে পড়ালেখা করতে সুইজারল্যান্ডে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান। দুই বছর পর তিনি তার ট্র্যাক চেঞ্জ করে ফ্রেঞ্চ সাহিত্য নিয়ে পড়তে শুরু করেন। পড়ালেখা শেষ করে লেয়লা ইরানে ফিরে আসেন। পরিচালক দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ‘ লেয়লা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে সহকর্মী আলি মোসাফাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ৫ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান আছে। ২০১১ সালের বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে লেয়লা হাতেমি সম্মানজনক সিলভার বিয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

তারানে আলিদুস্তি: ‘অ্যাবাউট এলি’ ছবির অভিনেত্রী তারানেহ ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তারানেহর বাবা ইরানের নামকরা ফুটবল খেলোয়াড়। ২০০০ সালে অভিনয় শেখার স্কুলে ভর্তি হন। ২০০২ সালে ‘আই অ্যাম তারানা ,আই অ্যাম ফিফটিন’ ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে ইরানের চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারানের প্রথম ছবিই লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিলভার লেপার্ড অর্জন করে। বিউটিফুল সিটি, ফায়ারওয়ার্ক ওয়েন্সডে, ডাউট সহ বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন।

হেদাই তেহরানি: ফায়ারওয়ার্কস ওয়েন্সডে ছবির অভিনেত্রী হেদাই তেহরানি ১৯৯৫ সালে রুজ-ই-ভাগ-ই’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে ‘দ্য বেটার নোন ফেস’ ও ‘সোলতান’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়ে যান।

‘এক রাতে সুনীল আমার গায়ে হাত দিয়েছিল’ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘এক রাতে সুনীল আমার গায়ে হাত দিয়েছিল’ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার টুইটারে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করে থেমে থাকেননি। তিনি এবার জানিয়েছেন, সুনীল এক রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে তার হোটেলের ঘর থেকে ফিরে যাবার সময় তার গায়ে অশ্লীলভাবে হাত দিয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় তসলিমা নাকি এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন যে কী করবেন ভেবে পাননি। পরে এই ঘটনা নিয়ে তসলিমা নাকি ‘রাস্তার ছেলে এবং কবি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তসলিমা দাবি করেছেন, কবিতাটি সুনীলকে নিয়েই লেখা।

তবে তসলিমার এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন তসলিমা এ ব্যাপারটি নিয়ে চুপ ছিল কেন? সাহস থাকে তো আইনের সাহায্য নিক। সুনীল মনে করেন, এসবই তসলিমার হতাশার বহিঃপ্রকাশ। আর তাই এসব তাকে মোটেই বিচলিত করে না।

দুই বাংলার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে একসময় বই লিখে তসলিমা সাড়া ফেলেছিলেন। এজন্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছিলেন। কলকাতাতেও এক কবি তসলিমার বিরুদ্ধে কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছিলেন তার সম্পর্কে বইয়ে আপত্তিকর কিছু লেখার জন্য। তবে সেই সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও কথাই লেখেননি তসলিমা।

এতদিন পরে সুনীল সম্পর্কে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, তসলিমার ’দ্বিখণ্ডিত’ বইটি বাম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই নাকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন। তসলিমা এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সুনীল অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কখনই ’দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। বরং শঙ্খ ঘোষসহ অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেই বলেছিলেন। এমনকি মিছিলও করেছিলেন।

কিন্তু তসলিমা কেন বইটি নিষিদ্ধ করার পেছনে তিনিই প্রধান মাথা বলছেন তার কোনোনও কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। সুনীল জানিয়েছেন, তসলিমার কলকাতায় ফেরার ব্যাপারে তিনি কখনো কোনো উদ্যোগ নেননি ঠিকই, তবে তিনি এমন কোনো বড়মাপের ব্যক্তি নন যে, তার কথাতেই তসলিমার কলকাতায় আসা আটকে যাবে।

সুনীল ও তসলিমার এই সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও। তবে ঘটনার সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের লেখা ‘মুসলমানদের করণীয়’ নামের একটি বই সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের বিরুদ্ধে সুনীলের মতামত থেকে। সুনীল যেকোনো বই নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে তার মত প্রকাশ করার পরই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তসলিমা।

গত রোববার তিনি তার টুইটারে লিখেছেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বই নিষিদ্ধ করার পক্ষে। তিনি আমাকে এবং অন্যান্য মহিলাদের যৌন হয়রানি করেছেন। তিনি সাহিত্য আকাদেমির সভাপতি। শেম! শেম!।

তসলিমা আরো লিখেছেন, তার ’দ্বিখণ্ডিন্ডিত’ বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই বাম সরকারকে বলেছিল। আর এখন তিনি বই নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন। একজন ভণ্ড। কোনো বাঙালির সাহস নেই ভণ্ড ও মহিলাদের ব্যবহারকারী লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোশটা ছিঁড়ে ফেলার।

এই ট্যুইটার বোমার পর সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে তসলিমা বলেছেন, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলারা সবসময়ই যৌন হয়রানির শিকার হন। আমি শুনেছি সুনীল অনেক মেয়েকেই যৌন হয়রানি করেছে। পুরুষদের সমাজে এটা খুবই সাধারণ। কিন্তু মহিলার এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেন না চাকরি হারাবার ভয়ে। আর লেখার দুনিয়ায় তো অনেক উঠতি তরুণ মেয়েরা বাঘা বাঘা লেখকদের শারীরিক যৌন সম্পর্কের শিকার হয়েছে।

তসলিমার মতে, তাদের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে তারা কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না। এরপরই তসলিমা জানিয়েছেন, অনেকদিন আগের একটি ঘটনার কথা। সেই সময় ফ্রান্স থেকে এসে তিনি কলকাতার একটি হোটেলে থাকছিলেন। সেই সময় এক রাতে সুনীল বন্ধুদের নিয়ে তার ঘরে ডিনার করতে এসেছিলেন। কিন্তু যাবার সময় সুনীল নাকি বিদায় চুম্বন দেবার সময় তার গায়ে এমনভাবে হাত দিয়েছিলেন যে, তসলিমা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় তসলিমা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

তসলিমার দাবি, আমার মতো প্রতিষ্ঠিত লেখিকার সঙ্গে যেখানে সুনীল এই ধরনের কাজ করেছে সেখানে অন্য মেয়েদের সঙ্গে যে সে এই ধরনের কাজ করেছে এটাই স্বাভাবিক। তসলিমা আরো জানিয়েছেন, আমি জানি সুনীলের সেই ক্ষমতা আছে যে আমাকে ভারত থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে প্রভাব ঘাটাতে পারে। তবু তিনি সত্যি বলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

তসলিমা দাবি করেছেন, তার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ’দ্বিখণ্ডিত’তে অনেকের মুখোশ খুলে দেয়ার পর সুনীল নাকি তাকে বলেছিল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ্যে না আনতে। তবে তসলিমা জানিয়েছেন, সুনীলের মতো ’অর্ধেক জীবন’ তিনি লিখবেন না। তার কাছে কোনো কিছুই গোপনীয় নয়। আর সত্যি বলার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তবু সত্যি বলে যাবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

তসলিমা বর্তমানে দিল্লির এক অজ্ঞাত স্থানে ভারত সরকারের নিরাপত্তা সুরক্ষায় অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলমানদের একাংশের হিংসাত্মক বিক্ষোভের পরই তসলিমাকে কলকাতা ছেড়ে যেতে হয়। তার পর থেকে তার আর কলকাতায় ফেরা হয়নি। অথচ তসলিমা কলকাতায় ফিরতে চান।

তিনি মনে করেন, কলকাতা তার দ্বিতীয় ঘর। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে এনে মুসলমানদের চক্ষুশূল হতে চায় না কোনো রাজনৈতিক দলই। ফলে কলকাতায় ফেরার জন্য তার কোনো আবেদনে কোনো সরকারই কর্ণপাত করছে না। সূত্র: মানবজমিন

পুষ্টিগুণে ভরা আমলকি :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

পুষ্টিগুণে ভরা আমলকি :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

  দামে সস্তা হলেও আমলকি আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ ফলগুলোর মধ্যে একটি। আমলকি খেলে অনেক রোগের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় বা অনেক রোগ সেরে যায়। এ ফলের গুণাগুণ অমৃত সমান-তাই একে অমৃতফল বলা হয়ে থাকে।

পরিচর্যায় মায়ের মতো উপকারী তাই একে ধাত্রীফলও বলা হয়। আমলকিতে পেয়ারার চেয়ে আড়াই গুণ, লেবুর চেয়ে সাড়ে চার গুণ, আমের চেয়ে ১০ গুণ, কমলার চেয়ে ১১ গুণ, আমড়ার চেয়ে পাঁচ গুণসহ সব ফলের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে ১০০ গুণ বেশি ভিটামনি সি থাকে।

প্রতিদিন মাত্র একটি আমলকি খেয়ে আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারি। গাছ থেকে সংগ্রহের পর থেকে ধীরে ধীরে এর ভিটামিন সি নষ্ট হতে থাকে। তাই আমলকি অবশ্যই তাজা খেতে হবে।

আমলকি শরীর ঠাণ্ডা রাখে, রক্ত, মাংস ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পায়খানা স্বাভাবিক রাখা ও পুরুষের দেহে বীর্য বর্ধক হিসেবে কাজ করে। চোখের জন্যও আমলকি বিশেষভাবে উপকারী।

প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে পানি- ৯১.৪ গ্রাম, খনিজ -০.৭ গ্রাম, প্রোটিন - ০.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম - ৩৪.০ মিগ্রা, আয়রণ - ১.২ মিগ্রা, ভিটামিন বি১-১০.০২ মিগ্রা, ভিটামিন বি২-২০.০৮ মিগ্রা, ভিটামিন সি-৪৬৩ মিগ্রা।

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গৃহস্থালির কাজ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গৃহস্থালির কাজ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

 গৃহস্থালির কাজকর্ম, নিয়মিত হাঁটাচলা করা বা বাগানের কাজে ব্যস্ততা নারীদের স্তুন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। স্তন ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত সবচেয়ে বড় গবেষণার পর ইউরোপিয়ান প্রসপেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন অব ক্যানসার (ইপিআইসি) তাদের রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে।

বৃটেনের ক্যানসার গবেষণার সহযোগিতায় পরিচালিত এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব নারী সাধারণ থেকে ভারী ধরনের গৃহস্থালির কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৩ ভাগ কমে যায়। এতে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০০০ নারীর খাদ্যাভ্যাস, জীবনাচরণ এবং তাদের রোগব্যাধির ইতিহাসের প্রতি নজর রাখা হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব নারী পরিশ্রমের কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিলেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যারা পরিশ্রমের কোনো কাজ করেননি তাদের চেয়ে ১৩ ভাগ কম। আর যেসব নারী মোটামুটি পরিশ্রমের কাজ করেছেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আট ভাগ কমে গেছে।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকের সারাহ উইলিয়াম বলেছেন, স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত যেসব তথ্য জানা রয়েছে এ গবেষণা সেটাকেই আরো জোরদার করেছে।

বৃটিশ সরকার নারীদের প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট করে মোটামুটি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বলছে, মাত্র ৩৯ ভাগ পুরুষ এবং ২৯ ভাগ নারী প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের কাজে সময় দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম প্রতি বছর বৃটেনে ৩০০০ নারীকে ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। সূত্র: ওয়েবসাইট

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহলের তদবির’ ছিল হলমার্ক ঋণে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহলের তদবির’ ছিল হলমার্ক ঋণে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 হলমার্ক গ্রুপকে অনিয়ম করে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহল’-এর আরো অনেকের ‘তদবির’ ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী দুদকের অনুসন্ধান দল সূত্রে একথা জানা গেছে। হলমার্কের এই দুর্নীতির সময় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মো. হুমায়ুন কবীর।

ছয় সদস্যেরর অনুসন্ধান দল সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে সোনালী ব্যাংকের সাবেক এই এমডিকে তার মেয়াদকালে হলমার্ক গ্রুপসহ অন্যান্য ঋণগ্রহীতাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের হোসেন ছাড়া আর কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না হলমার্কের ঋণের ব্যাপারে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুএকবার আশা যাওয়া ছিল। তবে তিনি ছাড়াও ‘ওপরমহলের’ অনেকেরই তদবির ছিল এ ব্যাপারে। ব্যাংকের তখনকার শেরাটন হোটেল শাখার কর্মকর্তারাও এ কাজে জড়িত ছিলেন। শাখাটির ব্যবস্থাপক এই ঋণের ক্ষেত্রে হলমার্ক গ্রুপকে বিশেষভাবে সাহায্য করেন।

তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে এই ঋণ ছাড় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৬ সদস্যের অনুসন্ধান দল। জিজ্ঞাসাবাদে দুদক সোনালী ব্যাংকের বিগত ৩ অর্থবছরের ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা চেয়েছে তার কাছে। দুদক কর্মকর্তারা তাকে ২০০৯, ’১০ ও ’১১ অর্থবছরে ব্যাংকটি থেকে ঋণগ্রহীতাদের এ তালিকা জমা দিতে বলেন।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে তিনি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান মো. হুমায়ুন কবীর। সাংবাদিকরা এ সময় তাকে ঘিরে ধরলে ধস্তাধস্তি হয়। দুদক কার্যালয়ের রাস্তার উল্টো দিকে একটি আবাসিক ভবনের পার্কিংয়ে তার গাড়ি রাখা ছিল। সেখান থেকে গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত সাংবাদিকরা তার পিছু নেন। তাকে বারবার নানা প্রশ্ন করা হলেও তিনি একই জবাব দেন যে, ‘‘আমার সময়ে আমি শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করেছি। এ সুতা পরিমাণও দুর্নীতি হয়নি।’’

রাষ্ট্রায়ত্ব এই ব্যাংকটির তখনকার শেরাটন হোটেল (বর্তমান রূপসী বাংলা হোটেলের) কর্পোরেট শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে হলমার্কসহ পাঁচটি কোম্পানি ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ব্যাংকটির আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

বাংলাদেশ ব্যাংক অভিযোগ করেছে, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এই এমডিসহ ৩৩ কর্মকর্তার যোগসাজশে এ অনিয়ম হয়েছে।

এ পর্যন্ত এ অভিযোগ তদন্তে রুপসী বাংলা ও প্রধান শাখার মোট ২০জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হলমার্কের এমডি সহ মোট ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করবে : স্পিকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করবে : স্পিকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়ে সংসদকে কার্যকর করবে। সংসদে এসে বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণ করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ।

মঙ্গলবার জাতীয় চতুর্দশ বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের বক্তব্যে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘সংসদ হলো জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণের কেন্দ্রবিন্দু। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েই গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। উভয় দলের উপস্থিতিই সংসদকে কার্যকর করতে পারে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি স্পিকার। আমার কাজ সংসদ পরিচালনা করা। আমার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই সমান। উভয় দল সংসদে উপস্থিত হলে আমারও ভাল লাগে। সংসদও কার্যকর হয়।

সংসদের অধিবেশন দেখার জন্য শিশুদের  জন্য স্বতন্ত্র গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে। এ গ্যালারিতে বর্তমানে ৫০ জন শিশু অধিবেশন দেখছেন বলেও জানান তিনি।

এখন থেকে সংসদের অধিবেশন শিশুরা দেখতে পারবে। শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে এমন কথা বলা থেকে সংসদ সদস্যদের বিরত থাকার আ‎‎ জানান তিনি।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ৫০০ কিলোমিটার পূর্বে খোয়াইমাহ শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত এবং অপর দুইজন আহত হয়েছেন।
 
পুলিশের বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ১৮ জন বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিককে বহনকারী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের লোহার রেলিংয়ে ধাক্কা খেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, নিহত চার বাংলাদেশির মরদেহ রয়্যাল ওমানি পুলিশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ১২ জনকে প্রাথমিকভাবে ভর্তি করা হয় খোয়াইমাহর জালান বনি বু আলী হাসপাতালে। সেখান থেকে গুরুতর আহত ছয়জনক (দু’জন বাংলাদেশি) সার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত তিনজন ভারতীয় ও দু’জন বাংলাদেশি নাগরিকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

ওমানের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওমানের নাগরিক এক চালক। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পরিবহনটি রাস্তার পাশের প্রতিবন্ধকের সঙ্গে লাগালে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

ওমানে একই বাহলা নামক স্থানে অপর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ ছয়জন মানুষ নিহত হয়। সূত্র: গালফ নিউজ।

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

প্রধানমন্ত্রীর চার প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে নিয়ে চরম ব্রিবতকর অবস্থায় পড়েছে মহাজোট। বিতর্কিত এ চার উপদেষ্টা হলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. মোদাচ্ছের আলী, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি, হাসপাতালে কর্মচারি নিয়োগ নিয়োগ নিয়ে বেঁফাস মন্তব্য, পদ্মা সেতু ইস্যুতে দূর্নীতির অভিযোগ, কুইক রেন্টাল ও ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি ও ট্রানজিট বিষয়ে এসব উপদেষ্টাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড ও মন্তব্যে সরকার ও ক্ষমতাসীন মহাজোট বিব্রত বোধ করছে। তবে বিষয়টি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জড়িত তাই তারা কেউ মুখ খুলছেন না। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলের এ অবস্থানের কথা জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দু’জন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক নেতা উপদেষ্টাদের দলের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না থাকা ও শপথ না নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়াকে কটাক্ষ করেছেন। তাদের কর্মকান্ডে দলের যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তারা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ বিষয়ে বার্তা২৪ ডটনেটকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরেক উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু ক্ষুব্ধ ভাষায় বলেন, ‘‘আমি ভাই কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী ভাল জানেন।’’ এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনেকেই এ বিষয়টিতে বিব্রত বোধ করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেছেন, ‘‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ।’’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহাজোটের শরিক দলের এক নেতা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর। তাদের দায়ভার কোনোভাবেই মহাজোট বহন করবে না।’’ এ সকল উপদেষ্টাদের বির্তকিত কর্মকান্ডের কারনে মহাজোটকে চরম মাশুল দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারা মনে করেন কেউ দূর্নীতি করলে সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আর কোনো ব্যক্তির দূর্নীতির দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর নাম ওঠে এসেছে। হলমার্ক গ্রুপের নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ অর্থ সরানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপেই হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দুদককে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সময়ে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলীকে সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখায় বেশ কয়েকবার দেখেছেন।

এর আগে  গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গোপালগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মোদাচ্ছের আলী বলেছিলেন, ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আগামীতে যে ১৩ হাজার তিনশ ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে, তাতে দলীয় লোকের বাইরে একজনকেও চাকরি দেওয়া হবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ মোদাচ্ছেরের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত বলে পরে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব রয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংক।  প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা পদ্মাসেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন।

বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নে ফিরে এলে মশিউর পদত্যাগ করবেন বলেও জানান। এর আগে একই অভিযোগে সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এছাড়া শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনেও বিনিয়োগকারীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই দুর্নীতির দায় নিয়ে তার পদত্যাগ করার কথা।

জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়ে সংসদের দশম অধিবেশনেও হয়েছে উত্তপ্ত আলোচনা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের বর্তমান বেহাল দশায় এ সেক্টরের উপদেষ্টার কর্মকান্ডে ফুঁসছে গোটা দেশ। তার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে বিব্রত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ খাতের সীমাহীন দুর্নীতিও এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট।

শুরুতেই কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার কথা বলে সমালোচনার ঝড় তোলেন ড. তৌফিক ই ইলাহী। তার উল্টো দম্ভোক্তি-কুইক রেন্টালের সমালোচনাকারীরা দেশের শত্রু, অজ্ঞ, জ্ঞানপাপী না হয় রাষ্ট্রদ্রোহী। তার এমন বক্তব্যেও সরকারের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ঘাটতি হয়েছে বলে মনে করেন মহাজোট নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ দশম সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ মন্ত্রণালয় কে চালান? মন্ত্রী না উপদেষ্টা? মন্ত্রীর কী ক্ষমতা, উপদেষ্টার কী ক্ষমতা, তা আমরা জানি না। উপদেষ্টাকে ফোন করলে তিনি তা ধরেন না। তাকে নিয়ে সংসদে দফায় দফায় বিতর্কসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ তিনি এসবের কিছুই গায়ে মাখেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা অপর ব্যাক্তি ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। তিনিও টিপাইমুখে ভারতের জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ ও ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ব্যাপারে যেন বেশ আগ্রহী। তার সমালোচনা করে মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন সংসদের দশম অধিবেশনে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন- তিনি কী ভারতের উপদেষ্টা না বাংলাদেশের উপদেষ্টা।

ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা ১৯৪৭ সালের পর থেকেই ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তার এমন বেফাঁস কথাবার্তায় তখন দেশের রাজনীতিতে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার কথার ভিন্নতায়ও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে তার কোনো উদ্যেগই ছিলনা।

এদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে এখনো পরিস্কার নয় খোদ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। শুরু থেকেই চার উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল তাদের দেশপ্রেম ও ক্ষমতা নিয়েও। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে প্রচারণা বললেন অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে প্রচারণা বললেন অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 হলমার্ক গ্রুপকে দেয়া সোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, “এই প্রচারণা ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

মুহিত বলেন, “ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। অথচ মাত্র চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং খাতেই ধস নেমেছে।”

আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সততা বিভাগ জেহাদি মনোভাব নিয়ে কাজ করে। এই মনোভাব নিয়ে কাজ করা যাবে না। বিশ্বব্যাংক যা বলে, তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও জবাবদিহিহীন। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধের বিরোধী হিসেবে কাজ করে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালো টাকা বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা। কালো টাকা থাকবেই। এটাকে মেনে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।”

গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

বিচারক অপসারণে সংসদের ক্ষমতা চান সরকারদলীয় এমপিরা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিচারক অপসারণে সংসদের ক্ষমতা চান সরকারদলীয় এমপিরা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 পাকিস্তানের প্রথম দিককার সংবিধানে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বায়াত্তরের সংবিধানেও উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করার ক্ষমতা (ইমপিচমেন্ট) ছিল জাতীয় সংসদের, এটা উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের এমপিরা মঙ্গলবার সংসদে দাবি তুলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন করে এই এখতিয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।
 
সংসদ স্পিকারের সাম্প্রতিক একটি রুলিংয়ের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের গত ২৭ আগস্ট দেয়া এক রায়ের সমালোচনা করে তারা এমন বক্তৃতা করেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর থেকে রাত ৯ টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন তারা।
 
হাই কোর্ট বিভাগের রায়ের সমালোচনা করে এমপি’রা বলেন, আদালতের ওই রায় সংবিধান বহির্ভূত হয়েছে। আদালত নিজেদের এখতিয়ার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের অপসারণের দাবি করেন তারা। তারা বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম, বিচার বিভাগ সার্বভৌম নয়।
 
তবে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস এমপিদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটা আদালতের কোনো ‘রায়’, নয় পর্যবেক্ষণ। এই নিয়ে সংসদ ও আদালতের মধ্যে যুদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা লাভবান হবে।
 
নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের প্রথম দিনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আওয়ামী লীগের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ড অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক অসাংবিধানিক আচরণ করেছেন উল্লেখ করে সংসদে স্পিকার আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেটের দেয়া একটি রুলিংকে ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ও অকার্যকর’ সাব্যস্ত করে  হাই কোর্ট বিভাগীয়  এক বেঞ্চের সাম্প্রতিক রায়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 
হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন— উল্লেখ করে গত ১৮ জুন দেয়া স্পিকারের রুলিং কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে করা আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয় গত ২৭ আগস্ট। বিভাগের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
সাধারণ ‘বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনা’ হয়নি: স্পিকার
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আলোচনার পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ বিষয়টিতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। আমরা এ বিষয়ে আপিল করেছি। বিষয়টি  মাথায় রেখেই আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।’’

আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘‘আপনার মনের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে পারছেন না। সংসদ সদস্য হওয়ায় সব বিষয়টি  আমাদের মাথার মধ্যে থাকে।  আপিল সংসদ করেনি। সংসদ সার্বভৌম। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রাখা হয়েছে আমাদের কথা বলার জন্য। সংসদ সার্বভৌমত্ব। আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তৃত্ব এখানে নেই। কোনো কোনো পত্রিকায় এসেছে সাব জুডিস (বিচারাধীন বিষয়) হিসেবে আলোচনা করা যাবে না। আমি জাতির স্পিকার হিসেবে বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ মামলা মোকদ্দমমা নয়, বা খুনের মামলা নয় যে আলোচনা হলে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।’’

স্পিকার হলেন, ‘‘এ বিষয়টি হলো সংবিধানন নিয়ে। সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে বিচারপতিরাও তা শুনবেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনা করা সাবজুডিস এর মধ্যে আসতেই পারে না। আক্রমণাত্বকভাবে কথা না বলে ধৈয্য ধরে বক্তব্য দেয়ার জন্য স্পিকার আহবান জানান।’’

বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম: সেলিম
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘‘সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করে। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সংসদের মতো সার্বভৌম নয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বিচারপতিগণ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি স্পিকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘একটি  বিশেষ মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে  অকথ্য ভাষায় স্পিকারের ওপর নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে। স্পিকারের উপর হামলা মানে সংসদের ওপর হামলা। এ বিষয়ে সংসদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে বিচারপতিরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। বিচারকরগণ যা ইচ্ছা তা নিয়ে রায় দিতে পারেনা। বিচারপতিদের এ বিষয়টি ভেবেই রায় দিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। বিচারপতি আলতাফ হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সংবিবধান লঙ্ঘন  করে রিট গ্রহণ করে মনগড়া পদ্ধতিতে রুলিং দেন। সংসদের বিষয়ে রিট গ্রহণ করাই তাদের এখতিয়ারে ছিল না। সংবিধানের ৭৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর বিষয়ে সরকারও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে বিচারবিভাগও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেনা। বিচারপতিরা সীমা লংঘন করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদ। এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো ধরণের রায় দিতে পারবে না। কিন্তু বিচার বিভাগ অবিবেচিত রায় দিয়েছে। এটা আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত ও আইনের পরিপন্থী। গুটিকয়েক বিচারপতি স্পিকারকে লক্ষ্য করে যে রায় দিয়েছে তার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অশুভ শক্তিকে রুখে দিতে জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিকে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংসদ সার্বভৌম। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন  হতে পারে কিন্তু সার্বভৌম নয়। বিচারপতিরা শপথ  ভঙ্গ  করেছেন। স্পিকারের প্রতি অসদাচরণ ও সংবিধান লংঘন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিদের  ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’’
 
বিচারক অপসারণে বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনুন: তোফায়েল
তোফায়েল আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, বিচারক অপসারণে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার এখতিয়ার কেন সংসদের থাকবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে এনে বিচারকদের ইমপিচ করতে সংসদের এখতিয়ার ফিরিয়ে আনুন।
 
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং নিয়ে দেশ শান্ত হয়েছিল। বিচারপতিরাও খুশি হয়েছিল। ব্যক্তিগত হিসেবে না  নিয়ে রুলিং দিয়েছেন। যিনি রায় দিয়েছেন, তিনি এসব কথা বলতে পারেন না, সরকারি রেকর্ডে সুপ্রিম কোর্টের  জমি  নেই।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিগণ স্পিকারকে বলেছেন আপনি লেখাপড়া জানেন না। আপনার অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী বলে একজন বিচারপতি আপনার ওপর যে কটাক্ষ করেছেন তাতে আপনি একটু উত্তেজিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডাভাবে তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন।’’
 
মহাজোট শরিক মইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিংকে বিচার্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে আদালত সংবিধান গ্রহণ করেছে।’’
 
আলোচনায় আরো অংশ নেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মজিবুল হক চুন্নু, ছায়েদুল হক ও ফজলে নূর তাপস।
 
মহাজোটের এমপি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘আমাদের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন। তিনি সংবিধানের ক্ষতিটি করে গিয়েছেন। বিচারপতিরা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন।’
 
মহাজোটের অপর এমপি হাসানুল হক ইনু বলেন, ’‘বাংলাদেশে অতীতে সেনাপতি ও বিচারপতিরা সাংবিধানিক ধারা ব্যাহত করেছেন। আদালত সংসদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, পারে না।’’
 
হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, ’‘রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। আর সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। এভাবে সংসদ জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে।’’
 
সর্বশেষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের আলোচনার পর স্পিকার এ বিষয়ে আলোচনার সমাপ্তি টানেন রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে। স্পিকার জানান যে, তিনি ভেবে চিন্তে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত দেবেন।
 
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের জমি নিয়ে হাই কোর্ট বিভাগের আদেশের বিষয় উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯ মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত দেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে।

পরে ৫ জুন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করেন তার নেতৃত্ব থাকা হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতের এ মন্তব্যের পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই সংসদে এই বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারককে অপসারণের দাবি জানান।

১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ রুলিং দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করলেও রুলিং-এ বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি প্রত্যাহারের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান স্পিকার। এ বিচারকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন স্পিকার।

Tuesday, September 4, 2012

বিকট বিজ্ঞাপনের শব্দ থেকে মুক্তি পেলো জার্মানরা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিকট বিজ্ঞাপনের শব্দ থেকে মুক্তি পেলো জার্মানরা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 সেপ্টেম্বর থেকে জার্মানিতে রেডিও-টেলিভিশনে আর জোরালো শব্দের বিজ্ঞাপন প্রচার করা চলবে না৷ শব্দের মাত্রা নয়, শব্দের তীব্রতার ঊর্ধ্বসীমা এবার বেঁধে দেয়া হয়েছে৷

রেডিও বা টেলিভিশন মানেই বিজ্ঞাপন৷ চলচ্চিত্র, খেলা, টক শো-সবার মাঝেই বিজ্ঞাপন বিরতি৷ বিজ্ঞাপনের অর্থ ছাড়া অনুষ্ঠান প্রযোজনা বা সম্প্রচার করা প্রায় অসম্ভব৷ তাই দর্শকদের পক্ষে তা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ কিন্তু সমস্যা হলো, বিজ্ঞাপন শুরু হলেই আচমকা নিজ থেকে শব্দের মাত্রা বেড়ে যায়৷ তখন লাফিয়ে উঠে রিমোট কন্ট্রোল খুঁজে ভলিউম কমাতে হয়৷ অথবা রেডিওর বোতাম ঘোরাতে হয়৷ ১ সেপ্টেম্বর থেকে জার্মানির রেডিও শ্রোতা ও টেলিভিশন দর্শকেরা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন৷

বিধিনিয়ম অনুযায়ী প্রায় গোটা বিশ্বেই রেডিও ও টেলিভিশনে শব্দের নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে দেওয়া রয়েছে৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে শ্রোতা ও দর্শকদের মনে হয়, বিজ্ঞাপন, ট্রেলার বা পপ গানের সময় আচমকা যেন শব্দের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে৷ বাস্তবে কিন্তু সেটা ঘটে না৷ বিজ্ঞাপনের আগে বা পরে শব্দের মাত্রা যা থাকে, বিজ্ঞাপনের সময়ও তার তারতম্য হয় না৷ তাহলে কি আমরা কানে ভুল শুনি? যন্ত্রকুশলী ইয়র্গ মোরাভেৎস বললেন, আসলে কাগজে-কলমে শব্দের মাত্রা না বাড়িয়েও চালাকি করে জোরালো শব্দ সৃষ্টি করা যায়৷ তিনি বললেন, ‘‘কোনো অনুষ্ঠানের মধ্যে যে অংশে শব্দের মাত্রা কম, সেই অংশগুলিকে কৃত্রিমভাবে জোরালো করা হয়৷ শব্দের স্বাভাবিক ওঠানামার বদলে সবটাই সবচেয়ে উঁচু মাত্রায় ধরে রাখা হয়৷ ‘কমপ্রেশন’ নামের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা করা হয়৷”

যারা বিজ্ঞাপন তৈরি করছেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা৷ অথচ শ্রোতার মোটেই তা পছন্দ হওয়ার কথা নয়৷ তারা বিরক্ত হয়, অনেকের রক্তচাপও বেড়ে যায়৷ রেডিও বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শব্দের ওঠানামার স্বাভাবিক ছন্দ মানুষ পছন্দ করে৷ কারসাজি করে একটা বিজ্ঞাপনের গোটা সময় জুড়ে শব্দ শুধু উঁচু পর্যায়ে রাখলে ছন্দপতন ঘটে৷

জার্মানিতে নিয়ম করে এই কারসাজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ সেপ্টেম্বর থেকে শব্দের মাত্রা নয়, শব্দের তীব্রতার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে৷ ফলে আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন তৈরি করার সময় জোরালো শব্দের বদলে স্বাভাবিক ছন্দকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা দেখা যাবে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

মাছরাঙা থেকে শাহ আলমগীরের পদত্যাগ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

মাছরাঙা থেকে শাহ আলমগীরের পদত্যাগ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 অবশেষে মাছরাঙা টেলিভিশন থেকে পদত্যাগ করলেন  শাহ আলমগীর। চ্যানেলটির জন্মলগ্ন থেকেই এর বার্তা প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়টি শাহ আলমগীর নিজেই বার্তা২৪ ডটনেট-কে  নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে মাছরাঙা কর্তৃপক্ষকে জানান।  আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, কর্তৃপক্ষ এখনও তার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

দু’বছর আগে মাছরাঙার জন্মলগ্ন থেকেই এর বার্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন শাহ আলমগীর। বলা যায় নিজ হাতেই তিনি সাজিয়েছিলেন মাছরাঙার বার্তা বিভাগ। চ্যানেলটিতে বিভিন্ন চ্যানেল থেকে যে সংবাদকর্মীরা এসেছেন তাদের বেশিরভাগই তার কারণে চ্যানেলটিতে যোগ দিয়েছেন। মাছরাঙার আগে শাহ আলমগীর ছিলেন বন্ধ হয়ে যাওয়া যমুনা টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক। এ চ্যানেল থেকেও সে সময় অনেক সংবাদকর্মী তার সাথে মাছরাঙায় চলে আসেন।

শোনা যায় বেশ কিছুদিন ধরেই চ্যানেলটির একজন শীর্ষকর্তার সাথে শাহ আলমগীরের ঝামেলা চলছিল। মূলত ওই কর্মকর্তার নেয়া নানা পদক্ষেপ ও  সিদ্ধান্তের সাথে তিনি একমত হতে পারছিলেন না। এতেকরে  ওই শীর্ষকর্তার সাথে তার সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে। আর এর প্রেক্ষিতেই তার এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শাহ আলমগীর বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে চলে এসেছি।” পদত্যাগের কারণ হিসেবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।

তবে তিনি বলেন, “আমি সব সময়ই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। এক বছর আগেই অন্য চ্যানেল থেকে আমাকে অফার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি। কারণ, ওই সময় চলে গেলে মাছরাঙার বার্তা বিভাগ ভেঙে পড়তো। চ্যানেলটির ক্ষতি হতো। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী এমনটি করতে পারেন না।”

তিনি আরো বলেন, “স্কয়ার কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। আমি কোনো অবস্থাতেই তাদের দায়ী করব না।”

আপনি কোথাও যোগদান করছেন কি না জানতে চাইলে শাহ আলমগীর বলেন, “না, আমি একমাস বিশ্রামে থাকব। এরপর ভেবে দেখব- কোথায় যোগদান করা যায়।”  তিনি জানান, যোগদান করার মতো জায়গা তার আছে।

মাছরাঙা ও যমুনা টেলিভিশনের আগে শাহ আলমগীর চ্যানেল আই ও একুশে টেলিশিনের বার্তা বিভাগের প্রধান কাজ করেছেন।