‘হলমার্কের কর ফাঁকির তদন্ত নিয়ম রক্ষার জন্য’
এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল (সিআইসি) সূত্রে জানা গেছে, হলমার্ক তাদের মালিকানাধীন ৮০টি প্রতিষ্ঠান দাবি করলেও গোয়েন্দা দল ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব শুধু কাগজে-কলমেই। বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাননি কর কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের টিআইএন নম্বর রয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করেনি।
যদিও হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ গত সপ্তাহে বলেছেন, সোনালী ব্যাংক থেকে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিলেও এর তুলনায় ২০ গুণ বেশি সম্পদ তার আছে।
জানা গেছে, কয়েক বছরে হলমার্ক গ্রুপের নামে বস্ত্রখাতের ১৪টি প্রতিষ্ঠান কর অঞ্চল-৭-এর কোম্পানি সার্কেল থেকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কোনো বছরই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেয়নি। এই কোম্পানি সার্কেলে ‘এইচ’ আদ্যক্ষর দিয়ে নামের শুরু যেসব কোম্পানি, সেসব প্রতিষ্ঠানের টিআইএন দেওয়া হয়।
আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫(১বি) ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক কোম্পানির অবশ্যই আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। এর মানে হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে যদি টিআইএন নেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠানটি চালু না হলেও প্রতি বছর আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। আয় না হলেও খরচ দেখিয়ে আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে।
সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির কথা আলোচনায় এলে এনবিআর থেকে এর প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হলমার্কের কাগুজে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পায় এনবিআর।
হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের ব্যক্তিগত আয়কর ফাঁকিও খতিয়ে দেখছে এনবিআর। ইতিমধ্যে কর অঞ্চল-৭-এর সার্কেল-১৩৪ থেকে এই দুজনের বিগত তিন বছরের বার্ষিক আয়কর বিবরণীর ফাইল তলব করে এনেছে এনবিআরের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ।
আয়কর বিবরণী জমা না দেওয়ায় হলমার্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়, সম্পদের পরিমাণ জানতে পারেননি এনবিআরের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এর ফলে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত অর্থে কী পরিমাণ লভ্যাংশ নিয়েছেন, তা-ও নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছরে হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ আয়ের বিপরীতে তিন কোটি নয় লাখ টাকা কর দিয়েছেন। আর তার স্ত্রী হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম আলোচ্য সময়ে সেই আয়ের বিপরীতে তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা কর দেন। তাদের দুজনের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে বিপুল অঙ্কের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা।
এনবিআরের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “এটি আসলেই আশ্চ
র্যের বিষয় যে কীভাবে এত টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিল হলমার্ক। ঋণ নিতে হলে হালনগাদ আয়কর দেয়ার তথ্য জানাতে হয় ব্যাংককে। অথচ ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখেনি ব্যাংক।”
“হলমার্কের কর ফাঁকির তদন্ত নিয়ম রক্ষার জন্য করা হয়েছে। তাদের
বিরুদ্ধে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল মামলা করবে। কিন্তু কর ফাঁকির মামলা
করে কোনো লাভ নেই। এরা দুর্বৃত্ত। এরা সরকারের আড়াই হাজার কোটি টাকা
নিয়েছে। ভবিষ্যতে আরো নেবে। তাদের নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করতে ভয় করছে। যে
কোনো সময় টার্গেটে পরিণত হতে পারি।” বললেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)
অডিট ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন মেম্বার মো. আলাউদ্দিন।
হলমার্কের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা কবে নাগাদ করা হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪ ডটনেট-কে বুধবার বিকেলে এ মন্তব্য করেন।
হলমার্কের তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করে তারা কর দেয়। আবার অনেকে কর সঠিকভাবে না দিয়ে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে। সন্দেহ হলে এনবিআর তদন্ত করে। কিন্তু দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, হলমার্ক গ্রুপ একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। তারা আবার কিসের কর দেবে? সুযোগ পেলে তারা রাষ্ট্রের আরো অর্থ হাতিয়ে নেবে।”
হলমার্কের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা কবে নাগাদ করা হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪ ডটনেট-কে বুধবার বিকেলে এ মন্তব্য করেন।
হলমার্কের তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করে তারা কর দেয়। আবার অনেকে কর সঠিকভাবে না দিয়ে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে। সন্দেহ হলে এনবিআর তদন্ত করে। কিন্তু দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, হলমার্ক গ্রুপ একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। তারা আবার কিসের কর দেবে? সুযোগ পেলে তারা রাষ্ট্রের আরো অর্থ হাতিয়ে নেবে।”
এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল (সিআইসি) সূত্রে জানা গেছে, হলমার্ক তাদের মালিকানাধীন ৮০টি প্রতিষ্ঠান দাবি করলেও গোয়েন্দা দল ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব শুধু কাগজে-কলমেই। বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাননি কর কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের টিআইএন নম্বর রয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করেনি।
যদিও হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ গত সপ্তাহে বলেছেন, সোনালী ব্যাংক থেকে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিলেও এর তুলনায় ২০ গুণ বেশি সম্পদ তার আছে।
জানা গেছে, কয়েক বছরে হলমার্ক গ্রুপের নামে বস্ত্রখাতের ১৪টি প্রতিষ্ঠান কর অঞ্চল-৭-এর কোম্পানি সার্কেল থেকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কোনো বছরই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেয়নি। এই কোম্পানি সার্কেলে ‘এইচ’ আদ্যক্ষর দিয়ে নামের শুরু যেসব কোম্পানি, সেসব প্রতিষ্ঠানের টিআইএন দেওয়া হয়।
আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫(১বি) ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক কোম্পানির অবশ্যই আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। এর মানে হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে যদি টিআইএন নেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠানটি চালু না হলেও প্রতি বছর আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। আয় না হলেও খরচ দেখিয়ে আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে।
সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির কথা আলোচনায় এলে এনবিআর থেকে এর প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হলমার্কের কাগুজে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পায় এনবিআর।
হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের ব্যক্তিগত আয়কর ফাঁকিও খতিয়ে দেখছে এনবিআর। ইতিমধ্যে কর অঞ্চল-৭-এর সার্কেল-১৩৪ থেকে এই দুজনের বিগত তিন বছরের বার্ষিক আয়কর বিবরণীর ফাইল তলব করে এনেছে এনবিআরের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ।
আয়কর বিবরণী জমা না দেওয়ায় হলমার্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়, সম্পদের পরিমাণ জানতে পারেননি এনবিআরের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এর ফলে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত অর্থে কী পরিমাণ লভ্যাংশ নিয়েছেন, তা-ও নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছরে হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ আয়ের বিপরীতে তিন কোটি নয় লাখ টাকা কর দিয়েছেন। আর তার স্ত্রী হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম আলোচ্য সময়ে সেই আয়ের বিপরীতে তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা কর দেন। তাদের দুজনের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে বিপুল অঙ্কের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা।
এনবিআরের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “এটি আসলেই আশ্চ
র্যের বিষয় যে কীভাবে এত টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিল হলমার্ক। ঋণ নিতে হলে হালনগাদ আয়কর দেয়ার তথ্য জানাতে হয় ব্যাংককে। অথচ ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখেনি ব্যাংক।”
No comments:
Post a Comment