পাকিস্তানের প্রথম দিককার সংবিধানে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বায়াত্তরের
সংবিধানেও উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করার ক্ষমতা (ইমপিচমেন্ট) ছিল
জাতীয় সংসদের, এটা উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন
মহাজোটের এমপিরা মঙ্গলবার সংসদে দাবি তুলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন করে এই
এখতিয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।
সংসদ স্পিকারের সাম্প্রতিক একটি রুলিংয়ের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট
বিভাগের গত ২৭ আগস্ট দেয়া এক রায়ের সমালোচনা করে তারা এমন বক্তৃতা করেন।
মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর থেকে রাত ৯ টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত সংসদ
অধিবেশনে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন তারা।
হাই কোর্ট বিভাগের রায়ের সমালোচনা করে এমপি’রা বলেন, আদালতের ওই রায়
সংবিধান বহির্ভূত হয়েছে। আদালত নিজেদের এখতিয়ার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট বিচারকদের অপসারণের দাবি করেন তারা। তারা বলেন, বিচার বিভাগ
পৃথকীকরণ করা হয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম, বিচার
বিভাগ সার্বভৌম নয়।
তবে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস
এমপিদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটা আদালতের কোনো ‘রায়’,
নয় পর্যবেক্ষণ। এই নিয়ে সংসদ ও আদালতের মধ্যে যুদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা
লাভবান হবে।
নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের প্রথম দিনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর
আওয়ামী লীগের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ড অব অর্ডারে
দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক
অসাংবিধানিক আচরণ করেছেন উল্লেখ করে সংসদে স্পিকার আব্দুল হামিদ
অ্যাডভোকেটের দেয়া একটি রুলিংকে ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ও অকার্যকর’ সাব্যস্ত
করে হাই কোর্ট বিভাগীয় এক বেঞ্চের সাম্প্রতিক রায়ের ব্যাপারে আলোচনা
করতে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সংবিধানের ৭৮(১)
অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন— উল্লেখ করে গত ১৮ জুন দেয়া স্পিকারের রুলিং কেন
অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে করা আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয় গত
২৭ আগস্ট। বিভাগের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও এবিএম আলতাফ হোসেনের
বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে
আবেদন করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন
ধার্য করা হয়েছে।
সাধারণ ‘বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনা’ হয়নি: স্পিকার
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আলোচনার পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ বিষয়টিতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। আমরা এ বিষয়ে আপিল করেছি। বিষয়টি মাথায় রেখেই আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।’’
আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘‘আপনার মনের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে পারছেন না। সংসদ সদস্য হওয়ায় সব বিষয়টি আমাদের মাথার মধ্যে থাকে। আপিল সংসদ করেনি। সংসদ সার্বভৌম। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রাখা হয়েছে আমাদের কথা বলার জন্য। সংসদ সার্বভৌমত্ব। আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তৃত্ব এখানে নেই। কোনো কোনো পত্রিকায় এসেছে সাব জুডিস (বিচারাধীন বিষয়) হিসেবে আলোচনা করা যাবে না। আমি জাতির স্পিকার হিসেবে বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ মামলা মোকদ্দমমা নয়, বা খুনের মামলা নয় যে আলোচনা হলে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।’’
স্পিকার হলেন, ‘‘এ বিষয়টি হলো সংবিধানন নিয়ে। সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে বিচারপতিরাও তা শুনবেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনা করা সাবজুডিস এর মধ্যে আসতেই পারে না। আক্রমণাত্বকভাবে কথা না বলে ধৈয্য ধরে বক্তব্য দেয়ার জন্য স্পিকার আহবান জানান।’’
বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম: সেলিম
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘‘সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করে। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সংসদের মতো সার্বভৌম নয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বিচারপতিগণ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি স্পিকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অকথ্য ভাষায় স্পিকারের ওপর নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে। স্পিকারের উপর হামলা মানে সংসদের ওপর হামলা। এ বিষয়ে সংসদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে বিচারপতিরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। বিচারকরগণ যা ইচ্ছা তা নিয়ে রায় দিতে পারেনা। বিচারপতিদের এ বিষয়টি ভেবেই রায় দিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। বিচারপতি আলতাফ হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সংবিবধান লঙ্ঘন করে রিট গ্রহণ করে মনগড়া পদ্ধতিতে রুলিং দেন। সংসদের বিষয়ে রিট গ্রহণ করাই তাদের এখতিয়ারে ছিল না। সংবিধানের ৭৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর বিষয়ে সরকারও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে বিচারবিভাগও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেনা। বিচারপতিরা সীমা লংঘন করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদ। এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো ধরণের রায় দিতে পারবে না। কিন্তু বিচার বিভাগ অবিবেচিত রায় দিয়েছে। এটা আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত ও আইনের পরিপন্থী। গুটিকয়েক বিচারপতি স্পিকারকে লক্ষ্য করে যে রায় দিয়েছে তার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অশুভ শক্তিকে রুখে দিতে জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিকে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংসদ সার্বভৌম। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সার্বভৌম নয়। বিচারপতিরা শপথ ভঙ্গ করেছেন। স্পিকারের প্রতি অসদাচরণ ও সংবিধান লংঘন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিদের ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’’
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আলোচনার পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ বিষয়টিতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। আমরা এ বিষয়ে আপিল করেছি। বিষয়টি মাথায় রেখেই আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।’’
আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘‘আপনার মনের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে পারছেন না। সংসদ সদস্য হওয়ায় সব বিষয়টি আমাদের মাথার মধ্যে থাকে। আপিল সংসদ করেনি। সংসদ সার্বভৌম। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রাখা হয়েছে আমাদের কথা বলার জন্য। সংসদ সার্বভৌমত্ব। আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তৃত্ব এখানে নেই। কোনো কোনো পত্রিকায় এসেছে সাব জুডিস (বিচারাধীন বিষয়) হিসেবে আলোচনা করা যাবে না। আমি জাতির স্পিকার হিসেবে বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ মামলা মোকদ্দমমা নয়, বা খুনের মামলা নয় যে আলোচনা হলে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।’’
স্পিকার হলেন, ‘‘এ বিষয়টি হলো সংবিধানন নিয়ে। সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে বিচারপতিরাও তা শুনবেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনা করা সাবজুডিস এর মধ্যে আসতেই পারে না। আক্রমণাত্বকভাবে কথা না বলে ধৈয্য ধরে বক্তব্য দেয়ার জন্য স্পিকার আহবান জানান।’’
বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম: সেলিম
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘‘সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করে। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সংসদের মতো সার্বভৌম নয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বিচারপতিগণ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি স্পিকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অকথ্য ভাষায় স্পিকারের ওপর নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে। স্পিকারের উপর হামলা মানে সংসদের ওপর হামলা। এ বিষয়ে সংসদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে বিচারপতিরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। বিচারকরগণ যা ইচ্ছা তা নিয়ে রায় দিতে পারেনা। বিচারপতিদের এ বিষয়টি ভেবেই রায় দিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। বিচারপতি আলতাফ হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সংবিবধান লঙ্ঘন করে রিট গ্রহণ করে মনগড়া পদ্ধতিতে রুলিং দেন। সংসদের বিষয়ে রিট গ্রহণ করাই তাদের এখতিয়ারে ছিল না। সংবিধানের ৭৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর বিষয়ে সরকারও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে বিচারবিভাগও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেনা। বিচারপতিরা সীমা লংঘন করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদ। এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো ধরণের রায় দিতে পারবে না। কিন্তু বিচার বিভাগ অবিবেচিত রায় দিয়েছে। এটা আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত ও আইনের পরিপন্থী। গুটিকয়েক বিচারপতি স্পিকারকে লক্ষ্য করে যে রায় দিয়েছে তার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অশুভ শক্তিকে রুখে দিতে জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিকে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংসদ সার্বভৌম। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সার্বভৌম নয়। বিচারপতিরা শপথ ভঙ্গ করেছেন। স্পিকারের প্রতি অসদাচরণ ও সংবিধান লংঘন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিদের ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’’
বিচারক অপসারণে বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনুন: তোফায়েল
তোফায়েল আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, বিচারক অপসারণে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার
এখতিয়ার কেন সংসদের থাকবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান,
বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে এনে বিচারকদের ইমপিচ করতে সংসদের এখতিয়ার ফিরিয়ে
আনুন।
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং নিয়ে দেশ শান্ত হয়েছিল। বিচারপতিরাও খুশি
হয়েছিল। ব্যক্তিগত হিসেবে না নিয়ে রুলিং দিয়েছেন। যিনি রায় দিয়েছেন, তিনি
এসব কথা বলতে পারেন না, সরকারি রেকর্ডে সুপ্রিম কোর্টের জমি নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিগণ স্পিকারকে বলেছেন আপনি লেখাপড়া জানেন না। আপনার
অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী বলে একজন বিচারপতি আপনার ওপর যে কটাক্ষ করেছেন তাতে
আপনি একটু উত্তেজিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডাভাবে তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে
দিয়েছেন।’’
মহাজোট শরিক মইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিংকে বিচার্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে আদালত সংবিধান গ্রহণ করেছে।’’
আলোচনায় আরো অংশ নেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মজিবুল হক চুন্নু, ছায়েদুল হক ও ফজলে নূর তাপস।
মহাজোটের এমপি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘আমাদের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি
প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন। তিনি সংবিধানের ক্ষতিটি করে গিয়েছেন।
বিচারপতিরা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি
জানিয়েছেন।’
মহাজোটের অপর এমপি হাসানুল হক ইনু বলেন, ’‘বাংলাদেশে অতীতে সেনাপতি ও
বিচারপতিরা সাংবিধানিক ধারা ব্যাহত করেছেন। আদালত সংসদের কাজে হস্তক্ষেপ
করতে পারে না, পারে না।’’
হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, ’‘রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি
নিয়োগ দেন। আর সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। এভাবে সংসদ জনগণের
সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে।’’
সর্বশেষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের আলোচনার পর স্পিকার এ বিষয়ে আলোচনার সমাপ্তি
টানেন রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে। স্পিকার জানান যে, তিনি ভেবে চিন্তে এ ব্যাপারে
একটি সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের জমি নিয়ে হাই কোর্ট বিভাগের আদেশের বিষয়
উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯ মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের
বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ
ঝটপট সিদ্ধান্ত দেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ
বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে।
পরে ৫ জুন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করেন তার নেতৃত্ব থাকা হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতের এ মন্তব্যের পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই সংসদে এই বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারককে অপসারণের দাবি জানান।
১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ রুলিং দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করলেও রুলিং-এ বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি প্রত্যাহারের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান স্পিকার। এ বিচারকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন স্পিকার।
পরে ৫ জুন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করেন তার নেতৃত্ব থাকা হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতের এ মন্তব্যের পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই সংসদে এই বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারককে অপসারণের দাবি জানান।
১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ রুলিং দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করলেও রুলিং-এ বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি প্রত্যাহারের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান স্পিকার। এ বিচারকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন স্পিকার।

No comments:
Post a Comment