অনেক চড়াই-উতরাই পেরোনোর পরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ দেয়ায় বিষয়ে বিশ্বব্যাংককে রাজি করাতে পেরেছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, “বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাইকা এডিবিসহ অন্য দাতাদের সবাইকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে তারা। আশা করছি, আজ রাতেই বিশ্ব ব্যাংক এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।”
এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার ব্যাপারে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বর্তমানে ওয়াশিংটনে আছেন। সেখানেই আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে রাজধানীতে সকালে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আশা প্রকাশ করে বলেন, “পদ্মা সেতুর ব্যাপারে যেকোনো মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানতে পারব। এই সেতুর ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ঘোষণা দিলেই আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণকে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া চার শর্তের শেষ শর্ত নিয়ে (অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ) ওয়াশিংটনে আলোচনা হওয়ার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে বহুজাতিক দাতা সংস্থাটির ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে বলে ঢাকায় জল্পনা চলছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি স্থগিত করে। এরপর চারটি শর্ত দিয়ে তা পালিত হয়নি জানিয়ে গত ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে সংস্থাটি।
এর ফলে এ প্রকল্পের অপর ঋণদাতা এডিবির ৬১ কোটি ৫০ লাখ, জাইকার ৪০ কোটি এবং আইডিবি ১৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতিও আটকে যায়। তবে সরকারের অনুরোধে এডিবি ও জাইকা তাদের ঋণচুক্তির মেয়াদ দুই দফা বাড়ায়।
এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতুতে ফেরাতে সরকারের নানা উদ্যোগ চলতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে তাদের উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঞা যান ছুটিতে।
শর্ত মেনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা এবং পদ্মা প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার মসিউর রহমানও ছুটিতে গেছেন বলে সরকারের একাধিক সূত্র গত মঙ্গলবার জানালেও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন।
গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় নেতাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মসিউর সরে গেলে বিশ্বব্যাংক আগের সিদ্ধান্তে ফিরে আসে।

No comments:
Post a Comment