সিনেমায় অভিনয় করতে পারছেন না বলে কোনো আফসোস নেই, অকপটে বললেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। জানালেন, মাতৃত্ব চুটিয়ে উপভোগ করছেন।
এইডস এবং এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের কর্মসূচি ‘ইউনেডস’-এর নতুন দূত হয়েছেন ভারতের এই অভিনেত্রী। এই কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর পাশাপাশি দশ মাসের ছোট্ট আরাধ্যার সঙ্গে দিনগুলো কী ভাবে কাটছে, সেটাও জানালেন সংবাদমাধ্যমকে।
৩৮ বছরের অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী বললেন, “মা হওয়ার অভিজ্ঞতা এতই স্পেশ্যাল যে ফিল্মের দিনগুলো আর মিস করি না।” আরাধ্যাকে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। মেয়েই তার বাকি জীবনটা পূর্ণ করে তুলবে, আশা মায়ের।
তার কথায়, “মাতৃত্ব আশীর্বাদ। এর তুলনা হয় না।” মাতৃত্বের সংজ্ঞা তিনি
জানেন না, “এটা অদ্ভুত, সুন্দর, দারুণ। আমি জানি না মাতৃত্ব বর্ণনার জন্য
সঠিক বিশেষণটা কী!”
প্রায় দু’বছর হতে চলল তিনি ফিল্ম দুনিয়া থেকে দূরে। মধুর ভান্ডারকরের
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘হিরোইন’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল
ঐশ্বর্যারই। যাতে পরে অভিনয় করেন করিনা কাপুর। কিন্তু অ্যাশ মা হতে
চলেছেন, এই খবর চাউর হতেই গত বছর ওই ছবির কাজ কিছু দূর এগিয়েও বন্ধ হয়ে
যায়। সে সব এখন অতীত।
ফিল্ম-কেরিয়ারে ছেদ পড়ায় এতটুকু আক্ষেপ নেই আরাধ্যার মায়ের। কারণ মা
হওয়ার পরে ব্যস্ততা বাড়ায়, দিনগুলো এখন অত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। তার
সাফ কথা, “কী ভাবে সময় চলে যাচ্ছে, টেরই পাচ্ছি না। যেকোনো মা জানেন, এখন
দিন বা রাতের খেয়াল থাকে না। দশটা মাস কী ভাবে পেরিয়ে গেল, জানি না। সব
সময় মনে হয় মেয়ের সঙ্গে থাকি। ও আমার ছোট্ট পরী।”
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গেই বচ্চন-বধূ ভাগ করে নিলেন তার সামাজিক দায়িত্বের কথাও। দশ বছর আগে জাতিসংঘের তরফে কাজ করার জন্যআবেদন এসেছিল। তখন আবেদনে সাড়া দেয়া হয়নি। এখন ঐশ্বর্যার বক্তব্য, “আজ মনে হচ্ছে ‘ইউনেডস’-এর কাজ করতে পারব। মা হয়ে ক্যারিয়ার’র বাইরে অনেকটা সময় পেয়েছি। সেটাই কাজে লাগাব।”
সেবাকাজের সঙ্গে ফিল্মের বিরোধ নেই বলে মনে করেন তিনি। বিশ্বসুন্দরী হবেন
কি না জানতেন না, হতে চেয়েছিলেন ডাক্তার। স্বাস্থ্য পরিষেবা বরাবরই
গুরুত্বের বিষয় ঐশ্বর্যার কাছে। ভারতে মহিলা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য
সম্পর্কে প্রচুর কাজ দরকার বলে মনে করেন তিনি। বললেন, “ভারতে মহিলারা
ক্ষমতাশালী হলেও সামাজিক ভাবে অনেকেই পিছিয়ে।” সূত্র: আনন্দবাজার

No comments:
Post a Comment